কালীগঞ্জে শিল্প কারখানার বর্জ্যে ধ্বংস হচ্ছে কৃষি জমি, কৃষকের মাথায় হাত

Kaligonj
প্রকাশের সময়: রবিবার, ২০ এপ্রিল, ২০২৫ । ১০:৩৫ অপরাহ্ণ

মুঃ সোহরাব আলী সরকার, কালীগঞ্জ (গাজীপুর) প্রতিনিধিঃ গাজীপুরের কালীগঞ্জে কলকাখানার বিষাক্ত বর্জ্য প্রথমে খালে পরে ধানের জমিতে, কৃষি জমির ফসল নষ্ট হওয়া, দেশীয় জাতের মাছ ধ্বংশ ও প্রজনন নষ্ট হওয়া, পরিবেশের বৈচিত্র নষ্ট হওয়া ও জলজ প্রাণী মরে যাওয়াসহ প্রাকৃতিক বিপর্যয় নেমে এসেছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, উপজেলার জাঙ্গালিয়া ইউনিয়নের নরুন গ্রামের পাশ দিয়ে বয়েচলা পারুলি খাল বা পাঠামারা খাল নামে পরিচিত এর পানি বর্জ্যের কারনে বিষাক্ত হয়ে গেছে। পানির অত্যাধিক দূষণে মাছ ও অন্যান্য জলজ প্রাণীর বেঁচে থাকা অসম্ভব হয়ে পড়েছে। মাছশূন্য হয়ে পড়েছে এলাকার জলাশয়গুলো। নষ্ট হচ্ছে জমির ঊর্বরতা, চাষের অযোগ্য হয়ে পড়েছে কৃষি জমি।
স্থানীয় কৃষক মো. ইলিয়াছ ও মো. মোজাম্মেল প্রতিবেদককে জানায়, গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার বিভিন্ন স্থানে গড়ে উঠা শিল্প কারখানার বর্জ্য,ভারি ধাতু মিশ্রিত কেমিক্যাল মিশ্রিত পানি ও বর্জ্য, হাসপাতালের বর্জ্য, বিভিন্ন প্রাণির মরদেহ ও মনুষ্য বর্জ্য বিভিন্ন খাল হয়ে পারুলি খালের পানিতে এসে পতিত হচ্ছে। সেই বিষাক্ত পানি পারুলি খাল হয়ে দেশের অন্যতম দেশীয় মাছের অভয়ারণ্য বেলাই বিলের পানিতে দূষণ ছড়াচ্ছে।
অপর স্থানীয় কৃষক মো. জাকারিয়া জানায়, বিষাক্ত পানি জমিতে সেচ দিলে জমির মাটি বিষাক্ত হয়ে যায়, ক্ষতিগ্রস্থ হয় খালের আশপাশের কৃষি জমি উর্বরতা হারচ্ছে এবং ফসল উৎপাদন ব্যহত হচ্ছে। প্রাণী নিঃশ্বাস নিতে পারছেনা, দূষিত পানি ব্যবহারে কৃষি উৎপাদন কম হচ্ছে, কৃষকের স্বাস্থ্য সুরক্ষা ব্যহত হচ্ছে,খালের আশেপাশের লোকজনের শরীরে চুলকানি ও চর্মরোগে আক্রান্ত হওয়াসহ প্রকৃতির পরিবেশে দূর্গন্ধ ছড়াচ্ছে। মানুষ আর খালের পানিতে নামতে পারছে না।
ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী স্থানীয় নরুন এলাকার বাসিন্দা ইব্রাহীম খলিল বলেন ভারি ধাতু মিশ্রিত পানি কৃষকের ফসলের মাধ্যমে মানুষের শরীরে পৌঁছে যাচ্ছে। অধিকাংশ শিল্পকারখানায় (ইটিপি) বা তরল বর্জ্য শোধনাগার নেই। তাই সরকারী ভাবে শিল্প কারখানায় সেন্ট্রাল ইটিপি স্থাপন করে দূষন রোধ করা সম্ভব।
এ ব্যাপারে জানতে চাইলে উপজেলা নির্বাহী অফিসার তনিমা আফ্রাদ প্রতিবেদককে জানান, শিল্প কারখানার বর্জ্যের কারনে কৃষি জমি ধংসের বিষয়টি জেলা প্রশাসক স্যারের মাসিক সমন্বয় সভায় অবহিত করা হবে। পরিবেশ রক্ষা করা জনস্বার্থে বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কলকারখানাকে পরিবেশ রক্ষায় ইটিপি প্লান্ট চালু রাখতে বাধ্য করতে হবে।
পরিবেশ অধিদপ্তরের গাজীপুর জেলার উপপরিচালক আরেফিন বাদল মুঠোফোনে বলেন, কলকারখানার বর্জ্যে কৃষি কাজ ব্যহত হচ্ছে এবং পারবেশ দূষনের বিষয়টি আপনার মাধ্যমে জানতে পেরেছি। পরিবেশ দুষন রোধে অধিদপ্তরের একটি পর্যবেক্ষণকারী দল ঘটনাস্থলে শীঘ্রই পাঠানো হবে এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।
গাজীপুরের জেলা প্রশাসক নাফিসা আরেফীনের সাথে মুঠোফোনে একাধিকবার ফোন করেও কথা বলা সম্ভব হয়নি। পরে ক্ষুদে বার্তা পাঠানো হয়।

সম্পাদক ও প্রকাশক : শাহ্ বোরহান মেহেদী, নির্বাহী সম্পাদক : গোলাম রাব্বানী অফিস: মেহেদী ভিলা, ঘোড়াশাল, নরসিংদী। ই-মেইল : pannewsbdbm@gmail.com, bmbmmehedi77777@gmail.com মোবাইল: 01715410468, 01865610720.

প্রিন্ট করুন