আজ শুক্রবার (৬ মার্চ) জুমার নামাজের পর বায়তুল মোকাররম থেকে অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক ২ উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান ও ড. খলিলুর রহমানকে গ্রেপ্তারের দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী।
বিক্ষোভ মিছিল পূর্ব সমাবেশে বক্তব্য রাখেন জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার। এ সময় অভিযোগ করে তিনি বলেন, ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচনের ভোট গণনা, রেজাল্ট শিট তৈরি ও ঘোষণায় ইঞ্জিনিয়ারিং করা হয়েছে। তা না হলে কীভাবে খলিলুর রহমান মন্ত্রী হলেন। সাবেক উপদেষ্টা রিজওয়ানা হাসান একা নন, তার সঙ্গে আরও কেউ কেউ রয়েছেন। জামায়াতে ইসলামীকে বিরোধী দল থেকে সরকার দলে আসার ক্ষেত্রে তারা বাধা দিয়েছেন।
এ সময় জোর করে হারিয়ে দেওয়ার পরও জামায়াত দেশের স্বার্থে অনেক কষ্টে নির্বাচন মেনে নিয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
গোলাম পরওয়ার বলেন, রিজওয়ানার কথা প্রমাণ করে তিনি একটি মন্দ কাজের সঙ্গে জড়িত ছিলেন। বিচারিক তদন্তের দাবি জানিয়েছে জামায়াত। গণভোটে জনগণের রায়ে বিপুল ভোটে হ্যাঁ জয়ী হওয়ার পরও জুলাই সনদকে ঝুলিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে। জুলাই সনদকে এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে দেশের মানুষ তা মানবে না।
সরকারি দল ও বিরোধী দল মিলে সংসদে আলোচনার মাধ্যমে জামায়াত দেশকে এগিয়ে নিতে চায় বলেও জানান জামায়াত সেক্রেটারি।
মোঃ সবুজ সরকার সৌরভ, ঘাটাইল (টাঙ্গাইল) প্রতিনিধিঃ টাঙ্গাইলের ঘাটাইল উপজেলার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ আঞ্চলিক সড়ক ও মহাসড়ক দখল করে নিয়মিত বসছে হাট-বাজার। হাটের নিজস্ব জায়গা থাকা সত্ত্বেও সড়কের ওপর বাজার পরিচালিত হওয়ায় প্রতিদিনই সৃষ্টি হচ্ছে তীব্র যানজট। এতে চরম দুর্ভোগে পড়ছেন সাধারণ মানুষ, শিক্ষার্থী, রোগী ও বিভিন্ন গন্তব্যে যাতায়াতকারী যাত্রীরা।
সবচেয়ে বেশি ভোগান্তির চিত্র দেখা যায় উপজেলার পাহাড়ি অঞ্চলের গারোবাজার, সাগরদীঘি, জোড়দীঘি, ধলাপাড়া ও চাপড়ি হাটে। এছাড়া টাঙ্গাইল–ময়মনসিংহ মহাসড়কের পাকুটিয়া, ব্রাহ্মণশাসন, কদমতলী ও হামিদপুর হাটেও একই চিত্র বিরাজ করছে। হাটের নির্ধারিত জায়গা ফাঁকা রেখেই সড়কের ওপর বসানো হচ্ছে আনারস, কাঁঠাল, কলা, ধান, সবজি ও অন্যান্য পণ্যের বাজার।
বিশেষ করে গারোবাজার ও সাগরদীঘি হাটে সাপ্তাহিক দুই দিনের হাট ছাড়াও বর্ষা মৌসুমে প্রতিদিনই ফল ও কৃষিপণ্যের বাজার বসে। ফলে বাজারসংলগ্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলোতে দীর্ঘ যানজট সৃষ্টি হয় এবং ঘণ্টার পর ঘণ্টা আটকে থাকে বিভিন্ন যানবাহন।
সরেজমিনে গারোবাজার এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, সড়কের মাঝেই চলছে কেনাবেচা। বাজারে আসা ক্রেতা-বিক্রেতা ও পরিবহন একসঙ্গে চলাচল করায় পুরো এলাকায় অচলাবস্থার সৃষ্টি হয়। এতে অ্যাম্বুলেন্স, বাস, ট্রাক, সিএনজি ও মোটরসাইকেলসহ সব ধরনের যানবাহন দীর্ঘ সময় আটকা পড়ে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, টাঙ্গাইলের ঘাটাইল, মধুপুর ও ময়মনসিংহের ফুলবাড়িয়া উপজেলার সংযোগস্থলে অবস্থিত গারোবাজার একটি গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যকেন্দ্র। বাজারটির সঙ্গে পাঁচটি পাকা সড়কের সংযোগ রয়েছে। গারোবাজার–পোড়াবাড়ি এবং গারোবাজার–ফুলবাড়িয়া সড়ক বাজারটিকে দুই ভাগে বিভক্ত করেছে। একই সময়ে সিরাজনগর গারোবাজার ও সুনামগঞ্জ গারোবাজার নামে দুটি পৃথক হাট বসে।
সুনামগঞ্জ গারোবাজারের প্রায় আট একর সরকারি সম্পত্তি থাকলেও এর অনেক অংশ প্রভাবশালীদের দখলে রয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। ফলে সড়কের ওপরই বসছে ফল ও কৃষিপণ্যের বাজার। চলতি অর্থবছরে এ হাটের ইজারা মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ৩২ লাখ ৫১ হাজার ৫০০ টাকা। অপরদিকে সিরাজনগর গারোবাজার অংশের প্রায় ৩৭৭ শতাংশ সরকারি জমিরও বড় একটি অংশ দখলে রয়েছে বলে স্থানীয়দের অভিযোগ। এ অংশের ইজারা মূল্য প্রায় ২৭ লাখ টাকা।
যানজটে আটকে পড়া যাত্রী ফজলুল হক বলেন, “আমাদের দুর্ভোগ দেখার কেউ নেই। যারা হাটের ইজারা দিয়েছে এবং যারা নিয়েছে, তারাই সড়ক দখল করে বাজার বসিয়ে খাজনা আদায় করছে। সাধারণ মানুষের কষ্টে তাদের কোনো মাথাব্যথা নেই।”
স্থানীয় কবি ও কৃষক ইদ্রিস কাজল বলেন, “এই এলাকায় কোনো গুরুতর অসুস্থ রোগীকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিতে হলে বড় ঝুঁকির মুখে পড়তে হয়। দীর্ঘ যানজটে রোগীর জীবনও বিপন্ন হতে পারে। জনদুর্ভোগ কমাতে দ্রুত বিকল্প সড়ক নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া উচিত।”
এক পথচারী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “মানুষের দুর্ভোগ বা রোগীর মৃত্যুঝুঁকি—কোনো কিছুরই যেন গুরুত্ব নেই। দ্রুত এ সমস্যার স্থায়ী সমাধান প্রয়োজন।”
মুরাইদ সিরাজনগর গারোবাজার পরিচালনা পরিষদের সাধারণ সম্পাদক মো. সাইফুল ইসলাম তরফদার বলেন, “ইজারাদারদের সঙ্গে নিয়ে আমরা বাজারকে নির্ধারিত জায়গায় স্থানান্তরের চেষ্টা করি। কিন্তু ব্যবসায়ী ও ক্রেতা-বিক্রেতাদের অনীহার কারণে তা পুরোপুরি সম্ভব হচ্ছে না। বিষয়টি রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা করে সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হবে।”
এ বিষয়ে ঘাটাইল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মাহমুদুল হাসান বলেন, “সমস্যাটি দীর্ঘদিনের। জনদুর্ভোগ নিরসনে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার চেষ্টা করা হবে।”
দীর্ঘদিন ধরে চলমান এ সমস্যার দ্রুত ও স্থায়ী সমাধানে হাটকে নিজস্ব জায়গায় স্থানান্তর, সড়ক দখলমুক্ত রাখা এবং বিকল্প সড়ক নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ্, জামালপুর প্রতিনিধি : জামালপুরের মাদারগঞ্জ মিথ্যা মামলা প্রত্যাহারের দাবিতে মানববন্ধন কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে।
মঙ্গলবার বিকাল ৪ টায় উপজেলার ২ নং কড়ইচুড়া ইউনিয়নের লালডোবা ইলশামারী চৌরাস্তা মোড়ে মানববন্ধনে স্থানীয় বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মী, এলাকার বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার দুই শতাধিক মানুষ অংশ নেয় ।
মানববন্ধনে বক্তব্য দেন ২ নং কড়ইচুড়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান প্রার্থী মো. মিজানুর রহমান (মিজান), ইউনিয়ন বিএনপি সহ-সভাপতি এনামুল হক ও মজনু পলান , ইউপি সদস্য ইয়াকুব আলী, ইউনিয়ন যুবদল নেতা মুক্তার হোসেন, অবঃ চাকরিজীবী আবুল হোসেন, ওয়ার্ড বিএনপি সাংগঠনিক সম্পাদক বকুল মিয়া, সাবেক উপজেলা জাসাস নেতা খালেদ মাহমুদ সুজন সহ মহিলাবৃন্দ।
বক্তারা বলেন, সম্প্রতি দায়ের করা মাদক মামলাটি রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও হয়রানিমূলক। তারা দাবি করেন, নিরীহ মানুষকে হয়রানি ও রাজনৈতিকভাবে প্রতিপক্ষকে চাপে রাখতেই এ মামলা দায়ের করা হয়েছে।
এটা সম্পন্ন ষড়যন্ত্রমূলকভাবে চেয়ারম্যান প্রার্থী মিজান কে ফাঁসানো হয়েছে।
বক্তারা আরো বলেন, মিথ্যা ও ভিত্তিহীন মামলা দিয়ে জনগণের কণ্ঠরোধ করা যাবে না। অবিলম্বে মামলা থেকে মিজানের নাম প্রত্যাহার করে নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত সত্য উদঘাটন করে ঘটনার সাথে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানান।
আপনার মতামত লিখুন