মুঃ সোহরাব আলী সরকার, কালীগঞ্জ (গাজীপুর) প্রতিনিধিঃ ভেষজ গুণে ভরপুর আমলকী। কালীগঞ্জে আমলকীর বাম্পার ফলনে কৃষকের মুখে হাসি ফুটে উঠেছে। অর্থনৈতিক সম্ভাবনা দ্বার খুলেছে আমলকী চাষে এবং বাজারেও রয়েছে এর ব্যাপক চাহিদা। এ অঞ্চলের গ্রামীণ এলাকায় শীতের আগেই বাজারে আমলকীর সমাহার। ভেষজ গুণ ও ঔষুধিগুন সমৃদ্ধের কারণে সাম্প্রতিক সময়ে আমলকীর চাহিদা বেড়েছে কয়েকগুণ।
উপজেলার স্থানীয় হাট-বাজারে কাঁচা আমলকী ছাড়াও শুকনো আমলকী, আচার, মোরব্বা ও গুঁড়া আকারেও বিক্রি হচ্ছে। বাজারগুলোতে প্রতি কেজি কাঁচা আমলকী ১৫০ থেকে ২০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। শুকনো আমলকীর দাম আরোও বেশী। ভেষজ কোম্পানিগুলো পাইকারি হারে গ্রামাঞ্চল থেকে আমলকী সংগ্রহ করছে। উপজেলার উত্তরাঞ্চলে প্রায় ৩০ বিঘা জমিতে আমলকীর চাষ হয়েছে।
সরেজমিনে উপজেলার জাঙ্গালিয়া ইউনিয়নের দেওতলা গ্রামের আমলকী ফল বাগানের স্বত্তাধিকারী সেবক পাল জানান, তার ৫ বিঘা জমিতে ২ শত আমলকী গাছ রয়েছে। এবার বাম্পার ফলন ও বাজারে দাম ভাল পাওয়ায় এবছর প্রায় ১০ লাখ টাকা বিক্রি হয়েছে। সামান্য যত্ন নিলেই ভালো ফলন পাওয়া যায়। সরকার যদি সংরক্ষণ ও বিপণনে সহায়তা করলে কৃষকরা আরও লাভবান হতো।
উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণের উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা মো. সাইদুর রহমান বলেন, এ অঞ্চলে বর্তমানে ব্যাপক হারে আমলকীর চাষ হচ্ছে। গাছে তেমন পরিচর্যা দিতে হয় না। আমলকীর উৎপাদন ও আবাদ বাড়াতে কৃষকদের উদ্বুদ্ধ করা এবং সঠিক পরিচর্যা সম্পর্কে পরামর্শ দিয়ে যাচ্ছি।
শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সহযোগী অধ্যাপক ডাক্তার মুস্তাক হোসেন এক সাক্ষাতকারে প্রতিবেদককে বলেন, আমলকীতে ভিটামিন সি, অ্যান্টিঅক্সিডেন্টসহ প্রচুর পরিমাণে লৌহ ও খনিজ পদার্থ রয়েছে। এটি হজমে সহায়ক, শরিরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায় এবং ত্বক ও চুলের জন্যও উপকারী।
গাজীপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. রফিকুল ইসলাম খান মুঠোফোনে প্রতিবেদককে বলেন, আমলকী একটি লাভজনক ফসল। রোগবালাইয়ের আক্রমণ কম তাই গাছে তেমন পরিচর্যা করতে হয় না। সংরক্ষণ ও বিপণন ব্যবস্থার উন্নতি হলে আমলকী জাতীয়ভাবে রপ্তানি উপযোগী একটি সম্ভাবনাময় কৃষিপণ্য হয়ে উঠতে পারে। কৃষি বিভাগের মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তারা কৃষকদের আমলকী চাষ সম্প্রসারণে উদ্বুদ্ধকরণ ও সঠিক পরিচর্যা সম্পর্কে পরামর্শ দিয়ে যাচ্ছেন।

পাবলিক বাংলা :
প্রকাশের সময়: শুক্রবার, ১০ অক্টোবর, ২০২৫ । ৭:৪৭ অপরাহ্ণ