খুঁজুন
সোমবার, ১৮ মে, ২০২৬, ৪ জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩

রংপুরে বিয়ের প্রলোভনে তরুনীর গর্ভে থাকা সন্তান ও তরুনীকে হত্যায় আসামির ফাঁসি

রিয়াজুল হক সাগর, রংপুর।
প্রকাশিত: সোমবার, ১৮ মে, ২০২৬, ৯:৩৭ অপরাহ্ণ
রংপুরে বিয়ের প্রলোভনে তরুনীর গর্ভে থাকা সন্তান ও তরুনীকে হত্যায় আসামির ফাঁসি

 

রংপুরে বিয়ের প্রলোভনে অবধ্যৈ মেলা মেশায় তরুনীর র্গভে সন্তান, সন্তানরে স্বীকৃতি চাওয়ায় তরুনী এবং গর্ভে থাকা সন্তানকে হত্যা অবশেেষ প্রমেকিরে মৃত্যু দন্ড।

স্ত্রীর এবং গভরে সন্তানরে স্বকৃতি দাবি করায় প্রেমিকা শান্তনা খাতুন ও তার গর্ভের সন্তানকে নির্মমভাবে হত্যার দায়ে মাসুম মিয়া নামে এক যুবককে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাকে ২০ হাজার টাকা অর্থদণ্ডেও দণ্ডিত করা হয়েছে।

সোমবার সকালে রংপুরের সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক ফজলে খোদা মো. নাজির আসামির উপস্থিতিতে এ রায় ঘোষণা করেন। আদালতের রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীরা। তবে আসামিপক্ষ উচ্চ আদালতে আপিল করার ঘোষণা দিয়েছে।

আদালত সূত্রে জানা গেছে, প্রায় তিন বছর আগে ঢাকার আশুলিয়ায় হামিম গার্মেন্টস নামে একটি পোশাক কারখানায় কাজ করার সময় শান্তনা খাতুনের সঙ্গে মাসুম মিয়ার পরিচয় হয়। পরিচয়ের সূত্র ধরে তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। একপর্যায়ে শারীরিক সম্পর্কের ফলে শান্তনা অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়েন। পরে তিনি মাসুমকে বিয়ের জন্য চাপ দিতে থাকেন।

বিষয়টি এড়াতে মাসুম গোপনে নিজ বাড়ি রংপুরের পীরগঞ্জ উপজেলায় চলে আসেন। পরে ২০২৩ সালের ১৩ জুলাই শান্তনা মাসুমের বাড়িতে গিয়ে তাকে বিয়ের জন্য চাপ দেন এবং বিয়ে না করলে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার হুমকি দেন। তখন মাসুম তাকে বিয়ের আশ্বাস দিয়ে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করেন।

ওইদিন দুপুরে শান্তনাকে ঢাকায় পৌঁছে দেওয়ার কথা বলে কৌশলে একটি আখক্ষেতে নিয়ে যান মাসুম। সেখানে শান্তনাকে হত্যা করা হয়। এ সময় তার গর্ভের সন্তানও নিহত হয়।

ঘটনার পর পীরগঞ্জ থানার উপ-পরিদর্শক নজরুল ইসলাম বাদী হয়ে হত্যা মামলা দায়ের করেন। দীর্ঘ তদন্ত শেষে ২০২৪ সালের ৩১ জুলাই মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা মাসুম মিয়াকে একমাত্র আসামি করে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন।

মামলায় ১৪ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য ও উপস্থাপিত প্রমাণ পর্যালোচনা করে আদালত অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হয়েছে বলে রায়ে উল্লেখ করেন। পরে আদালত আসামিকে মৃত্যুদণ্ড ও অর্থদণ্ডের আদেশ দেন।

রায় ঘোষণার পর রাষ্ট্রপক্ষের আইন কর্মকর্তা আফতাব উদ্দিন বলেন, এটি একটি নৃশংস হত্যাকাণ্ড ছিল। আদালতের এ রায়ে আমরা সন্তুষ্ট। এই রায় সমাজে একটি দৃষ্টান্ত স্থাপন করবে।

অন্যদিকে আসামিপক্ষের আইনজীবী সুলতান আহমেদ শাহীন বলেন, আমরা মনে করি আসামি ন্যায়বিচার পায়নি। রায়ের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে আপিল করা হবে।

ঢাকার বাইরে বাংলাদেশে প্রথম খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ে NAT টেস্ট সাইট স্থাপন

শহিদুল্লাহ আল আজাদ. স্টাফ রিপোর্টারঃ
প্রকাশিত: সোমবার, ১৮ মে, ২০২৬, ১০:১৩ অপরাহ্ণ
ঢাকার বাইরে বাংলাদেশে প্রথম খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ে NAT টেস্ট সাইট স্থাপন

 

দেশের উচ্চশিক্ষার আন্তর্জাতিকীকরণ, বৈশ্বিক দক্ষ মানবসম্পদ উন্নয়ন এবং আন্তর্জাতিক কর্মসংস্থানের সুযোগ সম্প্রসারণে নতুন মাইলফলক স্থাপন করেছে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়। বিশ্ববিদ্যালয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে Japanese NAT (Japanese Language NAT-Test) -এর Official Test Site হিসেবে স্বীকৃতি লাভ করেছে। এর মাধ্যমে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় বাংলাদেশের ইতিহাসে ঢাকার বাইরে প্রতিষ্ঠিত প্রথম NAT টেস্ট সাইট হিসেবে নতুন এক দিগন্তের সূচনা করলো। এই উদ্যোগ দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলসহ সারা দেশের শিক্ষার্থী, চাকরিপ্রত্যাশী ও বিদেশগামী দক্ষ কর্মীদের জন্য আন্তর্জাতিক সুযোগকে আরও সহজ ও নাগালের মধ্যে নিয়ে আসবে।
জাপানি ভাষা দক্ষতা মূল্যায়নের জন্য NAT-Test আন্তর্জাতিকভাবে পরিচিত ও স্বীকৃত একটি পরীক্ষা, যা জাপানে উচ্চশিক্ষা, বৃত্তি, প্রশিক্ষণ, দক্ষতা উন্নয়ন এবং কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। বর্তমানে জাপানে দক্ষ মানবসম্পদের চাহিদা বৃদ্ধি পাওয়ায় বাংলাদেশ থেকেও বিপুল সংখ্যক শিক্ষার্থী, প্রশিক্ষণার্থী ও চাকরিপ্রত্যাশী জাপানে উচ্চশিক্ষা ও কর্মজীবনের সুযোগ অনুসন্ধান করছেন। এতদিন দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে পরীক্ষার্থীদের NAT পরীক্ষায় অংশগ্রহণের জন্য ঢাকায় যেতে হতো, যা সময়, ব্যয় এবং ভোগান্তির কারণ ছিল। এখন খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ে NAT টেস্ট সাইট চালুর ফলে দেশের দক্ষিণাঞ্চলসহ বৃহত্তর অঞ্চলের শিক্ষার্থী, চাকরিপ্রত্যাশী, বিদেশগামী কর্মী এবং জাপানে অধ্যয়ন বা কর্মসংস্থানে আগ্রহীরা নিজ অঞ্চলে থেকেই আন্তর্জাতিক মানের পরীক্ষায় অংশগ্রহণের সুযোগ পাবেন।
এই অর্জনকে দেশের উচ্চশিক্ষার আন্তর্জাতিকীকরণ, দক্ষ মানবসম্পদ উন্নয়ন এবং সরকারের ভাষাভিত্তিক মানবসম্পদ তৈরির দীর্ঘমেয়াদি লক্ষ্য বাস্তবায়নের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। শিক্ষার্থী, গবেষক, তরুণ পেশাজীবী এবং আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারমুখী দক্ষ কর্মীদের বৈশ্বিক সুযোগের সঙ্গে সংযুক্ত করার ক্ষেত্রে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। একই সঙ্গে এটি খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক দৃশ্যমানতা ও বৈশ্বিক সম্পৃক্ততাকে আরও শক্তিশালী করবে বলে আশা করা হচ্ছে।
এ প্রসঙ্গে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. মোঃ রেজাউল করিম বলেন, “খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় শুধু শিক্ষা ও গবেষণার উৎকর্ষতাই নয়, আন্তর্জাতিক সংযোগ ও বৈশ্বিক সম্পৃক্ততার ক্ষেত্রেও ধারাবাহিকভাবে নতুন উদ্যোগ গ্রহণ করে চলেছে। NAT -এর অফিসিয়াল টেস্ট সাইট হিসেবে স্বীকৃতি পাওয়া আমাদের জন্য অত্যন্ত গৌরবের বিষয়। বিশেষ করে বাংলাদেশের ঢাকার বাইরে প্রথম NAT টেস্ট সাইট হওয়া দেশের উচ্চশিক্ষা, দক্ষতা উন্নয়ন এবং আন্তর্জাতিক কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রে একটি তাৎপর্যপূর্ণ মাইলফলক। এটি বিশেষত জাপানে উচ্চশিক্ষা ও কর্মসংস্থানে আগ্রহী তরুণদের জন্য নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করবে এবং বর্তমান সরকারের দক্ষ মানবসম্পদ উন্নয়নের পরিকল্পনা বাস্তবায়নে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে।”
প্রসঙ্গত, জাপানি ভাষার NAT-TEST পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান Senmon Kyouiku Publishing এর প্রেসিডেন্ট ও ডিরেক্টর সাতোশি কামাতা এর সঙ্গে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক বিষয়ক দপ্তর দীর্ঘদিন ধরে যোগাযোগ ও সমন্বয় করে আসছিল। এই ধারাবাহিক প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে তিনি ১৩ এপ্রিল ২০২৬ তারিখে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় সফর করেন এবং বিশ্ববিদ্যালয়ে NAT টেস্ট সাইট স্থাপনের সম্ভাবনা নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে বিস্তারিত আলোচনা করেন। সফরকালে অনুষ্ঠিত বৈঠকে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়কে NAT-এর একটি অফিসিয়াল পরীক্ষাকেন্দ্র হিসেবে প্রতিষ্ঠার বিভিন্ন দিক নিয়ে ফলপ্রসূ আলোচনা হয়। পরবর্তীতে দুই পক্ষের মধ্যে সফল আলোচনা ও পারস্পরিক সমঝোতার ভিত্তিতে আনুষ্ঠানিক চুক্তি স্বাক্ষরিত হয় এবং এর মধ্য দিয়ে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় আনুষ্ঠানিকভাবে NAT -এর Official Test Site হিসেবে স্বীকৃতি লাভ করে।
এ বিষয়ে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের দি অফিস অব ইন্টারন্যাশনাল অ্যাফেয়ার্সের পরিচালক প্রফেসর ড. মোঃ আশিক উর রহমান বলেন, “আমরা দীর্ঘদিন ধরে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়কে আন্তর্জাতিক উচ্চশিক্ষা ও বৈশ্বিক সংযোগের একটি কার্যকর প্ল্যাটফর্ম হিসেবে প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে কাজ করছি। NAT টেস্ট সাইট প্রতিষ্ঠা সেই প্রচেষ্টারই একটি গুরুত্বপূর্ণ অর্জন। এর মাধ্যমে শুধু আন্তর্জাতিক শিক্ষার সুযোগ নয়; বরং জাপানসহ বৈশ্বিক শ্রমবাজারে প্রবেশ, দক্ষতা উন্নয়ন এবং আন্তর্জাতিক নেটওয়ার্কে যুক্ত হওয়ার নতুন সম্ভাবনাও তৈরি হবে। দেশের শিক্ষার্থী, তরুণ পেশাজীবী এবং বিদেশগামী দক্ষ কর্মীদের জন্য খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রবেশদ্বার হিসেবে কাজ করবে বলে আমরা বিশ্বাস করি।”
বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন জানায়, পরবর্তী NAT পরীক্ষার নিবন্ধন ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে এবং আগ্রহী পরীক্ষার্থীরা এখনই নিবন্ধন করতে পারবেন। জাপানে উচ্চশিক্ষা, কর্মসংস্থান কিংবা দক্ষতা উন্নয়নের পরিকল্পনা রয়েছে এমন সকল আগ্রহী ব্যক্তি, শিক্ষার্থী এবং চাকরিপ্রত্যাশীদের এই সুযোগ গ্রহণের আহ্বান জানানো হয়েছে। পরীক্ষার সময়সূচি, নিবন্ধন এবং বিস্তারিত তথ্য খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের NAT -এর নির্ধারিত অনলাইন প্ল্যাটফর্ম https://nat-test.ku.ac.bd এর মাধ্যমে পাওয়া যাবে।

জামালপুরের মাদারগঞ্জে ফাঁসীতে ঝুলে মানসিক ভারসাম্যহীন যুবকের আত্মহত্যা 

মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ  জামালপুর প্রতিনিধি 
প্রকাশিত: সোমবার, ১৮ মে, ২০২৬, ১০:০৮ অপরাহ্ণ
জামালপুরের মাদারগঞ্জে ফাঁসীতে ঝুলে মানসিক ভারসাম্যহীন যুবকের আত্মহত্যা 

 

জামালপুরের  মাদারগঞ্জে আমিনুল (৩৬) নামে মানসিক ভারসাম্যহীন যুবকের  আত্মহত্যার ঘটনা ঘটেছে।  সোমবার বেলা সাড়ে ১১ টায় উপজেলার ৩ নং গুনারীতলা ইউনিয়নের  পশ্চিম পাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।  সে ওই এলাকার খলিলুর রহমানের ছেলে। সংবাদ পেয়ে ঘটনাস্থলে আসেন মাদারগঞ্জ সার্কেল এএসপি মোস্তাফিজুর রহমান ভূইয়া,  এস আই আশরাফুল আলম সহ সঙ্গীয় ফোর্স। লাশ দেখার জন্য  শত শত মানুষের ভীড় জমে।

নিহতের ছোট ভাই মমিন জানান আমার ভাই সহজ সরল ছিল নিজে পরিশ্রম করে খাইতো কিন্তুু কয়েকমাস যাবৎ মাথার সমস্যা চিকিৎসা করিয়ে ভালো হয়নি। হঠাৎ করে সে ফাঁসীতে ঝুলে আত্মহত্যা করেছে।

নিহতের স্ত্রী মালেকা বেগম জানান মাথার সমস্যা ছিল ২৪ ঘন্টায় ঘরের ভিতর থাকতো। আমরা খুজতে খুজতে দেখি  সে পাকের ঘরের ভিতরে ফাঁসি দিয়ে আছে এলাকার লোকজন নামাইছে।

সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান জয়নাল আবেদীন আয়না জানান আমিনুর একজন সহজ সরল লোক ছিল। কয়েকমাস যাবৎ সে মানসিক ভারসাম্যহীন হয়ে ঘরেই অবস্থান করে। হঠাৎ করেই সে ফাঁসীতে ঝুলে আত্মহত্যা করে।  তার ব্যাপারে এলাকায় কারো কোন অভিযোগ নেই। পরিবার থেকে লাশ গ্রহণের জন্য পুলিশ প্রশাসনের কাছে আবেদন করেছে।

এ ব্যাপারে জামালপুর জেলা সহকারী পুলিশ সুপার মাদারগঞ্জ সার্কেল  মাদারগঞ্জ থানাধীন গুনারীতলা ইউনিয়নে আমিনুল ইসলাম নামে এক ব্যাক্তি গলায়  ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছে। খবর পেয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে মাদারগঞ্জ মডেল থানা পুলিশ।  তদন্তে জানা গিয়েছে উনি দীর্ঘ ৬ মাস যাবৎ মানসিক সমস্যায় ভুগছিলেন। সুরতহাল রিপোর্ট শেষে আমরা থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা রুজু করা হবে।  নিহতের পরিবারের আবেদনের প্রেক্ষিতে লাশ তাদের কাছে হস্তান্তর করা হবে।

​কনডেমড ভবনে বিলাসীতা:ইসলামপুরে ইউএনও’র 

মোঃহোসন শাহ্‌ ফকির ইসলামপুর জামালপুর প্রতিনিধিঃ
প্রকাশিত: সোমবার, ১৮ মে, ২০২৬, ১০:০৫ অপরাহ্ণ
​কনডেমড ভবনে বিলাসীতা:ইসলামপুরে ইউএনও’র 

জামালপুরের ইসলামপুরে সরকারী পরিত্যক্ত ভবন নিয়ে খাম খেয়ালী ও বিলাসীতা করছেন ইসলামপুরের সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নাজমুল হুসাইন। ইসলামপুরে ৫টি পরিত্যক্ত ভবন নিলামে বিক্রয়ের জন্য প্রশাসনিক নির্দেশনা থাকলেও ইসলামপুরের ইউএনও তাহা উপেক্ষা করছেন। তিনি পরিত্যক্ত ভবনে লাখ লাখ টাকা ব্যয়ে বিলাসী সংস্কার কাজও করেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

অভিযোগে জানা গেছে,জামালপুর জেলা প্রশাসকের কার্যালয় থেকে গত ১ নভেম্বর২০২৪ তারিখে স্মারক নং ৫৪৫ মূলে পাঁচটি ভবন পরিত্যক্ত ঘোষণার প্রক্রিয়া শুরু হয়। পরবর্তীতে স্থানীয় সরকার,পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সহকারী সচিব হেলেনা পারভিন স্বাক্ষরিত পত্রে গত ১৩ জানুয়ারি ২০২৫ তারিখে ওই পরিত্যক্ত ভবনগুলো নিলামে বিক্রির সুস্পষ্ট নির্দেশ প্ররদান করেন। অথচ ইসলামপুরে ইউএনও উর্ধতন

কর্তৃপক্ষের নির্দেশ অমান্য করে লোক দেখানো সংস্কারের নামে সরকারী লাখ লাখ টাকা অপচয় পূর্বক ঝুঁকিপূর্ণ ভবনটি নিজেই ব্যবহার করছেন। এতে স্থানীয় সচেতন মহলে নানা গুঞ্জন চলছে।

উল্লেখ্য পূর্বঘোষিত পরিত্যক্ত পাঁচটি ভবনের মধ্যে ইসলামপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসারের বাসভবন (প্রাক্কলিত মূল্য ৩,৫১,৩৪২ টাকা), উপজেলা চেয়ারম্যান কোয়ার্টার (প্রাক্কলিত মুল্য ৩,৩৫,২৪২ টাকা) ও ডরমিটরি (প্রাক্কলিত মুল্য ১,৫৭,৬২৪ টাকা) নিলামে বিক্রির প্রশাসনিক অনুমতি প্রদান করা হয়। মন্ত্রণালয়ের আদেশে ভবনগুলো দ্রুত অপসারণের নির্দেশনা থাকলেও রহস্য জনক কারণে তা কার্যকর করা হয়নি।

​এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নাজমুল হুসাইন জানান,”আপনার উল্লেখিত পরিত্যক্ত ভবনের স্মারক নম্বরটি সঠিক কি না বা এ বিষয়ে কী নির্দেশনা আছে,তা খতিয়ে দেখতে হবে।”

​ইসলামপুর পল্লী বিদ্যুৎ ডিজিএম আবু সাঈদ বলেন,​”ভবনটি যে দাপ্তরিক ভাবে পরিত্যক্ত ঘোষণা করা হয়েছে, তা আমাদের আনুষ্ঠানিক ভাবে জানানো হয়নি। উপজেলা প্রশাসন থেকে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার আবেদন করা হলে আমরা নিয়ম অনুযায়ী সংযোগ কেটে দেবো।”

জামালপুরের বিজ্ঞ আইনজীবি নজরুল ইসলাম জানান, ​”কোনো স্থাপনা সরকারী ভাবে পরিত্যক্ত ঘোষিত হওয়ার পর সেখানে পূণঃসংস্কারের নামে নতুন করে সরকারি অর্থ বরাদ্দ দেওয়া সরকারী বিধি বহির্ভূত ও অপরাধের শামিল।

ইসলামপুরে মনিরুজ্জামান জানান,একজন পদস্থ কর্মকর্তার ব্যক্তিগত আরাম আয়েশের জন্য রাষ্ট্রীয় অর্থের অপচয় ও লোপাটের চেষ্টা কোনো ভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। এই নজিরবিহীন অনিয়মের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য উর্ধতন কর্তৃপক্ষের জরুরী হস্তক্ষেপ কামনা করছি।”

মোঃহোসন শাহ্‌ ফকির

ইসলামপুর জামালপুর।

ঢাকার বাইরে বাংলাদেশে প্রথম খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ে NAT টেস্ট সাইট স্থাপন জামালপুরের মাদারগঞ্জে ফাঁসীতে ঝুলে মানসিক ভারসাম্যহীন যুবকের আত্মহত্যা  ​কনডেমড ভবনে বিলাসীতা:ইসলামপুরে ইউএনও’র  রংপুরে বিয়ের প্রলোভনে তরুনীর গর্ভে থাকা সন্তান ও তরুনীকে হত্যায় আসামির ফাঁসি ব্রীজ আছে রাস্তা নেই উদ্বোধন করতে গিয়ে বিপাকে: পানি সম্পদ প্রতিমন্ত্রী