রবিবার | ৪ঠা ডিসেম্বর, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ | ১৯শে অগ্রহায়ণ, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ

দৈনিক পাবলিক বাংলা বিশ্বজুড়ে বাঙলার মুখপত্র
বিশ্বজুড়ে বাঙলার মুখপত্র

শিক্ষক দিবস ও শিক্ষকের মর্যাদা :

মোঃ মিজানুর রহমান

শিক্ষক দিবস ও শিক্ষকের মর্যাদা :

শিক্ষক দিবস ও শিক্ষকের মর্যাদা :
يوم مدرسين سعيد
Happy Teachers day

শিক্ষকের মানসম্মান ও মর্যাদা সমাজে আজ প্রশ্নবিদ্ধ। ভারতের প্রয়াত রাষ্ট্রপতি এ পি জে আব্দুল কালাম দুঃখ করে বলেছিলেন, ভারতবর্ষে ডাক্তার চান তাঁর ছেলে ডাক্তার হোক। প্রকৌশলী চান তাঁর ছেলে প্রকৌশলী হোক। পুলিশ অফিসার চান তাঁর ছেলে পুলিশ অফিসার হোক। শুধু শিক্ষকরাই চান না তাঁর ছেলে শিক্ষক হোক। ব্রিটিশ সরকার একবার প্রখ্যাত কবি ও দার্শনিক আল্লামা ইকবাল (র) কে স্যার উপাধি দেওয়ার ইচ্ছা পোষণ করে। আল্লামা ইকবাল (র)জানালেন, এটা তো সম্ভব না! আমাকে কোনো উপাধি দেওয়ার আগে আমার শিক্ষক মৌলভি হাসান(র)কে উপাধি দিতে হবে। ব্রিটিশ প্রতিনিধিরা তো অবাক! এটা কিভাবে সম্ভব? নানা ক্ষেত্রে আপনি অসামান্য অবদান রেখেছেন, নতুন চিন্তা, দর্শন, মতাদর্শ তৈরি করেছেন। কিন্তু আপনার শিক্ষক কী এমন করেছেন যে তাঁকে ব্রিটিশ সরকারের স্বীকৃতি দিতে হবে? জবাবে আল্লামা ইকবাল (র)বলেন, ‘তিনি আমাকে তৈরি করেছেন।’ আল্লামা ইকবাল(র)এর শিক্ষক মৌলভি হাসান(র)কে শামসুল উলুম খেতাব দেওয়ার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়। ইকবাল (র)বললেন, ‘আমার সেই শিক্ষকের শরীর ভালো না, তিনি এখানে আসতে পারবেন না। আপনাদের শিয়ালকোট গিয়ে তাঁকে সংবর্ধনা জানিয়ে এই উপাধি প্রদান করতে হবে। ’ ইকবাল(র)এর অনমনীয় ইচ্ছা মেনে নিয়ে ব্রিটিশ প্রতিনিধিদল শিয়ালকোট গিয়ে মৌলভি হাসান(র)কে শামসুল উলুম খেতাবে ভূষিত করে। ইকবাল(র)এর জন্য মীর হাসান(র)কে মানুষ চিনেছে। আর মীর হাসান(র)এর জন্য ইকবাল(র)এর মতো দার্শনিক তৈরি হয়েছে। এটাই হলো একজন ছাত্রের একজন শিক্ষকের প্রতি দায়িত্ব ও কর্তব্য।

পদার্থে নোবেল পাওয়া প্রফেসর সালাম বললেন, ‘আমার স্কুল শিক্ষক অনিলন্দ্র গাঙ্গুলী না থাকলে আমি আজকের সালাম হতাম না। এই সম্মান আমার শৈশবের সেই শিক্ষকের প্রাপ্য। ’ তিনি ভারত সরকারের কাছে চিঠি লিখে অনুরোধ করেন তাঁর শৈশবের শিক্ষককে খুঁজে বের করতে। তাঁকে খুঁজে বের করা হলো, প্রফেসর সালামের সঙ্গে কথা বলার আয়োজন করা হলো। প্রফেসর সালাম কুশল বিনিময় করে সব কিছু বললেন, শুধু নিজের নোবেলপ্রাপ্তির খবরটুকু বললেন না। তিনি বললেন, ‘এই খবর আমি সশরীরে তাঁর কাছে গিয়ে দিতে চাই। ’ এবং তিনি তা-ই করলেন। পরের সপ্তাহে শিক্ষক গাঙ্গুলীর ভিটায় উপস্থিত হয়ে তাঁর হাতের স্পর্শ মাথায় নিয়ে অত্যন্ত কৃতজ্ঞতার সঙ্গে নোবেলপ্রাপ্তির খবর জানালেন। এটাই হলো শিক্ষকের প্রতি ছাত্রের বিনয়। এটাই হলো শিক্ষকের প্রতি ছাত্রের ভক্তি, শ্রদ্ধা, ভালোবাসা।

আমাদের দেশে শিক্ষকের মর্যাদা ক্ষুণ্ন হচ্ছে। এর জন্য শিক্ষক-শিক্ষার্থী এবং বিদ্যমান ব্যবস্থা দায়ী। শিক্ষার্থী কর্তৃক শিক্ষককে লাঞ্ছিত করার ঘটনা প্রায়ই শোনা যাচ্ছে। অ‌নেক প্রতিষ্ঠা‌নের পরিচালনা কমিটিতে থাকেন দলীয় ও অল্পশিক্ষিত লোকজন। তাঁদের কথামতো না চললে উচ্চশিক্ষিত শিক্ষকদের চাকরি থাকে না। শিক্ষকদের বেতন কাঠামো এবং সুযোগ-সুবিধা অন্যান্য যেকোনো ক্যাডারের চেয়ে অনেক কম। সংসার চালাতে হিমশিম খাচ্ছেন শিক্ষকরা।

শিক্ষার্থীরা আজকাল খাতা-কলম নিয়ে লেখাপড়ার চেয়ে ডিভাইস ও প্রযুক্তিমুখী হয়ে যাচ্ছে। তথ্যপ্রবাহের অবাধ স্বাধীনতা ও ডিজিটাল ডিভাইস সহজলভ্য হওয়ায় শিক্ষার্থীরা নানা অপকর্মে জড়িয়ে বিপথগামী হচ্ছে। এই অবস্থা থেকে উত্তরণের জন্য শিক্ষকদেরই মুখ্য ভূমিকা পালন করতে হবে। কোনো সময়ই শিক্ষকদের অর্থবিত্ত ছিল না, হয়নি। তাই বলে একজন আদর্শ শিক্ষক জ্ঞান বিতরণে কোনোকালেই থেমে যাননি, ভবিষ্যতেও যাবেন না। এটাই হোক শিক্ষক দিবসে শিক্ষকের শপথ। একজন শিক্ষক হয়তো অর্থ বা ক্ষমতার দিক দিয়ে বড় কেউ নন; কিন্তু মহত্ত্ব এবং মর্যাদার দিক থেকে সবচেয়ে উঁচু জায়গায় তাঁদের অবস্থান। ম্যানকে হিউম্যান বানানোর কারিগর সব শিক্ষককে শ্রদ্ধা আর ভালোবাসা। আর যে সকল শ্রদ্ধেয় শিক্ষকগণ মৃত‌্যু বরণ ক‌রে‌ছেন তা‌ঁদের‌কে জান্নাতুল ফেরদাউস নসিব করুন হে মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামীন ।

**শুভ শিক্ষক দিবস**

আপনার মতামত দিন

Posted ৩:১৪ পূর্বাহ্ণ | শুক্রবার, ২৮ অক্টোবর ২০২২

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

এ বিভাগের আরও খবর

শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
 
১০১১১২১৩১৪১৫১৬
১৭১৮১৯২০২১২২২৩
২৪২৫২৬২৭২৮২৯৩০
৩১  
ড. সৈয়দ রনো   উপদেষ্টা সম্পাদক   
শাহ্ বোরহান মেহেদী, সম্পাদক ও প্রকাশক
,
ঢাক অফিস :

২২, ইন্দারা রোড (তৃতীয় তলা), ফার্মগেট, তেজগাও, ঢাকা-১২১৫।

নরসিংদী অফিস : পাইকসা মেহেদী ভিলা, ঘোড়াশাল, নরসিংদী। ফোনঃ +8801865610720

ই-মেইল: news@doinikpublicbangla.com