খুঁজুন
শুক্রবার, ১ মে, ২০২৬, ১৮ বৈশাখ, ১৪৩৩

কুড়িগ্রামে শ্বশুরবাড়িতে জামাইকে পিটিয়ে হত্যা স্ত্রী ও শালক গ্রেফতার

রিয়াজুল হক সাগর, রংপুর।
প্রকাশিত: শুক্রবার, ১ মে, ২০২৬, ৫:২৪ অপরাহ্ণ
কুড়িগ্রামে শ্বশুরবাড়িতে জামাইকে পিটিয়ে হত্যা স্ত্রী ও শালক গ্রেফতার

 

কুড়িগ্রাম জেলার ভূরুঙ্গামারী উপজেলায় শ্বশুরবাড়িতে জামাই মোঃ আক্তারুজ্জামান রুবেলকে (২৫) পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় প্রধান দুই আসামিকে গাজীপুর থেকে গ্রেপ্তার করেছে র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‍্যাব)। গ্রেফতারকৃতরা হলেন— নিহতের স্ত্রী মোছাঃ জেসমিন খাতুন (২৩) ও সম্মধি মোঃ মিজানুর রহমান (৩৮)।

বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) রাতে র‍্যাব-১৩, রংপুর থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।

নিহত মোঃ আক্তারুজ্জামান রুবেল কুড়িগ্রাম জেলার ভূরুঙ্গামারী উপজেলার বাসিন্দা ও বীর মুক্তিযোদ্ধা মোঃ আব্দুল জলিল তরফদারের ছেলে। প্রায় পাঁচ বছর আগে মোছাঃ জেসমিন খাতুনের সঙ্গে তার বিয়ে হয়। তবে বিয়ের পর থেকেই বিভিন্ন পারিবারিক বিষয়ে তাদের মধ্যে কলহ চলে আসছিল।

গত ১৭ এপ্রিল সকালে পারিবারিক বিরোধের জেরে মোছাঃ জেসমিন খাতুন তার বাবার বাড়িতে চলে যান। পরে রুবেল তাকে ফিরিয়ে আনতে শ্বশুরবাড়িতে গেলে পূর্বপরিকল্পিতভাবে তার ওপর হামলা চালানো হয়। স্ত্রী জেসমিন, শ্যালক মিজানুর এবং আরও ২-৩ জন অজ্ঞাত ব্যক্তি বাঁশের লাঠি ও লোহার রড দিয়ে রুবেলকে এলোপাতাড়ি মারধর করে গুরুতর আহত করেন।

স্থানীয়রা আহত রুবেলকে উদ্ধার করে প্রথমে ভূরুঙ্গামারী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। পরে অবস্থার অবনতি হলে তাকে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গত ২৪ এপ্রিল রাতে তার মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় ২৫ এপ্রিল নিহতের বাবা বাদী হয়ে ভূরুঙ্গামারী থানায় একটি হত্যা মামলা করেন।

মামলা দায়েরের পর র‍্যাব ছায়া তদন্ত শুরু করে। গত ২৯ এপ্রিল বিকেলে র‍্যাব-১৩ (রংপুর) ও র‍্যাব-১ (উত্তরা)-এর যৌথ অভিযানে গাজীপুরের বাসন থানার কলম্বিয়া রোড এলাকার একটি বাড়ি থেকে আসামিদের গ্রেপ্তার করা হয়।

র‍্যাব-১৩-এর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার বিপ্লব কুমার গোস্বামী জানান, চাঞ্চল্যকর এই হত্যা মামলার আসামিদের সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।

মহেন্দ্রদী জালালখাঁর বাড়ীর জনগুরুত্বপূর্ণ রাস্তা এখন ‘মরণফাঁদ’: ভোগান্তিতে হাজারো মানুষ

মাহামুদুল হাসান রনি মাদারীপুর জেলা প্রতিনিধি
প্রকাশিত: শুক্রবার, ১ মে, ২০২৬, ৫:১২ অপরাহ্ণ
মহেন্দ্রদী জালালখাঁর বাড়ীর জনগুরুত্বপূর্ণ রাস্তা এখন ‘মরণফাঁদ’: ভোগান্তিতে হাজারো মানুষ

 

মাদারীপুর জেলার রাজৈর উপজেলার হরিদাসদী মহেন্দ্রদী ইউনিয়নের জালালখাঁর বাড়ি সংলগ্ন রাস্তাটি বর্তমানে চলাচলের একেবারেই অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। সামান্য বৃষ্টিতেই কাদা আর বড় বড় গর্তে একাকার হয়ে যাওয়া এই সড়কে যাতায়াত করতে গিয়ে প্রতিনিয়ত চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে স্থানীয় বাসিন্দাদের।
​দুর্ভোগের চিত্র: সরেজমিনে দেখা যায়, রাস্তাটির বিভিন্ন স্থানে পিচ ও খোয়া উঠে গিয়ে ছোট-বড় অসংখ্য গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। বৃষ্টির পানি জমে রাস্তাটি এখন কর্দমাক্ত এক মরণফাঁদে পরিণত হয়েছে। বিশেষ করে জালালখাঁর বাড়ি সংলগ্ন অংশে কাদার কারণে সাধারণ মানুষের পায়ে হেঁটে চলাই দুষ্কর হয়ে পড়েছে।
​বিপাকে শিক্ষার্থীরা: রাস্তাটি দিয়ে প্রতিদিন স্থানীয় প্রাথমিক বিদ্যালয়, উচ্চ বিদ্যালয়, কলেজ এবং মাদ্রাসার শত শত ছাত্র-ছাত্রী যাতায়াত করে। কর্দমাক্ত রাস্তার কারণে প্রায়ই শিক্ষার্থীদের স্কুল ড্রেস ও বই-খাতা নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। অনেক সময় পিচ্ছিল রাস্তায় পড়ে গিয়ে আহত হওয়ার ঘটনাও ঘটছে। ফলে অনেক শিক্ষার্থী বাধ্য হয়ে নিয়মিত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে যাওয়া বন্ধ করে দিচ্ছে।
​চিকিৎসা ও ব্যবসা-বাণিজ্যে স্থবিরতা: স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, এলাকার কোনো মানুষ অসুস্থ হলে তাকে হাসপাতালে নেওয়া এক বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। রাস্তা খারাপ হওয়ায় কোনো রিকশা, ভ্যান বা জরুরি অ্যাম্বুলেন্স এই পথে আসতে চায় না। এছাড়া হাট-বাজার থেকে কৃষিপণ্য ও নিত্যপ্রয়োজনীয় মালামাল আনা-নেওয়ার ক্ষেত্রে গুণতে হচ্ছে অতিরিক্ত ভাড়া, যা সাধারণ মানুষের জন্য বোঝা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
​স্থানীয়দের দাবি: ভুক্তভোগী এলাকাবাসীর অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে রাস্তাটি সংস্কার না করায় তাদের এই ভোগান্তি চরমে পৌঁছেছে। দ্রুত সময়ের মধ্যে এই সড়কটি সংস্কার করে চলাচলের উপযোগী করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন তারা।

মান্দায় দাখিল মাদ্রাসা সুপারকে জড়িয়ে প্রকাশিত সংবাদের প্রতিবাদ

মান্দা উপজেলা প্রতিনিধি:
প্রকাশিত: শুক্রবার, ১ মে, ২০২৬, ৫:৪৯ পূর্বাহ্ণ
মান্দায় দাখিল মাদ্রাসা সুপারকে জড়িয়ে প্রকাশিত সংবাদের প্রতিবাদ

নওগাঁর মান্দা উপজেলার চকহরিনারায়ন দাখিল মাদ্রাসার সুপার আব্দুল মান্নান ও পরিচালনা কমিটির সভাপতি আমিনুল ইসলামকে জড়িয়ে সম্প্রতি একটি গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদের তীব্র প্রতিবাদ ও নিন্দা জানানো হয়েছে।
প্রতিবাদলিপিতে বলা হয়, উক্ত সংবাদে যেসব অনিয়ম, স্বজনপ্রীতি, অর্থ আত্মসাৎ ও নিয়োগ বাণিজ্যের অভিযোগ আনা হয়েছে, তা সম্পূর্ণ মিথ্যা, ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। একটি স্বার্থান্বেষী মহল নিজেদের পছন্দের প্রার্থীকে নিয়োগে প্রভাব বিস্তার করতে না পেরে মিথ্যা তথ্য দিয়ে সাংবাদিকদের বিভ্রান্ত করে এ ধরনের সংবাদ প্রকাশ করিয়েছে।
প্রতিবাদে আরও উল্লেখ করা হয়, বর্তমানে মাদ্রাসায় কেবল নিয়োগের জন্য বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়েছে এবং প্রার্থীদের নিকট থেকে আবেদনপত্র গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। এখনো কোনো নিয়োগ কার্যক্রম সম্পন্ন হয়নি। এ অবস্থায় স্বজনপ্রীতি বা নিয়োগ বাণিজ্যের অভিযোগ সম্পূর্ণ অযৌক্তিক।
এছাড়া সুপারের মেয়েকে নিয়োগ দেওয়ার অভিযোগ প্রসঙ্গে বলা হয়, দেশের একজন নাগরিক হিসেবে তিনি আবেদন করতে পারেন। তবে নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পূর্ণভাবে মেধা, যোগ্যতা ও বিধি অনুযায়ী পরিচালনা কমিটির সিদ্ধান্তের ভিত্তিতে সম্পন্ন হবে।
প্রতিবাদলিপিতে আরও বলা হয়, একটি কুচক্রী মহল প্রতিষ্ঠান ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গের সুনাম ক্ষুণ্ন করার অপচেষ্টায় লিপ্ত রয়েছে, যা দুঃখজনক।
এ বিষয়ে মাদ্রাসার সুপার আব্দুল মান্নান ও পরিচালনা কমিটির সভাপতি আমিনুল ইসলাম জানান, মিথ্যা ও মানহানিকর সংবাদ প্রকাশের কারণে তারা আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন।
সংশ্লিষ্ট গণমাধ্যমকে ভবিষ্যতে যাচাই-বাছাই ছাড়া এ ধরনের বিভ্রান্তিকর সংবাদ প্রকাশ না করার আহ্বান জানানো হয় এবং প্রকাশিত সংবাদের জন্য দুঃখ প্রকাশের দাবি জানানো হয়।

রংপুরে পথ হারিয়ে দিশেহারা বাকপ্রতিবন্ধী নারী পাঁচ দিনেও খোঁজ মিলেনি পরিবারের

রিয়াজুল হক সাগর, রংপুর।
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল, ২০২৬, ৯:৫১ অপরাহ্ণ
রংপুরে পথ হারিয়ে দিশেহারা বাকপ্রতিবন্ধী নারী পাঁচ দিনেও খোঁজ মিলেনি পরিবারের

 

রংপুরের তারাগঞ্জ দুই শিশু সন্তানসহ এক অজ্ঞাত বাকপ্রতিবন্ধী নারী (২৬) পথ হারিয়ে দিশেহারা হয়ে একজনের বাড়িতে আশ্রয় পাওয়ার পাঁচ দিন পেরিয়ে গেলেও এখনো পরিবারের খোঁজ পায়নি। শিশু দুইটি ছোট্ট কথা বলতে পারলেও পরিবারের ঠিকানা বলতে পারেন না। অন্যদিকে ওই নারী বাকপ্রতিবন্ধী হওয়ায় কথা বলতে পারছেন না। বর্তমানে দুই শিশুসহ ও নারী তারাগঞ্জ উপজেলার ইকরচালি ইউনিয়নের বামনদীঘী এলাকায় লিটন খানের আশ্রয়ে রয়েছেন। দুই সন্তানসহ ও নারীর পরিবারের খোঁজ পাঁচ দিনেও মিলেনি। খোঁজ নিয়ে জানাগেছে, গত রোববার (২৬ মে) দিবাগত রাত প্রায় ১১ টার দিকে দুই শিশু সন্তানসহ অজ্ঞাত পরিচয় ওই নারী বামদীঘী এলাকায় ঘোরাঘুরি করতে দেখে স্থানীয় লোকজন অজ্ঞাত বাকপ্রতিবন্ধি নারীকে এত রাতে কোথায় যাবেন , বাড়ি কোথায় জিজ্ঞাসা করলেও কোন উত্তর দিতে পারেনি। পরে মানবিক কারনে ওই ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলামের ভাতিজা লিটন খান তার বাড়িতে নিয়ে গিয়ে তার আশ্রয়ে রাখেন। সোমবার (২৭ এপ্রিল) ওই নারী ও তার দুই সন্তানকে সাথে নিয়ে তারাগঞ্জ থানায় নিয়ে গিয়ে একটি সাধারন ডায়রি (জিডি) করেন। আশ্রয়দাতা লিটন খান সোমবার দুপুরে বলেন, দুই সন্তানসহ অজ্ঞাতনামা ও নারীকে অশ্রয় দিয়ে বিপাকে পড়েছেন তিনি। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তাদের ছবি দেওয়া হলেও পরিবারের কোন খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না। ওই ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য তাজ উদ্দিন জানান, রাতে যখন দুই সন্তানসহ ও নারীকে বামদীঘী বাজার এলাকায় ঘোরাঘুরি করতে লোকজন দেখেন তখন ঘটনাটি শুনে আমি চলে আসি। পরে সমাজ সেবক লিটনের বাড়িতে তাদের রাখা হয়। আমরা ভেবেছিলাম হয়তো গাড়ি থেকে ভুল করে তারা বামনদীঘীতে নেমে পড়েছে। হয়তো বা তাদের পরবিারের লোকজন খোঁজ করতে আসবে কিন্তু পাঁচ দিন গত হচ্ছে তবুও তাদের পরিবারের খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না। তিনি বলেন,অজ্ঞাত ওই নারীর পরিবারের সন্ধানে স্থাণীয় প্রশাসন ও এলাকাবাসীর সহযোগীতা চেয়েছেন। যদি কেউ ওই নারীকে চিনে থাকেন বা তার পরিবারের সন্ধান জানেন তাহলে তারাগঞ্জ থানায় যোগাযোগ করতে বলেন।

কুড়িগ্রামে শ্বশুরবাড়িতে জামাইকে পিটিয়ে হত্যা স্ত্রী ও শালক গ্রেফতার মহেন্দ্রদী জালালখাঁর বাড়ীর জনগুরুত্বপূর্ণ রাস্তা এখন ‘মরণফাঁদ’: ভোগান্তিতে হাজারো মানুষ মান্দায় দাখিল মাদ্রাসা সুপারকে জড়িয়ে প্রকাশিত সংবাদের প্রতিবাদ রংপুরে পথ হারিয়ে দিশেহারা বাকপ্রতিবন্ধী নারী পাঁচ দিনেও খোঁজ মিলেনি পরিবারের ইসলামপুরে সুপেয় পানির প্রকল্পে মেয়াদ শেষ এখনো পানি পাইনি কেউ বিল উত্তোলনের চেষ্টা