মঙ্গলবার | ১৮ই জানুয়ারি, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ | ৪ঠা মাঘ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ

দৈনিক পাবলিক বাংলা বিশ্বজুড়ে বাঙলার মুখপত্র
বিশ্বজুড়ে বাঙলার মুখপত্র

হারিয়ে যাচ্ছে ঐতিহ্যবাহী তাঁতশিল্পের রুহিতপুরী লুঙ্গি

নিজস্ব প্রতিবেদক :

হারিয়ে যাচ্ছে ঐতিহ্যবাহী তাঁতশিল্পের রুহিতপুরী লুঙ্গি

নিজস্ব প্রতিনিধি : ঢাকার অদূরে কেরানীগঞ্জের রুহিতপুরী লুঙ্গি আদিকাল থেকে এটি গ্রাম-বাংলার পুরুষদের পরিধানের বস্ত্র। নিখুঁত শিল্পে হাতে তৈরি এসব লুঙ্গি বরাবরই বাহারী, টেকসই আর মজবুত। পাকা রং হওয়ায় এর চাহিদাও বেশী। সারা বাংলাদেশে এক নামেই পরিচিতি আছে এই রুহিতপুরী লুঙ্গি।
রুহিতপুরী লুঙ্গির উৎপত্তি স্থান কেরানীগঞ্জের রামেরকান্দা ও রুহিতপুর এলাকায়। ধীরে ধীরে এই লুঙ্গি এখান থেকেই ছেয়ে গেছে দোহর-নবাবগঞ্জ, নরসিংদী, বাবুরহাট, পাবনাসহ দেশের বিভিন্নস্থানে ও এলাকাজুরে। কেরানীগঞ্জের রামেরকান্দা-রুহিতপুর গ্রামের তাঁতগুলোর খট খট শব্দ এক সময় আশপাশের কয়েক গ্রামে শোনা যেত। প্রায় লক্ষাধিক নারী-পুরুষের কর্মসংস্থান ছিল এ গ্রামটিতে। কিন্তু কালের বিবর্তনে এখানকার রুহিতপুরী লুঙ্গির তাঁত শিল্প প্রায় বিলিনের পথে।
এলাকাবাসী জানান, রোহিতপুর ইউনিয়নের উত্তর রামেরকান্দা, দক্ষিণ রামেরকান্দা, নারায়ণ পট্টি, রোহিতপুর ও গোয়ালখালী গ্রামে প্রায় বেশ কয়েক হাজার হস্তচালিত তাঁত ছিল। প্রতিটি বাড়িতেই চার থেকে ছয়টি তাঁত ছিল। রঙ, সুতা ও বুনন শৈলীতে রোহিতপুরের লুঙ্গির কদর ছিল বেশ ভালো । দেশের চাহিদা মিটিয়ে বিদেশেও রপ্তানি করা যেতো। কিন্তু রঙ, সুতাসহ অন্যান্য কাঁচামালের দাম বেড়ে যাওয়ায় লুঙ্গির তৈরি খরচ বেড়ে যায়। এতে লুঙ্গির বাজার মূল্যের চেয় উৎপাদন খরচ বেশি হওয়ায় লোকসানের মুখে পড়ে যায় ব্যবসায়ীরা। এ কারণে ধীর ধীরে সিংহভাগ তাঁত শিল্প বন্ধ হয়ে যায়।

উত্তর রামেরকান্দাগ্রামে কয়েক জন প্রতক্ষ্যদর্শী উদ্যোক্তা বলেন, আমাদের বাড়িতে একসময় প্রায় দশটা তাঁত ছিল। আমরা পরিবারের সবাই তাঁতের কাজ করার পাশাপাশি এলাকার অনেক কর্মহীন নারী-পুরুষের কর্মস্থান ও ছিল আমাদের বাড়ি। কিন্তু লোকসানের মুখে টিকতে না পেরে বন্ধ করে দিয়েছি। জীবিকার তাগিদে অন্য ব্যবসা করছি।
একটি তাঁতের পেছনে ১০ জন লোক কাজ করতেন। এখন কাঁচামালের দাম বেড়ে যাওয়ায় তাঁত বন্ধ করতে বাধ্য হয়েছি।
বংশ পরম্পরায় পাওয়া এ তাঁত শিল্পকে কেন্দ্র করেই এই অঞ্চলে অন্য কাজ না জানা মানুষ ও কর্মহীন মানুষের বেকার সমস্যা সমাধানসহ জীবিকা নির্বাহ ও আয়ের উৎসের সুযোগ সৃষ্টির ব্যাপক সম্ভাবনা আছে। মহিলারাও সংসারের কাজের অবসরে এই তাঁতগুলোতে কাজ করে বাড়তি আয়ের সুযোগ পাবে। স্বল্পমূল্যে মানসম্মত রুহিতপুরী লুঙ্গি পাওয়া যায় বলেই দেশের সর্বত্র এর ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। রুহিতপুরী লুঙ্গির তাঁত শিল্পের উদ্যোগদাতারা এমনটাই আশা করছেন, বাংলাদেশ সরকার তাঁতীদের প্রয়োজনীয় পুঁজি ও সংশ্লিষ্ট জিনিসপত্র সহজলভ্য দিলে কেরানীগঞ্জের ঐতিহ্যবাহী রুহিতপুরী লুঙ্গির তাঁত শিল্পকে বিলুপ্তি থেকে ফিরিয়ে আনা সম্ভব।

আপনার মতামত দিন

Posted ১:৪৫ অপরাহ্ণ | সোমবার, ০২ আগস্ট ২০২১

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

এ বিভাগের আরও খবর

শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
১০১১১২১৩১৪
১৫১৬১৭১৮১৯২০২১
২২২৩২৪২৫২৬২৭২৮
২৯৩০৩১  
ড. সৈয়দ রনো   উপদেষ্টা সম্পাদক   
শাহ্ বোরহান মেহেদী, সম্পাদক ও প্রকাশক
,
ঢাক অফিস :

২২, ইন্দারা রোড (তৃতীয় তলা), ফার্মগেট, তেজগাও, ঢাকা-১২১৫।

নরসিংদী অফিস : পাইকসা মেহেদী ভিলা, ঘোড়াশাল, নরসিংদী। ফোনঃ +8801865610720

ই-মেইল: news@doinikpublicbangla.com