হাতীবান্ধা প্রকৌশলীর সাথে সখ্যতায়, কাজপায় কাজল,অনিয়মের অভিযোগ
লালমনিরহাটের
হাতীবান্ধা প্রকৌশলীর আখতার হোসেনের সাথে সখ্যতা গড়ে তুলে বিনা টেন্ডারে একের পর এক কাজ বাগিয়ে নিচ্ছেন সেই কাজল। এমন অভিযোগ ও ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে সাধারণ ঠিকাদারদের মাঝে।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়,হাতীবান্ধা উপজেলা প্রকৌশলী আখতার হোসেন ২০২৪ সালে হাতীবান্ধা উপজেলা প্রকৌশলী হিসেবে যোগদান করার পর থেকে আজ অবদি পূর্বের ন্যায় ফ্যাসিস্ট সরকারের তালিকাভুক্ত ও নিজের পরিচিত ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানকে একের পর এক কাজ দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।
স্থানীয় ঠিকাদার কাজলের সাথে গভীর সম্পর্কে আবদ্ধ হয়। এ ঘটনার পর থেকে হাতীবান্ধার উপজেলা প্রশাসনের বিনার টেন্ডার কাজ প্রকৌশলীর মাধ্যমে বাগিয়ে নিচ্ছেন কাজল। এতে মোটা অংকের লেনদেনের কথাও উঠে আসছে।
হাতীবান্ধা উপজেলা প্রকৌশলী মাধ্যমে প্রভাতীর দুইটি কাজ দইখাওয়া বাজার ও সিন্দুর্না হাটের সংস্কার কাজ করছেন। পাশাপাশি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের
হাতীবান্ধা উপজেলার ৩৬ টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভোট কেন্দ্রে সিসি ক্যামেরা সরবরাহ করেন।
হেনা এন্টারপ্রাইজের পরিচারক কাজল হাতীবান্ধা উপজেলার সিংগিমারী ইউনিয়নের ৯নং ওয়ার্ডে মৃত মনছুর আলী ছেলে।
জানা গেছে,লালমনিরহাট ১ আসনের সংসদ সদস্য সাবেক মোতাহার হোসেনে ছেলে ও হাতীবান্ধা উপজেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক মাহমুদুল হাসান সোহাগ ও হাতীবান্ধা উপজেলা পরিষদের সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি লিয়াকত হোসেন বাচ্চুর সাথে ঘনিষ্ঠতার কারণে বিগত আওয়ামীলীগের ১৭ বছর হাতীবান্ধা উপজেলা প্রশাসনের সকল প্রকার ঠিকাদারি করে আসছেন। এতে তার হেনা ট্রেডার্স নামে লাইসেন্স টিও ভারী হয়ে ওঠেন। কাজল হোসেন নিজেকে হাতীবান্ধা উপজেলা প্রকৌশলীর একজন কর্মকর্তা পরিচয়ে সকল ঠিকাদারি কাজ সম্পন্ন করেন। পাশাপাশি উপজেলা প্রকৌশলীর সকল প্রকার কাজ বিভিন্ন ইউনিয়নে গিয়ে দেখভাল করেন হাতীবান্ধা প্রকৌশলীর মাধ্যমে। কাজল হোসেন প্রশাসনের বিভিন্ন কাজ পাওয়া ইউএনওর কার্যালয়ের কয়েকজন কর্মকর্তার সাথেও সখ্যতা গড়ে তোলেন।
হাতীবান্ধা উপজেলার বিভিন্ন সড়ক, ব্রীজ কালভার্ট ও উন্নয়ন প্রকল্প গুলো কাজের গুণগত মান খারাপ। ঠিকাদারদের সাথে আতাত করে উন্নয়ন প্রকল্প কাজগুলো সম্পন্ন করছেন প্রকৌশলী। অপরদিকে হাতীবান্ধা উপজেলার প্রায় ৩০ লক্ষ টাকার উন্নয়ন প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হলেও এখনো সেই কাজ সম্পূর্ণ হয়নি। অপরদিকে হাতীবান্ধা উপজেলার তিনটি ইউনিয়ন পরিষদের সংস্কারে প্রায় ৩০ লক্ষ টাকার টেন্ডার হলেও প্রথম পক্ষের নাম ঘোষণা করতে আপত্তি করেন উপজেলা প্রকৌশলী আখতার হোসেন। এতেই সন্দেহ সৃষ্টি হয়। প্রথম পক্ষের কাছ থেকে কাজটি নিয়ে প্রকৌশলী অন্য ঠিকাদারদের মাধ্যমে করার বিষয়টি প্রকাশে আসে।
হাতীবান্ধা উপজেলার বিভিন্ন সড়কের কার্পেটিং ও সিলকোড করলেও সম্পূর্ণ হওয়ার এক মাস আগেই তা উঠে যাচ্ছে। এমন অভিযোগ করছে এলাকাবাসীরা।
নাম প্রকাশ না করে কয়েকজন ঠিকাদার বলেন,টেন্ডারের মাধ্যমে কাজ পেলেও এই প্রকৌশলী সবসময় ঠিকাদারদের সাথে দুর্ব্যবহার ও দ্রুত কাজ করার চাপ প্রদান করেন। অপরদিকে কিছু ঠিকাদারের কাজ সম্পন্ন হলেও বিল আটকে রাখেন।
হেনা ট্রেডার্স এর ঠিকাদার কাজল হোসেন বলেন, প্রভাতীর কাজ আমি পাইনি এটি প্রকৌশলীর কাজ। আমি শুধু মিস্ত্রি সাপ্লাই দিয়েছি। প্রকৌশলের সাথে সখ্যতা বিষয়টি তিনি এড়িয়ে গিয়ে বলেন,আমার লাইসেন্স খুবই ভারী রন্টুর লাইসেন্স আমার সাথে পারেনা । সিস্টেমের বাইরে কেউ কাউকে কাজ দিতে পারে না। বিষয়গুলো সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন।
হাতীবান্ধা উপজেলার প্রকৌশলী আখতার হোসেন বলেন,কোন ঠিকাদার কে কাজ দেওয়ার এখতিয়ার আমার নেই। কাজলের সাথে গভীর সম্পর্কের বিষয়টি এড়িয়ে বলেন, ইউনিয়ন পরিষদের কাজ গুলো চেয়ারম্যান সাহেবরা কাজলের মাধ্যমে করে থাকেন। এখানে আমার করার কিছুই নেই।
প্রভাতীর কাজ প্রকৌশলী ও এল সি এস করছে। আনিত বিষয়গুলো তিনি ভিত্তিহীন বলে দাবি করেন। কৌশলী হিসেবে সব জায়গায় আমাকে জবাবদিহি করতে হয়।
এ বিষয়ে হাতীবান্ধা উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা আফরিন হক বলেন, ঠিকাদার কাজল সাহেব কিভাবে কাজগুলো পান সে বিষয়গুলোর আমরা খতিয়ে দেখে ব্যবস্থা গ্রহণ করব।



আপনার মতামত লিখুন