লালমনিরহাটের হাতীবান্ধা উপজেলার বড়খাতা ইউনিয়নের পূর্ব সারডুবী এলাকার বাসিন্দা মোরশেদ আলম একজন ব্যাটারিচালিত ভ্যানচালক। দীর্ঘদিন ধরে ভ্যান চালিয়ে উপার্জিত আয়েই চলছিল তার ছয় সদস্যের পরিবারের জীবিকা। কিন্তু একটি ভ্যান চুরির ঘটনায় আজ তিনি ও তার পরিবার চরম দুর্দশার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন।
জানা যায়, গত ২০ জুন রাত প্রায় ১০টার দিকে উপজেলার মিলন বাজার এলাকায় নিজের ব্যাটারিচালিত ভ্যানটি রেখে দিনের ভাড়ার টাকা তুলতে যান মোরশেদ আলম। কিছুক্ষণ পর ফিরে এসে দেখেন, অজ্ঞাত ব্যক্তি তার একমাত্র উপার্জনের মাধ্যম ভ্যানগাড়িটি চুরি করে নিয়ে গেছে। ভ্যানটি খুঁজে পেতে তিনি বাজারের বিভিন্ন স্থান ও আশপাশের এলাকায় খোঁজাখুঁজি করলেও কোনো সন্ধান পাননি। এতে তিনি মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন এবং পরিবার নিয়ে অনিশ্চয়তার মুখে পড়েন।
সরেজমিনে মোরশেদ আলমের বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, ভাঙাচোরা ও জরাজীর্ণ একটি ঘরে মা, স্ত্রী ও সন্তানদের নিয়ে বসবাস করছেন তিনি। ঘরের পাশাপাশি রান্নাঘরের অবস্থাও অত্যন্ত নাজুক। ভাঙা টিনের বেড়া ও ঝুঁকিপূর্ণ পরিবেশে মানবেতর জীবনযাপন করছে পরিবারটি।
উপার্জনের একমাত্র অবলম্বন হারিয়ে বর্তমানে ধারদেনা করে সংসার চালাতে হচ্ছে মোরশেদ আলমকে। পরিবার-পরিজনের মুখে দুমুঠো খাবার তুলে দিতেও হিমশিম খেতে হচ্ছে তার।
মোরশেদ আলমের প্রত্যাশা, এলাকার সংসদ সদস্য, উপজেলা প্রশাসন ও সমাজের বিত্তবান ব্যক্তিরা তার দুর্দশার কথা বিবেচনা করে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেবেন। একটি ব্যাটারিচালিত ভ্যান পেলে তিনি পুনরায় কর্মে ফিরতে পারবেন এবং পরিবারের জীবিকা নির্বাহের পথ সুগম হবে।
স্থানীয় ইউপি সদস্য আতিয়ার রহমান বলেন, “মোরশেদ আলম অত্যন্ত দরিদ্র একজন মানুষ। ভ্যান চালিয়েই তার সংসার চলতো। ভ্যানটি চুরি হওয়ার পর তিনি কর্মহীন হয়ে পড়েছেন। সমাজের বিত্তবান ব্যক্তি ও প্রশাসনের কাছে তার জন্য একটি ভ্যানের ব্যবস্থা করার অনুরোধ জানাচ্ছি।”
স্থানীয়দের দাবি, অসহায় এই পরিবারের পাশে সরকার, জনপ্রতিনিধি ও সমাজের সামর্থ্যবান ব্যক্তিরা এগিয়ে এলে মোরশেদ আলম আবারও স্বাবলম্বী হয়ে উঠতে পারবেন।

সিরাজুল ইসলাম-লালমনিরহাট।
প্রকাশের সময়: বুধবার, ২৪ জুন, ২০২৬ । ১১:২৯ অপরাহ্ণ