লালমনিরহাটকে একটি পূর্ণাঙ্গ কৃষি জেলা এবং দেশের ভুট্টার রাজধানী হিসেবে গড়ে তোলার ঘোষণা দিয়েছেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু। তিনি বলেছেন, গত এক দশকে জেলায় ভুট্টা চাষে যে বিপ্লব ঘটেছে, সেটিকে আরও এগিয়ে নিতে উৎপাদনের পাশাপাশি প্রক্রিয়াজাতকরণ, বাজারজাতকরণ ও ব্র্যান্ডিংয়ের ওপর গুরুত্ব দিতে হবে। লালমনিরহাটের ভুট্টাকে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে পরিচিত করে তুলতে হবে।
শুক্রবার বিকেলে লালমনিরহাট জেলা শহরের প্রাণকেন্দ্র মিশন মোড়সংলগ্ন এলাকায় ‘ভুট্টা চত্বর-এর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।
ত্রাণমন্ত্রী বলেন, ভুট্টায় ভরা সবার ঘর, লালমনিরহাট স্বনির্ভর,এ স্লোগানকে এখন থেকে জেলার মানুষকে ধারণ করতে হবে। লালমনিরহাটকে একটি পূর্ণাঙ্গ কৃষি জেলা হিসেবে গড়ে তোলা এবং দেশের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক অঙ্গনে জেলার কৃষি ও কৃষিপণ্যকে তুলে ধরার অংশ হিসেবেই জেলা শহরে ভুট্টাকে কেন্দ্র করে ‘ভুট্টা চত্বর নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, ভুট্টা এখন আর শুধু একটি মৌসুমি ফসল নয়; এটি লালমনিরহাটের গ্রামীণ অর্থনীতির অন্যতম চালিকাশক্তিতে পরিণত হয়েছে। তিস্তা ও ধরলা নদীর চরাঞ্চলসহ জেলার বিভিন্ন এলাকার উর্বর জমিতে ভুট্টা চাষ দিন দিন জনপ্রিয় হচ্ছে। বিপুলসংখ্যক প্রান্তিক ও বর্গাচাষি ভুট্টা চাষ করে আর্থিকভাবে লাভবান হচ্ছেন। উৎপাদন, মাড়াই, শুকানো ও সংরক্ষণের সঙ্গে গ্রামীণ নারীরাও যুক্ত হচ্ছেন।
মন্ত্রী বলেন, কৃষকের উৎপাদিত ভুট্টার ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করতে শুধু উৎপাদন বাড়ালেই হবে না, আধুনিক সংরক্ষণ, প্রক্রিয়াজাতকরণ ও বাজারজাতকরণ ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে। এ জন্য বহুমুখী উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। ভুট্টার গুণগত মান ও উৎপাদন সম্ভাবনাকে কাজে লাগিয়ে এটিকে জিআই পণ্য হিসেবে ব্র্যান্ডিং করা গেলে দেশের বাজারে এর মূল্য আরও বাড়ার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বাজারেও পরিচিতি তৈরি হবে।
‘ভুট্টা চত্বর’ প্রসঙ্গে আসাদুল হাবিব দুলু বলেন, এটি শুধু একটি স্মারক বা সৌন্দর্যবর্ধনমূলক স্থাপনা হবে না। এটি লালমনিরহাটের কৃষি, ভুট্টা চাষ ও কৃষকের সাফল্যকে তুলে ধরার একটি প্রতীক হিসেবেও কাজ করবে। নির্মাণকাজ শেষ হলে চত্বরটি সবার জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হবে।

রিয়াজুল হক সাগর, রংপুর।
প্রকাশের সময়: শুক্রবার, ২ অক্টোবর, ২০২৬ । ১১:১৪ অপরাহ্ণ