ভোটের মাঠ
বাহাদুর আলম ১০নং গাইবান্ধা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা নিয়ে মাঠে প্রচার-প্রচারণা ও গণসংযোগ

মোঃ হোসেন শাহ্ ফকির ইসলামপুর (জামালপুর) প্রতিনিধি: আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে সামনে রেখে জামালপুরের ইসলামপুর উপজেলার ১০নং গাইবান্ধা ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী হওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন ইউনিয়ন বিএনপির সহসভাপতি বাহাদুর আলম। নির্বাচনের প্রস্তুতি হিসেবে তিনি ইতোমধ্যে ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় নেতাকর্মী, সমর্থক ও সাধারণ মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ, মতবিনিময় ও গণসংযোগ চালিয়ে যাচ্ছেন। তাঁর প্রার্থিতা ঘিরে স্থানীয় পর্যায়ে রাজনৈতিক ও সামাজিক অঙ্গনে আলোচনা শুরু হয়েছে।
বাহাদুর আলম ১০নং গাইবান্ধা ইউনিয়নের মৃত ইয়াছিন বেপারীর সন্তান। স্থানীয় রাজনীতিতে দীর্ঘদিন ধরে সক্রিয় এই নেতা জানান, তিনি ১৯৯২ সাল থেকে জাতীয়তাবাদী আদর্শের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত রয়েছেন। দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে তিনি বিএনপির বিভিন্ন কর্মসূচি ও সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণ করেছেন বলে জানান। ইউনিয়ন পর্যায়ে দলীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগ রেখে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনার পাশাপাশি সাধারণ মানুষের বিভিন্ন সমস্যা ও দাবির বিষয়েও কাজ করেছেন বলে তাঁর দাবি।
চেয়ারম্যান পদে বাহাদুর আলমের প্রার্থী হওয়ার বিষয়টি নতুন নয়। এর আগে তিনি ১৯৯৭, ২০০২ ও ২০১০ সালের ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, ওই তিনটি নির্বাচনেই তিনি অল্প ভোটের ব্যবধানে পরাজিত হন। তবে নির্বাচনে পরাজিত হলেও তিনি সাধারণ মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ ও রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড অব্যাহত রেখেছেন বলে জানান।
দীর্ঘদিন পর আবারও ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বাহাদুর আলম। তাঁর দাবি, অতীতের নির্বাচনী অভিজ্ঞতা, দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে তাঁর যোগাযোগ এবার নির্বাচনে তাঁকে নতুনভাবে কাজ করার সুযোগ দেবে। তিনি দলীয় নেতাকর্মী ও সমর্থকদের পাশাপাশি ইউনিয়নের সর্বস্তরের জনগণকে সঙ্গে নিয়ে নির্বাচনী মাঠে থাকতে চান।
বাহাদুর আলম বলেন, “১৯৯৭, ২০০২ ও ২০১০ সালের ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে আমি চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলাম। প্রতিবারই সামান্য ভোটের ব্যবধানে পরাজিত হয়েছি। তারপরও আমি মানুষের কাছ থেকে দূরে সরে যাইনি। দীর্ঘদিন ধরে মানুষের পাশে থাকার চেষ্টা করেছি। এবারও সাধারণ জনগণকে সঙ্গে নিয়ে ১০নং গাইবান্ধা ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে চাই।”
তিনি বলেন, “আমি মনে করি, ইউনিয়নের মানুষের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ রেখে তাদের সমস্যা ও প্রয়োজনগুলো বুঝতে হবে। জনগণ যদি আমাকে নির্বাচিত করেন, তাহলে দল-মত ও শ্রেণি-পেশার ঊর্ধ্বে উঠে ইউনিয়নের সব মানুষের জন্য কাজ করার চেষ্টা করব।”
চেয়ারম্যান নির্বাচিত হলে ইউনিয়নের সার্বিক উন্নয়নকে অগ্রাধিকার দেওয়ার কথা জানিয়েছেন বাহাদুর আলম। তাঁর পরিকল্পনার মধ্যে রয়েছে ইউনিয়নকে একটি মডেল ইউনিয়ন হিসেবে গড়ে তোলা, রাস্তাঘাট ও যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন, প্রয়োজনীয় অবকাঠামো উন্নয়ন, দরিদ্র ও অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানো এবং বিভিন্ন সামাজিক সমস্যা মোকাবিলায় কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া।
বিশেষ করে বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ এবং মাদকমুক্ত সমাজ গঠনের ওপর গুরুত্ব দেওয়ার কথা জানিয়েছেন তিনি। তাঁর মতে, একটি ইউনিয়নের উন্নয়ন শুধু রাস্তাঘাট বা অবকাঠামো নির্মাণের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়; শিক্ষা, স্বাস্থ্য, সামাজিক নিরাপত্তা, নারী ও শিশু সুরক্ষা এবং তরুণ প্রজন্মকে মাদক থেকে দূরে রাখার উদ্যোগও সমান গুরুত্বপূর্ণ।
বাহাদুর আলম বলেন, “আমি নির্বাচিত হলে ১০নং গাইবান্ধা ইউনিয়নকে একটি মডেল ইউনিয়ন হিসেবে গড়ে তোলার চেষ্টা করব। বাল্যবিবাহ রোধ, মাদকমুক্ত সমাজ গঠন এবং গরিব-দুঃখী মানুষের পাশে দাঁড়ানো হবে আমার অন্যতম লক্ষ্য। ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় প্রয়োজনীয় উন্নয়নমূলক কাজ বাস্তবায়নের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করতে চাই।”
তিনি আরও বলেন, “ইউনিয়নের কোনো মানুষ যেন নাগরিক সেবা থেকে বঞ্চিত না হন, সে বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়া হবে। সাধারণ মানুষ যাতে সহজে তাদের প্রয়োজনীয় সেবা পান এবং ইউনিয়ন পরিষদে এসে হয়রানির শিকার না হন, সে জন্য একটি জনবান্ধব পরিবেশ তৈরি করতে চাই।”
এদিকে নির্বাচনী প্রস্তুতির অংশ হিসেবে বাহাদুর আলম তাঁর সমর্থক ও নেতাকর্মীদের নিয়ে ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় মানুষের সঙ্গে মতবিনিময় করছেন। স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে তাঁদের সমস্যা ও প্রত্যাশার কথা জানার চেষ্টা করছেন বলে তাঁর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। পাশাপাশি তিনি ইউনিয়নের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের সঙ্গে সম্পর্ক আরও জোরদার করার উদ্যোগ নিয়েছেন।
বাহাদুর আলমের সমর্থকদের ভাষ্য, দীর্ঘদিন ধরে তিনি স্থানীয় রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকায় ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকার মানুষের সঙ্গে তাঁর যোগাযোগ রয়েছে। অতীতে একাধিকবার নির্বাচনে অংশ নেওয়ার অভিজ্ঞতাও রয়েছে তাঁর। এবার তিনি নতুন উদ্যমে নির্বাচনী মাঠে কাজ শুরু করেছেন।
তবে আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে ঘিরে অন্যান্য সম্ভাব্য প্রার্থীরাও মাঠে সক্রিয় হলে নির্বাচনী পরিবেশ আরও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। শেষ পর্যন্ত কারা চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন এবং নির্বাচনী মাঠে কী ধরনের সমীকরণ তৈরি হবে, তা সময়ের সঙ্গে স্পষ্ট হবে।
বাহাদুর আলম জানিয়েছেন, তিনি কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে প্রচারণা না চালিয়ে নিজের রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা, পরিকল্পনা ও ইউনিয়নের উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি নিয়ে জনগণের কাছে যেতে চান। জনগণের মতামত ও সমর্থনকে গুরুত্ব দিয়েই তিনি নির্বাচনী কার্যক্রম চালিয়ে যেতে চান বলেও জানান।
তিনি বলেন, “আমি জনগণের কাছে যাচ্ছি, তাদের কথা শুনছি এবং আমার পরিকল্পনার কথা জানাচ্ছি। শেষ সিদ্ধান্ত জনগণের। তারা যাকে যোগ্য মনে করবেন, তাকেই ভোট দেবেন। আমি নির্বাচিত হলে জনগণের আমানত হিসেবে দায়িত্ব পালন করতে চাই এবং ইউনিয়নের উন্নয়নে সর্বোচ্চ চেষ্টা করব।”
আসন্ন নির্বাচনকে সামনে রেখে ১০নং গাইবান্ধা ইউনিয়নে সম্ভাব্য প্রার্থীদের তৎপরতা বাড়ত
