খুঁজুন
বুধবার, ২২ এপ্রিল, ২০২৬, ৯ বৈশাখ, ১৪৩৩

মান্দায় জমি নিয়ে বিরোধে বসতবাড়িতে হামলা নারীসহ আহত ৫, থানায় এজাহার

মান্দা উপজেলা প্রতিনিধি:
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৫ মার্চ, ২০২৬, ৪:৪৫ অপরাহ্ণ
মান্দায় জমি নিয়ে বিরোধে বসতবাড়িতে হামলা নারীসহ আহত ৫, থানায় এজাহার

নওগাঁর মান্দা উপজেলায় জমিজমা সংক্রান্ত পূর্ব বিরোধের জেরে একটি বসতবাড়িতে দেশীয় অস্ত্র নিয়ে হামলা, ভাঙচুর ও নারীসহ একই পরিবারের ৫ জনকে পিটিয়ে ও কুপিয়ে জখম করার অভিযোগ উঠেছে।

শনিবার ২৮ (ফেব্রুয়ারি) দুপুরে উপজেলার মৈনম ইউনিয়নের মধ্য মৈনম ডাঙ্গাপাড়া গ্রামে এই ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী মো. শহিদুল ইসলাম (৩৯) বাদী হয়ে মান্দা থানায় ১১ জনের নাম উল্লেখ করে একটি লিখিত এজাহার দায়ের করেছেন।

এজাহারে নাম উল্লেখ করা ১১ জন অভিযুক্ত হলেন,

মো. আলেফ কবিরাজ (৫০), মো. এরশাদ আলী (৪০), মো. আ. রাজ্জাক (৪৫), মো. আব্দুল আজিজ (৪৭), মো. আ. কুদ্দুস (৩২), মো. ফেরদৌস (৩৭), মোছা. এলোরা বিবি (৩৫), মোছা. বিলকিছ বেগম (৪০), মোছা. খোজো বিবি (৪২), মোছা. ডলি বেগম (৩৩) ও মোছা. শাহিনুর বেগম (২৮)। উল্লেখ্য, অভিযুক্ত সকলেই মধ্য মৈনম ডাঙ্গাপাড়া গ্রামের বাসিন্দা।

এজাহার সূত্রে জানা যায়, মৈনম ডাঙ্গাপাড়া গ্রামের মো. শহিদুল ইসলামের পরিবারের সাথে প্রতিবেশী মো. আলেফ কবিরাজ গংদের দীর্ঘদিন ধরে জমিজমা নিয়ে বিরোধ চলে আসছিল। এরই সূত্র ধরে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি শনিবার দুপুর আনুমানিক ১২:৩০ মিনিটের দিকে অভিযুক্তরা দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র হাসুয়া, দা, লোহার রড ও লাঠি নিয়ে শহিদুল ইসলামের বাড়িতে অতর্কিত হামলা চালায়। হামলাকারীরা বাড়ির টিনের দরজা, কাঠের জানালা এবং টিনের ছাউনি ভাঙচুর করে প্রায় ৫০ হাজার টাকার ক্ষতিসাধন করে।

​হামলার এক পর্যায়ে বাধা দিতে গেলে ১নং আসামির হুকুমে ২নং আসামি শহিদুল ইসলামের মা মোছা. নার্গিস ওরফে লাকি বেগমকে (৪৮) হত্যার উদ্দেশ্যে মাথায় হাসুয়া দিয়ে কোপ মেরে গুরুতর রক্তাক্ত জখম করে। এছাড়া অন্যান্য আসামিরা লাঠি ও রড দিয়ে পিটিয়ে শহিদুল ইসলামের স্ত্রী মোছা. শাপলা বেগম (২৭), বাবা মো: আ: সামাদ (৫৮) এবং ফুফা মো. আলম বক্সকে (৪৮) শরীরের বিভিন্ন স্থানে জখম করে। আহতদের চিৎকারে স্থানীয়রা এগিয়ে আসলে আসামিরা প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে ঘটনাস্থল ত্যাগ করে।​পরে স্থানীয়দের সহায়তায় আহতদের উদ্ধার করে মান্দা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। জানা গেছে, গুরুতর আহত লাকি বেগমের মাথায় ৫টি সেলাই লেগেছে।

বাদী শহিদুল ইসলাম জানান, পরিবারের সদস্যরা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকায় থানায় এজাহার দিতে কিছুটা বিলম্ব হয়েছে। বর্তমানে ভুক্তভোগী পরিবারটি চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন এবং এই নৃশংস হামলার সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

অন্যদিকে, অভিযুক্ত এরশাদ আলী তার বিরুদ্ধে আনা হামলার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তিনি দাবি করেন, সরিষার খড়ের পালা তৈরি করাকে কেন্দ্র করে কেবল কথা-কাটাকাটি ও সামান্য মারামারি হয়েছে। তবে তারা ঠিক কীভাবে আহত হয়েছেন, সে বিষয়ে তিনি কিছু জানেন না বলে জানান। এরশাদ আলীর ভাষ্যমতে, উঠানে থাকা টিনের বেড়ার সঙ্গে ধাক্কা লেগে লাকী বেগমের মাথা কেটে গেছে।

​এ বিষয়ে মান্দা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) কে এম মাসুদ রানা জানান, পুলিশ অভিযোগ পেয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে এবং তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

শেরপুরে ৮৩৫ লিটার ডিজেল জব্দ, ফিলিং স্টেশনকে ১ লাখ টাকা জরিমানা

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: বুধবার, ২২ এপ্রিল, ২০২৬, ৮:৩৪ অপরাহ্ণ
শেরপুরে ৮৩৫ লিটার ডিজেল জব্দ, ফিলিং স্টেশনকে ১ লাখ টাকা জরিমানা

শেরপুর সদর উপজেলার বাবর ফিলিং স্টেশন থেকে অবৈধভাবে মজুদের উদ্দেশ্যে নেওয়ার সময় ৮৩৫ লিটার ডিজেল জব্দ করেছে পুলিশ। এ সময় একটি ব্যাটারিচালিত অটোভ্যানসহ চারটি ড্রাম তেল জব্দ করা হয়। ঘটনায় ফিলিং স্টেশনের দুই কর্মচারীকে আটক করা হলেও পরে ভ্রাম্যমাণ আদালতে জরিমানা আদায়ের পর তাদের ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) দিবাগত রাত প্রায় ১২টার দিকে বাবর ফিলিং স্টেশন থেকে একটি ব্যাটারিচালিত ভ্যানে করে চারটি ড্রামে প্রায় ৮৩৫ লিটার ডিজেল নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল। এ সময় শেরপুর সদর থানা পুলিশ অভিযান চালিয়ে ভ্যানসহ তেল জব্দ করে এবং ফিলিং স্টেশনের দুই কর্মচারীকে আটক করে। আটকরা হলেন সদর উপজেলার ছয়ঘড়িপাড়া গ্রামের শাজাহান আলীর ছেলে রবিন এবং গৌরীপুর এলাকার হরমুজ আলীর ছেলে জিয়াউর রহমান।

বুধবার (২২ এপ্রিল) সকালে শেরপুর জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সহকারী কমিশনার (এনডিসি) রাজিব সরকারের নেতৃত্বে বাবর ফিলিং স্টেশনে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হয়। এ সময় আগের রাতে জব্দ করা তেল ও আটক দুই কর্মচারীকে সেখানে নেওয়া হয়। পরে অবৈধভাবে তেল মজুদের উদ্দেশ্যে বহনের অপরাধে বাবর ফিলিং স্টেশনকে ১ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়। ফিলিং স্টেশনের দায়িত্বে থাকা ফজলুল হকের নামে এই জরিমানা আরোপ করা হয়। ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন, ২০০৯-এর ৫২ ধারায় এ দণ্ড দেওয়া হয়।

শেরপুর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সোহেল রানা বলেন, গত রাতে চার ড্রাম তেলসহ একটি ভ্যান আটক করা হয়েছে। পরে সেগুলো ভ্রাম্যমাণ আদালতের কার্যক্রমের জন্য ফিলিং স্টেশনে নেওয়া হয়। আদালত বাবর ফিলিং স্টেশনকে ১ লাখ টাকা জরিমানা করেছে। এছাড়া জব্দকৃত তেল খোলা বাজারে বিক্রি করে সেই অর্থ রাষ্ট্রীয় কোষাগারে জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তিনি আরও জানান, জরিমানা পরিশোধের পর আটক রবিন ও জিয়াউর রহমানকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।

শেরপুর জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সহকারী কমিশনার (এনডিসি) রাজিব সরকার বলেন, বাবর ফিলিং স্টেশনে অবৈধ তেল মজুদের অভিযোগে অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। এতে ১ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। পাশাপাশি জব্দকৃত ৮৩৫ লিটার ডিজেল উন্মুক্তভাবে বিক্রি করে ৯৬ হাজার ৪২৫ টাকা সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হবে।

সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, অবৈধভাবে জ্বালানি মজুদ ও বিক্রির বিরুদ্ধে প্রশাসনের এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।

​রাজৈরে কুমার নদের ভাঙনে দিশেহারা মোঃ সুজন হোসেন বসতভিটা বিলীন।

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বুধবার, ২২ এপ্রিল, ২০২৬, ৮:৩০ অপরাহ্ণ
​রাজৈরে কুমার নদের ভাঙনে দিশেহারা মোঃ সুজন হোসেন বসতভিটা বিলীন।

 

​মাদারীপুরের রাজৈর উপজেলার হরিদাসদী-মহেন্দ্রদী ইউনিয়নে কুমার নদের তীব্র ভাঙন দেখা দিয়েছে। গত কয়েকদিনের ভাঙনে হরিদাসদী দক্ষিণ পাড়া এলাকার বাসিন্দা মোঃ সুজন হোসেন এর বসতবাড়ি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। আকস্মিক এই ভাঙনে ঘরবাড়ি হারিয়ে বর্তমানে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন তিনি।

​স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বেশ কিছুদিন ধরেই ওই এলাকায় নদী ভাঙন অব্যাহত রয়েছে। তবে সম্প্রতি ভাঙনের তীব্রতা বৃদ্ধি পাওয়ায় হরিদাসদী দক্ষিণ পাড়ায় মোঃ সুজন হোসেন এর পৈত্রিক ভিটা ও বসতঘর নদীগর্ভে চলে যায়। ঘরটি সরিয়ে নেওয়ার পর্যাপ্ত সময় না পাওয়ায় আসবাবপত্রসহ ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির শিকার হয়েছেন তিনি।

​ক্ষতিগ্রস্ত মোঃ সুজন হোসেন জানান ​”চোখের সামনেই নিজের ভিটেমাটি নদীতে চলে যেতে দেখলাম, কিছুই করার ছিল না। এখন পরিবার নিয়ে কোথায় গিয়ে দাঁড়াবো, তা জানি না। সব হারিয়ে আমি এখন নিঃস্ব।”

​শুধু মোঃ সুজন হোসেন নন, ভাঙন আতঙ্কে রয়েছেন ওই এলাকার আরও বহু পরিবার। স্থানীয়দের অভিযোগ, দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে হরিদাসদী দক্ষিণ পাড়ার আরও অনেক ঘরবাড়ি ও আবাদি জমি কুমার নদে তলিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তারা ভাঙন রোধে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে দ্রুত স্থায়ী বাঁধ নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন।
​প্রশাসনের ভূমিকা
​এ বিষয়ে ইউনিয়ন পরিষদ ও স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে ক্ষয়ক্ষতির তালিকা নিরূপণ করে ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। তবে স্থানীয়দের দাবি, ত্রাণ নয় বরং স্থায়ী সমাধান হিসেবে নদী শাসনের ব্যবস্থা করা হোক।
​সব হারিয়ে মোঃ সুজন হোসেন এই চরম দুর্দশা নিরসনে সরকারি ও বেসরকারি সংস্থাগুলোর এগিয়ে আসা এখন সময়ের দাবি।

শেরপুরে ৮৩৫ লিটার ডিজেল জব্দ, ফিলিং স্টেশনকে ১ লাখ টাকা জরিমানা ​রাজৈরে কুমার নদের ভাঙনে দিশেহারা মোঃ সুজন হোসেন বসতভিটা বিলীন। নিয়ামতপুরে চার খুনের মামলায় গ্রেফতার ৩ একসঙ্গে জন্ম নেয়া তিন বোন এসএসসি পরিক্ষায় অংশ গ্রহণ নওগাঁর নিয়ামতপুরে একই পরিবারের চারজনকে গলা কেটে হত্যা, চারজন পুলিশ হেফাজতে