শুক্রবার | ১৮ই জুন, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ | ৪ঠা আষাঢ়, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ

দৈনিক পাবলিক বাংলা বিশ্বজুড়ে বাঙলার মুখপত্র
বিশ্বজুড়ে বাঙলার মুখপত্র

বাজেট ঘোষণার ১০ মাসে যেসব উন্নয়নকাজ করেছে ডিএসসিসি

বাজেট ঘোষণার ১০ মাসে যেসব উন্নয়নকাজ করেছে ডিএসসিসি

গত বছরের ৩০ জুলাই ২০২০-২০২১ অর্থবছরে উন্নয়নকে গুরুত্ব দিয়ে ৬ হাজার ১১৯ কোটি ৫৯ লাখ টাকার বাজেট ঘোষণা করেছিল ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি)। প্রতিষ্ঠার পর এটিই ছিল তাদের সর্বোচ্চ বাজেট। এর আগেরবার ২০১৯-২০ অর্থবছরে ৩ হাজার ৬৩১ কোটি ৪০ লাখ টাকার বাজেট ঘোষণা করেছিল তারা।

চলতি বাজেটের উন্নয়ন ব্যয়ের বিবরণ থেকে জানা গেছে, ২০২০-২০২১ অর্থবছরের বাজেটে সড়ক ও ট্রাফিক অবকাঠামো রক্ষণাবেক্ষণ ও উন্নয়নে ব্যয় হওয়ার কথা ১ হাজার ৭৪১ কোটি ৭৫ লাখ টাকা। এছাড়া নাগরিক বিনোদনমূলক সুবিধাদি উন্নয়নে ৮৪৭ কোটি টাকা ব্যয় করার কথা।

গত বছরের ১৬ মে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়র হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন ব্যারিস্টার শেখ ফজলে নূর তাপস। আর গত বছরের ৩০ জুলাই ২০২০-২০২১ অর্থবছরের বাজেট ঘোষণা করা হয়। এ হিসাব অনুযায়ী মেয়র হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের এক বছর পার করছেন তিনি এবং সেই সঙ্গে ডিএসসিসির চলতি বাজেট ঘোষণার ১০ মাস অতিবাহিত হচ্ছে। এ সময়ের মধ্যে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে কী কী উন্নয়নকাজ হয়েছে সেসব বিষয়ে জানানো হয়েছে সংস্থাটির পক্ষ থেকে।

মেয়র হিসেবে বিগত এক বছরের সার্বিক কার্যক্রম ও অগ্রগতি নিয়ে সম্প্রতি আয়োজিত “উন্নত ঢাকার ভিত রচনা” শীর্ষক সংবাদ সাম্মেলনে বিগত এক বছরের উন্নয়ন চিত্র তুলে ধরেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়র ব্যারিস্টার শেখ ফজলে নূর তাপস। সেখানে অগ্রগতির বিষয়ে উল্লেখ করে মেয়র বলেন, করোনা মহামারির প্রথম ঢেউয়ের চূড়ান্ত প্রকোপকালে গত বছরের ১৬ মে করপোরেশনের মেয়র হিসেবে আমি দায়িত্বভার গ্রহণ করেছি। বর্তমানে করোনাভাইরাসের দ্বিতীয় ঢেউ মোকাবিলা করে চলেছি আমরা। তারপরেও আমরা থেমে নেই। আমার ৫ বছর মেয়াদের মধ্যে বিগত এক বছরে করোনার কারণে আমাদের কার্যক্রম কিছুটা বাধাগ্রস্ত হলেও উন্নত ঢাকার সোপান পানে একটি মজবুত ভিত্তি রচনা করতে আমরা সক্ষম হয়েছি। আগামী দিনেও সবাই মিলে একটি উন্নত ঢাকা গড়ে তুলব, ইনশাআল্লাহ।

ডিএসসিসির চলমান উন্নয়নকাজ

বিগত এক বছরে প্রায় ১২০ কিলোমিটার রাস্তা সংস্কার ও উন্নয়ন, ৯০ কিলোমিটার নর্দমা নির্মাণ ও উন্নয়ন, ৪৫ কিলোমিটার ফুটপাত নির্মাণ ও উন্নয়নসহ ৩টি ফুটওভারব্রিজ নির্মাণ করেছে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন।

এছাড়া আরও ২টি ফুটওভার ব্রিজ নির্মাণ, ৩টি সামাজিক অনুষ্ঠান কেন্দ্র নির্মাণ, ৩টি কবরস্থান ও ১টি শশ্মানঘাট উন্নয়ন কার্যক্রম চলমান রয়েছে। এছাড়া জিরানি খাল, মান্ডা খাল, কালুনগর খাল, কাজলা খাল ও শ্যামপুর খালের পুনরুদ্ধারকৃত জমির প্রায় ১৫ কিলোমিটার সীমানা পিলার ও ফেন্সিং কাজ প্রায় সমাপ্তির পথে রয়েছে। করপোরেশনের বিভিন্ন এলাকায় ১৭টি নতুন গণশৌচাগার নির্মাণের কার্যক্রম গ্রহণ করা হয়েছে।

অপরদিকে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন মালিকানাধীন জমির ওপর ইসলামবাগ, হাজারীবাগ, নবাবগঞ্জ, মেরাদিয়া, সূত্রাপুর, মানিকনগর ও কাঁঠালবাগান এলাকায় কাঁচাবাজার নির্মাণসহ মার্কেট নির্মাণ কাজের পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। নকশা ও ডিজাইন প্রণয়নের কাজ চলমান।

এছাড়া বিভিন্ন ওয়ার্ড কাউন্সিলর হতে ১০ থেকে ১২টি স্থানে কাঁচাবাজার নির্মাণের প্রস্তাব করা হয়েছে। প্রস্তাবিত জমির মালিক বিভিন্ন সংস্থা বা কর্তৃপক্ষ। তাই সম্পত্তি বিভাগ কর্তৃক যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। চলমান উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় বিভিন্ন ওয়ার্ডে আরও ২৪টি সামাজিক অনুষ্ঠান কেন্দ্র নির্মাণাধীন রয়েছে। পাশাপাশি ৭৫টি ওয়ার্ডে অন্তত ১টি করে সামাজিক অনুষ্ঠান কেন্দ্র নির্মাণের লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে পুরাতন ১৯টি ওয়ার্ডে এবং নবসংযুক্ত ১৮টি ওয়ার্ডে মোট ৩৭টি নতুন সামাজিক অনুষ্ঠান কেন্দ্র নির্মাণ এবং ৬টি বিদ্যমান পুরাতন কমিউনিটি সেন্টার সংস্কার ও উন্নয়নসহ মোট ৪৩টি সামাজিক অনুষ্ঠান কেন্দ্র নির্মাণে প্রকল্প প্রণয়ন করা হয়েছে।

পাশাপাশি নবসংযুক্ত ১৮টি ওয়ার্ড এলাকায় নাগরিক সেবা প্রদান সহজতর করার লক্ষ্যে ৫টি নতুন আঞ্চলিক কার্যালয় নির্মাণ ও পুরাতন এলাকায় ২টি সহ মোট ৭টি আঞ্চলিক কার্যালয় নির্মাণে প্রকল্প প্রণয়ন করা হয়েছে।

সড়ক মেরামত ও রক্ষণাবেক্ষণ

সড়ক মেরামত ও রক্ষণাবেক্ষণকে কর্মপরিকল্পনায় চতুর্থ প্রাধিকারভুক্ত কার্যক্রম হিসেবে গুরুত্ব প্রদান করা হয়েছে। ওয়ার্ড কাউন্সিলবৃন্দ ও সংসদীয় আসনের সংসদ সদস্যবর্গের সুপারিশের আলোকে দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ৭৫টি ওয়ার্ড এবং ৮টি সংসদীয় এলাকায় নিজস্ব অর্থায়নে ১২৫ কোটি টাকা ব্যয়ে সড়ক অবকাঠামো উন্নয়ন ও সংস্কার কাজ হাতে নিয়েছে সংস্থাটি। যা বর্তমান অর্থবছরে সমাপ্ত হবে।

খাল উন্নয়ন

গত বছরের ৩১ ডিসেম্বর ওয়াসার কাছ থেকে খাল ও বক্স কালভার্টগুলো হস্তান্তরের পর ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন ২ জানুয়ারি হতে ২টি বক্স কালভার্ট ও ৪টি খাল হতে বর্জ্য ও পলি অপসারণ কার্যক্রম শুরু করে। তাদের দাবি, একইসঙ্গে সেসব খালের সীমানা নির্ধারণ এবং অবৈধ দখলে থাকা জায়গা পুনরুদ্ধার করেছে তারা। জানুয়ারি হতে মে পর্যন্ত নিজস্ব অর্থায়নেই সেসব খাল ও বক্স কালভার্টের পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা, অবৈধ দখল উচ্ছেদ ও খনন কার্য সম্পাদন করেছে সংস্থাটি।

এছাড়া খাল ও বক্স কালভার্টগুলো হতে ১০ লাখের বেশি টন পলি ও বর্জ্য অপসারণ করা হয়েছে। ওয়াসার কাছ থেকে পাওয়া কমলাপুর ও ধোলাইখাল পাম্প স্টেশনের ৬টি পাম্প মেশিনের মধ্যে কমলাপুরের ১টি এবং ধোলাইখালের ২টি পাম্প মেশিন সচলও করেছে সংস্থাটি। বাকি ৩টি পাম্প মেশিন সচল করার কার্যক্রম চলমান রয়েছে। একই সাথে ৩০টি ভ্রাম্যমাণ পাম্প মেশিন ক্রয় প্রক্রিয়া সম্পাদনের শেষ পর্যায়ে রয়েছে। আগামী মাসের ২০ তারিখের মধ্যে কর্পোরেশনের ৭১৫ কিলোমিটার এবং ওয়াসার কাছ থেকে পাওয়া ১৮৫ কিলোমিটার বদ্ধ নর্দমার মুখ পরিষ্কার কার্যক্রম সম্পন্ন করার লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে কাজ করে যাচ্ছে সংস্থাটি।

বর্জ্য ব্যবস্থাপনার ওপর গুরুত্বারোপ

বর্জ্য ব্যবস্থাপনার ওপর গুরুত্বারোপ করেছে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন। তাদের মতে, ঢাকা শহরই পৃথিবীর একমাত্র শহর যেখানে যত্রতত্র ময়লা আবর্জনা উন্মুক্ত স্থানে পড়ে থাকে। সেটাকে ডিএসসিসি জায়কার পরামর্শ মোতাবেক ওয়ার্ড ভিত্তিক কর্মপরিকল্পনা অনুযায়ী ঢেলে সাজিয়েছে। ওয়ার্ড ভিত্তিক বর্জ্য সংগ্রহকারী নিবন্ধন দিয়েছে সংস্থাটি। এছাড়া ওয়ার্ড ভিত্তিক বর্জ্য স্থানান্তর কেন্দ্র নির্মাণ কার্যক্রম হাতে নিয়েছে তারা।

আগে বর্জ্য স্থানান্তর কেন্দ্র ছিল ২১টি। গত এক বছরে নতুন নতুন ৬টি বর্জ্য স্থানান্তর কেন্দ্র নির্মাণ করা হয়েছে। আগামী জুনের মধ্যে নতুন ১৪টি বর্জ্য স্থানান্তর নির্মাণ কার্যক্রম সম্পন্ন হবে বলে ডিএসসিসির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।

এ বিষয়ে মেয়র ব্যারিস্টার শেখ ফজলে নূর তাপস ঘোষণা দিয়ে বলেছেন, ২০২১ সালের মধ্যেই আমরা ৭৫টি ওয়ার্ডে ৭৫টি বর্জ্য স্থানান্তর কেন্দ্র নির্মাণ সম্পন্ন এবং উন্মুক্ত স্থান হতে সম্পূর্ণরূপে বর্জ্য নির্মূল করতে পারব।

প্রতিটি ওয়ার্ডে খেলার মাঠ

প্রতিটি ওয়ার্ডে একটি করে খেলার মাঠ-পার্ক প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ গ্রহণ করেছে ডিএসসিসি। চলতি বছরে লক্ষ্মীবাজার খেলার মাঠ ও মালিটোলা পার্কের উন্নয়নকাজ সমাপ্ত করে তা সকলের জন্য উন্মুক্ত করে দিয়েছে সংস্থাটি। এছাড়া ৪টি পার্ক ও ২টি খেলার মাঠের উন্নয়ন কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হয়েছে। এদিকে আরও ৬টি পার্ক ও ৫টি খেলার মাঠের উন্নয়ন কার্যক্রম চলমান রয়েছে।

আগামীর পরিকল্পনা

আগামী দিনের উল্লেখযোগ্য কর্মপরিকল্পনা বিষয়ে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন সূত্রে জানা গেছে, ডিএসসিসির দীর্ঘ মেয়াদী পরিকল্পনার আওতায় শীতলক্ষ্যা ও বালু নদীর তীর ঘেঁষে প্রশস্ত রাস্তা, বাইসাইকেল লেন, ফুটপাত, জগিং ট্রাক, সবুজায়নসহ বিনোদনের ব্যবস্থা সৃষ্টিতে প্রকল্প প্রণয়ণের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। এছাড়া নতুন কেন্দ্রীয় বাণিজ্যিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠা, নবসংযুক্ত এলাকায় পরিকল্পিত উপশহর, উপনগর, জনপদ গড়ে তোলা এবং ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন এলাকায় ৫০ তলাবিশিষ্ট একটি আন্তর্জাতিক মানের সম্মেলন কেন্দ্র নির্মাণে পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে।

অন্যদিকে দখলমুক্ত ও পরিষ্কার করা ছাড়াও জিরানি, মান্ডা, শ্যামপুর ও কালুনগর খালের পাড় ঘেঁষে দৃষ্টিনন্দন ওয়াকওয়ে, খেলারমাঠ, শিশুপার্ক স্থাপনসহ নগরবাসীর জন্য নান্দনিক পরিবেশ সৃষ্টি করার লক্ষ্যে খাল উন্নয়ন প্রকল্প প্রণয়ন করে মন্ত্রণালয়ে প্রেরণ করা হয়েছে। পাশাপাশি পুরান ঢাকা ও কামরাঙ্গীরচরের মধ্যে দিয়ে বয়ে চলা আদি বুড়িগঙ্গা চ্যানেল পুনরুদ্ধার করে দৃষ্টিনন্দন করে গড়ে তোলার জন্য ফিজিবিলিটি স্ট্যাডি কার্যক্রম চলমান রয়েছে বলে ডিএসসিসির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।

আপনার মতামত দিন

Posted ১০:৫৪ অপরাহ্ণ | রবিবার, ৩০ মে ২০২১

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

এ বিভাগের আরও খবর

শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
 
১০১১
১২১৩১৪১৫১৬১৭১৮
১৯২০২১২২২৩২৪২৫
২৬২৭২৮২৯৩০  
ড. সৈয়দ রনো   উপদেষ্টা সম্পাদক   
শাহ্ বোরহান মেহেদী, সম্পাদক ও প্রকাশক
,
ঢাক অফিস :

২২, ইন্দারা রোড (তৃতীয় তলা), ফার্মগেট, তেজগাও, ঢাকা-১২১৫।

নরসিংদী অফিস : পাইকসা মেহেদী ভিলা, ঘোড়াশাল, নরসিংদী। ফোনঃ +8801865610720

ই-মেইল: news@doinikpublicbangla.com

ব্রেকিং নিউজ