উত্তরের সীমান্ত জেলা হিমালয়ান সমতল অঞ্চল খ্যাত পঞ্চগড়ের নদ-নদীগুলোতে বেড়েছে বোরো ধানের আবাদ। আবাদী জমিহীন কৃষকেরা হাটু পানির এই নদীগুলোতে বাঁধ দিয়ে নদীর দুই ধারে বোরোর আবাদ করছেন। সেচ খরচ নেই বলে উৎপাদন খরচ কম, অন্যদিকে পলি মিশ্রিত উর্বর জমি হওয়ার কারণে ফলনও হচ্ছে ভালো। ফলে কৃষকের লাভ বেশি।
কিন্তু সার কিটনাশকের ব্যবহার, স্রোত আটকে চাষবাসের ফলে হুমকির মুখে পড়েছে জীববৈচিত্র।
স্থানীয়দের দাবি, চাষিদের মাঝে সচেতনা বৃদ্ধির পাশাপাশি নদীগুলো খনন করে পুরোনো পরিবেশ ফিরিয়ে আনা প্রয়োজন।
পঞ্চগড় জেলার উপর দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে ছোটবড় ৫০টি নদী। এই নদীগুলোর উৎপত্তি হিমালয় পাহাড়, ভারতের পশ্চিমবঙ্গ এবং পঞ্চগড়ের বিভিন্ন খাল-বিল থেকে।
নদীগুলো সুপ্রাচীন কাল থেকে এই জেলার কৃষি অর্থনীতি, পর্যটন এবং পরিবেশগত উন্নয়নে বিশাল ভূমিকা রাখছে। বর্তমানে নদীগুলো ভরাট হয়ে বিলীন হওয়ার পথে। দখল এবং অপরিকল্পিত ভাবে পাথর-বালি উত্তোলননের ফলেও বেশ কয়েকটি নদী নিশ্চিহ্ন হয়ে গেছে। এই নদীগুলোতে বর্তমানে বোরোর আবাদ বাড়ছে।
গত কয়েক বছর ধরেই নদীর চর এবং স্রোতে বাঁধ দিয়ে স্থানীয় কৃষকরা বোরো ধান রোপন করছেন। চাষাবাদের জমি নেই এমন কৃষকেরা এই আবাদ করে লাভবান হচ্ছেন। তারা বলছেন বর্ষাকালে নদীতে প্রচুর পানি থাকে। তখন কোন আবাদ হয় না। আর শুকনো মৌসুমে নদী শুকিয়ে যায়।
তাই এই সময়ে তারা নদীতে আল বেঁধে, জমি চাষাবাদের উপযোগী করে বোরো ধানের আবাদ করছেন। এই আবাদে তাদেরকে সেচ দিতে হয় না। ফলনও ভালো হয়। এক বিঘা জমিতে প্রায় ২০ থেকে ৩০ মণ ধান পান তারা।
মাঝিপাড়া এলাকার মশিউর রহমান জানান, ডাহুকনদীর পাড়েই আমার বাড়ি। কৃষি করার মতো জমি নেই। নদীতে চর পড়েছে। এই জমি বোরো ধানের আবাদের জন্য তৈরী করছি। প্রতিবছর ৫০ শতক জমিতে বোরো ধান লাগাই। ২৫ থেকে ৩০ মণ ধান পাই। তা দিয়ে বছরে ঘরের ধানের ভাত হয়ে যায়।
শুধু বোরো নয় কিছু এলাকায় অন্যান্য ফসলও আবাদ হচ্ছে। পেয়াজ, ভূট্টা, বাদাম সহ নানা ধরনের শাক সবজিও আবাদ হচ্ছে। কৃষকেরা অগ্রাহায়ন মাস থেকে নদী কেটে জমি প্রস্তুত করে। মাঘ থেকে ফাল্গুন মাসে বোরোর চারা রোপন করে। জৈষ্ঠ্য মাসে বোরোধান কেটে ঘরে তোলেন।
তবে বোরো আবাদের ফলে কৃষকেরা লাভবান হলেও হুমকির মুখে পড়েছে জীববৈচিত্র। স্থানীয় পরিবেশ কর্মীরা বলছেন, সার কিটনাশকের ব্যবহার ও নদীতে বাঁধ দিয়ে আবাদের ফলে হারিয়ে যাচ্ছে দেশী মাছসহ জলজ কিটপতঙ্গ । দেখা মিলছে না নদী কেন্দ্রীক জীবন যাপন করা পাখিদের। স্থানীয়রা চায় নদীগুলো খনন করা হোক। তারা বলছেন নদীগুলো প্রায় নিশ্চিহ্ন হতে বসেছে।
স্থানীয় পরিবেশ কর্মী কাজী মখছেদুর রহমান জানান, নদীগুলোর সীমানা নির্ধারণ করে দ্রুত খনন করা দরকার। যে যার মতো আবাদ করছে। চরগুলোতে আবাদ হলে সমস্যা নেই । কিন্তু নদীর স্বাভাবিক গতিপথ আটকে আবাদ করার ফলে জীববৈচিত্র হুমকির মুখে পড়েছে।
পঞ্চগড় কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক আব্দুল মতিন জানান, আমরা লাভজনক কৃষি করতে কৃষকদের উৎসাহিত করছি। এবার এই জেলায় প্রায় ৫০ হাজার হেক্টর জমিতে বোরোর আবাদ হয়েছে। নদীতে বোরো চাষিদেরকে জীব বৈচিত্র ঠিক রেখে আবাদ করার জন্য পরামর্শ দেয়া হয়।
সম্পাদক ও প্রকাশক: শাহ্ বোরহান মেহেদী
নির্বাহী সম্পাদক : গোলাম রব্বানী
ঠিকানা: ২২ ইন্দিরা রোড (৩য় তলা), ফার্মগেট তেজগাঁও, ঢাকা-১২১৫ , অস্থায়ী ঠিকানা: ঘোড়াশাল, পলাশ, নরসিংদী।
bmbmmehedi77777@gmail.com | 01865610720 01710-139473
Copyright © 2026 দৈনিক পাবলিক বাংলা. All rights reserved.