খুঁজুন
বুধবার, ২২ এপ্রিল, ২০২৬, ৯ বৈশাখ, ১৪৩৩

নওগাঁয় পৈত্রিক সম্পত্তি হাতিয়ে নিতে স্বাক্ষর জাল, দুদকে অভিযোগ

নওগাঁ প্রতিনিধি:
প্রকাশিত: রবিবার, ৬ অক্টোবর, ২০২৪, ১০:০৩ অপরাহ্ণ
নওগাঁয় পৈত্রিক সম্পত্তি হাতিয়ে নিতে স্বাক্ষর জাল, দুদকে অভিযোগ

নওগাঁ প্রতিনিধি: নওগাঁয় পৈত্রিক সম্পত্তি হাতিয়ে নিতে স্বাক্ষর জাল করে নামজারি করার অভিযোগ উঠেছে। নওগাঁ মেডিকেল কলেজের প্যাথলজি বিভাগের কিউরেটর ভগ্নিপতি ডাক্তার আবু জার গাফ্ফার এবং তৎকালিন সদর উপজেলা সহকারি কমিশনার(ভূমি) শওকত মেহেদী সেতুর জোগসাজসে নামজারিটি করা হয়। ঘটনায় ভুক্তভোগী জুমাতুল এম ইসলাম সৌরভ জালিয়াতি কাজের সাথে জড়িতদের বিরুদ্ধে তদন্ত সাপেক্ষে বিচারের দাবী জানিয়ে গত ২ অক্টোবর দূর্নীতি দমন কমিশন(দুদক) এ লিখিত অভিযোগ করেছেন। ভুক্তভোগী নওগাঁ শহরের কাজীর মোড়ের বাসীন্দা।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়- জুমাতুল এম ইসলাম সৌরভ এর বাবা আমিনুল ইসলাম কবিরাজ গত ২০২১ সালের ১৪ জুলাই মারা যান। মারা যাওয়ার আগে ছেলে সৌরভকে নালিশী তপশীল বর্নিত সম্পত্তি ও মার্কেট দখল দিয়ে রক্ষনাবেক্ষণ করার দায়িত্ব প্রদান করেন। কিন্তু কৌশলে ভগ্নীপতি ডাঃ আবু জার গাফফার(৪৬) তার শ্যালক সৌরভের স্বাক্ষর জাল ও তার ছবি ব্যবহার করে তহশীল অফিসে মোট ৩০০ শতাংশ জমির জন্য চারটি নামজারী আবেদন করেন। এছাড়া নামজারী আবেদনে যে মোবাইল নাম্বার ব্যবহার করা হয়েছে সেটাও সৌরভের না। সৌরভ বিষয়টি জানার পর নামজারী স্থগিত এবং নতুন করে নামজারি না দেয়ার এজন্য সহকারি কমিশনার(ভূমি) কে আবেদন করেন। ফলে নামজারি আবেদনটি বাতিল হয়। কিন্তু ১৫ দিন পর পুনরাই ওই সম্পত্তির মধ্যে তাকে ছাড়াই ৩৭ শতাংশ জমির জন্য দুইটি নামজারি আবেদন করা হয়।

এরপর মোটা অংকের অর্থের বিনিময়ে আইনবর্হিভূত ভাবে একতরফা শুনানি শেষে নামজারি মুঞ্জুর করেন তৎকালীন সহকারি কমিশনার(ভূমি) শওকত মেহেদী সেতু। ঘটনার পর সহকারি কমিশনার(ভূমি) এর বিরুদ্ধে রাজশাহী বিভাগীয় কমিশনার বরাবর একটি লিখিত অভিযোগ করলে ঘটনার সত্যতা প্রমানিত হওয়ায় তাকে অন্যত্র বদলী করা হয়। পরবর্তীতে উপরোক্ত বিষয়ে প্রেক্ষিতে ডাঃ আবু জার গাফফারকে ১নং আসামী করে স্বাক্ষর জাল করার কারণে নওগাঁ ১ নং আমলী আদালতে মামলা দায়ের করেন সৌরভ।

ভুক্তভোগী জুমাতুল এম ইসলাম সৌরভ বলেন- বিশেষ সূত্রে বিষয়টি জানার পর নামজারী আবেদন স্থগিত এবং নতুন করে নামজারি করতে না পারে এজন্য সহকারি কমিশনার(ভূমি) নওগাঁ সদরে আবেদন করা হয়। এতে আবেদনটি বাতিল হয়। কিন্তু আমাকে ছাড়াই ১৫ দিন পর নতুন করে আবারও তারা দুইটি আবেদন করে ৩৭ শতাংশ জমি নামজারি করে নেয়। যা মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে আইনবর্হিভূত ভাবে করা হয়েছে।

তিনি অভিযোগ করেন বলেন- আবু জার গাফ্ফার একজন ডাক্তার হলেও মুখোশধারী ভূমিদস্যু। তিনি আমার স্বাক্ষর জাল ও ছবি ব্যবহার করে ভূয়া কাগজপত্র তৈরী করে পৈত্তিক সম্পত্তি অবৈধ ভাবে দখলের চেষ্টা করছেন। ইতোপূর্বে তিনি আমাকে হত্যার চেষ্টাও করেছেন। এই কাজের সাথে জড়িতদের বিরুদ্ধে তদন্ত সাপেক্ষে বিচারের দাবী জানাচ্ছি।

সাবেক নওগাঁ সদর ও বর্তমান সিরাজগঞ্জ জেলার চৌহালি উপজেলার সহকারি কমিশনার(ভূমি) শওকত মেহেদী সেতু বলেন- আইনগত প্রক্রিয়ায় শুনানি নিয়ে সবকিছু মেনেই কাজ করা হয়েছে। জুমাতুল এম ইসলাম সৌরভ যদি বলে থাকেন তাহলে তিনি মিথ্যা বলেছেন। যে নামজারি হয়েছে সেখানে তিনি কোন পক্ষভুক্তই না। তারপরও অভিযোগের প্রেক্ষিতে তাকে ডেকে শুনানি নেয়া হয়েছে। অর্থের বিনিময়ে কাজ করার অভিযোগটি সত্য নয়।
এ ব্যাপারে অভিযুক্ত ডাঃ আবু জার গাফফার বলেন- অভিযোগটি সম্পূর্ণ মিথ্যা। এ ব্যাপারে শ্যালক জুমাতুল এম ইসলাম সৌরভ বাদী হয়ে আমিসহ স্ত্রী নুরে ই-আফসানা জেরির বিরুদ্ধে আদালতে মামলা করেছিল। যা পরবর্তীতে আদালতে খারিজ হয়ে যায়। খারিজের বিরুদ্ধে পুণরায় শুনানি হয়েছে। আগামী ৮ অক্টোবর চুড়ান্ত রায় হবে।

এ বিষয়ে দুর্নীতি দমন কমিশন(দুদক) নওগাঁর সমন্বিত জেলা কার্যালয়ের সহকারি পরিচালক নওসাদ আলী বলেন-এটি আমাদের একটি তফশীলভুক্ত অভিযোগ। আমরা ঢাকা অফিসে পাঠানোর পর অনুমোদন হয়ে আসলে তদন্ত শুরু করা হবে।

শেরপুরে ৮৩৫ লিটার ডিজেল জব্দ, ফিলিং স্টেশনকে ১ লাখ টাকা জরিমানা

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: বুধবার, ২২ এপ্রিল, ২০২৬, ৮:৩৪ অপরাহ্ণ
শেরপুরে ৮৩৫ লিটার ডিজেল জব্দ, ফিলিং স্টেশনকে ১ লাখ টাকা জরিমানা

শেরপুর সদর উপজেলার বাবর ফিলিং স্টেশন থেকে অবৈধভাবে মজুদের উদ্দেশ্যে নেওয়ার সময় ৮৩৫ লিটার ডিজেল জব্দ করেছে পুলিশ। এ সময় একটি ব্যাটারিচালিত অটোভ্যানসহ চারটি ড্রাম তেল জব্দ করা হয়। ঘটনায় ফিলিং স্টেশনের দুই কর্মচারীকে আটক করা হলেও পরে ভ্রাম্যমাণ আদালতে জরিমানা আদায়ের পর তাদের ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) দিবাগত রাত প্রায় ১২টার দিকে বাবর ফিলিং স্টেশন থেকে একটি ব্যাটারিচালিত ভ্যানে করে চারটি ড্রামে প্রায় ৮৩৫ লিটার ডিজেল নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল। এ সময় শেরপুর সদর থানা পুলিশ অভিযান চালিয়ে ভ্যানসহ তেল জব্দ করে এবং ফিলিং স্টেশনের দুই কর্মচারীকে আটক করে। আটকরা হলেন সদর উপজেলার ছয়ঘড়িপাড়া গ্রামের শাজাহান আলীর ছেলে রবিন এবং গৌরীপুর এলাকার হরমুজ আলীর ছেলে জিয়াউর রহমান।

বুধবার (২২ এপ্রিল) সকালে শেরপুর জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সহকারী কমিশনার (এনডিসি) রাজিব সরকারের নেতৃত্বে বাবর ফিলিং স্টেশনে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হয়। এ সময় আগের রাতে জব্দ করা তেল ও আটক দুই কর্মচারীকে সেখানে নেওয়া হয়। পরে অবৈধভাবে তেল মজুদের উদ্দেশ্যে বহনের অপরাধে বাবর ফিলিং স্টেশনকে ১ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়। ফিলিং স্টেশনের দায়িত্বে থাকা ফজলুল হকের নামে এই জরিমানা আরোপ করা হয়। ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন, ২০০৯-এর ৫২ ধারায় এ দণ্ড দেওয়া হয়।

শেরপুর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সোহেল রানা বলেন, গত রাতে চার ড্রাম তেলসহ একটি ভ্যান আটক করা হয়েছে। পরে সেগুলো ভ্রাম্যমাণ আদালতের কার্যক্রমের জন্য ফিলিং স্টেশনে নেওয়া হয়। আদালত বাবর ফিলিং স্টেশনকে ১ লাখ টাকা জরিমানা করেছে। এছাড়া জব্দকৃত তেল খোলা বাজারে বিক্রি করে সেই অর্থ রাষ্ট্রীয় কোষাগারে জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তিনি আরও জানান, জরিমানা পরিশোধের পর আটক রবিন ও জিয়াউর রহমানকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।

শেরপুর জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সহকারী কমিশনার (এনডিসি) রাজিব সরকার বলেন, বাবর ফিলিং স্টেশনে অবৈধ তেল মজুদের অভিযোগে অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। এতে ১ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। পাশাপাশি জব্দকৃত ৮৩৫ লিটার ডিজেল উন্মুক্তভাবে বিক্রি করে ৯৬ হাজার ৪২৫ টাকা সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হবে।

সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, অবৈধভাবে জ্বালানি মজুদ ও বিক্রির বিরুদ্ধে প্রশাসনের এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।

​রাজৈরে কুমার নদের ভাঙনে দিশেহারা মোঃ সুজন হোসেন বসতভিটা বিলীন।

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বুধবার, ২২ এপ্রিল, ২০২৬, ৮:৩০ অপরাহ্ণ
​রাজৈরে কুমার নদের ভাঙনে দিশেহারা মোঃ সুজন হোসেন বসতভিটা বিলীন।

 

​মাদারীপুরের রাজৈর উপজেলার হরিদাসদী-মহেন্দ্রদী ইউনিয়নে কুমার নদের তীব্র ভাঙন দেখা দিয়েছে। গত কয়েকদিনের ভাঙনে হরিদাসদী দক্ষিণ পাড়া এলাকার বাসিন্দা মোঃ সুজন হোসেন এর বসতবাড়ি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। আকস্মিক এই ভাঙনে ঘরবাড়ি হারিয়ে বর্তমানে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন তিনি।

​স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বেশ কিছুদিন ধরেই ওই এলাকায় নদী ভাঙন অব্যাহত রয়েছে। তবে সম্প্রতি ভাঙনের তীব্রতা বৃদ্ধি পাওয়ায় হরিদাসদী দক্ষিণ পাড়ায় মোঃ সুজন হোসেন এর পৈত্রিক ভিটা ও বসতঘর নদীগর্ভে চলে যায়। ঘরটি সরিয়ে নেওয়ার পর্যাপ্ত সময় না পাওয়ায় আসবাবপত্রসহ ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির শিকার হয়েছেন তিনি।

​ক্ষতিগ্রস্ত মোঃ সুজন হোসেন জানান ​”চোখের সামনেই নিজের ভিটেমাটি নদীতে চলে যেতে দেখলাম, কিছুই করার ছিল না। এখন পরিবার নিয়ে কোথায় গিয়ে দাঁড়াবো, তা জানি না। সব হারিয়ে আমি এখন নিঃস্ব।”

​শুধু মোঃ সুজন হোসেন নন, ভাঙন আতঙ্কে রয়েছেন ওই এলাকার আরও বহু পরিবার। স্থানীয়দের অভিযোগ, দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে হরিদাসদী দক্ষিণ পাড়ার আরও অনেক ঘরবাড়ি ও আবাদি জমি কুমার নদে তলিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তারা ভাঙন রোধে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে দ্রুত স্থায়ী বাঁধ নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন।
​প্রশাসনের ভূমিকা
​এ বিষয়ে ইউনিয়ন পরিষদ ও স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে ক্ষয়ক্ষতির তালিকা নিরূপণ করে ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। তবে স্থানীয়দের দাবি, ত্রাণ নয় বরং স্থায়ী সমাধান হিসেবে নদী শাসনের ব্যবস্থা করা হোক।
​সব হারিয়ে মোঃ সুজন হোসেন এই চরম দুর্দশা নিরসনে সরকারি ও বেসরকারি সংস্থাগুলোর এগিয়ে আসা এখন সময়ের দাবি।

শেরপুরে ৮৩৫ লিটার ডিজেল জব্দ, ফিলিং স্টেশনকে ১ লাখ টাকা জরিমানা ​রাজৈরে কুমার নদের ভাঙনে দিশেহারা মোঃ সুজন হোসেন বসতভিটা বিলীন। নিয়ামতপুরে চার খুনের মামলায় গ্রেফতার ৩ একসঙ্গে জন্ম নেয়া তিন বোন এসএসসি পরিক্ষায় অংশ গ্রহণ নওগাঁর নিয়ামতপুরে একই পরিবারের চারজনকে গলা কেটে হত্যা, চারজন পুলিশ হেফাজতে