প্রতিনিধি: জামালপুরের ইসলামপুর উপজেলায় বজ্রপাতে পৃথক ঘটনায় দুইজনের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে।
বুধবার (২৯ এপ্রিল) সকালে এসব দুর্ঘটনা ঘটে, যা এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এনেছে।
উপজেলার গাইবান্ধা ইউনিয়নের মরাকান্দি উত্তরপাড়া গ্রামের বাসিন্দা এবং মরহুম মোহাম্মদ আলী মেম্বারের ছোট ছেলে শামীম মন্ডল (৩৭) বজ্রপাতে নিহত হন। জানা গেছে, সকালে মাছ ধরার উদ্দেশ্যে নদীতে গেলে হঠাৎ বজ্রপাতে তিনি গুরুতর আহত হন। স্থানীয়রা দ্রুত তাকে উদ্ধারের চেষ্টা করলেও ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।
অন্যদিকে, উপজেলার ৪ নম্বর সাপধরি ইউনিয়নে রাস্তার নির্মাণকাজে নিয়োজিত শ্রমিক সাগর (১৭) বজ্রপাতে প্রাণ হারান। তিনি দেওয়ানগঞ্জ উপজেলার চিনিয়াপাড়া এলাকার স্বাধীন মিয়ার ছেলে। কাজ করার সময় আকস্মিক বজ্রপাত হলে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু ঘটে।
এই দুই মৃত্যুর ঘটনায় সংশ্লিষ্ট এলাকায় গভীর শোকের সৃষ্টি হয়েছে।
সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ডাসকো ফাউন্ডেশনের এরিয়া অফিসার মাকসুদা খানম এবং বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ফিল্ড ফ্যাসিলিটেটর নির্মিলা রানী। এছাড়া শিক্ষক, সাংবাদিকসহ বিভিন্ন পেশাজীবী মানুষ অংশগ্রহণ করেন।
সভায় এলাকার সামাজিক উন্নয়ন, জনসচেতনতা বৃদ্ধি, সুশাসন প্রতিষ্ঠা ও নাগরিক অধিকার বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। বক্তারা বলেন, সমাজের সার্বিক উন্নয়নে সুশীল সমাজের সক্রিয় অংশগ্রহণ অত্যন্ত জরুরি।
এ সময় অংশগ্রহণকারীরা তাদের মতামত ও অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন এবং ভবিষ্যতে আরও কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
সভা শেষে সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে একটি সচেতন, মানবিক ও উন্নত সমাজ গড়ে তোলার প্রত্যয় ব্যক্ত করা হয়।
জামালপুর ইসলামপুরে মাথা গোঁজার ঠাঁই বলতে শুধুই একটি ভাঙাচোরা জরাজীর্ণ টিনের ঘর। রোদ-বৃষ্টি কিংবা হাড়কাঁপানো শীত—সবই সইতে হয় এই ঝুপড়ির ভেতর। বয়সের ভারে শরীর নুয়ে পড়েছে, কিন্তু দুবেলা দুমুঠো খাবারের নিশ্চয়তা নেই। এমন মানবেতর জীবন পার করছেন বৃদ্ধ হাফিজুর রহমান ও তার স্ত্রী।
সরেজমিনে দেখা যায়,জামালপুরের ইসলামপুর উপজেলার সদর ইউনিয়নে পচাঁবহলা গ্রামের এই অসহায় দম্পতির ভাগ্যে জোটেনি একটু আরাম কিংবা সন্তানদের মমতা। অযত্ন আর অবহেলায় চরম অভাবের মধ্যে দিন কাটছে তাদের। জরাজীর্ণ ঘরের ফুটো দিয়ে যেমন আকাশ দেখা যায়,তেমনি তাদের চোখেও ফুটে উঠেছে অনিশ্চয়তার ছাপ।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে,হাফিজুর রহমানের বয়স এখন আশির কোঠায়। শারীরিক অক্ষমতার কারণে কাজ করার সামর্থ্য হারিয়েছেন অনেক আগেই। তবুও পেটের তাগিদে অনেক সময় অন্যের দ্বারে হাত পাততে হয়। সন্তানরা থাকলেও তারা নিজেদের নিয়ে ব্যস্ত,বৃদ্ধ বাবা-মায়ের খোঁজ নেওয়ার প্রয়োজন মনে করেন না তারা।
ফলে এই বয়সে যেখানে একটু সেবা-শুশ্রূষা পাওয়ার কথা,সেখানে তাদের দিন কাটছে চরম অবহেলায়।
কান্নাভেজা চোখে বৃদ্ধ হাফিজুর রহমান বলেন,”বাপু, ঘরটা যেকোনো সময় ভেঙে পড়তে পারে। বৃষ্টি হলে ঘরে পানি ঢোকে,রাতে ঠিকমতো ঘুমাতে পারি না। তার ওপর খাবার কষ্ট তো আছেই। সন্তানদের কাছে চেয়েও কিছু পাই না।”
তার স্ত্রী জানান,অভাবের কারণে অনেক দিন তাদের আধা-পেটা বা না খেয়েই দিন পার করতে হয়। সরকার বা সমাজের বিত্তবানরা এগিয়ে না এলে তাদের এই কষ্টের শেষ নেই।
এলাকাবাসীর দাবি,জনপ্রতিনিধি এবং সংশ্লিষ্ট প্রশাসন যেন দ্রুত এই বৃদ্ধ দম্পতির দিকে নজর দেন। একটি নিরাপদ ঘর এবং নিয়মিত খাবারের ব্যবস্থা নিশ্চিত করা গেলে হয়তো শেষ বয়সে তারা কিছুটা শান্তি পাবেন।
রংপুরের মিঠাপুকুর উপজেলায় ফ্যামিলি কার্ডের প্রলোভনে গৃহবধূকে ধর্ষণ চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে এক বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে। এঘটনার মামলা না করতে ভুক্তভোগী পরিবারটিকে হুমকি ধমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।
অভিযুক্ত মোঃ এনামুল হক উপজেলার ভাংনী ইউনিয়ন বিএনপির সহ সাংগঠনিক সম্পাদক।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়,উপজেলার ভাংনী ইউনিয়নের ঠাকুরবাড়ি গ্রামের এক ভ্যানচালকের স্ত্রী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ধানের শীষের পক্ষে ভোটের জন্য কাজ করেন। সেসময় বিএনপি নেতার সঙ্গে তার পরিচয় হয়। নির্বাচন পরবর্তী সময়ে ওই নারীকে দলের পক্ষে ভোটের মাঠে কাজ করার পুরস্কার হিসেবে ফ্যামিলি কার্ড করে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন বিএনপি নেতা এনামুল।
এদিকে গত শনিবার (২৫ এপ্রিল) বেলা ১২ টার সময় বিএনপি নেতা এনামুল ভুক্তভোগী ওই নারীর বাড়িতে গিয়ে ফ্যামিলি কার্ডের জন্য তার ব্যক্তিগত মুঠোফোনের নাম্বার চান। ব্যক্তিগত মোবাইল নাম্বার নেওয়ার পরে বাড়িতে লোকজন না থাকার সুবাদে ওই নারীর সঙ্গে অশালীন কথাবার্তা বলার চেষ্টা করেন। এক পর্যায়ে ভুক্তভোগী ওই নারীকে জড়িয়ে ধরে ধর্ষণের চেষ্টা চালান। ভুক্তভোগী ওই নারী অভিযুক্ত এনামুলকে ধাক্কা দিয়ে পালিয়ে গিয়ে নিজেকে রক্ষা করেন।
এবিষয়ে ভুক্তভোগী ওই নারী জানান,ঈদের পরেই ফ্যামিলি কার্ড দেওয়া হবে এমন কথা বলে বাড়িতে নাম্বার নিতে আসে এনামুল। বাড়িতে লোকজন না থাকার সুবাদে আমাকে জড়িয়ে ধরে খারাপ কাজ করার চেষ্টা করে। আমি অনেক কষ্টে ধাক্কা দিয়ে নিজেকে রক্ষা করেছি। এঘটনা জানাজানি হলে সে বলতেছে তার বিচার কেউ করতে পারবে নাহ। আমরা গরিব মানুষ। আমার স্বামী ভ্যানচালক। আমি ন্যায্য বিচার চাই।
অভিযুক্ত বিএনপি নেতা এনামুল হক জানান, এধরনের কোন ঘটনাই ঘটেনি। ব্যক্তিগত ক্ষোভ থেকে আমাকে ফাঁসানোর চেষ্টা করছে ওই নারী। তবে কি কারণে ফাঁসানোর চেষ্টা করা হচ্ছে প্রতিবেদকের এমন প্রশ্নের কোন উত্তর দিতে পারেনি বিএনপির এই নেতা।
এবিষয়ে ভাংনী ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আবুল হোসেন জানান, হাসি তামাশা করার এক পর্যায়ে
একপাশে থেকে আরেকপাশে যেতে গিয়ে ওই মহিলা মনে করছিলো তাকে ধরতে আসছে। এটা ভেবে ছেলেটাকে ধাক্কা দিয়েছিলো। বিষয়টা উভয়ের মধ্যে ভুল বোঝাবোঝি। গতকালেই এটা মীমাংসা হয়েছে।
মিঠাপুকুর থানার অফিসার্স ইনচার্জ ওসি মোঃ নুরুজ্জামান বলেন, এবিষয়ে লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
আপনার মতামত লিখুন