মুন্সিগঞ্জে জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) পুলিশের অভিযানে এক যুবতীর কাছ থেকে ৭০০ পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় ওই যুবতীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
জেলা পুলিশের প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, চলমান মাদকবিরোধী অভিযানের অংশ হিসেবে আজ মঙ্গলবার দুপুর ২টা ৪৫ মিনিটে সদর উপজেলার পঞ্চসার ইউনিয়নের বাগবাড়ি এলাকায় অভিযান পরিচালনা করা হয়।
ডিবি পুলিশের এসআই (নি.) সৈয়দ হাসিব আহম্মেদের নেতৃত্বে একটি দল বাগবাড়ি এলাকায় জনৈক জাহাঙ্গীর মিয়ার জবা ফ্যাক্টরির সামনে পাকা সড়কে সন্দেহভাজন হিসেবে এক যুবতীকে আটক করে। পরে তল্লাশি চালিয়ে তার কাছ থেকে ৭০০ (সাতশত) পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়।
গ্রেপ্তার যুবতীর নাম সামিয়া জাফর (২০)। তার বাড়ি নারায়ণগঞ্জ জেলার ফতুল্লা থানার পঞ্চবটি (ফাজিলপুর সরদার বাড়ী) এলাকায়। তিনি ভাসমান অবস্থায় মুন্সিগঞ্জে অবস্থান করছিলেন বলে পুলিশ জানিয়েছে।
এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলে জানান মুন্সিগঞ্জ পুলিশ সুপার মো. মেনহাজুল আলম।
দেশের অন্যতম বৃহত্তম ও গুরুত্বপূর্ণ সেচ প্রকল্প তিস্তা ব্যারাজ এলাকা পরিদর্শন করেছেন বর্তমান সরকারের তিন শীর্ষ নীতি-নির্ধারক।
আজ শুক্রবার (১৯ জুন) দুপুরে ব্যারাজ এলাকায় পৌঁছান পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী মো. শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু এমপি এবং পানি সম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ এমপি।
সরকারি সফরসূচি অনুযায়ী, মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রী মহোদয়গণ দুপুরে তিস্তা ব্যারাজ ও এর আশপাশের এলাকা ঘুরে দেখেন। এরপর তারা তিস্তা অবসর হলরুমে পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে এক গুরুত্বপূর্ণ মতবিনিময় সভায় অংশ নেবেন।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, সভায় তিস্তা অববাহিকার দীর্ঘদিনের নদীভাঙন সমস্যা, টেকসই বন্যা নিয়ন্ত্রণ, নদীশাসন এবং চলমান উন্নয়ন কার্যক্রমের অগ্রগতি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হবে।
স্থানীয় বাসিন্দারা সরকারের এই উচ্চপর্যায়ের সফরকে অত্যন্ত ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন। তাদের মতে, প্রতি বছর বর্ষা মৌসুমে তিস্তার ভাঙনে ঘরবাড়ি, ফসলি জমি ও সরকারি-বেসরকারি অবকাঠামোর ব্যাপক ক্ষতি হয়। দীর্ঘদিন ধরে তারা এর স্থায়ী সমাধানের দাবি জানিয়ে আসছেন। এই সফর বহুল প্রতীক্ষিত ‘তিস্তা মহাপরিকল্পনা’ বাস্তবায়নের পথকে আরও বেগবান করবে এবং স্থায়ী নদীশাসনের মাধ্যমে তাদের দুঃখের অবসান ঘটবে বলে আশা করছেন তারা।
দেশের প্রচলিত ওজন পরিমাপের নিয়ম অনুযায়ী ৪০ কেজিতে এক মণ ধান হওয়ার কথা। কিন্তু নওগাঁর মান্দা উপজেলার বিভিন্ন ধানের হাটে সেই নিয়ম যেন কেবল কাগজেই সীমাবদ্ধ। উপজেলার ঐতিহাসিক পাঁজরভাঙ্গা হাটসহ একাধিক বাজারে কৃষকদের বাধ্য করা হচ্ছে প্রতি মণে ৪১ কেজি ধান দিতে। এতে বছরের পর বছর ধরে ওজনে অতিরিক্ত ধান দিয়ে লোকসানের মুখে পড়ছেন হাজারো কৃষক।
সরেজমিনে শুক্রবার উপজেলার ঐতিহাসিক পাঁজরভাঙ্গা হাট ঘুরে দেখা যায়, ভোর থেকেই দূর-দূরান্ত থেকে ভ্যান, ভটভটি ও সাইকেলে করে ধান নিয়ে আসছেন কৃষকেরা। হাটজুড়ে ধানের ব্যাপক আমদানি থাকলেও বিক্রির সময় কৃষকদের পড়তে হচ্ছে এক অঘোষিত নিয়মের মুখে। ব্যবসায়ীরা ৪০ কেজির পরিবর্তে ৪১ কেজিকে এক মণ ধরে ধান কিনছেন। শুধু পাঁজরভাঙ্গা নয়, উপজেলার জোতবাজার ও জোকাহাটের চিত্রও একই রকম।
বর্তমানে হাটে বিভিন্ন জাতের ধান বিক্রি হচ্ছে। এর মধ্যে জিরা ধান প্রতি মণ ১ হাজার ৪০০ টাকা, সুবলতা ১ হাজার ৩৪০ টাকা, কাটারি ১ হাজার ৫০০ টাকা এবং স্বর্ণা-৫ জাতের ধান ১ হাজার ১৫০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। তবে বাজারে ধানের দাম কম হওয়ার পাশাপাশি অতিরিক্ত ওজন দেওয়ার কারণে কৃষকদের ক্ষোভ বাড়ছে।
স্থানীয় কৃষকদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে একটি অসাধু ব্যবসায়ী চক্র সিন্ডিকেটের মাধ্যমে এই অনিয়ম চালিয়ে আসছে। বিষয়টি সবার জানা থাকলেও কার্যকর তদারকি না থাকায় কৃষকেরা বাধ্য হয়ে অতিরিক্ত ধান দিতে বাধ্য হচ্ছেন। ফলে প্রতি মণে ১ কেজি করে ধান বেশি দিয়ে বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির শিকার হচ্ছেন তারা। বছরের পর বছর ধরে চলা এই প্রকাশ্য ওজন জালিয়াতি বন্ধে এবং কৃষকদের ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত করতে স্থানীয় প্রশাসন, ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন ভুক্তভোগী কৃষকেরা।
হাটে ধান বিক্রি করতে আসা কৃষক মো. জহুরুল বলেন, আমি ১২ মণ ধান নিয়ে এসেছিলাম। কিন্তু ৪১ কেজিতে মণ ধরায় ১২ কেজি ধান বেশি চলে গেছে। আমরা অনেক কষ্ট করে ধান উৎপাদন করি। হাটে আনলে ব্যবসায়ীরা বলে ৪০ কেজিতে ধান নেবে না, ৪১ কেজি দিতে হবে। বাধ্য হয়ে আমরা ধান বিক্রি করি।
আরেক কৃষক মো. আজিজার বলেন, ৫ মণ ধান নিয়ে এসেছিলাম। ধানের দামও কম, আবার প্রতি মণে ১ কেজি বেশি দিতে হয়েছে। প্রশাসনের এ বিষয়ে কোনো নজরদারি নেই। আমরা সব দিক থেকেই ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছি।
ধান ব্যবসায়ী মো. দেলোয়ার হোসেন ও মো. মেস্তাক বলেন, এই হাটে অনেক আগে থেকেই ৪১ কেজিতে মণ নেওয়া হয়। সবাই এভাবেই নিচ্ছে। নিয়ম অনুযায়ী ৪০ কেজি হলেও বাজারে দীর্ঘদিন ধরে এই পদ্ধতি চলে আসছে।
এ বিষয়ে মান্দা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আখতার জাহান সাথী বলেন, হাট-বাজারে ওজন সংক্রান্ত অনিয়ম এবং কৃষক ও ভোক্তাদের প্রতারিত হওয়ার বিষয়টি আমাদের নজরে এসেছে। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। পাশাপাশি মোবাইল কোর্ট পরিচালনাসহ নিয়মিত তদারকির উদ্যোগ নেওয়া হবে।
এ বিষয়ে নওগাঁ-৪ (মান্দা) আসনের সংসদ সদস্য ডা. ইকরামুল বারী টিপু বলেন, সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী যে কোনো কৃষিপণ্য বা ফলের ক্ষেত্রে ৪০ কেজি মানে ৪০ কেজিই। আইনত বাড়তি বা ‘ঢলন’ নেওয়ার কোনো সুযোগ নেই। কৃষকেরা সচেতন হলে এবং প্রশাসন নিয়মিত মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করলে এ ধরনের অনিয়ম দ্রুত বন্ধ করা সম্ভব। বাজারমূল্য ওঠানামা করলেও পণ্যের ওজন অবশ্যই সঠিক থাকতে হবে।
ডাসকো ফাউন্ডেশন বাস্তবায়িত নেটজ বাংলাদেশ ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের আর্থিক সহযোগিতায় এনগেজ প্রকল্পের বিশ্ব পরিবেশ দিবস 2026 উদযাপন উপলক্ষে আজ বৃহস্পতিবার গোদাগাড়ি উপজেলা পরিষদ প্রাঙ্গণে রোড শো ও গাছের চারা বিতরণ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।
গোদাগাড়ি উপজেলার কৃষি কর্মকর্তা জনাব মরিয়ম আহমেদ মহোদয়ের সভাপতিত্বে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপজেলা সমাজ সেবা অফিসার মোঃ আব্দুল মানিক, প্রকল্প বাস্তবায়ন অফিসার এ, কে, এম মমিনুল হক, শিক্ষার্থী, সিএসও সদস্য, এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশগ্রহণ করেন।
অনুষ্ঠানের শুরুতে প্রধান অতিথি ও অন্যান্য অতিথিবৃন্দ জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলা এবং পরিবেশ সংরক্ষণে জনসচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে সজ্জিত যানবাহনের সমন্বয়ে ফিতা কেটে আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন।
উদ্বোধন অনুষ্ঠানে গোদাগাড়ি উপজেলার কৃষি কর্মকর্তা পরিবেশ সুরক্ষা, সবুজায়ন বৃদ্ধি এবং জলবায়ু সহনশীল কমিউনিটি গঠনের গুরুত্ব তুলে ধরে বক্তব্য প্রদান করেন।
অতিথিবৃন্দ বলেন, পরিবেশ রক্ষা ও জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবিলায় সরকারি ও বেসরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি জনগণের সক্রিয় অংশগ্রহণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে একটি সবুজ, নিরাপদ ও জলবায়ু সহনশীল সমাজ গড়ে তোলা সম্ভব।
অতিথিবৃন্দ বলেন, পরিবেশ রক্ষা ও জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় বৃক্ষরোপণের কোনো বিকল্প নেই। সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় একটি সবুজ, সুন্দর ও টেকসই পরিবেশ গড়ে তোলা সম্ভব।
এ সময় সিএসও সদস্যদের মাঝে ফলজ, বনজ ও ঔষধি গাছের চারা বিতরণ করা হয়। অতিথিগণ উপস্থিত অংশগ্রহণকারীদের হাতে গাছের চারা তুলে দেন এবং প্রত্যেককে অন্তত একটি করে গাছ রোপণ ও পরিচর্যার আহ্বান জানান। অতিথি ও উপস্থিত সদস্যগণ ভবিষ্যত সুরক্ষা ও জলবায়ু সংকট মোকাবেলায় প্রকৃতি হোক অনুপ্রেরণার উৎস আপনি কি একমত স্বাক্ষরিত ব্যানারে সহমত পোষন করে স্বাক্ষর করেন
রোড শোতে ১৬ টি সুসজ্জিত অটোবাইকে সুশীল সমাজের সংগঠনের সদস্যগণ ও এনগেজ প্রকল্পের কর্মীগণ অংশগ্রহণ করে। জলবায়ু অভিযোজন, পরিবেশ সংরক্ষণ এবং দুর্যোগ সহনশীলতা বিষয়ক সচেতনতামূলক ব্যানার, পোস্টার, ফেস্টুন ও স্লোগানে সজ্জিত অটোবাইকগুলো গোদাগাড়ি উপজেলার ৬টি ইউনিয়নের (গোদাগাড়ি, পাকড়ী, রিশিকুল, গোগ্রাম, মাটিকাটা, দেওপাড়া) এর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও জনবহুল এলাকা প্রদক্ষিণ করে। রোড শো চলাকালে অংশগ্রহণকারীরা পরিবেশ সুরক্ষা, পানি সংরক্ষণ, খরা মোকাবিলা, বৃক্ষরোপণ এবং জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষতিকর প্রভাব সম্পর্কে জনসচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে বিভিন্ন বার্তা প্রচার করেন।
কর্মসূচিটি উৎসবমুখর পরিবেশে সম্পন্ন হয় এবং অংশগ্রহণকারীরা পরিবেশ সংরক্ষণ ও জলবায়ু অভিযোজন কার্যক্রমে সক্রিয় ভূমিকা রাখার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।
আপনার মতামত লিখুন