খুঁজুন
সোমবার, ২৭ এপ্রিল, ২০২৬, ১৪ বৈশাখ, ১৪৩৩

নওগাঁয় মাদ্রাসাছাত্রের মরদেহ উদ্ধার

নওগাঁ জেলা প্রতিনিধি:
প্রকাশিত: শুক্রবার, ১৭ অক্টোবর, ২০২৫, ৬:৫৬ অপরাহ্ণ
নওগাঁয় মাদ্রাসাছাত্রের মরদেহ উদ্ধার

নওগাঁ সদর উপজেলার দুবলহাটির ফতেপুরে রওদাতুল কোরআন ফতেপুর আক্কাস আলী হাফেজিয়া কওমি মাদ্রাসা থেকে আব্দুর রহিম বাদশা নামে এক ছাত্রের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।

শুক্রবার সকালে মরদেহটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য নওগাঁ সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়।

নিহত আব্দুর রহিম বাদশা নওগাঁ সদর উপজেলার কানমটকাই গ্রামের সামছুর রহমানের ছেলে।

তিনি ফতেপুর রওদাতুল কোরআন আক্কাস আলী হাফেজিয়া কওমি মাদ্রাসার হেফজ বিভাগের ছাত্র ছিলেন।

এ ঘটনায় প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ওই মাদ্রাসার শিক্ষক আব্দুল মাজেদকে আটক করেছে পুলিশ।

শিক্ষক আব্দুল মাজেদ জানান, রাত আনুমানিক পৌনে চারটার দিকে তাহাজ্জুত নামাজের জন্য ঘুম থেকে উঠে তিনি মাদ্রাসার মাঠে বারান্দার নিচে আব্দুর রহিমকে অচেতন অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন। এরপর তাকে কক্ষে নিয়ে আসা হয় এবং মাদ্রাসা কমিটির সদস্যদের খবর দেওয়া হয়। পরে তারা পুলিশকে জানালে ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে।

নওগাঁ সদর মডেল থানার ওসি নুরে আলম সিদ্দিকী বলেন, “প্রাথমিকভাবে মৃত্যুর সঠিক কারণ জানা যায়নি। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য নওগাঁ সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।”

ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর কারণ জানা যাবে বলে জানান তিনি।

নালিতাবাড়ীতে বন্যহাতির ভয়ে আধাপাকা ধান কাটছে কৃষক

জুবায়ের আহমেদ রাসেল
প্রকাশিত: রবিবার, ২৬ এপ্রিল, ২০২৬, ১০:১৬ অপরাহ্ণ
নালিতাবাড়ীতে বন্যহাতির ভয়ে আধাপাকা ধান কাটছে কৃষক

শেরপুরের নালিতাবাড়ী উপজেলার সীমান্তবর্তী গারো পাহাড়ি এলাকায় আবাদকৃত বোরো আবাদের কষ্টের ফসল বন্যহাতি দ্বারা ক্ষতিগ্রস্থ হওয়ার ভয়ে আধাপাকা ধান কাটতে শুরু করেছে কৃষকরা। উপজেলার রামচন্দ্রকুড়া, নয়াবিল ও পোড়াগাঁও ইউনিয়নের বিস্তীর্ণ পাহাড়ি এলাকাজুড়ে কৃষক বোরোধান আবাদ করেছেন। এসব আবাদের ফসল এখন পাকতে শুরু করেছে। আবার কোন কোন এলাকায় এখনো ভালোভাবে ফসল পাকেনি। কিন্তু এসব এলাকার কোন না কোন স্থানে বন্যহাতির পাল খাবারের সন্ধানে হামলা চালিয়ে আসছে। কৃষক তাদের ফসল রক্ষা করতে প্রায় সময় বন্যহাতির সাথে দ্বন্দ্বে জড়িয়ে পড়ছে। এতে কখনো হাতির পায়ে পৃষ্ট হয়ে মানুষ মারা যাচ্ছে। আবার ফসল রক্ষায় কৃষকের দেওয়া বৈদ্যুতিক ফাঁদে হাতিও মারা যাচ্ছে। দীর্ঘ প্রায় দুই যুগ এমতাবস্থা চলে আসলেও এর কোন সমাধান হচ্ছে না এদিকে, বোরোধান কাটার মৌসুমকে সামনে রেখে বন্যহাতির দ্বিগুণ তান্ডব বেড়েছে। মুলত বোরোধান লাগানোর পর থেকেই বন্যহাতির পাল কয়েক দফায় তান্ডব চালিয়ে ধান খেয়ে ও পা দিয়ে মাড়িয়ে ফসল নষ্ট করেছে। আবার কিছু এলাকায় ফসলী জমির ক্ষতি কাটিয়ে এখন ঘরে তুলার উপযুক্ত সময় হয়েছে। তবে থেমে নেই বন্যহাতির অত্যাচার। প্রায় প্রতিদিনই বিকেল কিংবা সন্ধ্যা বেলায় খাবারের সন্ধানে গহীন অরণ্য থেকে ধান খেতে দলবেঁধে নেমে আসছে হাতিরা। কৃষক তাদের কষ্টের সোনার ফসল রক্ষা করতে ধানক্ষেতে টঙ ঘর বানিয়ে রাতদিন পাহাড়া দিচ্ছে। ফসল ঘরে তোলার আগ মুহূর্তে বন্যহাতির অত্যাচার বেড়েছে দ্বিগুণ। কোনভাবেই ক্ষুধার্ত হাতিগুলোকে দমানো যাচ্ছে না। তাই বাধ্য হয়ে এলাকার কৃষকরা ইতোমধ্যে আধাপাকা ধান কাটতে শুরু করেছেন।

উপজেলার আন্ধারুপাড়া গ্রামের গারো আদিবাসী কৃষক মেজেস সাংমা বলেন, মাঝে মধ্যেই বন্যহাতি আমাদের বোরোধান খেতে হামলা করে। তাই ফসল বাঁচাতে আমরা খেতের পাশে টঙ ঘর বানিয়ে রাতদিন পাহাড়া দেই। হাতি তাড়ানোর জন্য আমারা ডাকচিৎকার, হৈ-হুল্লোড় করে, টিন পিটিয়ে শব্দ করে আবার কখনো মশাল জ্বালিয়ে থাকি। কিন্তু বর্তমানে কেরোসিন তেলের সরবরাহ কম থাকায় ও দাম বেশি হওয়ায় হাতি তাড়াতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। তিনি আরো জানান, বন বিভাগ থেকে ফসলের ক্ষতিপূরণ দেওয়া হলেও তা সবাই পায় না। বিশেষ করে জমির কাগজপত্রের কারনে বর্গাচাষীরা পায় না। তাছাড়া ক্ষয়ক্ষতির তুলনায় ক্ষতিপূরণ কম পাওয়া যায়।

একই এলাকার দাওধারা গ্রামের কৃষক মো. হালিম উদ্দিন বলেন, বন্যহাতি যা ক্ষতি করে সরকার তার চারভাগের একভাগও ক্ষতিপূরণ দেয় না। যদিও মাঝে মধ্যে কিছু সংখ্যক কৃষক ক্ষতিপূরণ পায় তাও আবার দীর্ঘদিন পরে। তিনি বলেন, ক্ষতিপূরণ পাওয়ার বিষয়টি আরো সহজ করা দরকার। এছাড়া হাতি আক্রান্ত এলাকায় উচ্চ শক্তি সম্পন্ন লাইটিং করার দাবিও জানান তিনি।

এ বিষয়ে ময়মনসিংহ বনবিভাগের মধুটিলা ফরেস্ট রেঞ্জ কর্মকর্তা মো. দেওয়ান আলী বলেন, আমরা বন বিভাগের পক্ষ থেকে বন্যহাতি দ্বারা ক্ষতিগ্রস্থ কৃষকদের ক্ষতিপূরণ দিচ্ছি। এতে কৃষকের বেশ আর্থিক সহযোগিতা হচ্ছে। একইসাথে বন্যহাতি ও মানুষের মাঝে সহাবস্থানের জন্য আমরা এলাকার মানুষদেরকে সচেতন করছি। তিনি আরো বলেন, কৃষক যাতে সহজে তাদের ক্ষতিপূরণ পায় সে বিষয়টি উর্ধতন কর্তৃপক্ষকে অবগত করা হয়েছে।

ইটভাটার কালো ধোঁয়া পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্যের জন্য এক নীরব ঘাতক

মোঃহোসন শাহ্‌ ফকির ইসলামপুর জামালপুর প্রতিনিধিঃ
প্রকাশিত: রবিবার, ২৬ এপ্রিল, ২০২৬, ৩:০৭ অপরাহ্ণ
ইটভাটার কালো ধোঁয়া পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্যের জন্য এক নীরব ঘাতক

জামালপুর জেলার মেলান্দহ ও ইসলামপুর উপজেলায় ক্রমবর্ধমান উন্নয়ন ও অবকাঠামো নির্মাণের প্রধান উপকরণ ইট। ইটভাটার কালো ধোঁয়া:পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্যের জন্য এক ‘নীরব ঘাতক’ তবে এই ইটের জোগান দিতে গিয়ে গড়ে ওঠা ইটভাটা এখন পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্যের জন্য চরম হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। ইটভাটা গুলো আবাসিক এলাকার পাশেই ও ফসলি জমিতে গড়ে উঠেছে। ইটভাটায় ইট পোড়াতে বায়ু দূষণের কারণে হাঁপানি,শ্বাসকষ্টসহ নানা রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন স্থানীয়রা। এ ছাড়াও এর প্রভাব পড়ছে ফসলে। তবে পরিবেশ দূষণরোধে উপজেলায় গুলো নেই কোন অভিযান। প্রশাসন যেন নিরব দর্শকের ভুমিকা পালন করছে।

জানা গেছে,মারাত্মক বায়ু দূষণের বড় উৎস ইটভাটা বৈশ্বিক বায়ুমান পর্যবেক্ষণকারী প্রতিষ্ঠান আইকিউ

এয়ারের তথ্যমতে,বাযু দূষনের অন্যতম কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে ইটভাটা। ইটভাটার কালো ধোঁয়ায় আচ্ছন্ন চারপাশ। কৃষিজমির মাটি কেটে ব্যবহার করা হচ্ছে ইট তৈরিতে। ইট পোড়াতে প্রতিদিন নষ্ট হচ্ছে গাছ। ভাটার কালো ধোঁয়ায় মাটির উর্বরতা,গাছ গাছালি নষ্ট হয়ে ব্যাহত হচ্ছে কৃষি উৎপাদন। দূষিত পরিবেশে মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকিতে রয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

আক্রান্ত হচ্ছেন হাঁপানি,শ্বাসকষ্টসহ নানা রোগ ব্যাধিতে।

পরিবেশ অধিদফতর তালিকা অনুযায়ী মেলান্দহ ২৪টি ও ইসলামপুর ১০টি ইটভাটা রয়েছে।বর্তমানে ৩৪টি ইটভাটা মধ্যে ১১টি ইটের ভাটা বন্ধ রয়েছে। অবৈধ ৩৪টি ইটভাটার কোনটারি পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র নাই বলে পরিবেশ অধিদফতর জামালপুর সুত্রে জানা যায।

জেলা বিভিন্ন উপজেলার এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, ইটভাটায় ইট তৈরি ও পোড়ানো হচ্ছে। এছাড়া কয়লার কারণে চিমনি দিয়ে অনবরত কালো ধোঁয়া বের হচ্ছে। এ  জেলার বেশীর ভাগ ইটভাটা নিয়ম না মেনেই ঘনবসতি  পূর্ণ এলাকায় গড়ে উঠেছে। যেগুলোর পাশেই রয়েছে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান,আবাসিক স্থাপনা,জনসাধারনের চলাচলের পাকারাস্তা,দেওয়ানগঞ্জ – জামালপুর মহাসড়ক ফসলী মাঠ।

ডেফলা ব্রিজের পূর্ব পাশে আমডাঙ্গা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালযরে পাশে রয়েছে জান্নাত মেসার্স ব্রিক্সস ইটভাটা ও মেসার্স মদিনা ব্রিক্সস ইটভাটার। এছাড়াও মেসার্স বিসমিল্লাহ ব্রিকস ইট ভাটার অল্প দূর পাশেই বানিয়া বাড়ী সিনিয়র ফাজিল মাদ্রাসা ও পাচঁ পয়লা সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় ও হাবিবুর রহমান ডিগ্রী কলেজ রয়েছে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও আবাসিক এলাকায় অবৈধ ভাবে গড়ে উঠেছে ইটভাটা। যদিও স্কুল-কলেজের এক কিলোমিটারের মধ্যে কোনো ভাটা তৈরির নিয়ম নেই। তবুও সরকারি নিষেধাজ্ঞা তোয়াক্কা না করে দেদারসে গড়ে ওঠেছে এসব অবৈধ ইটভাটা।

মেসার্স এম আর বি ব্রিকস ইটের ভাটা বানিয়াবাড়ী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয,শিমুলতলী পলিটেকনিক্যাল এন্ড বিএম কলেজ ও ঢেংগাড়গর আলিম মাদ্রাসাস শিক্ষকরা বলেন,স্কুল সংলগ্ন ইটভাটা গড়ে উঠায় স্কুলের কমলমতি শিশু শিক্ষার্থীরা চরম স্বাস্থ্য ঝুকিতে রয়েছে। মেসার্স সওদাগর ব্রিকস-২ হাড়িয়াবাড়ি আব্দুল সাত্তার দাখিল মাদ্রাসা ও হাড়িয়াবাড়ী উচ্চ বিদ্যালয়,হাড়িয়াবাড়ী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা জানান, সব সময় ইট বহন কারি টলি ও ট্রাক চলাচল করায় জীবনের ঝুকি নিয়ে স্কুলে যাওয়া আসা করতে হয় শিক্ষার্থীদের। যে কোন সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটার সম্ভাবনা রয়েছে। ভাটা থেকে ক্লাশ রুমে, অফিস রুমে ও সমস্ত স্কুল চত্বরে ধুলা-বালি,ইটের গুড়া ও কালো ধোয়া এসে ভর্তি হয়ে যায়। এতে করে হাঁপানি, শ্বাসকষ্টসহ নানা রোগ ব্যাধিতে আক্রান্ত হচ্ছে কমলমতি শিক্ষার্থীরা।

ঢেংগাড়গর এলাকার আমির হোসেন বলে,ইটভাটার কালো ধোঁয়ায় গাছের পাতা মরে যায়,ফসলি জমির ক্ষতি হয়। আমের মুকুলের ক্ষতি হচ্ছে। এলাকায় ইটভাটার জন্য দূষণের কারণে ফসল ভালো হয় না।

আরেক বাসিন্দা মনিরুজ্জামান বাংলাদেশী বলেন, ইটভাটার কালো ধোঁয়া আর ধূলাবালিতে এলাকায় চলাফিরা চলা করা যায় না। অনেক মানুষ শ্বাসকষ্ট,হাঁপানিতে ভুগছেন। বিশেষ করে বৃদ্ধ এবং শিশুরা এই রোগে বেশি আক্রান্ত হচ্ছে।

এলাকাবসীর অভিযোগ রয়েছে ইটভাটার কলো ধোয়া আর ধূলাবালিতে পরিবেশ দুষন,রোগে আক্রান্ত ও ফসলের ক্ষতি হলেও প্রশাসন এ বিষয়ে কোন পদক্ষেপ গ্রহন করে না। ম্যানেজ করে অবৈধভাবে ইটভাটা পরিচালনা করছেন মালিকপক্ষ এমন তথ্য এলাকাবাসীর।

দূষণরোধে ইটভাটায় নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে জানিয়ে জামালপুর জেলা পরিবেশ অধিদফতরের সিনিয়র কেমিস্ট এ,কে,এম,ছামিউল আলম কুরসি  বলেন,অবৈধ ইটভাটা গুড়িয়ে দেওয়ার পাশাপাশি জরিমানা আদায় করা হয়েছে। এখনো অভিযান চলমান। জেলা ও উপজেলা প্রসাশনের সাথে সমন্বয় করে অভিযান পরিচালনা করে ইট প্রস্তুুত ও ভাটা স্থাপন (নিয়ন্ত্রণ) (সংশোধন) আইন, ২০১৯ এর ধারা ৫(২) ধারা ও দন্ডের ধারা ১৫(১) এর (খ) অনুয়ায়ী দুই উপজেলায় মেলান্দহ ও ইসলামপুরে ১২ লক্ষ ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।

 

 

ইসলামপুর জ্বালানির জন্য হাহাকার ক্ষোভে ফেটে পড়ছে সাধারণ মানুষ

​মোঃ হোসেন শাহ্‌ ফকির জামালপুরঃ
প্রকাশিত: শনিবার, ২৫ এপ্রিল, ২০২৬, ১০:২০ অপরাহ্ণ
ইসলামপুর জ্বালানির জন্য হাহাকার ক্ষোভে ফেটে পড়ছে সাধারণ মানুষ

 

তীব্র বিদ্যুৎ সংকট আর জ্বালানি তেলের হাহাকারে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে জামালপুরের ইসলামপুর জনজীবন। গত কয়েকদিন ধরে চলমান এই চরম অচলাবস্থায় স্থবির হয়ে পড়েছে ব্যবসা-বাণিজ্য কৃষি এবং সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন কাজকর্ম।

বিদ্যুৎ ও জ্বালানির হাজারো বিক্ষুব্ধ মানুষ। অন্ধকারে ডুবছে জনপদ।

​স্থানীয়দের অভিযোগ,বেশ কয়েক দিন ধরে হোমিও ওষধের মতো ২৪ ঘণ্টার তিন ফুটা করে পল্লী বিদ্যুতের দেখা মিলছে। প্রচণ্ড গরমে জনজীবন যখন ওষ্ঠাগত তখন দীর্ঘসময় বিদ্যুৎ না থাকায় শিশু ও বৃদ্ধরা চরম স্বাস্থ্যঝুঁকিতে পড়েছেন। বিশেষ করে রাতের বেলা দীর্ঘ সময় লোডশেডিংয়ের কারণে পুরো উপজেলা এক ভুতুড়ে অন্ধকারে নিমজ্জিত থাকছে। জ্বালানি সংকটে স্থবিরতা বিদ্যুতের পাশাপাশি জ্বালানি তেলের তীব্র সংকট পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। পাম্প গুলোতে তেলের জন্য দীর্ঘ লাইন দেখা গেলেও মিলছে না পর্যাপ্ত ডিজেল বা পেট্রোল ও অকটেন। ডিজেল এর সরাসরি প্রভাব পড়েছে পৌরশহরে বিভিন্ন অটোরাইস মিল,ইটের ভাটা গুলোতে ও পরিবহন খাতে। জ্বালানির পেট্রোল ও অকটেন অভাবে শিক্ষক,সাংবাদিক ও বিভিন্ন ব্যবসায়ী। বিদ্যুৎ সংকট করনে রাস্তায় যানবাহন কমে যাওয়ায় ভোগান্তিতে পড়েছেন যাত্রী ও অফিসগামী মানুষ। এছাড়াও কৃষিও ব্যবসায় ধস; বিদ্যুৎ ও ডিজেলের অভাবে সেচ পাম্প বন্ধ থাকায় ফসলি জমি শুকিয়ে যাচ্ছে।

চাউল কল মালিক সমিতি সভাপতি হাজী নজরুল ইসলাম মিষ্টার বলেন, বিদ্যুৎ সংকটে কারনে উপজেলা বিভিন্ন ইউনিয়নে রাইসমিলসহ ব্যবসায়ীরা জেনারেটর চালিয়ে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান সচল রাখা এখন অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে,ফলে প্রতিদিন লোকসানের পাল্লা ভারী হচ্ছে।এখন ডিজেলও পাওয়া যাচ্ছেনা।

​এক ভুক্তভোগী বলেন,আমরা বিল দিয়েও বিদ্যুৎ পাচ্ছি না। তেলের অভাবে গাড়ি চলে না দোকান ও চলে না। আমরা এভাবে আর কতদিন অন্ধকারের মধ্যে থাকব?জামালপুর জেলা অন্য উপজেলা আমাদের মতে ভুক্তভোগী না।

​এ বিষয়ে পল্লী বিদ্যুৎ দেওয়ানগঞ্জ ও চলতি দায়িত্ব ইসলামপুর ডিজিএম নিরাপদ দাস যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, বিদ্যুৎ সরবরাহ ঘাটতির কারণে এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। উপজেলায় ১৮ মেগাওয়াট প্রয়োজন কিন্তু ুআমরা পাচ্ছি ৪ থেকে ৫ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ। দ্রুত সমস্যা সমাধানের জন্য উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সাথে আলোচনা চলছে বলে তারা আশ্বাস দিয়েছেন।

নালিতাবাড়ীতে বন্যহাতির ভয়ে আধাপাকা ধান কাটছে কৃষক ইটভাটার কালো ধোঁয়া পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্যের জন্য এক নীরব ঘাতক ইসলামপুর জ্বালানির জন্য হাহাকার ক্ষোভে ফেটে পড়ছে সাধারণ মানুষ রংপুরে রাস্তা সংস্কারের দাবিতে মানববন্ধন সেনবাগে বৃত্তি পরীক্ষার পুরস্কার বিতরণ ও সড়ক সংস্কারের উদ্বোধন