লালমনিরহাটের-১ (পাটগ্রাম-হাতীবান্ধা) আসনে আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার ঘোষণা দিয়েছেন শিহাব আহমেদ। এক সময়ের সবজি বিক্রেতা থেকে সফল উদ্যোক্তা হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করা এই ব্যক্তিত্ব গত ৩০ সেপ্টেম্বর বিকেলে এক মোটরসাইকেল শোভাযাত্রার মাধ্যমে তার নির্বাচনী কার্যক্রমের সূচনা করেন।
শিহাব আহমেদ তার বক্তব্যে জানান, তিনি ইতিমধ্যে ৫০০-এর বেশি যুবকের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করেছেন। তার লক্ষ্য ২০৩০ সালের মধ্যে হাতীবান্ধা ও পাটগ্রাম উপজেলায় বেকারত্ব দূর করা। তিনি আরও প্রতিশ্রুতি দেন, নির্বাচিত হলে জনগণের সকল উন্নয়ন কার্যক্রম স্বচ্ছতার সঙ্গে সম্পন্ন করা হবে।
হাতীবান্ধা উপজেলার বড়খাতা ইউনিয়নের বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল আজিজের ছেলে শিহাব আহমেদ। শৈশবে মা হারানোর পর নানীর কোলে বড় হন তিনি। জীবনের শুরুতে সবজি বিক্রি, ট্রাকের হেলপার এবং রিকশা চালানোর মতো কঠোর পরিশ্রমের মধ্য দিয়েই নিজের পড়াশোনা চালিয়ে যান। অদম্য ইচ্ছাশক্তি ও পরিশ্রমের ফলে এসএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৫ অর্জন করেন তিনি। এরপর স্থানীয়দের সহায়তায় রংপুর কারমাইকেল কলেজ থেকে উচ্চমাধ্যমিক পাস করে তুরস্কে পড়াশোনার সুযোগ পান।
তুরস্কের গেবজে প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ে কম্পিউটার বিজ্ঞান ও প্রকৌশল বিভাগে পড়ার সময় তিনি নির্মাণ শ্রমিক, হোটেলের ডিশ ওয়াশারসহ বিভিন্ন কাজে নিয়োজিত ছিলেন। সংগ্রামের মধ্য দিয়েই ধীরে ধীরে নিজের অবস্থান তৈরি করেন। ২০১৮ সালে তুরস্কে মোবাইল ফোন এক্সেসরিজ ব্যবসা শুরু করে সাফল্যের মুখ দেখেন। বর্তমানে তিনি তুরস্কে রিয়াল এস্টেট, কনস্ট্রাকশন, ট্যুরিজম ও রেস্টুরেন্ট ব্যবসা এবং দুবাইয়ে “শিহাব গ্রুপ অফ কোম্পানির” আওতায় প্রাইভেট গাড়ির শোরুম, গাড়ি ভাড়া ও আমদানি-রপ্তানি ব্যবসা পরিচালনা করছেন। এছাড়া আফ্রিকায় ‘ইন্টারন্যাশনাল অর্গানাইজেশন অ্যান্ড কনস্ট্রাকশন’-সহ দেশ-বিদেশে তার প্রায় ১৩টি প্রতিষ্ঠান রয়েছে।
যে আসনে শিহাব আহমেদ প্রতিদ্বন্দ্বিতার ঘোষণা দিয়েছেন, সেখানে ইতিমধ্যে জামায়াত সমর্থিত হেভিওয়েট প্রার্থী আনোয়ারুল ইসলাম রাজু, বিএনপি সমর্থিত হাসান রাজিব প্রধান, এবি পার্টির আবু রাইয়ান আশয়ারী রছি, সায়েদুজ্জামান কোয়েল ও শাহীন আকন্দ নির্বাচনী মাঠে সক্রিয় রয়েছেন। এই প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ আসনে শিহাব আহমেদের অংশগ্রহণ নির্বাচনী লড়াইয়ে নতুন মাত্রা যোগ করেছে।
সবজি বিক্রেতা থেকে আন্তর্জাতিক উদ্যোক্তা হয়ে ওঠার তার এই জীবনগাথা এখন এলাকাবাসীর আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু। তার সততা, উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি এবং কর্মসংস্থান তৈরির পরিকল্পনা স্থানীয় ভোটারদের মনে নতুন আশার সঞ্চার করেছে। অনেকেই বিশ্বাস করেন, নিজের জীবনের কঠিন সংগ্রামের অভিজ্ঞতা থেকেই তিনি জনগণের প্রকৃত সমস্যাগুলো বুঝতে পারবেন এবং বাস্তবসম্মত সমাধান দিতে সক্ষম হবেন।
হাতীবান্ধা ও পাটগ্রামের সাধারণ মানুষ এখন তাকিয়ে আছেন—তাদের স্বপ্ন, আকাঙ্ক্ষা ও প্রত্যাশাকে বাস্তবে রূপ দিতে পারবেন কি না সেই সময়ের আলোচিত মুখ শিহাব আহমেদ। আসন্ন নির্বাচনে তাকে ঘিরে তাই জেলাজুড়ে তৈরি হয়েছে এক নতুন আগ্রহ ও প্রত্যাশা; অনেকেই তাকে শুধু একজন প্রার্থী নয়, পরিবর্তনের প্রতীক হিসেবেই দেখছেন।

সিরাজুল ইসলাম- লালমনিরহাট
প্রকাশের সময়: রবিবার, ৫ অক্টোবর, ২০২৫ । ১২:০১ অপরাহ্ণ