হাতীবান্ধায় অতিরিক্ত টোল আদায়ের ভিডিও করায় দুই সাংবাদিকের উপর হামলা; অভিযুক্ত বিএনপি নেতা

সিরাজুল ইসলাম-লালমনিরহাট।
প্রকাশের সময়: শুক্রবার, ১ মে, ২০২৬ । ৮:৫২ অপরাহ্ণ

 

লালমনিরহাটের হাতীবান্ধা উপজেলার দইখাওয়া হাটে অতিরিক্ত টোল আদায়ের সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে দুই সাংবাদিক বর্বরোচিত হামলার শিকার হয়েছেন।

শুক্রবার (১ মে) বিকেলে এ হামলার ঘটনা ঘটে।  এসময় হামলাকারীরা সাংবাদিকদের মারধর করে তাদের ব্যবহৃত মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেয় বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। হামলার শিকার সাংবাদিকরা হলেন, মানবকন্ঠের লালমনিরহাট প্রতিনিধি আসাদুজ্জামান সাজু ও আনন্দ টিভির প্রতিনিধি আব্দুর রহিম।

স্থানীয় সূত্র জানায়, হাটে অতিরিক্ত টোল আদায়ের বিষয়ে ভিডিও ধারণ করতে গেলে গোতামারী ইউনিয়ন বিএনপির আহ্বায়ক নুর ইসলাম এবং ওই ইউনিয়নের সাবেক ছাত্রদল সম্পাদক মজিবর একদল লোক নিয়ে সাংবাদিকদের ওপর চড়াও হন। অতিরিক্ত টোল নিয়ে প্রশ্ন করায় সাংবাদিক আসাদুজ্জামান সাজুর হাতে থাকা মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নিয়ে প্রহার করেন। এ ঘটনার ভিডিও ধারণের
চেষ্টা করলে সাংবাদিক আব্দুর রহিমের উপরেও চড়াও হাট কর্তৃপক্ষ। পরে ছিনিয়ে নেওয়া মোবাইল ফেরত চাইলেও পূণরায় প্রহার করা হয়। এ সংক্রান্তে একটি ভিডিও এরই মধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে।

সাংবাদিকদের উপর ন্যাক্কারজনক ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয় সংবাদকর্মীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। প্রেসক্লাব লালমনিরহাটের আহবায়ক আনোয়ার হোসেন স্বপন এ হামলার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে বলেন, পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে সাংবাদিকদের ওপর এই ধরণের হামলা স্বাধীন সাংবাদিকতার পথে বড় অন্তরায়। আমরা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রতি আহ্বান জানাই, যেন অতি দ্রুত হামলাকারীদের গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনা হয়।

লালমনিরহাটের সাংবাদিক নেতা এস. আর শরিফুল ইসলাম রতন বলেন, অতিরিক্ত টোল আদায়ের সংবাদ সংগ্রহ করা অপরাধ নয়। হামলাকারীরা যত ক্ষমতাধরই হোক না কেন, তারা প্রকারান্তরে সমাজের আয়নাকেই আঘাত করেছে। আমরা অবিলম্বে দোষীদের গ্রেফতারের দাবি জানাচ্ছি। অন্যথায় সাংবাদিক সমাজ রাজপথে কঠোর আন্দোলনে নামতে বাধ্য হবে।

এ বিষয়ে মন্তব্য পেতে সাংবাদিকদের উপর হামলায় নেতৃদানকারী বিএনপি নেতা নুর ইসলামের সাথে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলেও কোনো সাড়া মেলেনি।

হাতিবান্ধা উপজেলা বিএনপির আহবায়ক মোঃ মোশাররফ সাংবাদিকদের উপর হামলা ন্যাক্কারজনক বলে মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, আমরা খোঁজখবর নিয়ে দেখবো। সাংবাদিকদের উপর হামলার ঘটনা সত্যি হয়ে থাকলে আমরা ক্ষতিয়ে দেখে ব্যবস্থা নিবো বলেও দাবি করেন তিনি।

এ ঘটনায় হাতীবান্ধা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রমজান আলী জানান, ঘটনার খবর পাওয়ার সাথে সাথেই আমরা ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠিয়েছি। তবে এখনো এই বিষয়ে কোনো লিখিত অভিযোগ পাইনি। অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

সম্পাদক ও প্রকাশক : শাহ্ বোরহান মেহেদী, নির্বাহী সম্পাদক : গোলাম রাব্বানী অফিস: মেহেদী ভিলা, ঘোড়াশাল, নরসিংদী। ই-মেইল : pannewsbdbm@gmail.com, bmbmmehedi77777@gmail.com মোবাইল: 01715410468, 01865610720.

প্রিন্ট করুন