গোপালগঞ্জ প্রতিনিধি : জেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে শুরু হয়েছে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের প্রস্তুতি। বিভিন্ন ইউনিয়নের সাম্ভাব্য চেয়ারম্যান পদপ্রার্থীরা জনসংযোগ করছেন সকাল থেকে রাত পর্যন্ত। তফশিল ঘোষণার আগেই মাঠ গুছিয়ে রাখতে চায় তারা। আসন্ন নির্বাচনে সাম্ভাব্য সকল চেয়ারম্যান প্রার্থীদের একটি কমন নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি পাওয়া যাচ্ছে। যে করেই হোক মাদক ও সন্ত্রাস মুক্ত সমাজ গড়তেই হবে। আশার কথা যে, ভবিষ্যৎ প্রজন্ম তথা জাতীর প্রয়োজনে সবাই এক পর্যায়ে একই শপথ নিয়েছেন, যে করেই হোক মাদক ও সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে অবস্থান শক্তিশালী করে জনজীবনকে আরও শান্তিপূর্ণ করে তুলতে হবে। সাম্ভাব্য প্রার্থীদের মধ্য থেকে অবকাঠামোগত উন্নয়নের বিষয়ে প্রতিশ্রুতি বেশ জোরেশোরে পাওয়া গেছে।
জেলার কোটালিপাড়া উপজেলার কুশলা ইউনিয়নের সাম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থী সবুজ ফকির বলেন,আপনার আমার নির্বাচনী এলাকা ঘুরে দেখেন,তথ্য সংগ্রহ করেন। আমি এলাকার জনগনের প্রয়োজনেই চেয়ারম্যান প্রার্থী হতে চাই। সবাই বলে নিকট অতীতে কুশলা ইউনিয়নের উন্নতি হয়েছে। আপনারা দেখেন রাস্তাঘাট ভাঙ্গাচোরা।খাল সংস্কার করা দরকার। ব্রিজ, কাঠের পোল,বাঁশের সাঁকো ইত্যাদি নির্মাণ করা দরকার। আমি এগুলো করবো। যাদের সরকারি ভাতা প্রয়োজন তাদের জন্য আমি কাজ করবে। আমাকে যদি ভোট দিয়ে ইউনিয়নবাসী নির্বাচনে জয়ী করে তাহলে আমি ইউনিয়নের সার্বিক উন্নয়নে এবং মানুষের সেবায় সদা প্রস্তুত থাকবো। আমি ইতিমধ্যেই সমাজ উন্নয়নে তৎপরতা শুরু করেছি।
একই উপজেলার কলাবাড়ী ইউনিয়নের মোহন্ত কুমার বাইন (বলরাম) একজন সমাজ সেবক। তিনি একটি শিশু শিক্ষা প্রতিষ্ঠান পরিচালনা করেন। কমিউনিটি ক্লিনিকের জন্য জমি দান করেছেন। তিনি বলেন,আমি আগে একবার মেম্বার নির্বাচীত হয়েছিলাম। এবার চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী হবো। ইতিমধ্যেই আমি প্রচারনা শুরু করেছি। আমি কোটালিপাড়া উপজেলা বিএনপির সদস্য। আমি মানুষের জন্য কাজ করতে চাই। দল যদি আমাকে যোগ্য মনে করে আমাকে সমর্থন দেয় তাহলেই আমি চেয়ারম্যান প্রার্থী হবো।
গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার উরফি ইউনিয়নের প্রবাস ফেরত যুবক ডালিম খান এবার প্রথমবারের মতো প্রার্থী হবেন চেয়ারম্যান পদে। তিনি একজন প্রবাস ফেরত রেমিট্যান্স যোদ্ধা। নিজের এলাকায় রাস্তা বানিয়ে দারুন সাড়া ফেলেছেন। সমাজের সার্বিক কাজে তিনি মানুষের পাশে থাকেন। তিনি বলেন,আমার বাড়ী উরফি গ্রামের হাজী আব্দুল কাদের দাখিল মাদ্রাসার পাশে। এই উত্তর আধুনিক যুগেও অত্র এলাকার রাস্তাঘাটের কোনো উন্নয়ন হয়না। খাল সংস্কার হয়না। পানি ও বিদ্যুৎ সেবা মানুষ পায় না। আমি এসব করবো। আমি মানুষের কল্যানে কাজ করতে চাই। গরীব,দুঃখী,মেহনতী মানুষের সেবা করার ব্রত নিয়ে আমি চেয়ারম্যান প্রার্থী হবো। আমার দাদা ইউসুফ আলী খান এবং চাচা অ্যাড.ফজলুল হক খান উরফি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ছিলেন। তাদেরই ধারাবাহিকতায় ইউনিয়নবাসী আমাকে ভোট দিয়ে জয়ী করলে আমি উরফি ইউনিয়নকে একটি ডিজিটাল ও সমৃদ্ধ ইউনিয়ন পরিষদ হিসেবে গড়ে তুলতে চেষ্টা করবো।
জেলার কাশিয়ানি উপজেলার পুইশুর ইউনিয়নের বিএনপি নেতা মুনজুর আলী সিকদার(ইকুল) দীর্ঘদিন প্রবাসে থেকে দেশে ফিরে এসে রাজনীতিতে ফের সক্রিয় হয়েছেন। স্থানীয় রাজনীতিতে তিনি বেশ অগ্রবর্তী অবস্থানে আছেন। বিএনপির সমর্থন নিয়ে নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে নির্বাচিত হয়ে তিনি ইউনিয়নবাসীর সেবা করতে চান। রাস্তা-ঘাট নির্মাণ ও উন্নয়ন,পানি ও বিদ্যুতের সুব্যবস্থা করার কথা এবং সার্বিক অবকাঠামোগত উন্নয়ন কল্পে তিনি আগ্রহ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন,আমাকে ইউনিয়নবাসী চেয়ারম্যান পদে নির্বাচিত করলে আমি আমার সাধ্যমত কাজ করবো মানুষের জন্য।
গোপালগঞ্জ জেলার মুকসুদপুর উপজেলার খান্দারপাড় ইউনিয়নের বিশিষ্ট সমাজ সেবক,গরীব ও দুঃখী মানুষের বন্ধু মোফিজুর রহমান স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে এবার চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী হবেন বলে জানিয়েছেন। তিনি বলেন, মানুষের সেবা করার ব্রত নিয়ে আমি চেয়ারম্যান প্রার্থী হবো। আমি অবকাঠামোগত উন্নয়ন কল্পে কাজ করবো। এলাকার রাস্তাঘাট নির্মাণ, খাল সংস্কারসহ কৃষি, শিক্ষা ও ক্রীড়া খাতের উন্নয়ন করে পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীকে এগিয়ে নেয়ার চেষ্টা করবো। আধুনিক, রুচিসম্মত ও ডিজিটাল ইউনিয়ন পরিষদ গড়তে আমি প্রতিশ্রুতি বদ্ধ।
একই উপজেলার মহারাজপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান পদে এবার প্রার্থী হবেন দেলোয়ার মোল্লা। তিনি মুকসুদপুর উপজেলা বিএনপির সহ সাংগঠনিক সম্পাদক। তিনি বলেন,আমি এবং আমার স্ত্রী দীর্ঘদিন যাবৎ বিএনপি করি। আমি চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী হবো সাধারন মানুষের সেবা করার জন্য। আমি কথায় নয় কাজে বিশ্বাসী। আমার কাজ প্রমান করে দেবে আমি সত্যিকার জন ও সমাজ সেবক কিনা। ঘুনে ধরা সমাজটায় পরিবর্তনের জোয়ার আনতে হবে। মানুষের মৌলিক চাহিদা পুরোন করাই আমার লক্ষ্য। ইউনিয়ন পরিষদকে অর্থ উপার্জনের ক্ষেত্রে পরিনত না করে আদর্শ একটি সমাজ গড়ে তোলা আমার উদ্দেশ্য।
সদর উপজেলার সাহাপুর ইউনিয়ন যুবদল সভাপতি অমিতোষ সরকার নির্বাচনে প্রার্থী হবেন চেয়ারম্যান পদে। তিনি বলেন,সাহাপুর ইউনিয়নকে ডিজিটাল ও সমৃদ্ধ ইউনিয়ন পরিষদ হিসেবে গড়ে তুলতে চাই আমি। সাহাপুর ইউনিয়নবাসীর জন্য আমি কাজ করতে চাই। সার্বিক উন্নয়নমুলক কর্মকাণ্ড পরিচালনার মাধ্যমে সেবা নিশ্চিত করবো।
এসব ইউনিয়ন ঘুরে এবং সেখানকার মানুষের সাথে আলাপ করে জানা যায় আগামী নির্বাচনে তারা তাদের পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দিয়ে জয়ী করতে চান। তারা যোগ্যতম প্রার্থীকেই তাদের প্রতিনিধি হিসেবে ইউনিয়ন পরিষদে বসার সুযোগ করে দেবেন। এসব ইউনিয়নের সাম্ভাব্য প্রার্থীরা ইতিমধ্যেই বিভিন্নভাবে জনসংযোগ শুরু করেছেন। তারা ব্যানার,ফেস্টুন বা পোষ্টার লাগিয়ে এবং মানুষের সান্নিধ্যে গিয়ে নিজের অভিপ্রায় ব্যাক্ত করছেন। তাদের উদ্দেশ্য ও লক্ষ্য ব্যাক্ত করছেন। এসব ইউনিয়নের সকল প্রার্থীরা নিজ নিজ ইউনিয়নবাসীসহ সকলের দোয়া ও আশীর্বাদ কামনা করেছেন।
সম্পাদক ও প্রকাশক: শাহ্ বোরহান মেহেদী
নির্বাহী সম্পাদক : গোলাম রব্বানী
ঠিকানা: ২২ ইন্দিরা রোড (৩য় তলা), ফার্মগেট তেজগাঁও, ঢাকা-১২১৫ , অস্থায়ী ঠিকানা: ঘোড়াশাল, পলাশ, নরসিংদী।
bmbmmehedi77777@gmail.com | 01865610720 01710-139473
Copyright © 2026 দৈনিক পাবলিক বাংলা. All rights reserved.