​ভাঙা ঘরে জীবন: দুবেলা দুই মুঠো খাবারের নিশ্চয়তা নেই হাফিজুরের দম্পতির

মোঃহোসন শাহ্‌ ফকির ইসলামপুর জামালপুর প্রতিনিধঃ
প্রকাশের সময়: বুধবার, ২৯ এপ্রিল, ২০২৬ । ৫:০৪ অপরাহ্ণ

 

জামালপুর ইসলামপুরে মাথা গোঁজার ঠাঁই বলতে শুধুই একটি ভাঙাচোরা জরাজীর্ণ টিনের ঘর। রোদ-বৃষ্টি কিংবা হাড়কাঁপানো শীত—সবই সইতে হয় এই ঝুপড়ির ভেতর। বয়সের ভারে শরীর নুয়ে পড়েছে, কিন্তু দুবেলা দুমুঠো খাবারের নিশ্চয়তা নেই। এমন মানবেতর জীবন পার করছেন বৃদ্ধ হাফিজুর রহমান ও তার স্ত্রী।

​সরেজমিনে দেখা যায়,জামালপুরের ইসলামপুর উপজেলার সদর ইউনিয়নে পচাঁবহলা গ্রামের এই অসহায় দম্পতির ভাগ্যে জোটেনি একটু আরাম কিংবা সন্তানদের মমতা। অযত্ন আর অবহেলায় চরম অভাবের মধ্যে দিন কাটছে তাদের। জরাজীর্ণ ঘরের ফুটো দিয়ে যেমন আকাশ দেখা যায়,তেমনি তাদের চোখেও ফুটে উঠেছে অনিশ্চয়তার ছাপ।

​স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে,হাফিজুর রহমানের বয়স এখন আশির কোঠায়। শারীরিক অক্ষমতার কারণে কাজ করার সামর্থ্য হারিয়েছেন অনেক আগেই। তবুও পেটের তাগিদে অনেক সময় অন্যের দ্বারে হাত পাততে হয়। সন্তানরা থাকলেও তারা নিজেদের নিয়ে ব্যস্ত,বৃদ্ধ বাবা-মায়ের খোঁজ নেওয়ার প্রয়োজন মনে করেন না তারা।

ফলে এই বয়সে যেখানে একটু সেবা-শুশ্রূষা পাওয়ার কথা,সেখানে তাদের দিন কাটছে চরম অবহেলায়।

​কান্নাভেজা চোখে বৃদ্ধ হাফিজুর রহমান বলেন,”বাপু, ঘরটা যেকোনো সময় ভেঙে পড়তে পারে। বৃষ্টি হলে ঘরে পানি ঢোকে,রাতে ঠিকমতো ঘুমাতে পারি না। তার ওপর খাবার কষ্ট তো আছেই। সন্তানদের কাছে চেয়েও কিছু পাই না।”

​তার স্ত্রী জানান,অভাবের কারণে অনেক দিন তাদের আধা-পেটা বা না খেয়েই দিন পার করতে হয়। সরকার বা সমাজের বিত্তবানরা এগিয়ে না এলে তাদের এই কষ্টের শেষ নেই।

​এলাকাবাসীর দাবি,জনপ্রতিনিধি এবং সংশ্লিষ্ট প্রশাসন যেন দ্রুত এই বৃদ্ধ দম্পতির দিকে নজর দেন। একটি নিরাপদ ঘর এবং নিয়মিত খাবারের ব্যবস্থা নিশ্চিত করা গেলে হয়তো শেষ বয়সে তারা কিছুটা শান্তি পাবেন।

সম্পাদক ও প্রকাশক : শাহ্ বোরহান মেহেদী, নির্বাহী সম্পাদক : গোলাম রাব্বানী অফিস: মেহেদী ভিলা, ঘোড়াশাল, নরসিংদী। ই-মেইল : pannewsbdbm@gmail.com, bmbmmehedi77777@gmail.com মোবাইল: 01715410468, 01865610720.

প্রিন্ট করুন