কারিতাসের মহিপুড়ে আন্ধারমানিক প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের উদ্বোধন

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশের সময়: বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই, ২০২৬ । ১০:০৩ পূর্বাহ্ণ

কারিতাস বরিশাল অঞ্চলের এলসিএমও-আইডিপিডিসি প্রকল্পের উদ্যোগে মহিপুর আন্ধারমানিক প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের উদ্বোধন এবং আদিবাসী ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর অধিকার, সামাজিক অন্তর্ভুক্তি ও সরকারি সেবায় প্রবেশাধিকার নিশ্চিতকরণে দুটি সচেতনতামূলক সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বুধবার (২২ জুলাই) সকালে কলাপাড়ার মহিপুর কারিতাস কার্যালয়ে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন কারিতাস বরিশাল অঞ্চলের আঞ্চলিক পরিচালক মি. ফ্রান্সিস বেপারী। বিশেষ অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ আদিবাসী ফোরাম (বৃহত্তর বরিশাল অঞ্চল)-এর সভাপতি মি. মং চোখিন তালুকদার। সম্মানিত অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন কারিতাস বরিশাল অঞ্চলের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিভাগের কর্মসূচি কর্মকর্তা মি. সম্রাট সিরাও, মানবাধিকারকর্মী ও উপকূল পরিবেশ রক্ষার আন্দোলনের যুগ্ম আহ্বায়ক আবুল হোসেন (রাজু) এবং ট্যুর অপারেটর অ্যাসোসিয়েশন অব কুয়াকাটা (টোয়াক)-এর সাধারণ সম্পাদক ও মিডিয়া ব্যক্তিত্ব আসাদুজ্জামান মিরাজ।
এলসিএমও-আইডিপিডিসি প্রকল্পের মি. মংম্যার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভার শুরুতে সর্বজনীন প্রার্থনা পরিচালনা করেন মি. বেনজামিন স্বপন গোমেজ। পরে স্বাগত বক্তব্য দেন সভাপতি।
সভায় বক্তারা বলেন, আদিবাসী ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর প্রতি নেতিবাচক সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গি ও বৈষম্যমূলক আচরণ দূর করতে সরকারি কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধি, সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠান এবং স্থানীয় জনগণের সম্মিলিত উদ্যোগ জরুরি। পাশাপাশি শিক্ষা, স্বাস্থ্য, সামাজিক নিরাপত্তা এবং বিভিন্ন সরকারি সেবায় তাদের সমঅধিকার ও সহজ প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করতে হবে।
রাখাইন সম্প্রদায়ের প্রতিনিধি ও কালাচানপাড়া রাখাইন পল্লীর মাতুব্বর মি. অংকোছান স্থানীয় আদিবাসী জনগোষ্ঠীর বিভিন্ন সমস্যা ও সম্ভাবনার কথা তুলে ধরে শিক্ষা, স্বাস্থ্য এবং সরকারি সেবায় তাদের সমঅধিকার নিশ্চিত করার আহ্বান জানান।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে কারিতাস বরিশাল অঞ্চলের আঞ্চলিক পরিচালক মি. ফ্রান্সিস বেপারী বলেন, কারিতাস দীর্ঘদিন ধরে আদিবাসী ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর অধিকার প্রতিষ্ঠা, সামাজিক অন্তর্ভুক্তি এবং টেকসই উন্নয়নে কাজ করে যাচ্ছে। মহিপুর আন্ধারমানিক প্রশিক্ষণ কেন্দ্র স্থানীয় জনগণের দক্ষতা উন্নয়ন, সচেতনতা বৃদ্ধি ও মানবসম্পদ বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। তিনি বলেন, সমাজের পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়নে সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, জনপ্রতিনিধি এবং সকল অংশীজনকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে।
বিশেষ অতিথি মি. মং চোখিন তালুকদার বলেন, আদিবাসী জনগোষ্ঠীর সাংবিধানিক ও মানবাধিকার নিশ্চিত করতে বৈষম্যমুক্ত সামাজিক পরিবেশ গড়ে তুলতে হবে। শিক্ষা, স্বাস্থ্য, সামাজিক নিরাপত্তা এবং সরকারি সেবায় সমঅধিকার নিশ্চিত করতে সরকার, উন্নয়ন সংস্থা ও সমাজের সব শ্রেণি-পেশার মানুষের সম্মিলিত উদ্যোগ প্রয়োজন।
কারিতাস বরিশাল অঞ্চলের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিভাগের কর্মসূচি কর্মকর্তা মি. সম্রাট সিরাও বলেন, উপকূলীয় অঞ্চলের আদিবাসী ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠী নানা ধরনের দুর্যোগ ও ঝুঁকির মধ্যে বসবাস করে। তাদের জন্য সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচি, সরকারি সেবা এবং দুর্যোগ-সহনশীল উন্নয়ন কার্যক্রমে সহজ প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করা সময়ের দাবি।
মানবাধিকারকর্মী ও উপকূল পরিবেশ রক্ষার আন্দোলনের যুগ্ম আহ্বায়ক আবুল হোসেন (রাজু) বলেন, মানবাধিকার প্রতিষ্ঠার পূর্বশর্ত হলো বৈষম্য দূর করা। আদিবাসী ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর প্রতি নেতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি পরিবর্তনের পাশাপাশি তাদের অধিকার রক্ষায় স্থানীয় পর্যায়ে সামাজিক সচেতনতা ও জনসম্পৃক্ততা আরও বাড়াতে হবে।
ট্যুর অপারেটর অ্যাসোসিয়েশন অব কুয়াকাটা (টোয়াক)-এর সাধারণ সম্পাদক ও মিডিয়া ব্যক্তিত্ব আসাদুজ্জামান মিরাজ বলেন, গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ইতিবাচক সামাজিক পরিবর্তনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। আদিবাসী ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর সংস্কৃতি, অধিকার ও সম্ভাবনাকে তুলে ধরতে সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।
###
মেহেদী হাসান সোহাগ
কলাপাড়া,কুয়াকাটা প্রতিনিধি

সম্পাদক ও প্রকাশক : শাহ্ বোরহান মেহেদী, নির্বাহী সম্পাদক : গোলাম রাব্বানী অফিস: মেহেদী ভিলা, ঘোড়াশাল, নরসিংদী। ই-মেইল : pannewsbdbm@gmail.com, bmbmmehedi77777@gmail.com মোবাইল: 01715410468, 01865610720.

প্রিন্ট করুন