দিনাজপুরের হিলি স্থলবন্দর এলাকায় ভিক্ষাবৃত্তির আড়ালে নেশাগ্রস্ত কিছু ব্যক্তি ও চক্রের কারণে সাধারণ মানুষকে হেনস্তা করা হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে আসা কিছু অজ্ঞাতনামা নারী-পুরুষ—যাদের মধ্যে নেশাগ্রস্ত যুবক-যুবতী, বৃদ্ধ-বৃদ্ধা এমনকি শিশুসহ পরিবারও রয়েছে—হিলি জিরো পয়েন্ট থেকে শুরু করে বিভিন্ন এলাকায় ভিক্ষার নামে অবস্থান করছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, এদের কেউ শিশুদের ব্যবহার করে, কেউ ধর্মীয় পোশাক (টুপি-পাঞ্জাবি) পরে, আবার কেউ চিকিৎসার নাম করে ওষুধের প্রেসক্রিপশন দেখিয়ে পথচারীদের কাছ থেকে টাকা দাবি করে। এতে সাধারণ মানুষ প্রায়ই বিরক্ত ও বিব্রত হচ্ছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
আরও অভিযোগ রয়েছে, এসব ব্যক্তির মধ্যে অনেকেই নিয়মিত নেশাগ্রস্ত অবস্থায় থাকে এবং ভিক্ষায় পাওয়া টাকা মাদক সেবনে ব্যবহার করে। কিছু ক্ষেত্রে তাদের বিরুদ্ধে আশপাশের বাসাবাড়ি ও দোকানপাটে চুরির অভিযোগও পাওয়া গেছে, যদিও অধিকাংশ ঘটনার সঠিক বিচার বা দৃশ্যমান ব্যবস্থা দেখা যায় না বলে দাবি স্থানীয়দের।
এছাড়া এলাকাবাসীর ভাষ্যমতে, কিছুদিন আগে হিলির চুরিপট্টি এলাকায় মাদকের টাকার জন্য এক নারী তার ২৪ দিনের শিশুকে নির্যাতনের ঘটনাও ঘটেছিল, যা নিয়ে ব্যাপক আলোচনা সৃষ্টি হয়।
স্থানীয়দের অভিযোগ, এ ধরনের নেশাগ্রস্ত ও ভাসমান চক্র দীর্ঘদিন ধরে হিলি এলাকায় অবস্থান করলেও তাদের বিরুদ্ধে নিয়মিত তদারকি ও কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের ঘাটতি রয়েছে। ফলে ধীরে ধীরে এলাকায় নিরাপত্তা ও সামাজিক পরিবেশ নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে।
অনেকে মনে করছেন, এসব চক্রের কারণে হিলির সামাজিক সুনাম ক্ষুণ্ণ হচ্ছে এবং সাধারণ মানুষের চলাফেরায়ও অস্বস্তি তৈরি হচ্ছে।
এ বিষয়ে হাকিমপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (UNO) এর দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন স্থানীয়রা। তাদের দাবি, দ্রুত নজরদারি বৃদ্ধি, মাদকবিরোধী অভিযান জোরদার এবং এসব ভাসমান নেশাগ্রস্ত চক্রকে শনাক্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা জরুরি।
স্থানীয় সচেতন মহলের প্রশ্ন—এটি কি প্রশাসনিক নজরদারির ঘাটতি, নাকি ইচ্ছাকৃতভাবে ধরা-ছোঁয়ার বাইরে থেকে যাচ্ছে এসব মাদক সংশ্লিষ্ট চক্র?

মোঃ জনী শেখ, হিলি, হাকিমপুর (দিনাজপুর)
প্রকাশের সময়: সোমবার, ৬ এপ্রিল, ২০২৬ । ১১:৪৪ পূর্বাহ্ণ