নওগাঁর মান্দা উপজেলার ভারশোঁ ঋষিপাড়ায় ধারাবাহিক মাদকবিরোধী অভিযানে মাটির নিচ থেকে ৮০ লিটার চোলাই মদ তৈরির উপকরণ সহ একজনকে গ্রেফতার করেছে থানা পুলিশ।
পুলিশ সুপারের নির্দেশনায় মান্দা থানার অফিসার ইনচার্জ এবং মান্দা থানার এস আই আশীষ কুমার সান্যাল এর নেতৃত্বে ২৪ জুলাই রাত ৮টার দিকে অভিযানটি পরিচালনা করে স্বপন ঋষি (৩৫), পিতা- শ্রী দুলাল ঋষিকে গ্রেফতার করেন।
অভিযানে অংশগ্রহণকারী পুলিশ সদস্যরা মাটির নিচে বিশেষ কায়দায়, লুকানো ৮০ লিটার ওয়াস চোলাই মদ তৈরির উপাদান উদ্ধার করেন এবং জব্দ তালিকা মুলে জব্দ করে হেফাজতে নেয়।
গ্রেফতারকৃত দের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে নিয়মিত মামলা করা হয়েছে।
মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ, জামালপুর প্রতিনিধি: জামালপুরের মাদারগঞ্জের বালিজুড়ী বাজারে গভীর রাতে একটি গিফট সামগ্রীর দোকানে অগ্নিকান্ডের ঘটনা ঘটে।
শনিবার দিবাগত রাত আনুমানিক ৩ ঘটিকায় বালিজুড়ী বাজার বড় মসজিদের উত্তর পাশে মেসার্স মিম গিফট কর্নারে বিদ্যুৎ এর শর্ট সার্কিট থেকে এ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।
স্থানীয়রা জানান, গভীর রাতে দোকান থেকে আগুনের শিখা ও ধোঁয়া বের হতে দেখে আশপাশের লোকজন ছুটে আসেন। পরে ফায়ার সার্ভিসে খবর দেওয়া হলে তাদের সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন। এতে করে পাশ্ববর্তী দোকান গুলো ও রক্ষা পায়। তবে কোন জায়গায় থেকে এবং কিভাবে আগুন লাগছে আমরা কেউ ধারণা করতে পারছি না।
মিম গিফট কর্ণারের মালিকের বড় ভাই শাহজাহান জানান রাত আনুমানিক ৩ ঘটিকায় দোকানে আগুন লাগে ঐ সময়ে আমার ছোট ভাইসহ আমরা বাসায় ছিলাম। ফায়ার সার্ভিসকে খবর দিলে তারা দ্রুত এসে আগুন নিয়ন্ত্রণ করে ফলে মার্কেটের অন্যান্য দোকান গুলো রক্ষা পায় । মালামাল পুড়ে যাওয়ার ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ ১৫/২০ লক্ষ টাকা।
মাদারগঞ্জ ফায়ার সার্ভিস এন্ড সিভিল ডিফেন্স স্টেশন এর লিডার মোঃ সিদ্দিকুর রহমান জানান আমরা রাত ৩ টা ৮ মিনিটে খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে দোকানের সার্টারের দুটি তালা কেটে প্রবেশ করে ভিতরে আগুন নিয়ন্ত্রণ করি। দীর্ঘ প্রায় এক ঘন্টা সময় ড্যাম্পিং এর কাজ করে প্রায় ৮ লক্ষাধিক টাকার মালামাল উদ্ধার করা হয় এবং আনুমানিক দুই লক্ষ্য টাকার মালামাল ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ, জামালপুর প্রতিনিধির: জামালপুরের মাদারগঞ্জে ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য, উৎসবমুখর পরিবেশ ও ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের অন্যতম ধর্মীয় উৎসব শ্রী শ্রী জগন্নাথ দেবের উল্টো রথযাত্রা উদযাপিত হয়েছে।
শুক্রবার বিকেলে উপজেলার কেন্দ্রীয় শ্রী শ্রী জগন্নাথ মন্দির প্রাঙ্গণ থেকে বর্ণাঢ্য উল্টোরথযাত্রা বের হয়। রথটি উপজেলার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে পুনরায় মন্দির প্রাঙ্গণে এসে শেষ হয়। এ সময় নারী, পুরুষ, শিশু-কিশোরসহ বিভিন্ন বয়সী অসংখ্য ভক্ত-অনুরাগী রথের রশি টেনে উৎসবে অংশ নেন। তাদের উপস্থিতিতে পুরো এলাকা উৎসবের আমেজে মুখরিত হয়ে ওঠে।
রথযাত্রা কমিটির সভাপতি সুকান্ত চন্দ্র বর্মন ও সেক্রটারি সুশিল চন্দ্র বর্মন সহ অন্যান্যদের আয়োজনে পূজা-অর্চনা, ধর্মীয় আলোচনা, প্রসাদ বিতরণ ও ভক্তিমূলক কীর্তনের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানকে ঘিরে স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে সার্বিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা পুরো সময় দায়িত্ব পালন করেন।
মন্দির পরিচালনা কমিটির জয় দাস জানান, প্রতিবছরের মতো এবারও শান্তিপূর্ণ ও আনন্দঘন পরিবেশে উল্টোরথযাত্রা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সকল ধর্ম-বর্ণের মানুষের সহযোগিতা ও সম্প্রীতির মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠান সফলভাবে সম্পন্ন হয়।
উপস্থিত রবি দাস বলেন, রথযাত্রা শুধু একটি ধর্মীয় অনুষ্ঠান নয়, এটি সম্প্রীতি, সৌহার্দ্য ও মিলনের এক অনন্য উৎসব। প্রতিবছরের মতো এবারও আনন্দঘন পরিবেশে উল্টোরথযাত্রায় অংশ নিতে পেরে আমরা অত্যন্ত আনন্দিত।
মোঃ হোসেন শাহ্ ফকির ইসলামপুর (জামালপুর) প্রতিনিধি : জামালপুরের ইসলামপুরে প্রতিপক্ষের নিরীহ মানুষগুলোর উপর হয়রানিমূলক মামলা এবং মনগড়া অভিযোগে দিশাহারা হয়ে পড়ছেন একটি অসহায় কৃষক পরিবার। এঘটনাটি ঘটেছে উপজেলার সাপধরী ইউনিয়নের নয়াপাড়া এলাকায়।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ১৫ জুলাই সকাল ১০টার দিকে ওই এলাকার কৃষক তাঁরা মণ্ডলের একটি ছাগল বাড়িতে খোঁজে পাচ্ছিলেন না। ছাগলটির বিষয়ে জানতে চাওয়ায় তাঁরা মণ্ডলের স্ত্রী রোসনা বেগমকে বেধড়ক মারধর করে প্রতিবেশী নজরুল ইসলাম ওরফে বাদশা মণ্ডল। পরে বাদশা মণ্ডলের পাটখেত থেকে পা বাঁধা অবস্থায় ছাগলটি উদ্ধার করে তাঁরা মণ্ডলের লোকজন। পরদিন ১৫ জুলাই সকাল ৭টার দিকে বসতবাড়ি সংলগ্ন খোলা মাঠে গরুকে ঘাস খাওয়ানোর জন্য যায় তাঁরা মণ্ডল। এসময় বাদশা মণ্ডলসহ তাঁর লোকজন তাঁরা মণ্ডলকে পরিকল্পিতভাবে পিটিয়ে আহত করে। খবর পেয়ে স্বামীকে উদ্ধার করতে এগিয়ে গেলে রোসনা বেগমকে বেধড়ক পিটুনি দেয় তারা।
স্থানীয়রা গুরুতর আহত অবস্থায় তাঁরা মণ্ডল এবং রোসনা বেগমকে উদ্ধার করে প্রথম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁদেরকে জামালপুর জেনারেল হাসপাতালে রেফার্ড করেন। সেখান থেকে ওইদিন রাতে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাঁদেরকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার্ড করা হয়। এনিয়ে ১৬ জুলাই তাঁরা মন্ডলসহ তার পরিবারের ৯ জনকে আসামি দিয়ে বাদশা মণ্ডলের পক্ষে ইসলামপুর থানায় মামলা করা হয়েছে। ওই মামলায় পুলিশী গ্রেপ্তার এড়াতে তাঁরা মণ্ডলের বাড়ির পুরুষ মানুষ শূন্য হয়েছে। এ ছাড়া মিথ্যে মামলায় ফাঁসাতে এরই মধ্যে বসতবাড়ি ভাঙচুরসহ ডাকাতির অভিযোগ তোলে তাঁরা মণ্ডলের ছেলে সোলাইমানসহ তার লোকজদের বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ দিয়েছে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, গ্রেপ্তার এড়াতে অন্যত্র আত্মগোপনে রয়েছে তাঁরা মণ্ডলের বসতবাড়ির পুরুষেরা। নারীরা জানান, বাদশা মণ্ডলের লোকজন প্রতিনিয়ত তাদেরকে বিভিন্ন ধরনের হুমকি দিচ্ছে। তাঁরা নিরাপত্তাহীনতায় ভোগছি।
সোলাইমানের স্ত্রী রিক্তা পারভীন বলেন, আমাদের বিরুদ্ধে হয়রানিমূলক মামলা দিয়েছে। এ ছাড়া মিথ্যে ডাকাতির অভিযোগ দিয়েছে। গ্রেপ্তারের ভয়ে বসতবাড়ি থেকে পুরুষ মানুষেরা পালিয়ে বেড়াচ্ছি। আমরাও নিরাপত্তাহীনতায় ভোগছি।
বাদশা মণ্ডলের স্ত্রী নাজমা বেগম বলেন, আমরা কারো বিরুদ্ধে থানায় মিথ্যে অভিযোগ দিইনি।
ইসলামপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মিজানুর রহমান বলেন, মিথ্যা অভিযোগ দিলেও মামলা হওয়ার সুযোগ নেই। তদন্ত সাপেক্ষে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
আপনার মতামত লিখুন