ইসলামপুরে সুপেয় পানির প্রকল্পে মেয়াদ শেষ এখনো পানি পাইনি কেউ বিল উত্তোলনের চেষ্টা

মোঃহোসন শাহ্‌ ফকির ইসলামপুর জামালপুর প্রতিনিধিঃ
প্রকাশের সময়: বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল, ২০২৬ । ৩:৪৫ অপরাহ্ণ

​জামালপুরের ইসলামপুর পৌর এলাকায় সুপেয় পানি প্রকল্পে সরবরাহের নামে পৌর প্রকৌশল ও উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। প্রকল্পের নির্ধারিত মেয়াদ শেষ হলেও এখন পর্যন্ত অধিকাংশ পৌরবাসীর পানির সুবিধা পাননি। উল্টো নিম্নমানের কাজ এবং গ্রাহকদের কাছ থেকে টাকা নিয়ে সংযোগ না দেওয়ায় স্থানীয় জনমনে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

ইসলামপুর পৌরসভা সূত্রে জানাযায়, ২০২২-২০২৩ অর্থ বছরে বরাদ্দকৃত ২ হাজার ৪০০ শত পরিবার সুবিধা ভোগীকে সু-পেয় পানি সরবরাহ করার জন্য জনস্বাস্য অধিদপ্তরের মাধ্যমে ইসলামপুর পৌরসভাকে অর্থ বরাদ্দ দেয়। পৌরসভা দরপত্র আহ্বানে কাজ পায় HICC-SRC(JV) প্রকল্প ঠিকাদার। অত্র প্রতিষ্ঠানের নামে বরাদ্দ পায় ৫ কোটি ৪৯ লক্ষ ৯৯ হাজার ৯৯৯ টাকা। নাম মাত্র কাজ দেখায়ে বিল উত্তোলন করেন ৩ কোটি ৮৩ লক্ষ ৮৯ হাজার ৮৩২ টাকা। পৌরসভার সহকারী প্রকৌশলী সিভিল ও উপজেলা জনস্বাস্থ্য অধিদপ্তরে সহকারী প্রকৌশলী কামরুজ্জামান দায়িত্ব প্রাপ্ত কর্মকর্তাদের যোগসাজশে ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানটি সু-পেয় পানির কাজের নামে টাকা হরিলুট করে। কিন্তু ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানটি শর্তানুযায়ী মানসম্মত কাজ না করে অত্যন্ত নিম্নমানের ৪ ইঞ্চির প্লাস্টিক পাইপ দিয়ে ওয়াটার লাইন ও মিটার স্থাপন করেছে। এমনকি চূড়ান্ত বিল উত্তোলনের জন্যও তোড়জোড় চালাচ্ছে প্রতিষ্ঠানটি।

পৌরসভায় বিভিন্ন এলাকায় পানি নাম বলে হয়রানি শিকার এলাকায় যেমন,পাটনিপাড়া,বেপারী পাড়া,দরজী পাড়া,বোয়ালমারী,কুড়িপাড়া,খালে পাড়া,থানা মোড়, নটারকান্দা,ফকিরপাড়া,মাজারবাড়ী,উওর দরিয়াবাদ, দক্ষিন দরিয়াবাদ ও ইসলামপুর ঠাকুরগঞ্জ নিত্য বাজারে আবাসিক এলাকায় গুলোতে কোথায় লাইন আছে পানি নেই আবার পাঁচশত টাকা রসিদ আছে লাইন নেই। এলাকায় ভুক্তভোগী আধা কান্ত বনিক,কৃষ্ণ কান্ত বনিক, ইলিয়াস পাশা,শফিকুল ইসলাম, নজরুল মেলেটারি ও তারা মাষ্টার বক্তব্য বলেন, “পৌরসভা থেকে আমাদের বলা হলো ৫০০ টাকা জমা দিলে দ্রুত বাড়িতে পানির লাইন আসবে। আমরা সাধারণ মানুষ পানির আশায় ধার-দেনা করে টাকা দিয়েছি।

আজ এতদিন হয়ে গেল,পানির কোনো খবর নেই। আমরা কি শুধু টাকা লুটের জন্য দিয়েছি? ​টাকা দিয়েও পানি না পাওয়া জনগণের সঙ্গে প্রতারণার শামিল। আমাদের সাথে এমন প্রতারণা কেন করা হচ্ছে?” ​শারমিন নুরনাহার,মাহফুজা খাতুন ও আয়শা বেগম বক্তব্য বলেন,আমাদের এলাকায় আইরন যুক্ত পানি থাকায়,সুপেয় পানির লাইন দেওয়ার কথা বলে রসিদের মাধ্যমে টাকা আদায় করা হয়েছে। কিন্তু দীর্ঘ সময় পার হলেও সুপেয় পানির দেখা মেলেনি। সুপেয় পানির অভাবে আমাদের অনেক দূর থেকে পানি বয়ে আনতে হয়। আশ্বাস দেওয়া হয়েছিল পাইপ বসলে কষ্ট কমবে। এখন দেখি রাস্তার পর রাস্তা খোঁড়া হয়েছে কিন্তু কল খুললে এক ফোঁটা পানিও বের হয় না।

উল্টো রাস্তার গর্তে কাদা জমে আমাদের চলাচলের কষ্ট বাড়িয়ে দিয়েছে। আমরা সরকারের এই অনিয়মের বিচার চাই। ​অনিয়ম ও নিম্নমানের কাজের বিষয়ে মনিরুজ্জামান বক্তব্য বলেন, “প্রকল্পের মেয়াদ কবে শেষ হয়েছে তার কোনো হদিস নেই। পৌরসভার সহকারী প্রকৌশলী (সিভিল) ও উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল সহযোগিতার ঠিকাদারি লোকজন নামকাওয়াস্তে নিম্নমানের কাজ করে ফেলে রেখেছে। কাজের মান এতই খারাপ যে সংযোগ পাওয়ার আগেই পাইপ নষ্ট হওয়ার দশা। এখানে বড় ধরনের দুর্নীতি হয়েছে বলে আমাদের সন্দেহ। আমরা অবিলম্বে এই প্রকল্পের পূর্ণাঙ্গ তদন্ত এবং জনগণের কষ্টের অবসান চাই।” সুপের পানি নিম্নমানের কাজের হওয়ায় বিষয়ে জানতে চাইলে,উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল কামরুজ্জামান বলেন,প্রকল্পের কাজ চলমান। প্রথম বিলের টাকা ঠিকাদারা উত্তোলন করেছেন।পর্যায়ক্রমে গ্রাহকদের বাড়ির লাইন মেরামত করা হবে।

টাকা নিয়ে লাইন পাইনি এ ব্যাপারে তিনি জানান, এইটা আমার কাজ নয় পৌরসভা বুঝবে। টাকা রশিদ আছে সুপের লাইন নাই; লাইন আছে পানি নাই.? এ ব্যাপারে মোবাইলে ইসলামপুর পৌরসভা সহকারী প্রকৌশলী (সিভিল) মোফাখখারুল ইসলাম জানান,যাহারা লাইন পাননি তাহারা পর্যায়ক্রমে লাইন পাবে। পরিক্ষা মৃলক পানি সরবরাহ করা হচ্ছে। কাজ না করে বিল উত্তোলন এ ব্যাপারে তিনি জানান, আমি যোগদান করার পর থেকে কোন বিল দেওয়া হয়নি। আমার যোগদান করা আগে বিল উত্তোলন করা হয়েছে। তাহারা ভালো জানে কিভাবে বিল দিয়েছে।

এ ব্যাপারে একাধিক বার ঠিকাদার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও তাদের কোন বক্তব্য পাওয়া যায়নি। ​উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর ও পৌরসভা সহকারী সিভিল প্রকৌশলের এই রহস্যজনক নীরবতা এবং গাফিলতিকে স্থানীয়রা কর্তৃপক্ষের চূড়ান্ত ব্যর্থতা হিসেবেই দেখছেন। মোঃ হোসেন শাহ্‌ ফকির ইসলামপুর জামালপুর।

সম্পাদক ও প্রকাশক : শাহ্ বোরহান মেহেদী, নির্বাহী সম্পাদক : গোলাম রাব্বানী অফিস: মেহেদী ভিলা, ঘোড়াশাল, নরসিংদী। ই-মেইল : pannewsbdbm@gmail.com, bmbmmehedi77777@gmail.com মোবাইল: 01715410468, 01865610720.

প্রিন্ট করুন