মোঃ হোসেন শাহ্ ফকির ইসলামপুর (জামালপুর) প্রতিনিধি : জামালপুরের ইসলামপুরে প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে বিদ্যালয়ের ইন্টারনেট খরচের ১০ লাখ টাকা তছরূপের অভিযোগ উঠেছে। তবে কর্মকর্তাদের দাবি, বিষয়টি সমাধান হয়ে গেছে।
উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কার্যালয় এবং স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে উপজেলার ৯৬টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ইন্টারনেট খরচ বাবদ গত জুন মাসে প্রতিটি বিদ্যালয়ের জন্য সাড়ে ১০ হাজার করে টাকা বরাদ্দ আসে। সেই টাকা জুন মাসে সংশ্লিষ্ট প্রধান শিক্ষকেরা ব্যাংক থেকে উত্তোলন করেন। এরপর প্রধান শিক্ষকদের কাছ থেকে জুলাই মাসে সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়ার কথা বলে সংশ্লিষ্ট গুচ্ছের তিনজন সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তার মাধ্যমে ওই টাকা ফেরত নেওয়া হয়। কিন্তু সেই টাকা সরকারি কোষাগারে ফেরত না দিয়ে উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা ও সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তারা নিজেদের পকেটে রেখে দেন। বিষয়টি জানাজানি হলে ক্ষুদ্ধ শিক্ষকরা নানা মহলে অভিযোগ তোলেন। পাশাপাশি স্থানীয় সংসদ সদস্য সুলতান মাহমুদ বাবুর কাছেও বিচার প্রার্থী হন তাঁরা।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ৯৬টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে মাত্র ১৮ থেকে ২০টিতে ইন্টারনেট সংযোগ রয়েছে। বাকিগুলোত সংযোগ নেওয়ার চেষ্টা চলছে বলে দাবি করেছেন সংশ্লিষ্ট বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকরা।
মরাকান্দি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নাজমুন্নাহার বলেন, প্রতিটি বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষককে সাড়ে ১০ হাজার টাকা দেওয়া হয়েছিল। সরকারের রাজস্ব খাতে সেই টাকা জমা দেওয়ার কথা বলে সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা আব্দুল হামিদ তাঁর গুচ্ছের সব প্রতিষ্ঠানের পুরো টাকা ফেরত নিয়েছেন।
পূর্বকান্দারচর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আব্দুর রাজ্জাক বলেন, প্রতি মাসে বিদ্যালয়ে ইন্টারনেট বাবদ এক হাজার টাকা খরচ হয়। গত জুনের শেষ দিকে ইন্টারনেট খরচ বাবদ আমাকে সাড়ে ১০ হাজার টাকা দেওয়া হয়। কিন্তু গত ১১ জুলাই সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা হারুন-অর-রশীদ রাজস্ব খাতে জমা দেওয়ার কথা বলে সেই টাকা ফেরত নেন।
ঘোনাপাড়া প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রুহুল আমীন, আলাই পূর্বপাড়ার প্রধান শিক্ষক আনোয়ার হোসেন এবং ধনতলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মাইনুল হক বলেন, সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা দীপা রাণী গোপ সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়ার কথা বলে তাঁদের কাছে টাকা করে ফেরত নিয়েছেন।
বাংলাদেশ প্রাথমিক সহকারী শিক্ষক সমাজের ইসলামপুর উপজেলা শাখার সভাপতি সৈয়দ মাসুদুর রহমান রাজা বলেন, আইএসপি নামে একটি বেসরকারি সংস্থাকে ইন্টারনেট সংযোগের কাজটি বাস্তবায়নের দায়িত্ব দেওয়া হয়। গত জুলাই মাসে সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তাদের মাধ্যমে টাকা ফেরত নেন উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা জাহানারা খাতুন।
সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা দীপা রাণী গোপ এবং আব্দুল হামিদ বলেন, অভিযোগের সত্যতা নেই। আমরা টাকা ফেরত নিইনি।
সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা (এটিইও) হারুন-অর-রশীদ বলেন, টাকা উত্তোলনের পর শিক্ষকেরাই কোনো এক শিক্ষকের কাছে জমা রেখে সুযোগ মতো ইন্টারনেটের বিল পরিশোধ করতে চেয়েছিলো। অভিযোগ ভিত্তিহীন।
উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা জাহানারা খাতুন বলেন, টাকা তছরূপের ঘটনা ঘটেনি। মূলত ইন্টারনেট বিতরণকারীদের সঙ্গে শিক্ষকদের ভুল বোঝাবুঝি হয়েছিলো। বিষয়টি সমাধান হয়েছে। সংশ্লিষ্ট শিক্ষকদের হাতে টাকা দেওয়া হয়েছে।

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশের সময়: শনিবার, ৮ আগস্ট, ২০২৬ । ২:০৬ অপরাহ্ণ