মাথার ওপর পলিথিনের ছাউনি, নিচে মাটির বিছানা। এভাবেই খেয়ে না খেয়ে বছরের পর বছর কাটছে ষাটোর্ধ্ব বৃদ্ধা আলাদিনী রায়ের। ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার গড়েয়া ইউনিয়নের হাড়িপাড়া এলাকায় এক জীর্ণ ঝুপড়ি ঘরে এখন যেন কেবল মৃত্যুর প্রহর গুনছেন এই অসহায় নারী।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মৃত রবীন্দ্র রায়ের স্ত্রী আলাদিনী রায় এক সময় স্বামীকে নিয়ে সুখের সংসার করতেন। কিন্তু কয়েক বছর আগে স্বামীর মৃত্যুর পর তার সাজানো সংসার তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়ে। দুই মেয়ের বিয়ে হয়ে যাওয়ায় বর্তমানে তিনি সম্পূর্ণ একা। বার্ধক্যজনিত কারণে এখন আর আগের মতো কাজ করতে পারেন না, কথা বলতেও পোহাতে হয় বেগ।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, হাড়কাঁপানো শীত কিংবা উতপ্ত রোদ – বৃষ্টি —সব ঋতুতেই পলিথিনে মোড়ানো ভাঙাচোরা ঘরটিই তার একমাত্র ভরসা। ঘরের এক কোণে মাটিতে চাদর বিছিয়ে তৈরি করেছেন বিছানা। সেখানে শুয়েই কাটে নির্ঘুম রাত। মানুষের দেওয়া সামান্য দান-দক্ষিণায় কোনোমতে পেটে দানাপানি জোটে তার।
আক্ষেপ করে বৃদ্ধা আলাদিনী বলেন, “স্বামী মারা যাওয়ার পর থেকে অনেক কষ্টে আছি। সরকার যদি একটা থাকার জায়গা করে দিত, তবে শেষ জীবনে একটু শান্তিতে মরতে পারতাম।”
প্রতিবেশী রুকসানা বেগম বলেন, “আলাদিনী রায় দীর্ঘ দিন ধরে মানবেতর জীবন যাপন করছেন। ময়লা-আবর্জনার মধ্যে ঝুপড়ি ঘরে তিনি থাকেন। আমরা মাঝেমধ্যে টুকটাক সাহায্য করি, কিন্তু তা দিয়ে সংসার চলে না। তার জন্য স্থায়ী সরকারি সহযোগিতা প্রয়োজন।”
এ বিষয়ে গড়েয়া ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান বেলাল হোসেন রেনু বলেন, “বিষয়টি আমাদের নজরে এসেছে। আমরা দ্রুতই ওই বৃদ্ধার খোঁজ নিয়ে তাকে জরুরি সহায়তা প্রদান করব। এ ছাড়া সরকারি আবাসন প্রকল্পের আওতায় তাকে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে একটি ঘর দেওয়ার ব্যবস্থা করা হবে।”
শেষ বয়সে একটু নিরাপদ আশ্রয়ের আশায় এখন প্রশাসনের হস্তক্ষেপের প্রহর গুনছেন অসহায় আলাদিনী।

এম এ সালাম রুবেল স্টাফ রিপোর্টারঃ
প্রকাশের সময়: সোমবার, ৯ মার্চ, ২০২৬ । ১:১৮ অপরাহ্ণ