সীমান্তের ৪০ গ্রামে বিশুদ্ধ পানির সংকটে নেত্রকোনার পাহাড়ি জনগোষ্ঠী
Oplus_131072
স্টাফ রিপোর্টার শামছুল হক, নেত্রকোণা : নেত্রকোণার সীমান্তবর্তী দুই পাহাড়ি উপজেলা দুর্গাপুর ও কলমাকান্দার অন্তত ৪০টি গ্রামে তীব্র বিশুদ্ধ খাবার পানির সংকট দেখা দিয়েছে। এসব গ্রামে বসবাসরত প্রায় ৩০ হাজার মানুষ বছরের পর বছর নিরাপদ পানির অভাবে চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন। পাহাড়ি ছড়া (নালা), খাল কিংবা টিলার নিচে তিন চাকায় তৈরি অগভীর কূপের ঘোলা ও দূষিত পানিই এখন তাদের একমাত্র ভরসা।
জানা গেছে, কলমাকান্দা উপজেলার লেংগুরা, খারনৈ ও রংছাতি ইউনিয়ন এবং দুর্গাপুর উপজেলার কোল্লাগড়া ও দুর্গাপুর ইউনিয়নের সীমান্তবর্তী গ্রামগুলোতে এই সংকট সবচেয়ে প্রকট। এসব এলাকায় গারো ও হাজং সম্প্রদায়ের মানুষের বসবাস। প্রতিবছর শুষ্ক মৌসুমে পাহাড়ি পানির উৎসগুলো শুকিয়ে যাওয়ায় সংকট ভয়াবহ আকার ধারণ করে।
অনেক গ্রামবাসীকে এক থেকে দুই কিলোমিটার দূর থেকে পানি সংগ্রহ করতে হয়। এতে ব্যাহত হচ্ছে দৈনন্দিন জীবনযাপন, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যব্যবস্থা। পানিবাহিত রোগের ঝুঁকিও বাড়ছে। স্বাধীনতার পর দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও এসব পাহাড়ি গ্রামে বিশুদ্ধ পানির স্থায়ী কোনো সমাধান হয়নি বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।
স্থানীয় এলাকাবাসীরা জানান, জাতীয় সংসদ নির্বাচন কিংবা স্থানীয় সরকার নির্বাচন এলেই প্রার্থীরা নির্বাচনী ইশতেহারে পানি সংকটের বিষয়টি উল্লেখ করে সমাধানের আশ্বাস দেন। তবে নির্বাচন শেষ হলে আর কেউ খোঁজ নেন না। এবারও তার ব্যতিক্রম হয়নি বলে মন্তব্য করেন তারা।
এ বিষয়ে জেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. নায়েব আলী খাঁন বলেন,
“নেত্রকোণার ১০টি উপজেলার পানি সমস্যা সমাধানে ১ হাজার ৩২টি গভীর নলকূপ স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সীমান্তবর্তী পাহাড়ি এলাকার মানুষের পানির সংকট সমাধানেও আলাদা প্রকল্প গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।”
তিনি আরও জানান, দুর্গম ও পাহাড়ি এলাকায় পানির উৎস স্থাপন কিছুটা জটিল হলেও সরকারিভাবে এবং নিজস্ব উদ্যোগে সমস্যার স্থায়ী সমাধানে কাজ করা হচ্ছে।
জনস্বাস্থ্য বিভাগের এ উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন সীমান্ত এলাকার বাসিন্দারা। তবে দ্রুত প্রকল্প বাস্তবায়ন ও কার্যকর তদারকির দাবি জানিয়েছেন তারা। স্থানীয়দের আশা—এইবার আর শুধু আশ্বাস নয়, বাস্তব উদ্যোগের মাধ্যমেই মিলবে বিশুদ্ধ খাবার পানির নিশ্চয়তা।



আপনার মতামত লিখুন