খুঁজুন
শুক্রবার, ২৬ জুন, ২০২৬, ১২ আষাঢ়, ১৪৩৩

২৮ সেপ্টেম্বর আন্তর্জাতিক তথ্য অধিকার দিবস তথ্য অধিকার (আরটিআই) আইন: নাগরিকত্ব উপলব্ধির এক শক্ত হাতিয়ার

বাবুল চন্দ্র সূত্রধর
প্রকাশিত: শনিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৫, ৭:৪৮ অপরাহ্ণ
২৮ সেপ্টেম্বর আন্তর্জাতিক তথ্য অধিকার দিবস তথ্য অধিকার (আরটিআই) আইন: নাগরিকত্ব উপলব্ধির এক শক্ত হাতিয়ার

নাগরিক জীবনের সুশৃঙ্খল প্রবাহে সুশাসনের বিকল্প নেই – কেবলমাত্র সুশাসনই সমাজে একজন ব্যক্তির যথাযথ ভূমিকা, দায়িত্ব, অধিকার এবং কর্তব্য নিশ্চিত করতে পারে। অতএব, সুশাসনের মৌলিক পূর্বশর্ত হিসেবে স্বচ্ছতা এবং জবাবদিহিতার একটি অনন্য স্থান রয়েছে। কারণ সমাজে সাংবিধানিকভাবে অর্পিত ব্যক্তি যদি তা পালন না করেন, তাহলে সমাজের নিয়মতান্ত্রিক প্রবাহ ব্যাহত হয়, শৃঙ্খলা স্থবির হয়ে পড়ে। যেখানে শৃঙ্খলা নেই, সেখানে সংহতি থাকতে পারে না। সমাজে সংহতির উপস্থিতি ছাড়া মানুষের জীবন আর জীবন থাকে না, এটি হয়ে ওঠে কেবল বেঁচে থাকার জন্য। এই পরিস্থিতির সুষ্ঠু ও কার্যকর মোকাবেলার জন্য তথ্যের অবাধ প্রবাহ নিশ্চিত করা অপরিহার্য। গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার ২০০৯ সালে তথ্য অধিকার আইন প্রবর্তনের মাধ্যমে দেশের জনগণের তথ্যের অধিকার নিশ্চিত করেছে। দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষ, যারা প্রান্তিক বা সুবিধাবঞ্চিত বলে পরিচিত, তারা তাদের ন্যায্য অধিকার উপভোগ করার জন্য তথ্য অধিকার (আরটিআই) আইনকে একটি অনন্য হাতিয়ার হিসেবে গ্রহণ করেছে। এতে বিভিন্ন সেবামূলক প্রতিষ্ঠান (যারা এনজিও নামে পরিচিত) এই বিষয়ে তাদের উৎসাহিত করছে এবং সহায়তা দিচ্ছে। এখন আমি এমনই একটি অভিজ্ঞতা উপস্থাপন করতে চাই।
বাংলাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় জেলা সাতক্ষীরার সদর উপজেলার অত্যন্ত দরিদ্র আদিবাসী বাগদী সম্প্রদায়ের সাতজন নারী-পুরুষ (অঞ্জলি ম-ল, জয়ন্তী ম-ল, ভোলা ম-ল, বৃন্দাবন ম-ল, নমিতা ম-ল, শঙ্কর গোলদার এবং সান্তনা ম-ল) ঢাকাস্থ তথ্য কমিশনে অভিযোগের শুনানিতে অংশ নিতে এসেছিলেন। তাদের অভিযোগের বিষয় ছিল: ইতোপূর্বে তারা সাতক্ষীরা সদরের উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও)-এর কাছে পৃথকভাবে নি¤েœ উল্লিখিত তথ্য চেয়েছিলেন:
(১) ২০১৩-১৪ অর্থবছরে সাতক্ষীরা সদর উপজেলার ৮ নম্বর ধুলিহর ইউনিয়নে বসবাসকারী নৃগোষ্ঠীর কতজন শিক্ষার্থীকে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় কর্তৃক উপবৃত্তি প্রদান করা হয়েছে; আমি নামের তালিকা এবং মাথাপিছু উপবৃত্তির পরিমাণ জানতে চাই;
(২) সাতক্ষীরা সদর উপজেলার ৮ নম্বর ধুলিহর ইউনিয়নে বসবাসকারী নৃগোষ্ঠীর লোকজন, যাদের নামে ২০১৩-১৪ অর্থবছরে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে বিনামূল্যে পায়ে চালিত ভ্যান সরবরাহ করা হয়েছে . তাদের নামের তালিকা পেতে চাই; এবং
(৩) পায়ে চালিত ভ্যান বিতরণের নীতিমালার মূল কপির একটি ফটোকপি পেতে চাই।
আবেদনের উত্তরের জন্য নির্ধারিত ২০ কার্যদিবসেরও বেশি সময় অপেক্ষা করার পরও কোনও উত্তর না পেয়ে তারা নীতিমালা অনুসারে সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসকের কাছে আপিল আবেদন করেন এবং নির্ধারিত ১৫ দিনের মধ্যে তাঁর কাছ থেকে কোন উত্তর না পেয়ে তারা তথ্য কমিশনে অভিযোগ দায়ের করেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে তথ্য কমিশন তাদের শুনানিতে অংশগ্রহণের জন্য নোটিশ দেন।
দুপুর ১২.০০ টার দিকে অভিযুক্ত ইউএনও এবং অভিযোগকারীদের কমিশনের শুনানি কক্ষে ডাকা হয়। নির্ধারিত আসন গ্রহণের পর অভিযোগকারীরা শপথ পাঠ করে একে একে তাদের অভিযোগ উপস্থাপন করেন। অভিযোগগুলো উপস্থাপন করা হলে কমিশন অভিযুক্ত ইউএনওকে তার বক্তব্য উপস্থাপনের নির্দেশ দেন। ইউএনও তার বক্তব্যের শুরুতেই বলেন যে তিনি তথ্যপ্রার্থীদের অফিসে ডেকে তাদের উত্তর দিয়েছেন এবং ছবিগুলোও তার কাছে আছে। কমিশন বলেন, ‘আপনি কোন আইনের অধীনে তাদের অফিসে ডেকেছেন? তারা লিখিতভাবে তথ্য চেয়েছেন, আপনি নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তাদের ঠিকানায় লিখিত উত্তর পাঠাবেন; আপনি যে উত্তর দিয়েছেন তা কোন উত্তর নয়।’ এ সময় ইউএনওকে বেশ কিছু তিরস্কারও হজম করতে হয়। ইউএনও যখন এলাকার রাজনৈতিক নেতাদের প্রভাবের কথা উল্লেখ করেন তখন কমিশন আরও ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন। এরপর কমিশন জানতে চান, ‘আপনি এখন তাদের তথ্য কীভাবে দেবেন?’ জবাবে ইউএনও বলেন যে তাকে অন্যত্র বদলি করা হয়েছে। এরপর কমিশন বলেন, ‘এটা বিবেচনা করা যাবে না, আপনি আগামী ৫ দিনের মধ্যে তাদের কাছে তথ্য পৌঁছে দেবেন’। ইউএনও অতিরিক্ত ২ দিন সময় চাইলে কমিশন সম্মত হন এবং বলেন যে, যদি এই সময়ের মধ্যে সঠিক তথ্য সরবরাহ না করা হয়, তাহলে সমস্যা জটিল হয়ে উঠবে; গ্রামের মানুষ, তারা কম শিক্ষিত, ভয় পায়, তাই তারা স্পষ্ট করে বলতে পারেনি, নাহলে এটা এখনই সমস্যায় পরিণত হয়ে যেত।
শুনানির পর প্রধান তথ্য কমিশনার বেরিয়ে এসে অভিযোগকারীদের ডেকে বলেন, ‘তোমাদের কখনই ভয় পাওয়া উচিত নয়। তোমরা সবসময় তোমাদের অধিকার সম্পর্কে তথ্য চাইবে। যদি কোন অসুবিধা হয় তবে আমরা আছি।’ একজন তথ্য কমিশনার তাদের জিজ্ঞাসা করেন, ‘তোমাদের কি অন্য কোন সমস্যা আছে?’ উত্তরে তারা বলেন, ‘আমাদের জীবনই আমাদের সমস্যা। প্রশাসন সহ কেউ আমাদের জন্য কাজ করে না।’ জবাবে তথ্য কমিশনার বলেন, ‘আমরা তোমাদের জন্য আছি। সাহসের সাথে কাজ কর। আমি শীঘ্রই তোমাদের এলাকা পরিদর্শনে আসব।’ পরের দিন ‘প্রথম আলো’ পত্রিকায় এই খবর প্রকাশিত হয়, তখন এলাকায় বেশ আলোড়ন সৃষ্টি হয়।
ঘটনাটি কয়েক বছর আগের। কিন্তু এর প্রভাব এখনও এই সম্প্রদায়কে অনুপ্রাণিত করছে। তথ্য কমিশনের শুনানির পর আসা অভিযোগকারীদের মুখে আনন্দের রেখা ফুটে ওঠে। মনে হয়েছিল এটি প্রথমবারের মতো উপলব্ধি করার একটি স্মরণীয় মুহূর্ত- তারাই দেশের আসল মালিক। বলা বাহুল্য, এই সম্প্রদায়ের মানুষ যুগ যুগ ধরে প্রশাসন এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের দ্বারা অবহেলিত জীবনযাপন করতে বাধ্য হয়েছে। সম্প্রতি তাদের সাথে কথা বলে জানা গেছে যে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কর্মসংস্থান, সরকারি পরিষেবা ইত্যাদিতে তাদের অংশগ্রহণ বৃদ্ধি পেয়েছে এবং সামাজিক মূল্যায়নও বৃদ্ধি পেয়েছে। তাদের নাগরিকত্ববোধ এবং সামাজিক সচেতনতা তাদের আলোর সন্ধান দিয়েছে।
বর্ণিত শুনানির কিছু শিক্ষণীয় দিক রয়েছে: প্রথম পক্ষ, অর্থাৎ তথ্যের জন্য আবেদনকারী বা অভিযোগকারী মানসিক শক্তি অর্জন করেছেন, যারা দেশের প্রকৃত মালিক। দেশের নাগরিক হিসেবে তাদের প্রকৃত মূল্যায়ন আছে; যদি তারা চান, যেকোনো কর্তৃপক্ষ তথ্য প্রদান করতে বাধ্য। দ্বিতীয় পক্ষ, অর্থাৎ তথ্য প্রদানকারী বা সরকারি/আইনগত বেসরকারি খাতের মনোনীত কর্মকর্তারা বুঝতে পেরেছেন যে জনগণ আর ঘুমিয়ে নেই, তারা জেগে আছে। দেশের যেকোনো নাগরিককে তথ্য প্রদান না করার কোন সুযোগ নেই। তৃতীয় পক্ষ, অর্থাৎ বিচারক কর্তৃপক্ষ বা তথ্য কমিশনের সম্মানিত কর্মকর্তারা ব্যাখ্যা করেছেন যে, জনগণের অর্থে পরিচালিত রাষ্ট্রে জনগণ যেকোনো বিষয়ে হিসাব চাইবে এবং তারা চাইলে তা এড়ানোর কোন উপায় নেই। জনগণকে উপেক্ষা করে বা এড়িয়ে কেউ পার পেতে পারে না, তথ্য কমিশন নাগরিকদের তথ্যের অধিকার নিশ্চিত করার জন্য দায়বদ্ধ প্রতিষ্ঠান।
যখন আমরা এই শুনানির সামগ্রিক সামাজিক প্রভাবের দিকে তাকাই, তখন তথ্যকর্মী হিসেবে আমরা অবশ্যই আশাবাদী হতে পারি:
• সরকারি অফিস সম্পর্কে সাধারণ মানুষের ভীতি অপসারণের পথ উন্মুক্ত হয়েছে
• সাধারণ জনগণকে অবহেলা না করে ন্যায্য মূল্যায়নের একটি সরকারী সংস্কৃতি প্রবর্তনের পথ উন্মুক্ত হয়েছে
• মধ্যস্বত্বভোগী, দালাল এবং ফড়িয়াদের দৌরাত্ম্য হ্রাস পাবে
• যদি একজন ব্যক্তি তার সাংবিধানিক এবং ন্যায্য অধিকার সম্পর্কে সোচ্চার হন, তাহলে রাষ্ট্রযন্ত্র সহ অনেক ব্যক্তি এবং প্রতিষ্ঠানের সমর্থন পাওয়া সম্ভব
• সকলেই আইনকে সালাম জানায় – শ্রদ্ধার সাথে হোক বা ভয়ের সাথে হোক
• স্বচ্ছতা এবং জবাবদিহিতা প্রতিষ্ঠার জন্য ত্রিপক্ষীয় (আবেদনকারী, তথ্য সরবরাহকারী এবং মীমাংসাকারী) আলোচনার প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থার উদ্ভব হয়েছে
• তথ্যের জন্য অনুরোধ করা কেবল অধিকার প্রয়োগের বিষয় নয়, বরং একজন সচেতন নাগরিক হিসেবে একটি দায়িত্বও
• একটি যুক্তিসঙ্গত এবং অধিকার-ভিত্তিক সামাজিক ব্যবস্থা গঠনের পথ উন্মুক্ত হচ্ছে।
পরিশেষে বলতে চাই, আদিবাসী, উপজাতি, বাগদী, অনগ্রসর, অবহেলিত, নৃগোষ্ঠী, দরিদ্র ইত্যাদি নাম এবং পদবি ব্যবহার না করে অভিযোগকারীদের বাংলাদেশ রাষ্ট্রের মালিক বলাই আমাদের জন্য বেশি স্বাচ্ছন্দ্যের বিষয়। তারা আসলে দেশের মালিক সকল নাগরিকের প্রতিনিধিত্ব করলেন; তারা একই সাথে তাদের অধিকার অনুশীলন করে গেলেন এবং দেশের মালিক হিসেবে তাদের দায়িত্ব পালন করলেন। দেশের সর্বত্র এই আইন অনুশীলনের যথাবিহিত ব্যবস্থা গ্রহণ আবশ্যক।

গভীর সমুদ্রে নিখোঁজ জেলের মরদেহ উদ্ধার কুয়াকাটায়

কুয়াকাটা ( পটুয়াখলী ) প্রতিনিধি: 
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন, ২০২৬, ১১:২৮ অপরাহ্ণ
গভীর সমুদ্রে নিখোঁজ জেলের মরদেহ উদ্ধার কুয়াকাটায়

 

পটুয়াখালীর মহিপুর থানার গঙ্গামতি উপকূলের গভীর সমুদ্রে নিখোঁজ হওয়ার দুই দিন পর কুয়াকাটা থেকে এক জেলের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। নিহত জেলে শাহাবুদ্দিন মাঝি (৬০) লক্ষ্মীপুর জেলার রায়পুর থানার চর গাছিয়া এলাকার মৃত আমির হোসেনের ছেলে।

জানা গেছে, গত ২৩ জুন ভোর ৫টার দিকে ধূলাসার ইউনিয়নের গঙ্গামতি মৎস্যঘাট থেকে মাছ শিকারের উদ্দেশ্যে গভীর সমুদ্রে যান জেলেরা। সকাল আনুমানিক ১০টার দিকে হঠাৎ আবহাওয়া খারাপ হয়ে যায়। এ সময় জাল তোলার সময় প্রবল ঢেউয়ের আঘাতে জালাল মুন্সির ট্রলার থেকে শাহাবুদ্দিন মাঝি সমুদ্রে ছিটকে পড়ে তলিয়ে যান।

ঘটনার পর সহকর্মী জেলেরা অনেক খোঁজাখুঁজি করেও তার কোনো সন্ধান পাননি। পরে বিষয়টি স্থানীয় প্রশাসনকে জানানো হয়।

আজ ( ২৫ জুন ) বৃহস্পতিবার গভীর সমুদ্রে ভাসমান অবস্থায় শাহাবুদ্দিন মাঝির মরদেহ দেখতে পান লেম্বুর বনঘাট এলাকার কয়েকজন জেলে। তারা বিষয়টি স্বজনদের জানালে নিহতের পরিবারের সদস্যরা অন্য একটি নৌকার সহযোগিতায় ঘটনাস্থলে যান। পরে সন্ধ্যা আনুমানিক ৭টার দিকে গভীর সমুদ্র থেকে মরদেহটি উদ্ধার করে উপকূলে নিয়ে আসেন।

খবর পেয়ে স্থানীয় নৌ-পুলিশ, থানা পুলিশ ও টুরিস্ট পুলিশ   ঘটনাস্থলে পৌঁছে আইনগত কার্যক্রম শুরু করেছে।

এ ঘটনায় জেলে পরিবার ও এলাকাজুড়ে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। দীর্ঘদিন ধরে জীবিকার তাগিদে সমুদ্রে মাছ ধরতে গিয়ে এমন দুর্ঘটনায় জেলেদের প্রাণহানির ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন স্থানীয়রা।

তিস্তার ৩০ পয়েন্টে তীব্র ভাঙন, বিলীন হচ্ছে ভিটেমাটি ফসলি জমি

রিয়াজুল হক সাগর, রংপুর।
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন, ২০২৬, ১১:২১ অপরাহ্ণ
তিস্তার ৩০ পয়েন্টে তীব্র ভাঙন, বিলীন হচ্ছে ভিটেমাটি ফসলি জমি

 

উজানের ঢল ও টানা বৃষ্টিতে সৃষ্ট বন্যার আশঙ্কা কিছুটা কমলেও কুড়িগ্রামে এখন নতুন করে আতঙ্ক ছড়াচ্ছে ভয়াবহ নদীভাঙন। কুড়িগ্রাম জেলার ব্রহ্মপুত্র, তিস্তা, ধরলা ও দুধকুমার নদের পানি বিপৎসীমার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হলেও পানি নামার সঙ্গে সঙ্গে বিভিন্ন এলাকায় শুরু হয়েছে তীব্র ভাঙন। কুড়িগ্রাম জেলার অন্তত ৩০টি পয়েন্টে নদীভাঙন দেখা দিয়েছে। এতে মুহূর্তেই নদীগর্ভে বিলীন হচ্ছে বসতভিটা, ফসলি জমি ও গাছপালা।

বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) সকাল থেকে কুড়িগ্রাম জেলার নদ-নদীর পানি কমতে শুরু করেছে। কুড়িগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ড জানিয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় বিভিন্ন নদীর পানি ৫ থেকে ১৫ সেন্টিমিটার পর্যন্ত হ্রাস পেয়েছে। তবে পানি কমলেও নিচু এলাকার বিস্তীর্ণ ফসলি জমি এখনো পানির নিচে রয়েছে।

কুড়িগ্রাম জেলার রাজারহাট উপজেলার বিদ্যানন্দ ইউনিয়নের কালির মেলা এলাকার কৃষক মোঃ রব্বানী ও মোঃ রহিউদ্দিন জানান, তিস্তার পানি ঢুকে তাদের এক বিঘা জমির বাদাম ক্ষেত তলিয়ে গেছে। দ্রুত পানি না নামলে পুরো ফসল নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। একই সঙ্গে বিভিন্ন ধরনের সবজি ও আউশ ধানেরও ব্যাপক ক্ষতির শঙ্কা দেখা দিয়েছে বলে জানান স্থানীয় কৃষকরা।

এদিকে পানি কমার সঙ্গে সঙ্গে নদীপারের মানুষের দুর্ভোগ আরও বেড়েছে। ব্রহ্মপুত্র, তিস্তা, ধরলা ও দুধকুমার নদের তীরবর্তী বিভিন্ন এলাকায় ভাঙনের তীব্রতা বাড়ছে। অনেক পরিবার ঘরবাড়ি হারানোর আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছে। কোথাও কোথাও ইতোমধ্যে বসতঘর ও আবাদি জমি নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। ভাঙনকবলিত মানুষের মধ্যে চরম উদ্বেগ ও অনিশ্চয়তা বিরাজ করছে।

কুড়িগ্রাম জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী মোঃ ময়দুল ইসলাম রনি বলেন, গতকাল থেকে ভারী বৃষ্টিপাত না হওয়ায় নদ-নদীর পানি কমতে শুরু করেছে। স্থানীয়ভাবে নতুন করে অতিবৃষ্টি না হলে আপাতত বন্যার আশঙ্কা নেই।

অন্যদিকে কৃষি বিভাগ জানিয়েছে, দ্রুত পানি নেমে গেলে নিমজ্জিত ফসলের বড় ধরনের ক্ষতির আশঙ্কা কম থাকবে। কৃষকদের জমিতে পানি নেমে যাওয়ার পর বিশেষ পরিচর্যা নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

নদীবেষ্টিত কুড়িগ্রামের ভাঙনকবলিত মানুষ এখন জরুরি সরকারি সহায়তা ও টেকসই নদীভাঙন প্রতিরোধে কার্যকর পদক্ষেপের দাবি জানিয়েছেন।

রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে এক প্রবাসীর জমি দখলের অভিযোগ উঠেছ, মহিপুরে সংবাদ সম্মেলন

মেহেদী হাসান সোহাগ-কলাপাড়া,কুয়াকাটা-প্রতিনিধি
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন, ২০২৬, ১১:১৫ অপরাহ্ণ
রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে এক প্রবাসীর জমি দখলের অভিযোগ উঠেছ, মহিপুরে সংবাদ সম্মেলন

 

পটুয়াখালীর মহিপুরে রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে পৈত্রিক ও ক্রয়কৃত জমি দখল, প্রাণনাশের হুমকি, চাঁদাবাজি এবং হামলার অভিযোগ এনে সংবাদ সম্মেলন করেছেন এক প্রবাসী পরিবারের সদস্যরা।

বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) মহিপুরে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন মো. মুসা গাজী। তিনি জানান, তার বাবা মো. মজিবুর রহমান গাজী দীর্ঘ ২৩ বছর ধরে মালয়েশিয়ায় প্রবাস জীবন কাটাচ্ছেন। প্রবাসে অর্জিত অর্থে ২০২৪ সালে তিনি ৪০ নং ইউসুফপুর মৌজার বিএস ৮১৬ খতিয়ানের ২৩০৩ ও ২৩০৭ দাগের জমি ক্রয় করেন এবং বৈধভাবে ভোগদখলে রয়েছেন।

সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করা হয়, সম্প্রতি ইমরান হাওলাদার ও কিছু রাজনৈতিক ব্যক্তির সহযোগিতায় ওই জমিতে অবৈধ স্থাপনা নির্মাণের চেষ্টা চালান। বিষয়টি নিয়ে মহিপুর থানায় সালিশ বৈঠকে চূড়ান্ত সমাধান না হওয়া পর্যন্ত জমিতে সব ধরনের কার্যক্রম বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত হয়। তবে গত ১২ জুন ইমরান হাওলাদার মহিপুর থানা স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক বেল্লাল ইসলাম গালিব (মাইকেল), মহিপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক আইউব আলী আকন ফিরোজ, ৯ নম্বর ওয়ার্ড যুবদলের সাধারণ সম্পাদক তাউয়াব সরদার ও রাসেল মাহমুদ ভেকুকে দিয়ে মাটি কাটার কাজ শুরু করেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।

মুসা গাজী দাবি করেন, তাদের স্বজনরা বাধা দিতে গেলে মারধরের শিকার হন, প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয় এবং মোটা অঙ্কের চাঁদা দাবি করা হয়। এ ঘটনায় তার চাচা আব্দুল মতিন গাজী মহিপুর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি নং-আর ১১৬/২৬) করেন।

সংবাদ সম্মেলনে আরও জানানো হয়, গত ২১ জুন কলাপাড়া সিনিয়র সহকারী জজ আদালতে অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞার আবেদন করা হলেও বিবাদীরা ২৩ জুন পুনরায় জমিতে স্থাপনা নির্মাণের কাজ শুরু করেন। এ সময় বাধা দিতে গেলে আব্দুল মতিন গাজী, শহিদুল গাজী ও দেলোয়ার দুয়ারির ওপর হামলা চালানো হয়। এতে আব্দুল মতিন গাজী গুরুতর আহত হন। পরে তাকে কলাপাড়া হাসপাতালে ভর্তি করা হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। বর্তমানে তিনি সেখানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

পরিবারটির দাবি, তারা বর্তমানে নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। অবৈধ দখলদারদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ এবং প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেন তারা।

তবে অভিযোগ অস্বীকার করে ইমরান হাওলাদার বলেন, আমার জমিতে আমি কাজ করেছি। কারও কাছে কোনো টাকা-পয়সা চাওয়া হয়নি। আদালতের কোনো নোটিশও আমি পাইনি।

মহিপুর থানা স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক বেলাল গালিব বলেন, বাজারে যাওয়ার পথে বিরোধপূর্ণ জমিতে লোকজনের ভিড় দেখে সেখানে যাই। পরে আমাদের জড়িয়ে আদালতে মামলা ও থানায় জিডি করা হয়েছে। এটি সম্পূর্ণ পরিকল্পিত।

এ বিষয়ে মহিপুর থানা বিএনপির সভাপতি জলিল হাওলাদার বলেন, এটি জমিজমা সংক্রান্ত আদালতের বিষয়। মালিকপক্ষ আদালতে স্বপক্ষে প্রমাণ উপস্থাপন করে ফয়সালা করবেন। বিএনপির কোনো নেতাকর্মী জড়িত থাকার প্রমাণ পাওয়া গেলে তাদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

মহিপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শামীম হাওলাদার বলেন, বিষয়টি সম্পর্কে খোঁজখবর নিয়ে পরে বিস্তারিত জানানো হবে।

গভীর সমুদ্রে নিখোঁজ জেলের মরদেহ উদ্ধার কুয়াকাটায় তিস্তার ৩০ পয়েন্টে তীব্র ভাঙন, বিলীন হচ্ছে ভিটেমাটি ফসলি জমি রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে এক প্রবাসীর জমি দখলের অভিযোগ উঠেছ, মহিপুরে সংবাদ সম্মেলন গাজীপুরে ডিবি পুলিশের অভিযানে ১২০ কেজি গাঁজাসহ দুই মাদক কারবারি গ্রেফতার, উদ্ধার কাভার্ড ভ্যান ভ্যান হারিয়ে দিশেহারা ভ্যানচালক মোরশেদ, ভাঙা ঘরে পরিবার নিয়ে কাটাচ্ছে মানবেতর জীবন