কে এম সাইফুর রহমান, নিজস্ব প্রতিনিধিঃ গোপালগঞ্জে তীব্র বিদ্যুৎ সংকটে জনজীবন অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছে। দিনে প্রায় ৫ থেকে ৬ ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকলেও এ সময়ের মধ্যে ২০ থেকে ২৫ বার পর্যন্ত লোডশেডিং হচ্ছে বলে জানাগেছে। ঘন ঘন বিদ্যুৎ আসা যাওয়ায় স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি ব্যবসা-বাণিজ্য, শিক্ষা, চিকিৎসা ও শিল্পকারখানায় নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। বিদ্যুৎ সংকটের কারণে সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছেন শিশু ও বয়স্করা। দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় প্রচণ্ড গরমে অসুস্থ হয়ে পড়ছেন অনেকে। হাসপাতালে রোগীদের চিকিৎসা সেবা ও স্বাভাবিক কার্যক্রম পরিচালনাতেও নানা ধরনের সমস্যার সৃষ্টি হচ্ছে বলে জানা গেছে।
বিদ্যুৎ বিভ্রাটে চলমান এইচএসসি পরীক্ষা সহ শিক্ষার্থীদের পড়াশোনাও ব্যাহত হচ্ছে। বিশেষ করে রাতে বারবার বিদ্যুৎ চলে যাওয়ায় পরীক্ষার্থী ও শিক্ষার্থীদের লেখাপড়ায় বিঘ্ন ঘটছে। অনেক শিক্ষার্থী বাধ্য হয়ে মোমবাতি, চার্জার লাইট কিংবা মোবাইলের আলো ব্যবহার করে পড়াশোনা করছে। বিদ্যুৎ সংকটের প্রভাব পড়েছে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের ওপরও। দোকানপাট ও ছোট ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে ফ্যান, লাইট, ফ্রিজসহ বিভিন্ন বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতি ঠিকমতো চালানো যাচ্ছে না। এতে ব্যবসায়ীরা আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছেন। একই সঙ্গে অটোরিক্সা ও ইজিবাইক চালকেরাও সমস্যায় পড়েছেন। চার্জিংয়ের পর্যাপ্ত সুযোগ না থাকায় তাদের আয় কমে যাচ্ছে।
গোপালগঞ্জের শিল্পকলকারখানাগুলোতেও বিদ্যুৎ বিভ্রাটের কারণে উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। ঘন ঘন বিদ্যুৎ চলে যাওয়ায় উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা পূরণ করা কঠিন হয়ে পড়ছে এবং বাড়ছে উৎপাদন খরচ। এভাবে চলতে থাকলে শিল্প ও ব্যবসা খাতে দীর্ঘমেয়াদী ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে। বিদ্যুতের ঘন ঘন আসা-যাওয়ার কারণে দৈনন্দিন কাজের কোনো নির্দিষ্ট সময়সূচি রাখা সম্ভব হচ্ছে না। বিশেষ করে রাতে দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় মানুষের দুর্ভোগ আরো বেড়ে
যায়। গোপালগঞ্জবাসী বিদ্যুৎ বিভ্রাটের দৌরাত্ম্য থেকে বাঁচতে গোপালগঞ্জের মাননীয় তিন এমপি মহোদয়ের আশু হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
এ বিষয়ে গোপালগঞ্জ ওয়েস্ট জোন পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেড (ওজোপাডিকো) -এর নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ মাঈন উদ্দিনের সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ হলে তিনি আমাদের প্রতিনিধিকে বলেন, গোপালগঞ্জে প্রায় ১৮ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ এর চাহিদা রয়েছে এর মধ্যে আজ সোমবার (১০ আগস্ট) সকালে জাতীয় গ্রিড থেকে মাত্র সাড়ে ৯ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ আমরা পেয়েছি আবার দুপুরে মাত্র ৯ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ আমরা পেয়েছি। বিদ্যুৎ এমন একটা জিনিস আমরা এখানে তা সংরক্ষণ করে রাখতে পারি না। আমরা যা পাই তা সমস্ত জেলায় বিতরণ করে থাকি। তবে চলমান এইচএসসি ও ডিগ্রী পরীক্ষার কেন্দ্রগুলোতে ও হাসপাতাল সহ গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানে বিদ্যুৎ সরবরাহ নিরবিচ্ছিন্ন রাখতে সর্বাত্মক চেষ্টা করে যাচ্ছি।

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশের সময়: মঙ্গলবার, ১১ আগস্ট, ২০২৬ । ৮:১৩ পূর্বাহ্ণ