খুঁজুন
বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন, ২০২৬, ১১ আষাঢ়, ১৪৩৩

তিস্তা বাচাই আন্দোলনের মুখ্য সমন্বয়ক দুলু নির্বাচিত হওয়ায় তিস্তাপাড়ের মানুষ উচ্ছ্বাস প্রকাশ

রিয়াজুল হক সাগর, রংপুর।
প্রকাশিত: শনিবার, ১৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৮:২৪ অপরাহ্ণ
তিস্তা বাচাই আন্দোলনের মুখ্য সমন্বয়ক দুলু নির্বাচিত হওয়ায় তিস্তাপাড়ের মানুষ উচ্ছ্বাস প্রকাশ

লালমনিরহাট: তিস্তা নদী রক্ষা আন্দোলনের মুখ্য সমন্বয়ক অধ্যক্ষ আসাদুল হাবিব দুলু সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ায় তিস্তাপাড়ের মানুষ উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন। দীর্ঘদিনের দাবি ‘তিস্তা মহাপরিকল্পনা’ বাস্তবায়ন এবার গতি পাবে—এমন আশায় বুক বেঁধেছেন নদীপারের বাসিন্দারা।

নির্বাচনের ফল ঘোষণার পর লালমনিরহাট সদর উপজেলার বিভিন্ন চরাঞ্চলে আনন্দের আবহ দেখা যায়। অনেককে তিস্তার বালুচরে দাঁড়িয়ে মহান সৃষ্টিকর্তার কাছে শুকরিয়া আদায় করতে দেখা গেছে। তাদের ভাষায়, আন্দোলনের নেতৃত্ব দেওয়া একজন মানুষ সংসদে যাওয়ায় এবার নদীভাঙন, বন্যা ও খরার চক্র থেকে মুক্তির বাস্তব সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।

তিস্তাপাড়ের মানুষ বলছেন, তিস্তাপাড়ের মানুষের প্রত্যাশা এখন একটাই—দীর্ঘ প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়ন। নদীভাঙন, বন্যা, খরা ও অনিশ্চয়তার চক্র ভেঙে টেকসই নদী ব্যবস্থাপনা ও কৃষি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে তারা দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ দেখতে চান। তাদের বিশ্বাস, আন্দোলনের নেতৃত্ব দেওয়া প্রতিনিধি এবার সংসদে গিয়ে তিস্তার দাবিকে রাষ্ট্রীয় অগ্রাধিকার হিসেবে প্রতিষ্ঠা করবেন।

নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য আসাদুল হাবিব দুলু লালমনিরহাট জেলা বিএনপির সভাপতি ও বিএনপির কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক (রংপুর বিভাগ)। তিনি লালমনিরহাট—৩ (সদর) আসন থেকে ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে ১ লাখ ৩৯ হাজার ৬৫১ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী আবু তাহের দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে পেয়েছেন ৫৬ হাজার ২৪৪ ভোট। ভোটের ব্যবধান ৮৩ হাজার ৪০৭।

তিস্তাপাড়ের বাসিন্দারা বলেন, তিস্তা নদী রক্ষা আন্দোলনে তার সক্রিয় ভূমিকা ভোটের মাঠে ‘ম্যাজিক’ হিসেবে কাজ করেছে।

চর কালমাটি এলাকার আবেদ আলী বলেন, আসাদুল হাবিব দুলু নির্বাচিত হওয়ায় আমি তিস্তার বুকে ধু—ধু বালুচরে গিয়ে মহান আল্লাহর কাছে শুকরিয়া আদায় করেছি। তিনি তিস্তা নদী রক্ষা আন্দোলনের মাধ্যমে আমাদের জাগিয়ে তুলেছিলেন। ২০২৫ সালজুড়ে আন্দোলন হয়েছে, আমরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশ নিয়েছি। দুলুর ডাকে আমরা প্রাণের স্পন্দন খুঁজে পেয়েছিলাম।

তিনি আরও বলেন, দুলু যেন নির্বাচিত হন, সেজন্য আমরা প্রচার করেছি, দোয়া করেছি। মহান আল্লাহ আমাদের প্রার্থনা কবুল করেছেন। তিনি বিপুল ভোটে জয়ী হয়েছেন। এখন আমাদের বিশ্বাস, তিনি অবশ্যই তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন করবেন।

খুনিয়াগাছ ইউনিয়নের কৃষক করিম মিয়া বলেন, দুলুর নির্বাচনী ইশতেহারে ‘তিস্তা মহাপরিকল্পনা’ বাস্তবায়নের স্পষ্ট প্রতিশ্রুতি ছিল। প্রচারণার কেন্দ্রেও ছিল তিস্তা। এখন তার দল ক্ষমতায় এসেছে। আমরা আশা করি দ্রুত প্রকল্প বাস্তবায়নে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

চর রাজপুর এলাকার কৃষক আক্কাস আলী বলেন, তিস্তা বাঁচলে তিস্তাপাড়ের মানুষ বাঁচবে। বাঁচবে কৃষি, কৃষক, পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য। আসাদুল হাবিব দুলুর ডাকে আমরা আন্দোলনে যুক্ত হয়েছিলাম। অতীতেও তিনি এলাকায় উন্নয়ন করেছেন। তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নে তিনিই সবচেয়ে যোগ্য নেতৃত্ব দিতে পারবেন।

একই এলাকার কৃষক সাদেকুল ইসলাম বলেন, “দুলু তিস্তাপাড়ের মানুষের দুঃখ—কষ্ট কাছ থেকে দেখেছেন। আমাদের সঙ্গে বহুবার মতবিনিময় করেছেন। তিস্তা নদী রক্ষা আন্দোলন নির্বাচনে বড় ভূমিকা রেখেছে। আমরা তার ওপর আস্থা রেখেছি। তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে আমাদের অভাব—দুঃখ অনেকটাই দূর হবে। চরাঞ্চলে জেগে ওঠা জমিতে ফসল ফলিয়ে আমরা দারিদ্র্যকে বিদায় দিতে পারবো।

নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য আসাদুল হাবিব দুলু বলেন, নির্বাচনের আগে রংপুরের জনসভায় বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান ‘তিস্তা মহাপরিকল্পনা’ বাস্তবায়নের ঘোষণা দিয়েছেন। আমার নির্বাচনী ইশতেহারেও এই প্রতিশ্রুতি রয়েছে।

তিনি আরও বলেন, “বিএনপি সরকার অবশ্যই তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন করবে। আমি ব্যক্তিগতভাবে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে এই প্রকল্প বাস্তবায়নে কাজ করবো। তিস্তাপাড়ের মানুষ আমাকে নির্বাচিত করেছেন—আমি তাদের মুখে হাসি

রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে এক প্রবাসীর জমি দখলের অভিযোগ উঠেছ, মহিপুরে সংবাদ সম্মেলন

মেহেদী হাসান সোহাগ-কলাপাড়া,কুয়াকাটা-প্রতিনিধি
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন, ২০২৬, ১১:১৫ অপরাহ্ণ
রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে এক প্রবাসীর জমি দখলের অভিযোগ উঠেছ, মহিপুরে সংবাদ সম্মেলন

 

পটুয়াখালীর মহিপুরে রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে পৈত্রিক ও ক্রয়কৃত জমি দখল, প্রাণনাশের হুমকি, চাঁদাবাজি এবং হামলার অভিযোগ এনে সংবাদ সম্মেলন করেছেন এক প্রবাসী পরিবারের সদস্যরা।

বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) মহিপুরে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন মো. মুসা গাজী। তিনি জানান, তার বাবা মো. মজিবুর রহমান গাজী দীর্ঘ ২৩ বছর ধরে মালয়েশিয়ায় প্রবাস জীবন কাটাচ্ছেন। প্রবাসে অর্জিত অর্থে ২০২৪ সালে তিনি ৪০ নং ইউসুফপুর মৌজার বিএস ৮১৬ খতিয়ানের ২৩০৩ ও ২৩০৭ দাগের জমি ক্রয় করেন এবং বৈধভাবে ভোগদখলে রয়েছেন।

সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করা হয়, সম্প্রতি ইমরান হাওলাদার ও কিছু রাজনৈতিক ব্যক্তির সহযোগিতায় ওই জমিতে অবৈধ স্থাপনা নির্মাণের চেষ্টা চালান। বিষয়টি নিয়ে মহিপুর থানায় সালিশ বৈঠকে চূড়ান্ত সমাধান না হওয়া পর্যন্ত জমিতে সব ধরনের কার্যক্রম বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত হয়। তবে গত ১২ জুন ইমরান হাওলাদার মহিপুর থানা স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক বেল্লাল ইসলাম গালিব (মাইকেল), মহিপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক আইউব আলী আকন ফিরোজ, ৯ নম্বর ওয়ার্ড যুবদলের সাধারণ সম্পাদক তাউয়াব সরদার ও রাসেল মাহমুদ ভেকুকে দিয়ে মাটি কাটার কাজ শুরু করেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।

মুসা গাজী দাবি করেন, তাদের স্বজনরা বাধা দিতে গেলে মারধরের শিকার হন, প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয় এবং মোটা অঙ্কের চাঁদা দাবি করা হয়। এ ঘটনায় তার চাচা আব্দুল মতিন গাজী মহিপুর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি নং-আর ১১৬/২৬) করেন।

সংবাদ সম্মেলনে আরও জানানো হয়, গত ২১ জুন কলাপাড়া সিনিয়র সহকারী জজ আদালতে অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞার আবেদন করা হলেও বিবাদীরা ২৩ জুন পুনরায় জমিতে স্থাপনা নির্মাণের কাজ শুরু করেন। এ সময় বাধা দিতে গেলে আব্দুল মতিন গাজী, শহিদুল গাজী ও দেলোয়ার দুয়ারির ওপর হামলা চালানো হয়। এতে আব্দুল মতিন গাজী গুরুতর আহত হন। পরে তাকে কলাপাড়া হাসপাতালে ভর্তি করা হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। বর্তমানে তিনি সেখানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

পরিবারটির দাবি, তারা বর্তমানে নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। অবৈধ দখলদারদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ এবং প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেন তারা।

তবে অভিযোগ অস্বীকার করে ইমরান হাওলাদার বলেন, আমার জমিতে আমি কাজ করেছি। কারও কাছে কোনো টাকা-পয়সা চাওয়া হয়নি। আদালতের কোনো নোটিশও আমি পাইনি।

মহিপুর থানা স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক বেলাল গালিব বলেন, বাজারে যাওয়ার পথে বিরোধপূর্ণ জমিতে লোকজনের ভিড় দেখে সেখানে যাই। পরে আমাদের জড়িয়ে আদালতে মামলা ও থানায় জিডি করা হয়েছে। এটি সম্পূর্ণ পরিকল্পিত।

এ বিষয়ে মহিপুর থানা বিএনপির সভাপতি জলিল হাওলাদার বলেন, এটি জমিজমা সংক্রান্ত আদালতের বিষয়। মালিকপক্ষ আদালতে স্বপক্ষে প্রমাণ উপস্থাপন করে ফয়সালা করবেন। বিএনপির কোনো নেতাকর্মী জড়িত থাকার প্রমাণ পাওয়া গেলে তাদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

মহিপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শামীম হাওলাদার বলেন, বিষয়টি সম্পর্কে খোঁজখবর নিয়ে পরে বিস্তারিত জানানো হবে।

গাজীপুরে ডিবি পুলিশের অভিযানে ১২০ কেজি গাঁজাসহ দুই মাদক কারবারি গ্রেফতার, উদ্ধার কাভার্ড ভ্যান

স্টাফ রিপিটার ( গাজীপুর) মোঃ লোকমান হোসেন পনির
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন, ২০২৬, ২:২৬ অপরাহ্ণ
গাজীপুরে ডিবি পুলিশের অভিযানে ১২০ কেজি গাঁজাসহ দুই মাদক কারবারি গ্রেফতার, উদ্ধার কাভার্ড ভ্যান

গাজীপুর মহানগর গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের অভিযানে ১২০ কেজি গাঁজাসহ দুই মাদক কারবারিকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এ সময় মাদক পরিবহনে ব্যবহৃত একটি কাভার্ড ভ্যানও জব্দ করা হয়। উদ্ধারকৃত গাঁজার আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ৩৬ লাখ টাকা বলে জানিয়েছে পুলিশ।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার (২৫ জুন ২০২৬) ভোর ৩টা ৪০ মিনিটে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে গাজীপুর মহানগর গোয়েন্দা (উত্তর) বিভাগের একটি দল বাসন থানার ভোগড়া এলাকায় ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে অভিযান পরিচালনা করে। অভিযানে এসআই (নিরস্ত্র) মোঃ কামরুল হাসান ও এএসআই (নিরস্ত্র) মোঃ আলামিন হোসেনের নেতৃত্বে পুলিশের সদস্যরা জনৈক কামাল হোসেনের গাড়ির ওয়ার্কশপের সামনে অবস্থানরত কয়েকজন সন্দেহভাজন ব্যক্তিকে নজরদারিতে রাখেন।
একপর্যায়ে মাদক বিক্রয়ের উদ্দেশ্যে অবস্থানকালে দুই ব্যক্তিকে আটক করা হয়। পরে তাদের জিজ্ঞাসাবাদ ও তল্লাশি চালিয়ে সর্বমোট ১২০ কেজি গাঁজা উদ্ধার করা হয়। একই সঙ্গে মাদক পরিবহনে ব্যবহৃত একটি কাভার্ড ভ্যান (রেজিস্ট্রেশন নম্বর: ঢাকা মেট্রো-ড-১৪-০৩৬১) জব্দ করা হয়।
গ্রেফতারকৃতরা হলেন কুমিল্লা জেলার তিতাস উপজেলার দাসকান্দি এলাকার হুমায়ুন কবিরের ছেলে মোঃ ইমন শাহরিয়ার (২৮) এবং কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলার ঘোড়াশাল এলাকার আব্দুল মালেকের ছেলে মোঃ শরিফ (২৮)।
পুলিশ জানায়, প্রাথমিক অনুসন্ধানে গ্রেফতারকৃতদের বিরুদ্ধে পূর্বেও বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার তথ্য পাওয়া গেছে। এর মধ্যে ইমন শাহরিয়ারের বিরুদ্ধে একটি মাদক মামলা এবং শরিফের বিরুদ্ধে একটি দস্যুতা মামলা রয়েছে।
গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের মহানগর গোয়েন্দা (উত্তর) বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার (ভারপ্রাপ্ত) অশোক কুমার পাল, পিপিএম-এর দিকনির্দেশনায় এ অভিযান পরিচালিত হয়।
এ ঘটনায় গ্রেফতারকৃতদের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
পুলিশের দাবি, মাদকবিরোধী অভিযানের অংশ হিসেবে মহানগর এলাকায় মাদক চোরাচালান ও ব্যবসার বিরুদ্ধে তাদের বিশেষ অভিযান অব্যাহত থাকবে।

ভ্যান হারিয়ে দিশেহারা ভ্যানচালক মোরশেদ, ভাঙা ঘরে পরিবার নিয়ে কাটাচ্ছে মানবেতর জীবন

সিরাজুল ইসলাম-লালমনিরহাট।
প্রকাশিত: বুধবার, ২৪ জুন, ২০২৬, ১১:২৯ অপরাহ্ণ
ভ্যান হারিয়ে দিশেহারা ভ্যানচালক মোরশেদ, ভাঙা ঘরে পরিবার নিয়ে কাটাচ্ছে মানবেতর জীবন

 

লালমনিরহাটের হাতীবান্ধা উপজেলার বড়খাতা ইউনিয়নের পূর্ব সারডুবী এলাকার বাসিন্দা মোরশেদ আলম একজন ব্যাটারিচালিত ভ্যানচালক। দীর্ঘদিন ধরে ভ্যান চালিয়ে উপার্জিত আয়েই চলছিল তার ছয় সদস্যের পরিবারের জীবিকা। কিন্তু একটি ভ্যান চুরির ঘটনায় আজ তিনি ও তার পরিবার চরম দুর্দশার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন।

জানা যায়, গত ২০ জুন রাত প্রায় ১০টার দিকে উপজেলার মিলন বাজার এলাকায় নিজের ব্যাটারিচালিত ভ্যানটি রেখে দিনের ভাড়ার টাকা তুলতে যান মোরশেদ আলম। কিছুক্ষণ পর ফিরে এসে দেখেন, অজ্ঞাত ব্যক্তি তার একমাত্র উপার্জনের মাধ্যম ভ্যানগাড়িটি চুরি করে নিয়ে গেছে। ভ্যানটি খুঁজে পেতে তিনি বাজারের বিভিন্ন স্থান ও আশপাশের এলাকায় খোঁজাখুঁজি করলেও কোনো সন্ধান পাননি। এতে তিনি মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন এবং পরিবার নিয়ে অনিশ্চয়তার মুখে পড়েন।

সরেজমিনে মোরশেদ আলমের বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, ভাঙাচোরা ও জরাজীর্ণ একটি ঘরে মা, স্ত্রী ও সন্তানদের নিয়ে বসবাস করছেন তিনি। ঘরের পাশাপাশি রান্নাঘরের অবস্থাও অত্যন্ত নাজুক। ভাঙা টিনের বেড়া ও ঝুঁকিপূর্ণ পরিবেশে মানবেতর জীবনযাপন করছে পরিবারটি।
উপার্জনের একমাত্র অবলম্বন হারিয়ে বর্তমানে ধারদেনা করে সংসার চালাতে হচ্ছে মোরশেদ আলমকে। পরিবার-পরিজনের মুখে দুমুঠো খাবার তুলে দিতেও হিমশিম খেতে হচ্ছে তার।

মোরশেদ আলমের প্রত্যাশা, এলাকার সংসদ সদস্য, উপজেলা প্রশাসন ও সমাজের বিত্তবান ব্যক্তিরা তার দুর্দশার কথা বিবেচনা করে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেবেন। একটি ব্যাটারিচালিত ভ্যান পেলে তিনি পুনরায় কর্মে ফিরতে পারবেন এবং পরিবারের জীবিকা নির্বাহের পথ সুগম হবে।

স্থানীয় ইউপি সদস্য আতিয়ার রহমান বলেন, “মোরশেদ আলম অত্যন্ত দরিদ্র একজন মানুষ। ভ্যান চালিয়েই তার সংসার চলতো। ভ্যানটি চুরি হওয়ার পর তিনি কর্মহীন হয়ে পড়েছেন। সমাজের বিত্তবান ব্যক্তি ও প্রশাসনের কাছে তার জন্য একটি ভ্যানের ব্যবস্থা করার অনুরোধ জানাচ্ছি।”

স্থানীয়দের দাবি, অসহায় এই পরিবারের পাশে সরকার, জনপ্রতিনিধি ও সমাজের সামর্থ্যবান ব্যক্তিরা এগিয়ে এলে মোরশেদ আলম আবারও স্বাবলম্বী হয়ে উঠতে পারবেন।

রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে এক প্রবাসীর জমি দখলের অভিযোগ উঠেছ, মহিপুরে সংবাদ সম্মেলন গাজীপুরে ডিবি পুলিশের অভিযানে ১২০ কেজি গাঁজাসহ দুই মাদক কারবারি গ্রেফতার, উদ্ধার কাভার্ড ভ্যান ভ্যান হারিয়ে দিশেহারা ভ্যানচালক মোরশেদ, ভাঙা ঘরে পরিবার নিয়ে কাটাচ্ছে মানবেতর জীবন নাচোলে বিশ্ব পরিবেশ দিবস পালিত ইসলামপুর পৌরসভার বাজেট ঘোষণা করেন পৌর প্রশাসক নাজমুল হুসাইন