প্রতি বছরের ন্যায় এবারও লালমনিরহাট জেলার হাতীবান্ধা উপজেলায় ভুট্টা ক্ষেতে আগুন লাগার ঘটনা উদ্বেগজনকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। সম্পূর্ণ ভুট্টা ঘরে তোলার আগেই যেসব জমির ভুট্টা কাটা হয়েছে, সেসব জমি পরিষ্কার করার উদ্দেশ্যে কিছু অসাধু ব্যক্তি আগুন দিচ্ছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এতে পাশের এখনো না-কাটা ভুট্টা ক্ষেতে আগুন ছড়িয়ে পড়ে ব্যাপক ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছেন কৃষকরা।
আজকের ঘটনাটি ঘটেছে বড়খাতা ইউনিয়নের জলপাইর তল এলাকায়। স্থানীয়রা জানান, কে বা কারা আগুন লাগিয়েছে সে বিষয়ে নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। তবে যাদের ভুট্টা ইতোমধ্যে তোলা হয়েছে, তাদের মধ্য থেকেই কেউ এ ধরনের কাজ করে থাকতে পারে বলে ধারণা করছেন অনেকে।
আগুনে পুড়ে যাওয়া ভুট্টা বাজারে বিক্রি করতে গিয়ে কৃষকদের কম দামে বিক্রি করতে হচ্ছে। ফলে উৎপাদন খরচ তুলতেই হিমশিম খেতে হচ্ছে অনেক কৃষককে।
এ বিষয়ে হাতীবান্ধা ফায়ার সার্ভিসের অফিসার ইনচার্জ সাঈদ মোঃ ইমরান বলেন,
“সম্পূর্ণ ভুট্টা তোলা না হওয়া পর্যন্ত কেউ যেন জমি পরিষ্কার করার জন্য আগুন না দেন। সামান্য অসচেতনতার কারণে বড় ধরনের অগ্নিকাণ্ড ঘটতে পারে। সবাইকে সচেতন থাকতে হবে।
হোসেন শাহ ফকির, ইসলামপুর (জামালপুর) প্রতিনিধি : সরকারি বিধিবিধানের তোয়াক্কা না করে এবং প্রশাসনিক শিষ্টাচারকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে জামালপুরের ইসলামপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) বাসভবন, উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান কোয়াটার ও ডরমিটরি অফিস(অফিসার,কর্মচারী) পরিত্যক্ত ভবন। এর মধ্যে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বাসভবনে লাখ লাখ টাকা ব্যয়ে বিলাসী সংস্কারের মহোৎসব চলছে। যে ভবনটিকে দাপ্তরিকভাবে ‘বসবাসের অযোগ্য’ ও ‘পরিত্যক্ত’ ঘোষণা করে নিলামে বিক্রির সুস্পষ্ট নির্দেশনা দেওয়া হয়েছিল, সেখানে সরকারি কোষাগারের অর্থ ঢেলে চাকচিক্য বাড়ানোর এই অনৈতিক আয়োজন নিয়ে স্থানীয় প্রশাসনের ভেতরে-বাইরে তীব্র ক্ষোভ ও সমালোচনার ঝড় উঠেছে।
অনুসন্ধানে জানা গেছে,জামালপুর জেলা প্রশাসকের কার্যালয় থেকে গত ১ নভেম্বর ২০২৪ তারিখে (স্মারক নং ৫৪৫) পাঁচটি ভবন পরিত্যক্ত ঘোষণার প্রক্রিয়া শুরু হয়। পরবর্তীতে স্থানীয় সরকার,পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সহকারী সচিব হেলানা পারভীন গত ১৩ জানুয়ারি ২০২৫ তারিখে জরাজীর্ণ ও পরিত্যক্ত ভবনসমূহ ‘কনডেমড’ ঘোষণার প্রস্তাব অনুমোদন করেন।
উক্ত আদেশে উপজেলা পরিষদের নির্বাহী অফিসারের বাসভবন (প্রাক্কলিত মূল্য ৩,৫১,৩৪২ টাকা),ইসলামপুর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান কোয়ার্টার (প্রাক্কলিত মুল্য ৩,৩৫,২৪২ টাকা) ও ডরমিটরি অফিস অফিসার কর্মচারী(প্রাক্কলিত মুল্য ১,৫৭,৬২৪ টাকা) নিলামে বিক্রির প্রশাসনিক অনুমতি প্রদান করা হয়। মন্ত্রণালয়ের আদেশে ভবনগুলো দ্রুত অপসারণের নির্দেশনা থাকলেও রহস্যজনক কারণে তা কার্যকর করা হয়নি। উল্টো গত ১২ জানুয়ারি ২০২৫ তারিখে ভবন গুলো পরিত্যক্ত হওয়ার চূড়ান্ত স্বীকৃতির পরও সেখানে সংস্কারের নামে নতুন করে অর্থ ব্যয় করা হয়েছে—যা সরাসরি অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক শৃঙ্খলার পরিপন্থী।
সরেজমিনে দেখা গেছে,ছাদের পলেস্তারা খসে পড়া এবং নোনা ধরা দেয়ালের ওপরই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নির্দেশে আধুনিক ফিটিংস এবং উচ্চমূল্যের রঙের প্রলেপ। আইন অনুযায়ী,কোনো স্থাপনা ‘কনডেমড’ বা পরিত্যক্ত ঘোষিত হওয়ার পর সেখানে আর্থিক বরাদ্দ দেওয়া সম্পূর্ণ বিধিবহির্ভূত ও ফৌজদারি অপরাধের শামিল। সচেতন মহলের মতে সরকারি অর্থের এই অপচয় কেবল ক্ষমতার অপব্যবহারই নয়, বরং আইনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখানোর একটি নিকৃষ্ট উদাহরণ।
কাঠামোগতভাবে ঝুঁকিপূর্ণ এই ভবনে বাহ্যিক সৌন্দর্য বাড়ালেও এর ধসে পড়ার আশঙ্কা থেকেই যাচ্ছে। যেকোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগে এখানে বড় ধরনের প্রাণহানির সম্ভাবনা থাকলেও খোদ প্রশাসনিক কর্মকর্তারা প্রাণের ঝুঁকি নিয়ে সেখানে অবস্থান করছেন।
এতে একদিকে যেমন সরকার নিয়মিত বাসা ভাড়া থেকে বঞ্চিত হচ্ছে,অন্যদিকে জরাজীর্ণ বিদ্যুৎ লাইনের কারণে শর্ট সার্কিট থেকে অগ্নিকাণ্ডের প্রবল ঝুঁকি তৈরি হয়েছে।
অভিযোগ উঠেছে,সংশ্লিষ্ট প্রশাসন ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের যথাযথ অনুমোদন ব্যতিরেকেই ‘ক্ষুদ্র মেরামত’ খাত থেকে এই বিশাল অংকের অর্থ সমন্বয় করছে। যেখানে পুরাতন কাঠামো ভেঙে নতুন ভবন নির্মাণের প্রস্তাব পাঠানোর কথা, সেখানে সংস্কারের নামে বিপুল অর্থ লোপাটের চেষ্টা চলছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। একজন পদস্থ কর্মকর্তার ব্যক্তিগত আরাম-আয়েশের জন্য রাষ্ট্রের অর্থের এমন অপচয়কে নীতিভ্রষ্টতা হিসেবে দেখছেন স্থানীয়রা।
বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার বিষয়ে ইসলামপুর পল্লী বিদ্যুৎ ডিজিএম আবু সাঈদ জানান,ভবনটি পরিত্যক্ত কি না সে বিষয়ে আমাদের দাপ্তরিকভাবে জানানো হয়নি। উপজেলা প্রশাসন থেকে আবেদন করলে আমরা সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেবো।” তবে বকেয়া বিদ্যুৎ বিলের বিষয়ে তিনি কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি।
পরিত্যক্ত বাসভবন ব্যবহার করেন এ বিষয়ে জানতে চাইলে, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নাজমুল হুসাইন বলেন আপনি যে স্মারক নম্বর পরিত্যক্ত ভবন বললেন তা খতিয়ে দেখতে হবে।
উপজেলাবাসী ও সুধী সমাজ এই নজিরবিহীন অনিয়মের বিষয়ে জেলা প্রশাসনের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা দাবী জানিয়েছেন।
কাউনিয়ায় ছোট শ্যালকের স্ত্রীকে ধর্ষন চেষ্টার অভিযোগে ননদের স্বামীকে শনিবার গভীর রাতে গ্রেফতার করেছে হারাগাছ মেট্রো থানা পুলিশ। ভুক্তভোগী নারী নন্দিয়ার স্বামীর বিরুদ্ধে শনিবার হারাগাছ থানায় নারী শিশু নির্যাতন দমন আইনের ধারায় মামলা দায়ের করেন।
গ্রেফতার ননদের স্বামীর নাম মোঃ সজল মিয়া (৩২) রবিবার (১০ মে) তাকে মামলায় গ্রেফতার দেখিয়ে রংপুর আদালতে পাঠানো হয়। অভিযুক্ত সজল মিয়া, উপজেলার হারাগাছ পৌর শহরের পাঠানটারী এলাকার মৃত মাহফুজার রহমানের ছেলে।
মামলার এজাহার সুত্রে জানা গেছে, ০৫ মে মঙ্গলবার সন্ধার দিকে বাড়িতে কেউ না থাকায় সজল মিয়া বাড়ীতে ঢুকে ওই নারীকে ধর্ষনের চেষ্টা করেন। ওই নারীর অভিযোগ, তার স্বামী ঢাকায় একটি কারখানায় চাকুরী করেন। তিনি তিন সন্তান ও শ্বাশুরীকে নিয়ে স্বামীর বাড়ীতে বসবাস করেন। ঘটনার দিন তার শ্বাশুরী পাঠানটারী এলাকায় মেয়ের বাড়ীতে অবস্থান করছিল। আর এই সুযোগে সন্ধার কিছু আগে ননদের স্বামী সজল তার বাড়ীতে আসেন এবং পিছন দিকে থেকে তাকে জড়িয়ে ধরে জোর পুর্বক পরনের কাপড় খূলে ধর্ষণের চেষ্টা করে সজল। তার চিৎকারে দশ বছরের বড় মেয়ে বাড়ীর ভিতরে পৌছে ঘটনা দেখে মায়ের ইজ্জত বাঁচাতে চিৎকার শুরু করলে ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায় সজল। এর আগেও ওই নারীকে ধর্ষণের চেষ্টা করেছিলো সজল।
ঘটনার পর থেকে স্বামীর বাড়ীতে নিরাপত্তাহীনতার আশঙ্কায় তিনি সন্তানদের নিয়ে পিতার বাড়ীতে অবস্থান করেছেন।
হারাগাছ মেট্রো থানার তদন্তকারী এসআই জাহিদুল ইসলাম জাহিদ বলেন, ভুক্তভোগী নারীর অভিযোগের প্রেক্ষিতে নারী শিশু নির্যাতন দমন আইনে ধর্ষণের চেষ্ঠা ধারায় মামলা রুজু হয়েছে। অভিযুক্ত যুবককে শনিবার গভীর রাতে গ্রেফতার করা হয়েছে। রবিবার সকালে আসামী কে রংপুর আদালতে পাঠানো হয়েছে।
মাদারীপুরে আর্তমানবতার সেবায় নিয়োজিত সামাজিক সংগঠন ‘অদম্য মাদারীপুর’-এর ২০২৬ মেয়াদের নবগঠিত কার্যনির্বাহী কমিটির প্রথম পরিচিতি ও আলোচনা সভা উৎসবমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়েছে।
শনিবার (৯ মে) স্থানীয় একটি মিলনায়তনে এই সভা অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানের প্রথম পর্বে কমিটির সকল সদস্যদের পরিচয় পর্ব সম্পন্ন হয়। পরবর্তী আলোচনা সভায় সংগঠনের ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন নেতৃবৃন্দ। জনকল্যাণমূলক কাজের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে এবং সামাজিক দায়বদ্ধতা থেকে দ্রুত সময়ের মধ্যে একটি বড় ধরণের মানবিক প্রোগ্রাম বা কর্মসূচি আয়োজনের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয় সভায়।
সংগঠনের নেতৃবৃন্দ জানান, ‘অদম্য মাদারীপুর’ সবসময় মানুষের পাশে থাকার চেষ্টা করে। নতুন কমিটির এই উদ্যমী পথচলায় সংগঠনের সকল স্বেচ্ছাসেবক, শুভাকাঙ্ক্ষী এবং দাতা সদস্যদের প্রতি আন্তরিক শুভেচ্ছা ও শুভকামনা জ্ঞাপন করা হয়েছে।
আলোচনা সভায় বক্তারা বলেন, সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় মাদারীপুরের অসহায় ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের মুখে হাসি ফোটানোই এই সংগঠনের মূল লক্ষ্য। আগামী দিনের কর্মসূচি সফল করতে তারা সবার সহযোগিতা কামনা করেন।
আপনার মতামত লিখুন