খুঁজুন
বুধবার, ২২ এপ্রিল, ২০২৬, ৯ বৈশাখ, ১৪৩৩

দায়িত্ব অবহেলার অভিযোগ

ছাতক উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ডাক্তার নার্সের বিরুদ্ধে রোগীদের সাথে দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগ

ছাতক প্রতিনিধি :
প্রকাশিত: রবিবার, ২৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৪, ১১:১০ পূর্বাহ্ণ
ছাতক উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ডাক্তার নার্সের বিরুদ্ধে রোগীদের সাথে দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগ

Oplus_131072

ছাতক প্রতিনিধি : সুনামগঞ্জের ছাতক উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এক রোগীকে স্বাস্থ্য সেবা না দিয়ে অশুভ আচরণ ও দূর্ব্যবহার এর অভিযোগ পাওয়া গেছে। দৈনিক সংগ্রাম পত্রিকার ছাতক প্রতিনিধি মোঃ লুৎফুর রহমান শাওন শনিবার (২৮ সেপ্টেম্বর) সকালে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা বরাবরে একখানা লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, গত ২১ সেপ্টেম্বর‘২৪ রাতে পেটে ব্যথা নিয়ে ছাতক পৌরসভার ০৪ নং ওয়ার্ডের গণক্ষাই আবাসিক এলাকার বাসিন্দা দৈনিক সংগ্রাম পত্রিকার ছাতক প্রতিনিধি মোঃ লুৎফুর রহমান শাওন ছাতক উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসার জন্য গেলে জরুরি বিভাগে কর্তব্যরত চিকিৎসক ডাঃ মহসিন ০২ টি ইনজেকশন লিখে দেন। বাহিরের ফার্মেসি থেকে ইনজেকশন ক্রয় করে জরুরি বিভাগে নিয়ে আসলে কর্তব্যরত চিকিৎসক ইনজেকশন পুষ করার জন্য রুবেল নামের একজন স্টাফ এর মোবাইল নাম্বার দেন। রুবেল কে ফোন দেওয়ার ২০ মিনিট পরে এসে রুবেল ইনজেকশন পুষ করেন। ইনজেকশন পুষ করার পর পেটের ব্যথা না কমায় কর্তব্যরত চিকিৎসক হাসপাতালের নতুন বিল্ডিংয়ের ৪র্থ তলায় পুরুষ ওয়ার্ডে ভর্তি প্রদান করেন। ওয়ার্ডে গিয়ে কর্তব্যরত নার্স, আয়া বা ওয়ার্ড বয় কাউকে খুঁজে পাওয়া যায় নি, তাহারা সরকারী ডিউটি রেখে দরজা বন্ধ করে ঘুমাচ্ছিলেন। তখন রুগির সাথে থাকা তাহার ছোটভাই মোহাম্মদ মাহফুজুর রহমান সেই রুমের দরজায় অনেক ডাকা-ডাকির পর দরজা খুলে এতো ডাকা-ডাকি করছেন কেনো কারণ জানতে চান। তাদের পরনে মেডিকেলের নির্ধারিত নার্সের পোষাক না থাকায় তাদেরকে চিনতে না পেরে ডিউটিতে কে আছেন জিজ্ঞেস করলে তাহারা ক্ষেপে গিয়ে অশুভ আচরণ ও দূর্ব্যবহার করেন এবং তাহারা বলেন মাসিকে খোঁজে বাহির করে সিট নিতে। ঐ সময় মাসিও ৪র্থ তলার নার্সদের ডিউটি রুমে ঘুমাচ্ছিলেন। অনেক ডাকা-ডাকির পর মাসি ঘুম থেকে উঠে রোগী বিছানার ব্যবস্থা করে দেন। ওয়ার্ডে গিয়ে দেখা যায় অধিকাংশ ফ্যান লাইট নষ্ট। ওয়ার্ডে ভর্তির পর স্যালাইন ইনজেকশন পুষ করে ডিউটিতে থাকা নার্স, আয়া পুনরায় সেই রুমে গিয়ে ঘুমিয়ে পরেন। হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার ঘন্টা খানেক পর পেটে ব্যাথা আরো বাড়লে ঘুমিয়ে থাকা নার্সের রুমে গিয়ে অনেক ডাকা-ডাকির পর তাদের সাড়া শব্দ না পেয়ে কর্তব্যরত ডাক্তারের খোঁজে জরুরি বিভাগে গিয়েও কোনো ডাক্তার বা কর্তব্যরত কাউকে খোঁজে না পেয়ে নিরুপায় হয়ে উন্নত চিকিৎসার জন্য উক্ত হাসপাতাল থেকে তাহারা চলে যান। ভিকটিম জানান আমি পেটে ব্যথা নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার পর মেডিকেল থেকে তাহাকে কোনো ধরনের ঔষধ দেওয়া হয় নি। অথচ সরকার প্রতি মাসে লক্ষ লক্ষ টাকার ঔষধ বরাদ্দ দেয়। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ভর্তি রোগীদের কাছ থেকে জানা যায়, প্রতিদিন রাত ১২ টা হওয়ার পরেই ডিউটিতে থাকা ডাক্তার,নার্স,আয়া কাউকে খোঁজে পাওয়া যায় না। হাসপাতালে কর্তব্যরত নার্সদের বিরুদ্ধে রোগীদের সাথে অশুভ আচরণ ও দূর্ব্যবহার, ডেলিভারী রোগীদের স্বজন থেকে মিষ্টি খাওয়ার নামে মোটা অংকের টাকা নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। ছাতক উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আরএমও ডাক্তার সাইদুর রহমান অভিযোগ প্রাপ্তির বিষয়টি স্বীকার করে বলেন, অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে সঠিক তদন্তের মাধ্যমে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। ছাতক উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা রাজীব চক্রবর্তীর সাথে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, আমি জরুরি একটি মিটিংয়ে ঢাকায় আছি অভিযোগের বিষয়টি আরএমও আমার হোয়াটসআপে দিয়েছেন। বিয়টি খুবই দুঃখজনক, ঢাকা থেকে ফিরে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে তদন্ত পূর্বক ব্যবস্থা গ্রহণ করবো।

শেরপুরে ৮৩৫ লিটার ডিজেল জব্দ, ফিলিং স্টেশনকে ১ লাখ টাকা জরিমানা

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: বুধবার, ২২ এপ্রিল, ২০২৬, ৮:৩৪ অপরাহ্ণ
শেরপুরে ৮৩৫ লিটার ডিজেল জব্দ, ফিলিং স্টেশনকে ১ লাখ টাকা জরিমানা

শেরপুর সদর উপজেলার বাবর ফিলিং স্টেশন থেকে অবৈধভাবে মজুদের উদ্দেশ্যে নেওয়ার সময় ৮৩৫ লিটার ডিজেল জব্দ করেছে পুলিশ। এ সময় একটি ব্যাটারিচালিত অটোভ্যানসহ চারটি ড্রাম তেল জব্দ করা হয়। ঘটনায় ফিলিং স্টেশনের দুই কর্মচারীকে আটক করা হলেও পরে ভ্রাম্যমাণ আদালতে জরিমানা আদায়ের পর তাদের ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) দিবাগত রাত প্রায় ১২টার দিকে বাবর ফিলিং স্টেশন থেকে একটি ব্যাটারিচালিত ভ্যানে করে চারটি ড্রামে প্রায় ৮৩৫ লিটার ডিজেল নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল। এ সময় শেরপুর সদর থানা পুলিশ অভিযান চালিয়ে ভ্যানসহ তেল জব্দ করে এবং ফিলিং স্টেশনের দুই কর্মচারীকে আটক করে। আটকরা হলেন সদর উপজেলার ছয়ঘড়িপাড়া গ্রামের শাজাহান আলীর ছেলে রবিন এবং গৌরীপুর এলাকার হরমুজ আলীর ছেলে জিয়াউর রহমান।

বুধবার (২২ এপ্রিল) সকালে শেরপুর জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সহকারী কমিশনার (এনডিসি) রাজিব সরকারের নেতৃত্বে বাবর ফিলিং স্টেশনে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হয়। এ সময় আগের রাতে জব্দ করা তেল ও আটক দুই কর্মচারীকে সেখানে নেওয়া হয়। পরে অবৈধভাবে তেল মজুদের উদ্দেশ্যে বহনের অপরাধে বাবর ফিলিং স্টেশনকে ১ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়। ফিলিং স্টেশনের দায়িত্বে থাকা ফজলুল হকের নামে এই জরিমানা আরোপ করা হয়। ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন, ২০০৯-এর ৫২ ধারায় এ দণ্ড দেওয়া হয়।

শেরপুর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সোহেল রানা বলেন, গত রাতে চার ড্রাম তেলসহ একটি ভ্যান আটক করা হয়েছে। পরে সেগুলো ভ্রাম্যমাণ আদালতের কার্যক্রমের জন্য ফিলিং স্টেশনে নেওয়া হয়। আদালত বাবর ফিলিং স্টেশনকে ১ লাখ টাকা জরিমানা করেছে। এছাড়া জব্দকৃত তেল খোলা বাজারে বিক্রি করে সেই অর্থ রাষ্ট্রীয় কোষাগারে জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তিনি আরও জানান, জরিমানা পরিশোধের পর আটক রবিন ও জিয়াউর রহমানকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।

শেরপুর জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সহকারী কমিশনার (এনডিসি) রাজিব সরকার বলেন, বাবর ফিলিং স্টেশনে অবৈধ তেল মজুদের অভিযোগে অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। এতে ১ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। পাশাপাশি জব্দকৃত ৮৩৫ লিটার ডিজেল উন্মুক্তভাবে বিক্রি করে ৯৬ হাজার ৪২৫ টাকা সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হবে।

সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, অবৈধভাবে জ্বালানি মজুদ ও বিক্রির বিরুদ্ধে প্রশাসনের এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।

​রাজৈরে কুমার নদের ভাঙনে দিশেহারা মোঃ সুজন হোসেন বসতভিটা বিলীন।

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বুধবার, ২২ এপ্রিল, ২০২৬, ৮:৩০ অপরাহ্ণ
​রাজৈরে কুমার নদের ভাঙনে দিশেহারা মোঃ সুজন হোসেন বসতভিটা বিলীন।

 

​মাদারীপুরের রাজৈর উপজেলার হরিদাসদী-মহেন্দ্রদী ইউনিয়নে কুমার নদের তীব্র ভাঙন দেখা দিয়েছে। গত কয়েকদিনের ভাঙনে হরিদাসদী দক্ষিণ পাড়া এলাকার বাসিন্দা মোঃ সুজন হোসেন এর বসতবাড়ি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। আকস্মিক এই ভাঙনে ঘরবাড়ি হারিয়ে বর্তমানে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন তিনি।

​স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বেশ কিছুদিন ধরেই ওই এলাকায় নদী ভাঙন অব্যাহত রয়েছে। তবে সম্প্রতি ভাঙনের তীব্রতা বৃদ্ধি পাওয়ায় হরিদাসদী দক্ষিণ পাড়ায় মোঃ সুজন হোসেন এর পৈত্রিক ভিটা ও বসতঘর নদীগর্ভে চলে যায়। ঘরটি সরিয়ে নেওয়ার পর্যাপ্ত সময় না পাওয়ায় আসবাবপত্রসহ ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির শিকার হয়েছেন তিনি।

​ক্ষতিগ্রস্ত মোঃ সুজন হোসেন জানান ​”চোখের সামনেই নিজের ভিটেমাটি নদীতে চলে যেতে দেখলাম, কিছুই করার ছিল না। এখন পরিবার নিয়ে কোথায় গিয়ে দাঁড়াবো, তা জানি না। সব হারিয়ে আমি এখন নিঃস্ব।”

​শুধু মোঃ সুজন হোসেন নন, ভাঙন আতঙ্কে রয়েছেন ওই এলাকার আরও বহু পরিবার। স্থানীয়দের অভিযোগ, দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে হরিদাসদী দক্ষিণ পাড়ার আরও অনেক ঘরবাড়ি ও আবাদি জমি কুমার নদে তলিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তারা ভাঙন রোধে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে দ্রুত স্থায়ী বাঁধ নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন।
​প্রশাসনের ভূমিকা
​এ বিষয়ে ইউনিয়ন পরিষদ ও স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে ক্ষয়ক্ষতির তালিকা নিরূপণ করে ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। তবে স্থানীয়দের দাবি, ত্রাণ নয় বরং স্থায়ী সমাধান হিসেবে নদী শাসনের ব্যবস্থা করা হোক।
​সব হারিয়ে মোঃ সুজন হোসেন এই চরম দুর্দশা নিরসনে সরকারি ও বেসরকারি সংস্থাগুলোর এগিয়ে আসা এখন সময়ের দাবি।

শেরপুরে ৮৩৫ লিটার ডিজেল জব্দ, ফিলিং স্টেশনকে ১ লাখ টাকা জরিমানা ​রাজৈরে কুমার নদের ভাঙনে দিশেহারা মোঃ সুজন হোসেন বসতভিটা বিলীন। নিয়ামতপুরে চার খুনের মামলায় গ্রেফতার ৩ একসঙ্গে জন্ম নেয়া তিন বোন এসএসসি পরিক্ষায় অংশ গ্রহণ নওগাঁর নিয়ামতপুরে একই পরিবারের চারজনকে গলা কেটে হত্যা, চারজন পুলিশ হেফাজতে