মোঃ হোসেন শাহ্ ফকির ইসলামপুর (জামালপুর) প্রতিনিধি : জামালপুরের ইসলামপুরে আব্দুল লতিফ মিয়া নামে এক সরকারি কর্মচারীকে মারধরের ঘটনার বিষয় আইনশৃঙ্খলা বৈঠকে উত্থাপন করা হয়েছে।
বুধবার (২৯ জুলাই) দুপুরে উপজেলা পরিষদ সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত আইনশৃঙ্খলা বৈঠকে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শাহ্ মো. জুবায়ের। এসময় তিনি ভবিষ্যতে এই ধরনের কাজ না করতে অভিযুক্ত উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক হামিদুর রহমান মলিনকে সতর্ক করেন।
এসময় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. রেজোয়ান ইফতেকার, উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কর্মকর্তা ডাক্তার এএএম আবু তাহের, প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডাক্তার মো. আব্দুল আলিম, থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মিজানুর রহমান এবং উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক নুরুল ইসলাম নবাব।
উল্লেখ্য, মঙ্গলবার বিকেলে ইউএনওর দপ্তরে উপজেলা পরিষদের সাঁট-মুদ্রাক্ষরিক ও প্রশাসকের (সিএ-টু) কক্ষে মারধরের শিকার হন উপজেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের উচ্চমান সহকারী ও উপজেলা সরকারি কর্মচারী কল্যাণ পরিষদের সভাপতি আব্দুল লতিফ মিয়া।
অভিযোগ উঠে, সমাজসেবা অধিদপ্তরের আওতাধীন বেনুয়ারচর আব্দুল মালেক মণ্ডল এতিমখানার পরিচালনা কমিটিসংক্রান্ত বিষয়ে স্থানীয় দুই পক্ষের মধ্যে বিরোধ চলে আসছে। এরই জেরে একপক্ষ উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক হামিদুর রহমান মলিনের নেতৃত্বে আব্দুল লতিফ মিয়াকে মারধর করে। খবর পেয়ে পাশে অবস্থান করা আনসার সদস্য এবং সরকারি কর্মচারীরা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আইনেন।
অনুষ্ঠিত উপজেলা আইনশৃঙ্খলা মাসিক বৈঠকে সভাপতির বক্তব্যে ইউএনও শাহ্ মো. জুবায়ের বলেন, ‘অত্যন্ত দুঃখের সঙ্গে জানাচ্ছি যে, আমার দপ্তরের আমার অনুপস্থিতিতে একটি অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা সংঘটিত হয়েছে। ইউএনওর দপ্তরে অনাকাঙ্ক্ষিত কোনো ঘটনা সংঘটিত হলে; সেটা কিন্তু রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ পর্যায়ে চলে যায়। আপনারা হয়তো ভাবতে পারেন ইউএনও আপনাদের সাথে বসে আছেন। আমি ব্যক্তি ছোট হতে পারি। বয়সেও আপনাদের চেয়ে ছোট হতে পারি। আমার যে চেয়ার; এটাতে আমি কিন্তু রাষ্ট্রকে রিপ্রেজেন্ট করি উপজেলা পর্যায়ে। জেলা প্রশাসক রাষ্ট্রকে রিপ্রেজেন্ট করেন জেলা পর্যায়ে। ব্যাপারটা তো তাই। তাঁর দপ্তরে যখন কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটে, সেটা কিন্তু আসলে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পর্যন্ত গুরুত্ব পোঁছে দেয়।’
মারধরের ঘটনাকে ইঙ্গিত করে ইউএনও বলেন, ‘আমার ডিসি স্যারকে জানাতে হয়। ডিসি স্যার আমাকে ফোন দিয়েছেন। কমিশনার স্যার আমাকে ফোন দিয়েছেন। পরবর্তীতে আমার সাথে এমপি স্যারের কথা হয়েছে তিন থেকে চারবার। আমার সাথে পিএম অফিসেও কথা হয়েছে।’
বৈঠকে উপস্থিত সরকারি-বেসরকারি কর্মকর্তা ও রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দকে উদ্দেশে ইউএনও আরও বলেন, ‘আপনি চিন্তা করেন, কত জায়গায় এই বিষয়টা চলে যায়। এটা সিম্পল ঘটনা। হয়তো আপনাদের কাছে মনে পারে; এতো ছোট একটা বিষয়। যখন যা হয়ে যায়, উপজেলা পর্যায়ে তখন সেটা সর্বোচ্চ পর্যায়ে চলে যায়।’
এসময় দাঁড়িয়ে কিছু একটা বলার চেষ্টা করলে অভিযুক্ত যুবদল নেতা হামিদুর রহমান মলিনকে থামিয়ে দেন দেন। পরে ইউএনও ভবিষ্যতে যাতে এই ধরনের হীনকাজ না করতে সতর্ক করেন।
ইউএনও শাহ্ মো. জুবায়ের আজকের পত্রিকাকে বলেন, ‘আমার দপ্তরে যে অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটেছে; সেটার বিষয় আইনশৃঙ্খলা বৈঠকে আলোচনা করা হয়েছে। ভবিষ্যতে কেউ এই ধরনের হীনকাজ সংগঠিত করলে; সর্বোচ্চ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘ভুক্তভোগীর পক্ষে লিখিত অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
ভুক্তভোগী আব্দুল লতিফ মিয়া বলেন, ‘এখনো লিখিত অভিযোগ করিনি। তবে অভিযোগ করার বিষয়ে আলোচনা চলছে।’

হোসেন শাহ্ ফকির
প্রকাশের সময়: বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই, ২০২৬ । ৯:১৩ অপরাহ্ণ