বৃহস্পতিবার | ১৯শে মে, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ | ৫ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ

দৈনিক পাবলিক বাংলা বিশ্বজুড়ে বাঙলার মুখপত্র
বিশ্বজুড়ে বাঙলার মুখপত্র

শুধু নেই আর নেই

ঘিওর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স নিজেই এখন রোগী

চায়না আলম,স্টাফ রিপোর্টার

ঘিওর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স নিজেই এখন রোগী

ঘড়ির কাটায় সময় বেলা ১১টা। হাসপাতালের গাইনী বিভাগের সিনিয়র কনসালটেন্ট ডাঃ মুনীরা ইয়াসমীনের চেম্বারের সামনে অপেক্ষামাণ ৫/৬ রোগীর ভিড়। বাইরে রোগী থাকলেও চেম্বারের ভেতরে নেই ডাক্তার। ডাক্তারের অপেক্ষায় প্রহর গুনছে বিভিন্ন এলাকা থেকে আগত রোগীরা। কোনো চিকিৎসকের পরামর্শ পায়নি দূর-দূরান্ত থেকে আগত রোগীরা। চিকিৎসকের দেখা না পেয়ে কিছু রোগী চলে গেলেও অধিকাংশ রোগী চিকিৎসকের আগমনের অপেক্ষায় প্রহর গুনছেন সংশ্লিষ্ট চেম্বারগুলোর সামনে। একই অবস্থা হাসপাতালের প্রায় অধিকাংশ চেম্বারের। এই অবস্থা থেকে পরিত্রাণ দাবি সাধারণ রোগীদের। আর জনবল সংকটের কারণে সাময়িকভাবে এই সমস্যা হচ্ছে বলে দাবি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের।

চিকিৎসকসহ  জনবল সংকটের কারনে চিকিৎসা সেবার বেহাল দশায় পরিনত হয়েছে মানিকগঞ্জ ঘিওর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স। উপজেলার একমাত্র সরকারি হাসপাতালটি ২০১৮ সালে ৫০ শয্যায় উন্নীত করা হলেও এখনও সেই ৩১ শয্যার জনবল দিয়ে খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে অত্যান্ত নাজুক পরিস্থিতির মধ্যে চলছে। ৫০ শয্যার জনবল তো দূরের কথা ৩১ শয্যার জনবল কাঠামোর সিংহভাগ পদই এখানে শুন্য রয়েছে! আবাসিক মেডিকেল অফিসারের বিপরিতে মেডিকেল অফিসার দিয়ে কাজ চলছে, সিনিয়র স্টাফ নার্স-১১ জনের মধ্যে আছে ৭ জন, স্বাস্থ্য সহকারী এ্যানেসথেসিষ্ট, শিশু বিশেষজ্ঞ, মেডিকেল টেকনোলজিষ্ট, প্যাথলজিষ্ট, ডেন্টাল সার্জনসহ গুরুত্বপূর্ণ পদসমূহ দীর্ঘদিন ধরে শুন্য রয়েছে। এ ছাড়া দীর্ঘ দিন ধরে মাত্র দুজন সেবিকা কর্মরত। তাঁরা হলেন মরিয়ম বেগম ও রাবেয়া সুলতানা। ৩১ শয্যার এই স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নয়জন চিকিৎসক থাকার কথা। আছেন মাত্র চারজন। স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটির এক্স-রে যন্ত্রটি বিকল। এ কারণে চিকিৎসাসেবা ব্যাহত হচ্ছে।

সরেজমিনে গিয়ে হাসপাতালে কথা হয় পুরুষ ওয়ার্ডে ভর্তি আবদুল খালেক নামের এক ব্যক্তি বলেন, সারা দিনে একবারের বেশি নার্সের দেখা পাওয়া যায় না। জানতে চাইলে সেবিকা রাবেয়া সুলতানা বলেন, দিন-রাত তাঁদের দুজনকে সেবা দিতে হয়। এরপর তিনি মা হতে চলেছেন। খুব বেশি ছোটাছুটি করতে পারেন না।

এছাড়াও স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের পুরাতন ঝুঁকিপূর্ণ ভবনেই চলছে চিকিৎসা সেবা। পর্যাপ্ত জায়গা না থাকায় পুরনো ভবনে এখনো চলছে চিকিৎসা কার্যক্রম। এই ভবনের বেশিরভাগ রুমের পলেস্টার খসে পড়েছে। পুরনো ভবনের দ্বিতীয় তলায় ‘মা ও শিশু বিভাগ’ চালু রেখে এখনো রোগী ভর্তি করা হচ্ছে। এছাড়া, নিচ তলায় ল্যাব ও অন্যান্য কার্যক্রম ঝুঁকি নিয়েই করছেন কর্তব্যরতরা। সাধারণ রোগীরাও ঝুঁকি নিয়েই নিচ্ছেন চিকিৎসা সেবা।

দায়িত্বশীল কর্মকর্তা জানান, পুরনো ভবনের দেয়াল স্যাঁতস্যাঁতে হয়ে গেছে। ল্যাবসহ বিভিন্ন রুমের পলেস্টার খসে পড়েছে। ২০১৮ সালে নতুন ভবন তৈরি হলেও পর্যাপ্ত জায়গা না থাকায় এই ভবন ব্যবহার করা হচ্ছে। এ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ১৩৩ পদের বিপরীতে রয়েছেন ১০১ জন।

এসব বিষয়ে জানতে চাইলে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ সৌমেন চৌধুরী বলেন, জরুরি ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় সংখ্যক চিকিৎসক ও সেবিকা নিয়োগ না দিলে চিকিৎসাসেবা দেওয়া সম্ভব নয়। পুরাতন ভবন ঝুকি পূর্ণ বিধায় উর্দ্বতন কতর্ৃপক্ষে নিকট লিখিত ভাবে জানানো হয়েছে। সেবিকা নিয়োগের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে লিখিতভাবে জানানো হয়েছে।

 

আপনার মতামত দিন

Posted ১:০৬ অপরাহ্ণ | শুক্রবার, ০৪ ডিসেম্বর ২০২০

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
 
১০১১১২১৩
১৪১৫১৬১৭১৮১৯২০
২১২২২৩২৪২৫২৬২৭
২৮২৯৩০৩১  
ড. সৈয়দ রনো   উপদেষ্টা সম্পাদক   
শাহ্ বোরহান মেহেদী, সম্পাদক ও প্রকাশক
,
ঢাক অফিস :

২২, ইন্দারা রোড (তৃতীয় তলা), ফার্মগেট, তেজগাও, ঢাকা-১২১৫।

নরসিংদী অফিস : পাইকসা মেহেদী ভিলা, ঘোড়াশাল, নরসিংদী। ফোনঃ +8801865610720

ই-মেইল: news@doinikpublicbangla.com