জুমার পর এবার জানাজার ইমামতি করলেন শেরপুর-১ আসনের এমপি রাশেদুল
শেরপুর-১ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য হাফেজ মো. রাশেদুল ইসলাম এখন কেবল রাজনৈতিক ময়দানেই নয়, আধ্যাত্মিক ও সামাজিক কর্মকাণ্ডেও স্থানীয়দের মধ্যমণিতে পরিণত হয়েছেন। সচরাচর জনপ্রতিনিধিদের জনসভা বা রাজনৈতিক কর্মসূচিতে ব্যস্ত থাকতে দেখা গেলেও, হাফেজ রাশেদুল ইসলামকে দেখা যাচ্ছে মসজিদের মিম্বরে এবং জানাজার ইমামতিতে। তাঁর এই ব্যতিক্রমী উদ্যোগ জেলাজুড়ে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
জুমার নামাজে ইমামতি ও মুসল্লিদের ঢল গত দুই শুক্রবার ধরে শেরপুরের গুরুত্বপূর্ণ মসজিদগুলোতে জুমার নামাজে ইমামতি করছেন এই তরুণ সংসদ সদস্য। গতকাল শুক্রবার জেলা সদরের মধ্য বয়ড়া কনশাখোলা বাজার কেন্দ্রীয় জামে মসজিদে তিনি জুমার নামাজ পড়ান। এর আগে শহরের ঐতিহাসিক মাইসাহেবা জামে মসজিদেও তিনি ইমামতি করেন। নামাজ শুরুর আগে তিনি পবিত্র কোরআন ও সুন্নাহর আলোকে সামাজিক সম্প্রীতি এবং এলাকার উন্নয়নে সবার সহযোগিতা কামনা করে সংক্ষিপ্ত বয়ান করেন। একজন সংসদ সদস্যকে সরাসরি ইমামের আসনে পেয়ে সাধারণ মুসল্লিদের মাঝে ব্যাপক উৎসাহ ও উদ্দীপনা দেখা গেছে।
জানাজা নামাজের ইমামতি জুমার নামাজের পাশাপাশি আজ শনিবার দুপুরে জেলা শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের সহ-সভাপতি শাহীদুর রহমান জর্জের বড় ছেলে শহিদুল ইসলামের জানাজার নামাজেও ইমামতি করেছেন হাফেজ রাশেদুল ইসলাম। শোকসন্তপ্ত পরিবারের পাশে দাঁড়িয়ে তিনি ব্যক্তিগতভাবে শোক প্রকাশ করেন এবং মরহুমের মাগফিরাত কামনায় বিশেষ মোনাজাত পরিচালনা করেন। স্থানীয়রা জানান, বিপদে-আপদে সংসদ সদস্যকে এভাবে পাশে পাওয়া তাদের জন্য এক নতুন অভিজ্ঞতা।
শিক্ষা ও যোগ্যতার সমন্বয় হাফেজ রাশেদুল ইসলাম কেবল একজন রাজনীতিবিদ নন, তিনি দ্বীনি ও আধুনিক শিক্ষার এক অপূর্ব সমন্বয়। বাজিতখিলা ইউনিয়নের কুমরী মুদিপাড়া গ্রামের এক সম্ভ্রান্ত পরিবারে জন্ম নেওয়া এই নেতা রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বিএসসি ও এমএসসি ডিগ্রি অর্জনের পাশাপাশি তামীরুল মিল্লাত কামিল মাদরাসা থেকে উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করেছেন।
স্বাধীনতার পর শেরপুরের ইতিহাসে প্রথম ‘হাফেজে কোরআন’ এমপি হিসেবে নির্বাচিত হয়ে তিনি ইতোমধ্যেই রেকর্ড গড়েছেন।
জনসাধারণের প্রতিক্রিয়া সংসদ সদস্যের এমন জনঘনিষ্ঠ ও ধর্মীয় কর্মকাণ্ডে স্থানীয়দের মধ্যে ইতিবাচক সাড়া পড়েছে। সাধারণ মানুষের মতে, উচ্চশিক্ষিত একজন হাফেজে কোরআনকে প্রতিনিধি হিসেবে পেয়ে তারা গর্বিত।
মসজিদের মুসল্লিরা জানান, সাধারণত রাজনৈতিক নেতাদের দূর থেকে দেখাই কঠিন হয়, সেখানে নিজের সংসদ সদস্যের পেছনে নামাজ পড়তে পারাটা এক বড় প্রাপ্তি। আলেম সমাজ ও সাধারণ মানুষের প্রতি শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা থেকেই তিনি এমন উদ্যোগ নিয়েছেন বলে তাঁর ঘনিষ্ঠ সূত্রগুলো নিশ্চিত করেছে।



আপনার মতামত লিখুন