খুঁজুন
রবিবার, ১৬ আগস্ট, ২০২৬, ১ ভাদ্র, ১৪৩৩

২৮ সেপ্টেম্বর আন্তর্জাতিক তথ্য অধিকার দিবস তথ্য অধিকার (আরটিআই) আইন: নাগরিকত্ব উপলব্ধির এক শক্ত হাতিয়ার

বাবুল চন্দ্র সূত্রধর
প্রকাশিত: শনিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৫, ৭:৪৮ অপরাহ্ণ
২৮ সেপ্টেম্বর আন্তর্জাতিক তথ্য অধিকার দিবস তথ্য অধিকার (আরটিআই) আইন: নাগরিকত্ব উপলব্ধির এক শক্ত হাতিয়ার

নাগরিক জীবনের সুশৃঙ্খল প্রবাহে সুশাসনের বিকল্প নেই – কেবলমাত্র সুশাসনই সমাজে একজন ব্যক্তির যথাযথ ভূমিকা, দায়িত্ব, অধিকার এবং কর্তব্য নিশ্চিত করতে পারে। অতএব, সুশাসনের মৌলিক পূর্বশর্ত হিসেবে স্বচ্ছতা এবং জবাবদিহিতার একটি অনন্য স্থান রয়েছে। কারণ সমাজে সাংবিধানিকভাবে অর্পিত ব্যক্তি যদি তা পালন না করেন, তাহলে সমাজের নিয়মতান্ত্রিক প্রবাহ ব্যাহত হয়, শৃঙ্খলা স্থবির হয়ে পড়ে। যেখানে শৃঙ্খলা নেই, সেখানে সংহতি থাকতে পারে না। সমাজে সংহতির উপস্থিতি ছাড়া মানুষের জীবন আর জীবন থাকে না, এটি হয়ে ওঠে কেবল বেঁচে থাকার জন্য। এই পরিস্থিতির সুষ্ঠু ও কার্যকর মোকাবেলার জন্য তথ্যের অবাধ প্রবাহ নিশ্চিত করা অপরিহার্য। গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার ২০০৯ সালে তথ্য অধিকার আইন প্রবর্তনের মাধ্যমে দেশের জনগণের তথ্যের অধিকার নিশ্চিত করেছে। দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষ, যারা প্রান্তিক বা সুবিধাবঞ্চিত বলে পরিচিত, তারা তাদের ন্যায্য অধিকার উপভোগ করার জন্য তথ্য অধিকার (আরটিআই) আইনকে একটি অনন্য হাতিয়ার হিসেবে গ্রহণ করেছে। এতে বিভিন্ন সেবামূলক প্রতিষ্ঠান (যারা এনজিও নামে পরিচিত) এই বিষয়ে তাদের উৎসাহিত করছে এবং সহায়তা দিচ্ছে। এখন আমি এমনই একটি অভিজ্ঞতা উপস্থাপন করতে চাই।
বাংলাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় জেলা সাতক্ষীরার সদর উপজেলার অত্যন্ত দরিদ্র আদিবাসী বাগদী সম্প্রদায়ের সাতজন নারী-পুরুষ (অঞ্জলি ম-ল, জয়ন্তী ম-ল, ভোলা ম-ল, বৃন্দাবন ম-ল, নমিতা ম-ল, শঙ্কর গোলদার এবং সান্তনা ম-ল) ঢাকাস্থ তথ্য কমিশনে অভিযোগের শুনানিতে অংশ নিতে এসেছিলেন। তাদের অভিযোগের বিষয় ছিল: ইতোপূর্বে তারা সাতক্ষীরা সদরের উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও)-এর কাছে পৃথকভাবে নি¤েœ উল্লিখিত তথ্য চেয়েছিলেন:
(১) ২০১৩-১৪ অর্থবছরে সাতক্ষীরা সদর উপজেলার ৮ নম্বর ধুলিহর ইউনিয়নে বসবাসকারী নৃগোষ্ঠীর কতজন শিক্ষার্থীকে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় কর্তৃক উপবৃত্তি প্রদান করা হয়েছে; আমি নামের তালিকা এবং মাথাপিছু উপবৃত্তির পরিমাণ জানতে চাই;
(২) সাতক্ষীরা সদর উপজেলার ৮ নম্বর ধুলিহর ইউনিয়নে বসবাসকারী নৃগোষ্ঠীর লোকজন, যাদের নামে ২০১৩-১৪ অর্থবছরে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে বিনামূল্যে পায়ে চালিত ভ্যান সরবরাহ করা হয়েছে . তাদের নামের তালিকা পেতে চাই; এবং
(৩) পায়ে চালিত ভ্যান বিতরণের নীতিমালার মূল কপির একটি ফটোকপি পেতে চাই।
আবেদনের উত্তরের জন্য নির্ধারিত ২০ কার্যদিবসেরও বেশি সময় অপেক্ষা করার পরও কোনও উত্তর না পেয়ে তারা নীতিমালা অনুসারে সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসকের কাছে আপিল আবেদন করেন এবং নির্ধারিত ১৫ দিনের মধ্যে তাঁর কাছ থেকে কোন উত্তর না পেয়ে তারা তথ্য কমিশনে অভিযোগ দায়ের করেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে তথ্য কমিশন তাদের শুনানিতে অংশগ্রহণের জন্য নোটিশ দেন।
দুপুর ১২.০০ টার দিকে অভিযুক্ত ইউএনও এবং অভিযোগকারীদের কমিশনের শুনানি কক্ষে ডাকা হয়। নির্ধারিত আসন গ্রহণের পর অভিযোগকারীরা শপথ পাঠ করে একে একে তাদের অভিযোগ উপস্থাপন করেন। অভিযোগগুলো উপস্থাপন করা হলে কমিশন অভিযুক্ত ইউএনওকে তার বক্তব্য উপস্থাপনের নির্দেশ দেন। ইউএনও তার বক্তব্যের শুরুতেই বলেন যে তিনি তথ্যপ্রার্থীদের অফিসে ডেকে তাদের উত্তর দিয়েছেন এবং ছবিগুলোও তার কাছে আছে। কমিশন বলেন, ‘আপনি কোন আইনের অধীনে তাদের অফিসে ডেকেছেন? তারা লিখিতভাবে তথ্য চেয়েছেন, আপনি নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তাদের ঠিকানায় লিখিত উত্তর পাঠাবেন; আপনি যে উত্তর দিয়েছেন তা কোন উত্তর নয়।’ এ সময় ইউএনওকে বেশ কিছু তিরস্কারও হজম করতে হয়। ইউএনও যখন এলাকার রাজনৈতিক নেতাদের প্রভাবের কথা উল্লেখ করেন তখন কমিশন আরও ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন। এরপর কমিশন জানতে চান, ‘আপনি এখন তাদের তথ্য কীভাবে দেবেন?’ জবাবে ইউএনও বলেন যে তাকে অন্যত্র বদলি করা হয়েছে। এরপর কমিশন বলেন, ‘এটা বিবেচনা করা যাবে না, আপনি আগামী ৫ দিনের মধ্যে তাদের কাছে তথ্য পৌঁছে দেবেন’। ইউএনও অতিরিক্ত ২ দিন সময় চাইলে কমিশন সম্মত হন এবং বলেন যে, যদি এই সময়ের মধ্যে সঠিক তথ্য সরবরাহ না করা হয়, তাহলে সমস্যা জটিল হয়ে উঠবে; গ্রামের মানুষ, তারা কম শিক্ষিত, ভয় পায়, তাই তারা স্পষ্ট করে বলতে পারেনি, নাহলে এটা এখনই সমস্যায় পরিণত হয়ে যেত।
শুনানির পর প্রধান তথ্য কমিশনার বেরিয়ে এসে অভিযোগকারীদের ডেকে বলেন, ‘তোমাদের কখনই ভয় পাওয়া উচিত নয়। তোমরা সবসময় তোমাদের অধিকার সম্পর্কে তথ্য চাইবে। যদি কোন অসুবিধা হয় তবে আমরা আছি।’ একজন তথ্য কমিশনার তাদের জিজ্ঞাসা করেন, ‘তোমাদের কি অন্য কোন সমস্যা আছে?’ উত্তরে তারা বলেন, ‘আমাদের জীবনই আমাদের সমস্যা। প্রশাসন সহ কেউ আমাদের জন্য কাজ করে না।’ জবাবে তথ্য কমিশনার বলেন, ‘আমরা তোমাদের জন্য আছি। সাহসের সাথে কাজ কর। আমি শীঘ্রই তোমাদের এলাকা পরিদর্শনে আসব।’ পরের দিন ‘প্রথম আলো’ পত্রিকায় এই খবর প্রকাশিত হয়, তখন এলাকায় বেশ আলোড়ন সৃষ্টি হয়।
ঘটনাটি কয়েক বছর আগের। কিন্তু এর প্রভাব এখনও এই সম্প্রদায়কে অনুপ্রাণিত করছে। তথ্য কমিশনের শুনানির পর আসা অভিযোগকারীদের মুখে আনন্দের রেখা ফুটে ওঠে। মনে হয়েছিল এটি প্রথমবারের মতো উপলব্ধি করার একটি স্মরণীয় মুহূর্ত- তারাই দেশের আসল মালিক। বলা বাহুল্য, এই সম্প্রদায়ের মানুষ যুগ যুগ ধরে প্রশাসন এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের দ্বারা অবহেলিত জীবনযাপন করতে বাধ্য হয়েছে। সম্প্রতি তাদের সাথে কথা বলে জানা গেছে যে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কর্মসংস্থান, সরকারি পরিষেবা ইত্যাদিতে তাদের অংশগ্রহণ বৃদ্ধি পেয়েছে এবং সামাজিক মূল্যায়নও বৃদ্ধি পেয়েছে। তাদের নাগরিকত্ববোধ এবং সামাজিক সচেতনতা তাদের আলোর সন্ধান দিয়েছে।
বর্ণিত শুনানির কিছু শিক্ষণীয় দিক রয়েছে: প্রথম পক্ষ, অর্থাৎ তথ্যের জন্য আবেদনকারী বা অভিযোগকারী মানসিক শক্তি অর্জন করেছেন, যারা দেশের প্রকৃত মালিক। দেশের নাগরিক হিসেবে তাদের প্রকৃত মূল্যায়ন আছে; যদি তারা চান, যেকোনো কর্তৃপক্ষ তথ্য প্রদান করতে বাধ্য। দ্বিতীয় পক্ষ, অর্থাৎ তথ্য প্রদানকারী বা সরকারি/আইনগত বেসরকারি খাতের মনোনীত কর্মকর্তারা বুঝতে পেরেছেন যে জনগণ আর ঘুমিয়ে নেই, তারা জেগে আছে। দেশের যেকোনো নাগরিককে তথ্য প্রদান না করার কোন সুযোগ নেই। তৃতীয় পক্ষ, অর্থাৎ বিচারক কর্তৃপক্ষ বা তথ্য কমিশনের সম্মানিত কর্মকর্তারা ব্যাখ্যা করেছেন যে, জনগণের অর্থে পরিচালিত রাষ্ট্রে জনগণ যেকোনো বিষয়ে হিসাব চাইবে এবং তারা চাইলে তা এড়ানোর কোন উপায় নেই। জনগণকে উপেক্ষা করে বা এড়িয়ে কেউ পার পেতে পারে না, তথ্য কমিশন নাগরিকদের তথ্যের অধিকার নিশ্চিত করার জন্য দায়বদ্ধ প্রতিষ্ঠান।
যখন আমরা এই শুনানির সামগ্রিক সামাজিক প্রভাবের দিকে তাকাই, তখন তথ্যকর্মী হিসেবে আমরা অবশ্যই আশাবাদী হতে পারি:
• সরকারি অফিস সম্পর্কে সাধারণ মানুষের ভীতি অপসারণের পথ উন্মুক্ত হয়েছে
• সাধারণ জনগণকে অবহেলা না করে ন্যায্য মূল্যায়নের একটি সরকারী সংস্কৃতি প্রবর্তনের পথ উন্মুক্ত হয়েছে
• মধ্যস্বত্বভোগী, দালাল এবং ফড়িয়াদের দৌরাত্ম্য হ্রাস পাবে
• যদি একজন ব্যক্তি তার সাংবিধানিক এবং ন্যায্য অধিকার সম্পর্কে সোচ্চার হন, তাহলে রাষ্ট্রযন্ত্র সহ অনেক ব্যক্তি এবং প্রতিষ্ঠানের সমর্থন পাওয়া সম্ভব
• সকলেই আইনকে সালাম জানায় – শ্রদ্ধার সাথে হোক বা ভয়ের সাথে হোক
• স্বচ্ছতা এবং জবাবদিহিতা প্রতিষ্ঠার জন্য ত্রিপক্ষীয় (আবেদনকারী, তথ্য সরবরাহকারী এবং মীমাংসাকারী) আলোচনার প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থার উদ্ভব হয়েছে
• তথ্যের জন্য অনুরোধ করা কেবল অধিকার প্রয়োগের বিষয় নয়, বরং একজন সচেতন নাগরিক হিসেবে একটি দায়িত্বও
• একটি যুক্তিসঙ্গত এবং অধিকার-ভিত্তিক সামাজিক ব্যবস্থা গঠনের পথ উন্মুক্ত হচ্ছে।
পরিশেষে বলতে চাই, আদিবাসী, উপজাতি, বাগদী, অনগ্রসর, অবহেলিত, নৃগোষ্ঠী, দরিদ্র ইত্যাদি নাম এবং পদবি ব্যবহার না করে অভিযোগকারীদের বাংলাদেশ রাষ্ট্রের মালিক বলাই আমাদের জন্য বেশি স্বাচ্ছন্দ্যের বিষয়। তারা আসলে দেশের মালিক সকল নাগরিকের প্রতিনিধিত্ব করলেন; তারা একই সাথে তাদের অধিকার অনুশীলন করে গেলেন এবং দেশের মালিক হিসেবে তাদের দায়িত্ব পালন করলেন। দেশের সর্বত্র এই আইন অনুশীলনের যথাবিহিত ব্যবস্থা গ্রহণ আবশ্যক।

কুয়াকাটার পর্যটন ব্যবস্থাপনা ও সৌন্দর্যবর্ধনে সমন্বিত উদ্যোগের আহ্বান

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: শুক্রবার, ১৪ আগস্ট, ২০২৬, ১০:৫৫ অপরাহ্ণ
কুয়াকাটার পর্যটন ব্যবস্থাপনা ও সৌন্দর্যবর্ধনে সমন্বিত উদ্যোগের আহ্বান

মেহেদী হাসান সোহাগ, কুয়াকাটা প্রতিনিধি : পটুয়াখালীর কুয়াকাটায় পর্যটনকেন্দ্রের সার্বিক ব্যবস্থাপনা, পর্যটকসেবার মানোন্নয়ন, সৈকতের পরিচ্ছন্নতা ও পরিবেশ সংরক্ষণসহ পর্যটন সম্ভাবনাকে আরও বিকশিত করার লক্ষ্যে কুয়াকাটা বিচ ম্যানেজমেন্ট কমিটির সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) বেলা ১১টায় কুয়াকাটা পর্যটন হলিডে কমপ্লেক্সে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন পটুয়াখালীর জেলা প্রশাসক ও কুয়াকাটা বিচ ম্যানেজমেন্ট কমিটির সভাপতি ড. মোহাম্মদ শহীদ হোসেন চৌধুরী।
সভায় কুয়াকাটা সৈকতের পরিচ্ছন্নতা ও সৌন্দর্য রক্ষা, পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ, সেবার মান বৃদ্ধি, সৈকত ব্যবস্থাপনা আরও কার্যকর করা এবং সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সমন্বয় জোরদারসহ পর্যটনসংশ্লিষ্ট নানা বিষয়ে আলোচনা হয়।
সভায় বিশেষ অতিথি কলাপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও বিচ ম্যানেজমেন্ট কমিটির সদস্য সচিব মো. আরিফুজ্জামান, কলাপাড়া উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও কুয়াকাটা পৌর প্রশাসক ইয়াসিন সাদেক, মহিপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শামীম আহমেদ এবং ট্যুরিস্ট পুলিশ কুয়াকাটা জোনের ইনচার্জ নাজমুল হোসেন।
এ ছাড়া হোটেল-মোটেল ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি এম এ মোতালেব শরীফ, কুয়াকাটা পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মতিউর রহমান, সিনিয়র সহসভাপতি আলহাজ্ব জসিম উদ্দিন বাবলু, কুয়াকাটা প্রেসক্লাব ও টোয়াকের সভাপতি রুমান ইমতিয়াজ তুষার, মহিপুর ইমাম সমিতির সভাপতি আলহাজ্ব মাওলানা মাঈনুল ইসলাম মন্নান, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ মহিপুর থানা শাখার সভাপতি আলহাজ্ব ফজলুল হক খান, কুয়াকাটা শ্রী শ্রী রাধাকৃষ্ণ মন্দিরের সাধারণ সম্পাদক ইঞ্জিনিয়ার নিহার রঞ্জন দাস, সহ বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধি, পর্যটন ব্যবসায়ী, সাংবাদিক ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।
সভায় বক্তারা বলেন, কুয়াকাটার পর্যটন সম্ভাবনাকে আরও বিকশিত করতে হলে সৈকতের পরিবেশ সংরক্ষণ, পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা, পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং সেবার মান বাড়ানোর পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন।
সভাপতির বক্তব্যে জেলা প্রশাসক ড. মোহাম্মদ শহীদ হোসেন চৌধুরী কুয়াকাটাকে আরও আকর্ষণীয়, পরিবেশবান্ধব ও পর্যটকবান্ধব পর্যটনকেন্দ্র হিসেবে গড়ে তুলতে সংশ্লিষ্ট সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান।
এর আগে কুয়াকাটার সৌন্দর্যবর্ধন ও জ্ঞানচর্চার সুযোগ বাড়াতে কয়েকটি উদ্যোগের উদ্বোধন করেন জেলা প্রশাসক। কুয়াকাটার বিভিন্ন সড়কে কৃষ্ণচূড়া ও সোনালু গাছ রোপণ, পর্যটক ও স্থানীয়দের জ্ঞানার্জনের জন্য একটি ব্যতিক্রমী লাইব্রেরি, ডিসি লেকের সৌন্দর্যবর্ধন এবং পচনশীল বর্জ্য থেকে জৈব সার উৎপাদনের শেড উদ্বোধন করা হয়।
এ সময় জেলা প্রশাসক ড. মোহাম্মদ শহীদ হোসেন চৌধুরী বলেন, কুয়াকাটার প্রাকৃতিক সৌন্দর্য অক্ষুণ্ন রেখে পর্যটনসেবার মান উন্নয়ন এবং পরিবেশবান্ধব বিভিন্ন উদ্যোগ বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্ট সবাইকে একযোগে কাজ করতে হবে।
অনুষ্ঠান সঞ্চালন করেন কুয়াকাটা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সভাপতি জহিরুল ইসলাম মিরন।
####

ময়লার স্তূপেই সমাধানের খোঁজ, শ্রীমঙ্গলে বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ-সার তৈরির উদ্যোগ

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: শুক্রবার, ১৪ আগস্ট, ২০২৬, ১০:৫১ অপরাহ্ণ
ময়লার স্তূপেই সমাধানের খোঁজ, শ্রীমঙ্গলে বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ-সার তৈরির উদ্যোগ

শ্রীমঙ্গল (মৌলভীবাজার) প্রতিনিধি : শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সামনে ময়লার স্তূপ, দুর্গন্ধ আর পরিবেশদূষণের চিত্র বদলে দিতে এবার বর্জ্যকে সম্পদে পরিণত করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে শ্রীমঙ্গলে। শহরের বাইরে সরকারি জায়গায় আধুনিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা প্ল্যান্ট স্থাপন করে ময়লা থেকে জৈব সার ও নবায়নযোগ্য বিদ্যুৎ উৎপাদনের পরিকল্পনা করছে সরকার।

শুক্রবার (১৪ আগস্ট) সকালে দুই দিনের সফরে শ্রীমঙ্গলে এসে শহরের বিভিন্ন স্থান পরিদর্শনকালে এ পরিকল্পনার কথা জানান স্থানীয় সরকার ও পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম।

সফরের শুরুতে প্রতিমন্ত্রী ভিক্টোরিয়া উচ্চবিদ্যালয়ের মাঠ, পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের জন্য নির্মাণাধীন আবাসন ভবন এবং তিনটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সামনে পৌরসভার ময়লার ভাগাড় পরিদর্শন করেন। সরেজমিনে বর্জ্য ব্যবস্থাপনার পরিস্থিতি দেখে তিনি শহরের বাইরে নিরাপদ স্থানে বর্জ্য ব্যবস্থাপনার ওপর গুরুত্ব দেন।

মীর শাহে আলম বলেন, শ্রীমঙ্গরের ময়লা আর শহরের ভেতরে বা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সামনে রাখা যাবে না। সরকারি জায়গা খুঁজে সেখানে বর্জ্য ব্যবস্থাপনা প্ল্যান্ট স্থাপন করা হবে। ময়লা থেকে জৈব সার উৎপাদনের পাশাপাশি নবায়নযোগ্য বিদ্যুৎ উৎপাদনের পরিকল্পনাও রয়েছে। এ বিষয়ে কাজ এগিয়ে নিতে আগামী ১৫ দিনের মধ্যে মন্ত্রণালয়ের একজন বর্জ্য ব্যবস্থাপনা পরামর্শককে শ্রীমঙ্গলে পাঠানো হবে।

এদিকে স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়েও সফরে গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য দেন প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, চলতি অর্থবছরের মধ্যেই সিটি করপোরেশন, উপজেলা, জেলা পরিষদ, পৌরসভা ও ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচন সম্পন্ন করা হবে। পাঁচ ধরনের স্থানীয় সরকার নির্বাচন আয়োজনের জন্য প্রায় সাড়ে পাঁচ থেকে ছয় হাজার কোটি টাকা প্রয়োজন হবে, যা বাজেটে রাখা হয়েছে।

তিনি জানান, নির্বাচন কমিশন নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছে। প্রস্তুতি শেষ হলে নির্বাচন কমিশন, স্থানীয় সরকার ও অর্থ বিভাগ বৈঠকে বসে কোন নির্বাচন আগে এবং কোনটি পরে অনুষ্ঠিত হবে, সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবে।

শুধু বর্জ্য নয়, বিদ্যুৎ ব্যবহারের ক্ষেত্রেও স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোকে পরিবেশবান্ধব করার পরিকল্পনার কথা জানান প্রতিমন্ত্রী। পর্যায়ক্রমে দেশের সব সরকারি ভবন ও স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানে সৌরবিদ্যুৎ চালুর উদ্যোগ নেওয়া হবে। ছয় মাস পর বিদ্যুৎ বিল পরীক্ষা করে এসব প্রতিষ্ঠানে সৌরবিদ্যুৎ ব্যবহার হচ্ছে কি না, তা যাচাই করা হবে।

শুক্রবার শ্রীমঙ্গল জামে মসজিদে জুমার নামাজ আদায় করেন মীর শাহে আলম। সেখানে মসজিদের জন্য তিন লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়ার পাশাপাশি সোলার প্যানেল স্থাপনের নির্দেশ দেন তিনি।

পরিদর্শনকালে উপস্থিত ছিলেন মৌলভীবাজার-৪ আসনের সংসদ সদস্য হাজী মুজিবুর রহমান চৌধুরী, মৌলভীবাজার জেলা পরিষদের প্রশাসক মিজানুর রহমান, বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) পরিচালক সরফরাজ আহমেদ সরফু, শ্রীমঙ্গল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জিয়াউর রহমান, শ্রীমঙ্গল পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী জহিরুল ইসলাম, শ্রীমঙ্গল উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক নুরে আলম সিদ্দিকীসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।

আল ইব্রাহিম
শ্রীমঙ্গল,মৌলভীবাজার

ইসলামপুর সদর ইউপিতে আগাম নির্বাচনী জনসভা, চেয়ারম্যান প্রার্থী আবু সাইদের প্রচারণা

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: শুক্রবার, ১৪ আগস্ট, ২০২৬, ১০:৪৬ অপরাহ্ণ
ইসলামপুর সদর ইউপিতে আগাম নির্বাচনী জনসভা, চেয়ারম্যান প্রার্থী আবু সাইদের প্রচারণা

মোঃ হোসেন শাহ্‌ ফকির ইসলামপুর (জামালপুর) প্রতিনিধি : জামালপুরের ইসলামপুর সদর ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনকে সামনে রেখে আগাম নির্বাচনী জনসভা করেছেন ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও সম্ভাব্য চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী মো. আবু সাইদ।

শুক্রবার (১৪ আগস্ট) বিকেলে উন্নত, আধুনিক ও সমৃদ্ধ ইউনিয়ন গড়ার লক্ষ্যে পাঁচবাড়িয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে ওই জনসভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন মনিরুজ্জামান খোকা মণ্ডল। সভায় স্থানীয় নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের সঙ্গে ইউনিয়নের বিভিন্ন সমস্যা, উন্নয়ন ও নাগরিক সেবা নিয়ে আলোচনা করা হয়।

জনসভায় সম্ভাব্য চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী আবু সাইদ বলেন, জনগণের ভালোবাসা ও সমর্থন নিয়ে ইসলামপুর সদর ইউনিয়নবাসীর পাশে থাকতে চাই। নির্বাচিত হলে ইউনিয়নের রাস্তাঘাট, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, যোগাযোগ ও নাগরিক সেবার মানোন্নয়নে কাজ করা হবে।

তিনি আরও বলেন, ‘দলীয় নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষকে সঙ্গে নিয়ে একটি জনবান্ধব ইউনিয়ন গড়ে তুলতে চাই। মানুষের সুখে-দুঃখে পাশে থাকাই আমার মূল লক্ষ্য।

আনোয়ার হোসেন আরিফের সঞ্চালনায়
অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য দেন, আব্দুল আজিজ বিএসসি, সোহরাব হোসেন, আব্বাস উদ্দিন, মোহাম্মদ আলী ফুলু মেম্বার, জয়নাল আবেদীন, আব্দুল্লাহ, হানি মেম্বার, ফেরদৌস মাস্টার, ফজলুলু হক মাস্টার এবং নজরুল ইসলাম।

সভায় ইউনিয়ন বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন।বক্তারা বলেন, দীর্ঘদিন ধরে এলাকার মানুষের সঙ্গে সম্পৃক্ত থেকে মো. আবু সাইদ বিভিন্ন সামাজিক কর্মকাণ্ডে ভূমিকা রেখে আসছেন।

স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, আগামী ইউপি নির্বাচনকে ঘিরে সম্ভাব্য প্রার্থীদের মধ্যে ইতোমধ্যে তৎপরতা শুরু হয়েছে। এরই অংশ হিসেবে আবু সাইদের আগাম নির্বাচনী জনসভাকে ঘিরে স্থানীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে উৎসাহ-উদ্দীপনা দেখা গেছে।

কুয়াকাটার পর্যটন ব্যবস্থাপনা ও সৌন্দর্যবর্ধনে সমন্বিত উদ্যোগের আহ্বান ময়লার স্তূপেই সমাধানের খোঁজ, শ্রীমঙ্গলে বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ-সার তৈরির উদ্যোগ ইসলামপুর সদর ইউপিতে আগাম নির্বাচনী জনসভা, চেয়ারম্যান প্রার্থী আবু সাইদের প্রচারণা ডিবির মাদক বিরোধী অভিযানে নওগাঁয় ফেনসিডিলসহ শীর্ষ মাদক কারবারি মালেকসহ গ্রেফতার ৩ শ্রীমঙ্গলে পুলিশের ফোর্স মোবিলাইজেশন ড্রিল, গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে বিশেষ চেকপোস্ট