কালীগঞ্জ (গাজীপুর) প্রতিনিধিঃ// শরতের স্নিগ্ধ প্রকৃতিতে লাল শাপলার অপরূপ সৌন্দর্যে মুগ্ধ হওয়ার মতো এক মনোরম দৃশ্য দেখা যায় কালীগঞ্জের বক্তারপুর ইউনিয়নের ভাটিরা বিলে। বাংলাদেশে এখন শরতের শেষের দিকে। যদিও শরৎকাল তবু বর্ষার স্নিগ্ধতার রেশ এখনো রয়েছে। বিলের পানিতে ফুটে থাকা লাল শাপলা প্রকৃতিকে সাজিয়েছে লাল রংয়ের অন্যন্য সাজে। একে অনেকে রক্তকমল নামেও ডাকে। সবুজ পাতার ফাঁকে ফাঁকে ফুটে থাকা লাল ফুল যেন জলরাশির বুকে ছড়িয়ে দিয়েছে প্রকৃতির ভালবাসা।
উপজেলার ভাটিরা বিলের পানিতে সকালবেলা ফুটে থাকা লাল শাপলার সৌন্দর্য আরোও আকর্ষণীয় হয়ে ওঠে। দুর থেকে তাকালে মনে হয় পানির উপর বিছিয়ে আছে লাল ফুলের গালিচা। লাল শাপলার সৌন্দর্য উপভোগ করতে ভিড় জমাচ্ছেন প্রকৃতিপ্রেমীরা। প্রতিদিন ভোরে প্রকৃতি প্রেমীরা ফুটে থাকা লাল শাপলার সৌন্দর্য উপভোগ করতে ছুটে আসছেন।
সরেজমিনে গেলে ভাটিরা এলাকার মাদ্রাসা শিক্ষক মাওলানা সালাউদ্দিন সিরাজী জানান, ভাটিরা গ্রামের সড়ক সংলগ্ন বিলের জলাশয়ে শাপলার নজরকাড়া সৌন্দর্যে চোখ ফেরানো দায়। ক্ষণিকের জন্য হলেও পথচারীরা সেখানে জিরিয়ে নেয়। একদৃষ্টে তাকিয়ে থাকে লাল শাপলার দিকে। মুঠোফোনের ক্যামেরায় কেউ কেউ ফুলের সঙ্গে নিজেকে বন্দী করেন। কেবল সৌন্দর্য উপভোগই নয় লাল শাপলা হয়ে উঠেছে প্রান্তিক মানুষের জীবিকার উৎস। বিল থেকে শাপলা ও শালুক আহরণ করে হাটবাজারে বিক্রি করে জীবিকা নির্বাহ করছে অনেকেই। যদিও বিলের পানি কমে গেছে তাই নৌকা দিয়ে দর্শনার্থীরা ঘুরতে পারছে না। পাড়ে দাঁড়িয়েই বিলের রক্তকমলের সৌন্দর্য উপভোগ করছে তারা।
গাজীপুর জেলার কালীগঞ্জ উপজেলার মধ্যাঞ্চলে ভাটিরা গ্রামের অবস্থান। কৃষিতে সম্ভাবনাময় হলেও শীতকালে এ অঞ্চলের নানা রকম সবজি উৎপাদিত হয়। প্রতিদিন ভোরে প্রকৃতিপ্রেমীরা ফুটে থাকা লাল শাপলার সৌন্দর্য দেখতে ছুটে আসেন ভাটিরা গ্রামের বিল এলাকায়।
অপর দর্শনার্থী স্কুল পড়–য়া স্থানীয় কিশোর-কিশোরীরা বলেন, বন্ধুদের সঙ্গে করে লাল শাপলা দেখতে এখানে আসে অনেকে। বিলের পানি কমে যাওয়ায় পাড় থেকে দাঁড়িয়ে বিলের সৌন্দর্য উপভোগ করছি। মাথা তুলে দাঁড়িয়ে রয়েছে টুকটুকে লাল শাপলা। বাতাসে হালকা দুলে উঠছে ফুলগুলো। প্রতিদিন সকালবেলা বিলের প্রষ্ফুটিত লাল শাপলা দেখে মুগ্ধ হয়ে যাই। সড়ক সংলগ্ন জলাশয়টির ভাসমান শাপলার নজরকাড়া সৌন্দর্যে চোখ ফেরানো দায়।
কালীগঞ্জ সরকারী শ্রমিক বিশ্ববিদ্যালয় কলেজের উদ্ভিদবিদ্যা বিভাগের বিভাগীয় প্রধান শাহিনুর ইসলাম একান্ত সাক্ষাতকারে বলেন, লাল শাপলা বাংলাদেশের জাতীয় ফুলগুলোর একটি। শাপলা মূলত একটি জলজ উদ্ভিদ। যা রক্ত কমল নামেও পরিচিত। উজ্জ্বল লাল রঙের পাপড়ি এবং মনোমুগ্ধকর সৌন্দর্যের জন্য বিখ্যাত। এটি নাতিশীতোষ্ণ ও গ্রীস্মমন্ডলীয় অঞ্চলের দেশগুলোতে বেশী জন্মায়। জলাশয়ের এই ফুলকে কেন্দ্র করে জলজ প্রাণী, পোকামাকড়, ব্যাঙ, মাছ ও পাখিরা নির্ভরশীল। যা বাস্তুতন্ত্রের ভারসাম্য রক্ষা করে। লাল শাপলা জলাশয়ের পানিকে পরিষ্কার রাখতে এবং পানিতে অক্সিজেনের সরবরাহ বাড়ায়।কালীগঞ্জ,গাজীপুর
১০/১০/২৬ইং
সম্পাদক ও প্রকাশক: শাহ্ বোরহান মেহেদী
নির্বাহী সম্পাদক : গোলাম রব্বানী
ঠিকানা: ২২ ইন্দিরা রোড (৩য় তলা), ফার্মগেট তেজগাঁও, ঢাকা-১২১৫ , অস্থায়ী ঠিকানা: ঘোড়াশাল, পলাশ, নরসিংদী।
bmbmmehedi77777@gmail.com | 01865610720 01710-139473
Copyright © 2026 দৈনিক পাবলিক বাংলা. All rights reserved.