মোঃ হোসেন শাহ্ ফকির ইসলামপুর (জামালপুর) প্রতিনিধি: মাহিন্দ্র গাড়ী চাপায় নিহত সাংবাদিক কোরবান আলীর জানাযা নামাজ সম্পন্ন হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১৭ অক্টোবর) সকাল ৯টায় ইসলামপুর আশরাফুল উলুম মাদরাসায় প্রথম জানাযা ও সকাল ১০.৩০ মিনিটে তার নিজ বাড়িতে দ্বিতীয় জানাযা নামাজ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
এর আগে ইসলামপুর প্রেসক্লাবে নিয়ে সকল সাংবাদিকবৃন্দ তাঁকে শ্রদ্ধা জানান।
উল্লেখ যে, গত বুধবার (১৬ অক্টোবর) ২টার দিকে জামালপুর-দেওয়ানগঞ্জ আঞ্চলিক মহাসড়ক মেলান্দহ শাহজাদপুর খানবাড়ী মোড়ে মোটর সাইকেল থামিয়ে মোবাইলে কথা বলার সময় ইসলামপুর থেকে আসা জামালপুরগামী একটি মাহিন্দ্র গাড়ী সাংবাদিক কোরবান আলীকে চাপা দেয়। এতে গুরুতর আহত অবস্থায় স্থানীয়রা উদ্ধার করে মেলান্দহ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
তার এ অকাল মৃতু্তে ইসলামপুর উপজেলার সকল সাংবাদিকবৃন্দ গভীরভাবে শোকাহত।
জামালপুরে ইসলামপুরে জোরপূর্বক জমি দখল করে গোরস্থানের নাম ব্যবহার করে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে সংবাদ সম্মেলন করেছে এক ভুক্তভোগী পরিবার।
শুক্রবার (২৪এপ্রিল) দুপুরে ইসলামপুর পৌর এলাকার টংগের আগলা গ্রামের নিজ বাড়িতে এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করেন ভুক্তভোগী শওকত আলীর পরিবার।
সংবাদ সম্মেলনে শওকত আলীর কন্যা মেরী আক্তার অভিযোগ করে বলেন,টংগের আগলা মৌজার উত্তর পাড়া,রেললাইন সংলগ্ন ৩৬ শতাংশ জমি তারা সিএস মালিকদের ওয়ারিশদের কাছ থেকে বৈধ সাফ-কবলা দলিলের মাধ্যমে ক্রয় করেন। তবে পরবর্তীতে আরএস ও বিএস জরিপে ভুলবশত জমিটি তাদের তিন চাচা নুর ইসলাম (চুন্নু),খাইরুল ইসলাম ও মোহাম্মদ আলীর নামে রেকর্ড হয়।
তিনি জানান,পরবর্তীতে মোহাম্মদ আলী তার অংশ বিভিন্ন জমির সঙ্গে রেওয়াজমূল্যে তার স্ত্রীর নামে দলিল করে খাজনা খারিজ করেন। প্রায় ৮ বছর আগে তারা রেকর্ড সংশোধনের জন্য আদালতে মামলা দায়ের করেন। মামলার এক পর্যায়ে মোহাম্মদ আলী ভুল স্বীকার করে ৩৬ শতাংশ জমির মধ্যে ২৪ শতাংশ তাদের নামে সংশোধনী রেজিস্ট্রি করে দেন।
এদিকে,মামলা চলাকালীন অবস্থায় অপর দুই চাচা জমি বিক্রির চেষ্টা করলে তারা সাব-রেজিস্ট্রার অফিসে আপত্তি জানান। পরে অভিযুক্তরা ৩৬ শতাংশ জমির মধ্যে ২৪ শতাংশ জমি আব্দুল মজিদ ও রহমতউল্লাহ দের কাছে বিক্রি করে দেন। বিষয়টি জানার পর ভুক্তভোগীরা ক্রেতাদের বিরুদ্ধেও মামলায় অন্তর্ভুক্ত করেন এবং আদালত তাদের নোটিশ প্রদান করেন।
মেরী আক্তার আরও অভিযোগ করেন,আদালতের নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে আলমাস,রোকন,জিয়াউল হক, ওয়াজেদ আলী,রহমতউল্লাহসহ কয়েকজন ব্যক্তি এলাকাবাসীর কাছ থেকে অর্থ সংগ্রহ করে জমিটিকে গোরস্থান হিসেবে ব্যবহার শুরু করেন এবং সেখানে একাধিক কবরও দেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন,দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়া শেষে আদালত তাদের পক্ষে একতরফা ডিক্রি প্রদান করেন। ডিক্রির ভিত্তিতে তারা খাজনা খারিজ করে নতুন খতিয়ান প্রস্তুত করেছেন। তবে রায় পাওয়ার পরও বিবাদীপক্ষ জোরপূর্বক জমি দখলে রেখে তাদের বিরুদ্ধে থানায় মিথ্যা অভিযোগ দায়ের করেছে।
ভুক্তভোগী পরিবার দাবি করে,প্রায় দুই মাস আগে তাদের চাষ করা কলা বাগান নষ্ট করে জমিটিকে গোরস্থান হিসেবে প্রচার করা হয়। বর্তমানে তারা চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন এবং জমিতে গেলে হত্যার হুমকি পাচ্ছেন বলে অভিযোগ করেন।
এ ঘটনায় তারা ভূমি অপরাধ আইনে মামলা দায়ের করেছেন এবং প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন,যাতে তাদের পৈত্রিক সম্পত্তি উদ্ধার ও জীবনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে পরিবারের সদস্য মনোয়ারা বেগম, রাশেদা বেগম,বেলাল উদ্দিন,হেলাল উদ্দিনসহ অন্যান্যরা উপস্থিত ছিলেন।
অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত জিয়াউল হকসহ সংশ্লিষ্টরা দাবি করেন,তারা শওকত আলীর চাচাদের কাছ থেকে ২৪ শতাংশ জমি বৈধভাবে ক্রয় করে সেখানে গোরস্থান স্থাপন করেছেন। তাদের মতে,ভুক্তভোগী পরিবার ১২ শতাংশ জমির দাবিদার। বিষয়টি নিষ্পত্তির জন্য তারাও আদালতের শরণাপন্ন হয়েছেন।
লালমনিরহাটের কালীগঞ্জে ফুয়েল কার্ডের ছবির সঙ্গে চেহারার মিল না থাকায় এক মোটর সাইকেল গ্যারেজ কর্মচারীকে চপেটাঘাত করার অভিযোগ উঠেছে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শামীমা আক্তার জাহানের বিরুদ্ধে। বুধবার (২২ এপ্রিল) বিকেলে উপজেলার চন্দ্রপুর ইউনিয়নের চাপারহাট বাজারের ‘লুবানা ফিলিং স্টেশনে’ এ ঘটনা ঘটে। এ সংক্রান্ত একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে জেলাজুড়ে নিন্দার ঝড় উঠেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, চাপারহাট কলেজের সহকারী অধ্যাপক গোলক চন্দ্র অসুস্থ থাকায় তার মোটরসাইকেলে তেল নিতে হিমশিম খাচ্ছিলেন। পরে তিনি গ্যারেজ মালিক প্রদীপের সহায়তা চাইলে, প্রদীপ তার কর্মচারী নদীকে (১৮) ফুয়েল কার্ডসহ তেল নেওয়ার জন্য লাইনে পাঠান। নদী যখন লাইনে দাঁড়িয়ে ছিলেন, তখন সেখানে তদারকিতে থাকা কালীগঞ্জ ইউএনও শামীমা আক্তার জাহান তার হাতের কার্ডটি পরীক্ষা করেন। কার্ডের ছবির সঙ্গে নদীর চেহারার মিল না থাকায় কোনো কিছু জিজ্ঞাসা না করেই ইউএনও তাকে চপেটাঘাত করেন বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান।
এ ঘটনায় উপস্থিত স্থানীয় জনতা ও ব্যবসায়ীদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। স্থানীয়দের তোপের মুখে ইউএনও বিষয়টি পুনরায় খতিয়ে দেখেন। পরবর্তীতে অসুস্থ কলেজ শিক্ষকের মোটরসাইকেল ও ফুয়েল কার্ডের সত্যতা প্রমাণিত হলে প্রায় ঘণ্টাখানেক পর ওই যুবককে ছেড়ে দেওয়া হয়।
অভিযোগকারী নদী বলেন, “আমি গ্যারেজ মেকানিক। মালিকের কথায় অসুস্থ এক শিক্ষকের কার্ড ও টাকা নিয়ে তেল নিতে লাইনে দাঁড়িয়েছিলাম। ইউএনও কার্ড চেক করার সময় কোনো কথা না বলেই আমাকে কয়েকটি থাপ্পড় মারেন। আমি কোনো অন্যায় করিনি, বিনা অপরাধে আমাকে লাঞ্ছিত করা হয়েছে। আমি এর বিচার চাই।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে কালীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শামীমা আক্তার জাহান চপেটাঘাতের বিষয়টি অস্বীকার করে বলেন, “আমি শুধু তার গাড়ির চাবি নিয়েছিলাম, গায়ে হাত তুলিনি। সম্ভবত তার কাছে সঠিক কার্ড ছিল না। নিয়ম না মেনে লাইনে দাঁড়ানোর কারণে চাবি নিয়ে পরে অফিসে যোগাযোগ করতে বলা হয়েছিল। পরবর্তীতে তার অভিভাবকরা এলে চাবি বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে।
জুবায়ের আহমেদ রাসেল : শেরপুর সদর উপজেলার বাবর ফিলিং স্টেশন থেকে অবৈধভাবে মজুদের উদ্দেশ্যে নেওয়ার সময় ৮৩৫ লিটার ডিজেল জব্দ করেছে পুলিশ। এ সময় একটি ব্যাটারিচালিত অটোভ্যানসহ চারটি ড্রাম তেল জব্দ করা হয়। ঘটনায় ফিলিং স্টেশনের দুই কর্মচারীকে আটক করা হলেও পরে ভ্রাম্যমাণ আদালতে জরিমানা আদায়ের পর তাদের ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) দিবাগত রাত প্রায় ১২টার দিকে বাবর ফিলিং স্টেশন থেকে একটি ব্যাটারিচালিত ভ্যানে করে চারটি ড্রামে প্রায় ৮৩৫ লিটার ডিজেল নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল। এ সময় শেরপুর সদর থানা পুলিশ অভিযান চালিয়ে ভ্যানসহ তেল জব্দ করে এবং ফিলিং স্টেশনের দুই কর্মচারীকে আটক করে। আটকরা হলেন সদর উপজেলার ছয়ঘড়িপাড়া গ্রামের শাজাহান আলীর ছেলে রবিন এবং গৌরীপুর এলাকার হরমুজ আলীর ছেলে জিয়াউর রহমান।
বুধবার (২২ এপ্রিল) সকালে শেরপুর জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সহকারী কমিশনার (এনডিসি) রাজিব সরকারের নেতৃত্বে বাবর ফিলিং স্টেশনে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হয়। এ সময় আগের রাতে জব্দ করা তেল ও আটক দুই কর্মচারীকে সেখানে নেওয়া হয়। পরে অবৈধভাবে তেল মজুদের উদ্দেশ্যে বহনের অপরাধে বাবর ফিলিং স্টেশনকে ১ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়। ফিলিং স্টেশনের দায়িত্বে থাকা ফজলুল হকের নামে এই জরিমানা আরোপ করা হয়। ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন, ২০০৯-এর ৫২ ধারায় এ দণ্ড দেওয়া হয়।
শেরপুর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সোহেল রানা বলেন, গত রাতে চার ড্রাম তেলসহ একটি ভ্যান আটক করা হয়েছে। পরে সেগুলো ভ্রাম্যমাণ আদালতের কার্যক্রমের জন্য ফিলিং স্টেশনে নেওয়া হয়। আদালত বাবর ফিলিং স্টেশনকে ১ লাখ টাকা জরিমানা করেছে। এছাড়া জব্দকৃত তেল খোলা বাজারে বিক্রি করে সেই অর্থ রাষ্ট্রীয় কোষাগারে জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তিনি আরও জানান, জরিমানা পরিশোধের পর আটক রবিন ও জিয়াউর রহমানকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।
শেরপুর জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সহকারী কমিশনার (এনডিসি) রাজিব সরকার বলেন, বাবর ফিলিং স্টেশনে অবৈধ তেল মজুদের অভিযোগে অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। এতে ১ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। পাশাপাশি জব্দকৃত ৮৩৫ লিটার ডিজেল উন্মুক্তভাবে বিক্রি করে ৯৬ হাজার ৪২৫ টাকা সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হবে।
সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, অবৈধভাবে জ্বালানি মজুদ ও বিক্রির বিরুদ্ধে প্রশাসনের এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।
আপনার মতামত লিখুন