দিনাজপুরের হাকিমপুরে খরিপ-১ মৌসুমে মুগডাল উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যে ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকদের মাঝে বিনামূল্যে বীজ ও সার বিতরণ করা হয়েছে।
আজ সোমবার (২৭ এপ্রিল) দুপুরে উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের আয়োজনে উপজেলা কৃষি কার্যালয়ে ২০ জন কৃষকের মাঝে এসব উপকরণ বিতরণ করা হয়।
উপকরণ বিতরণ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অশোক বিক্রম চাকমা, হাকিমপুর কৃষি কর্মকর্তা আরজেনা বেগম, কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা মোঃ মেজবাহুর রহমান, উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মাসুদ রানা ও পৌর কৃষকদলের সাধারণ সম্পাদক মো. আজাদ।
হাকিমপুর কৃষি কর্মকর্তা আরজেনা বেগম জানান, প্রণোদনা কর্মসূচির আওতায় প্রতিজন কৃষককে ১ বিঘা জমির জন্য ৫ কেজি মুগডাল বীজ, ১০ কেজি ডিএপি ও ৫ কেজি এমওপি সার দেওয়া হয়েছে। মূলত মাটির উর্বরতা রক্ষা ও আমিষের চাহিদা পূরণে কৃষকদের উদ্বুদ্ধ করতেই সরকারের এই উদ্যোগ।
মাদারীপুর সদর উপজেলার শিরখাড়া ইউনিয়নের রায়েরকান্দি এলাকায় এক মাদকবিরোধী আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। স্থানীয় জনগণের উদ্যোগে আয়োজিত এ সভায় মাদকের ভয়াবহ বিস্তার রোধে সম্মিলিত প্রতিরোধ গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শিরখাড়া ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আজম খান। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ২ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য বেল্লাল মুন্সী, বিএনপি নেতা সেলিম আকন এবং এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ আলেম বেপারী, আইয়ুব আলী সিকদার, রহিম বেপারী, মাসুদ বেপারী, জাকির সিকদার, কালাম ফরাজী, হাবু শেখ, জাফর ফকির, তুহিন হাওলাদার ও সুবাহান বেপারীসহ আরও অনেকে।
এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন রায়েরকান্দি যুব উন্নয়ন সংঘের সহ-সভাপতি মিজানুর মোল্লা, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক রেজাউল হাওলাদার, সাংগঠনিক সম্পাদক ইকবাল হোসেন মুন্সী, যুগ্ম সাংগঠনিক সম্পাদক সাংবাদিক সোহেল শিকদার, নির্বাহী সদস্য পলাশ শিকদার, জুয়েল মোল্লা ও সুমন খালাসী। যুবদল নেতা রাজিব ফরাজীসহ স্থানীয় যুবসমাজের প্রতিনিধিরাও সভায় অংশগ্রহণ করেন।
বক্তারা বলেন, শিরখাড়া ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় মাদকের বিস্তার উদ্বেগজনক হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে। এ পরিস্থিতি মোকাবেলায় এলাকার সর্বস্তরের জনগণকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে কঠোর অবস্থান গ্রহণ করতে হবে। মাদক ব্যবসায়ী ও সেবনকারীদের বিরুদ্ধে সামাজিক ও আইনগত প্রতিরোধ গড়ে তোলার আহ্বান জানান তারা।
সভায় বক্তারা আরও বলেন, মাদক ব্যবসায়ীদের আস্তানা চিহ্নিত করে তা ভেঙে দিতে হবে এবং নদী থেকে অবৈধ বালু উত্তোলন ও চুরি-ডাকাতির মতো অপরাধের বিরুদ্ধেও প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে। প্রয়োজনে এসব অপরাধীদের বিরুদ্ধে গণপ্রতিরোধ গড়ে তুলে প্রশাসনের সহায়তায় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
প্রশাসনের প্রতি দ্রুত ও কার্যকর হস্তক্ষেপ কামনা করে বক্তারা বলেন, মাদক, চুরি ও বালুদস্যু নির্মূল না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন অব্যাহত থাকবে।
সভায় সামাজিক প্রতিরোধ জোরদারের লক্ষ্যে এলাকাভিত্তিক মাদকবিরোধী কমিটি গঠনের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। পাশাপাশি স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, পুলিশ প্রশাসন ও সুশীল সমাজের সমন্বয়ে মাদকের বিরুদ্ধে “জিরো টলারেন্স” নীতি বাস্তবায়নের আহ্বান জানানো হয়।
নওগাঁর মান্দা উপজেলায় ওয়েভ ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে ইউনিয়ন ও উপজেলা পর্যায়ে লোকমোর্চা কমিটির ষান্মাসিক সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সোমবার (২৭ এপ্রিল) মান্দা প্রেসক্লাব প্রাঙ্গণে বরেন্দ্রভূমি সমাজ উন্নয়ন সংস্থা (বিএসডিও) ও ওয়েভ ফাউন্ডেশন যৌথভাবে এ সভার আয়োজন করে।
লোকমোর্চা কমিটির সভাপতি নজরুল ইসলামের সভাপতিত্বে সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নওগাঁ জেলা কোঅর্ডিনেটর আতাউর রহমান। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মহাদেবপুর উপজেলা কোঅর্ডিনেটর ময়না রানী এবং ওয়েভ ফাউন্ডেশনের মান্দা লোকমোর্চার সাধারণ সম্পাদক ও অবসরপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক সাহাদত হোসেন।
সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন মাস্টার দেলোয়ার হোসেন, প্রধান শিক্ষক বাদেশ আলী, সিনিয়র সাংবাদিক জিল্লুর রহমান, সাবেক নারী ভাইস চেয়ারম্যান আসমা ইসলাম এবং প্রসাদপুর বণিক সমবায় সমিতির সাধারণ সম্পাদক আব্দুল মালেকসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।
সভায় লোকমোর্চার চলমান কার্যক্রম পর্যালোচনা, সংগঠনকে আরও শক্তিশালী করা এবং তৃণমূল পর্যায়ে জনসম্পৃক্ততা বৃদ্ধির বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়। বক্তারা সমাজ উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডকে বেগবান করতে সকলকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান।
শেরপুরের নালিতাবাড়ী উপজেলার সীমান্তবর্তী গারো পাহাড়ি এলাকায় আবাদকৃত বোরো আবাদের কষ্টের ফসল বন্যহাতি দ্বারা ক্ষতিগ্রস্থ হওয়ার ভয়ে আধাপাকা ধান কাটতে শুরু করেছে কৃষকরা। উপজেলার রামচন্দ্রকুড়া, নয়াবিল ও পোড়াগাঁও ইউনিয়নের বিস্তীর্ণ পাহাড়ি এলাকাজুড়ে কৃষক বোরোধান আবাদ করেছেন। এসব আবাদের ফসল এখন পাকতে শুরু করেছে। আবার কোন কোন এলাকায় এখনো ভালোভাবে ফসল পাকেনি। কিন্তু এসব এলাকার কোন না কোন স্থানে বন্যহাতির পাল খাবারের সন্ধানে হামলা চালিয়ে আসছে। কৃষক তাদের ফসল রক্ষা করতে প্রায় সময় বন্যহাতির সাথে দ্বন্দ্বে জড়িয়ে পড়ছে। এতে কখনো হাতির পায়ে পৃষ্ট হয়ে মানুষ মারা যাচ্ছে। আবার ফসল রক্ষায় কৃষকের দেওয়া বৈদ্যুতিক ফাঁদে হাতিও মারা যাচ্ছে। দীর্ঘ প্রায় দুই যুগ এমতাবস্থা চলে আসলেও এর কোন সমাধান হচ্ছে না এদিকে, বোরোধান কাটার মৌসুমকে সামনে রেখে বন্যহাতির দ্বিগুণ তান্ডব বেড়েছে। মুলত বোরোধান লাগানোর পর থেকেই বন্যহাতির পাল কয়েক দফায় তান্ডব চালিয়ে ধান খেয়ে ও পা দিয়ে মাড়িয়ে ফসল নষ্ট করেছে। আবার কিছু এলাকায় ফসলী জমির ক্ষতি কাটিয়ে এখন ঘরে তুলার উপযুক্ত সময় হয়েছে। তবে থেমে নেই বন্যহাতির অত্যাচার। প্রায় প্রতিদিনই বিকেল কিংবা সন্ধ্যা বেলায় খাবারের সন্ধানে গহীন অরণ্য থেকে ধান খেতে দলবেঁধে নেমে আসছে হাতিরা। কৃষক তাদের কষ্টের সোনার ফসল রক্ষা করতে ধানক্ষেতে টঙ ঘর বানিয়ে রাতদিন পাহাড়া দিচ্ছে। ফসল ঘরে তোলার আগ মুহূর্তে বন্যহাতির অত্যাচার বেড়েছে দ্বিগুণ। কোনভাবেই ক্ষুধার্ত হাতিগুলোকে দমানো যাচ্ছে না। তাই বাধ্য হয়ে এলাকার কৃষকরা ইতোমধ্যে আধাপাকা ধান কাটতে শুরু করেছেন।
উপজেলার আন্ধারুপাড়া গ্রামের গারো আদিবাসী কৃষক মেজেস সাংমা বলেন, মাঝে মধ্যেই বন্যহাতি আমাদের বোরোধান খেতে হামলা করে। তাই ফসল বাঁচাতে আমরা খেতের পাশে টঙ ঘর বানিয়ে রাতদিন পাহাড়া দেই। হাতি তাড়ানোর জন্য আমারা ডাকচিৎকার, হৈ-হুল্লোড় করে, টিন পিটিয়ে শব্দ করে আবার কখনো মশাল জ্বালিয়ে থাকি। কিন্তু বর্তমানে কেরোসিন তেলের সরবরাহ কম থাকায় ও দাম বেশি হওয়ায় হাতি তাড়াতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। তিনি আরো জানান, বন বিভাগ থেকে ফসলের ক্ষতিপূরণ দেওয়া হলেও তা সবাই পায় না। বিশেষ করে জমির কাগজপত্রের কারনে বর্গাচাষীরা পায় না। তাছাড়া ক্ষয়ক্ষতির তুলনায় ক্ষতিপূরণ কম পাওয়া যায়।
একই এলাকার দাওধারা গ্রামের কৃষক মো. হালিম উদ্দিন বলেন, বন্যহাতি যা ক্ষতি করে সরকার তার চারভাগের একভাগও ক্ষতিপূরণ দেয় না। যদিও মাঝে মধ্যে কিছু সংখ্যক কৃষক ক্ষতিপূরণ পায় তাও আবার দীর্ঘদিন পরে। তিনি বলেন, ক্ষতিপূরণ পাওয়ার বিষয়টি আরো সহজ করা দরকার। এছাড়া হাতি আক্রান্ত এলাকায় উচ্চ শক্তি সম্পন্ন লাইটিং করার দাবিও জানান তিনি।
এ বিষয়ে ময়মনসিংহ বনবিভাগের মধুটিলা ফরেস্ট রেঞ্জ কর্মকর্তা মো. দেওয়ান আলী বলেন, আমরা বন বিভাগের পক্ষ থেকে বন্যহাতি দ্বারা ক্ষতিগ্রস্থ কৃষকদের ক্ষতিপূরণ দিচ্ছি। এতে কৃষকের বেশ আর্থিক সহযোগিতা হচ্ছে। একইসাথে বন্যহাতি ও মানুষের মাঝে সহাবস্থানের জন্য আমরা এলাকার মানুষদেরকে সচেতন করছি। তিনি আরো বলেন, কৃষক যাতে সহজে তাদের ক্ষতিপূরণ পায় সে বিষয়টি উর্ধতন কর্তৃপক্ষকে অবগত করা হয়েছে।
আপনার মতামত লিখুন