শুক্রবার | ২৭শে জানুয়ারি, ২০২৩ খ্রিস্টাব্দ | ১৩ই মাঘ, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ

দৈনিক পাবলিক বাংলা বিশ্বজুড়ে বাঙলার মুখপত্র
বিশ্বজুড়ে বাঙলার মুখপত্র

খাগড়াছড়ির অ-উপজাতীয় গুচ্ছগ্রামের রেশন কলোবাজারে।

মাসুদ রানা জয়, পার্বত্যচট্রগ্রাম ব্যুরো :

খাগড়াছড়ির অ-উপজাতীয় গুচ্ছগ্রামের রেশন কলোবাজারে।

খাগড়াছড়ির অ-উপজাতীয় গুচ্ছগ্রামগুলোতে রেশন বিতরণে অনিয়ম ও সরকারি বরাদ্দকৃত খাদ্যশস্য কালোবাজারে বিক্রির অভিযোগটি বেশ পুরোনো। প্রশাসনের কর্মকর্তা ছাড়া যখনই কোন জনপ্রতিনিধি কিংবা রাজনৈতিক ব্যক্তিকে রেশন বিতরণের দায়িত্ব দেয়া হয়েছে তখনই আলোচনায় এসেছে এমন অনিয়মের খবর। গুচ্ছগ্রাম সৃষ্টির পর থেকেই এ নিয়ে চলছে নানা বিতর্ক, তবে আজ অবধি এই বিতর্কের আর স্থায়ী মীমাংসা হয়ে ওঠেনি।

এবার নতুন করে অনিয়মের অভিযোগে আলোচনায় এসেছে খাগড়াছড়ি সদর উপজেলার ভূয়াছড়ি অ-উপজাতীয় গুচ্ছগ্রাম। সাম্প্রতিক সময়ে এই গুচ্ছগ্রামের রেশন বিতরণ কমিটির সভাপতি হিসেবে মনোনীত হয়েছেন ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য আবু তালেব। তবে সভাপতি মনোনীত হবার পর প্রথমবার রেশন বিতরণ করতে গিয়েই অভিযুক্ত
হলেন তিনি।

তার বিরুদ্ধে অভিযোগ, তিনি খাদ্য গুদাম থেকে সরকারি বরাদ্দের যে পরিমাণ খাদ্যশস্য উত্তোলন করেছেন সেই পরিমাণ খাদ্যশস্য তিনি বিতরণ কেন্দ্রে নেননি। প্রায় তিন চতুর্থাংশ খাদ্যশস্যই বিক্রি করে দিয়েছেন কালোবাজারে।

খাগড়াছড়ি সদর উপজেলার চারটি অ-উপজাতীয় গুচ্ছগ্রামের একটি হলো ভূয়াছড়ি গুচ্ছগ্রাম। এই গুচ্ছগ্রামের রেশন কার্ডধারী ৪১২ জন। সরকারিভাবে প্রতিজন কার্ডধারীর জন্য প্রতিমাসে বরাদ্দ দেয়া হয় ৩৫.৯৫ কেজি চাল ও ৪৯.১০ কেজি গম। আর এসব খাদ্যশস্য বিতরণ করা হয় তিন মাস অন্তর অন্তর। চলতি বছরের এপ্রিল, মে এবং জুন মাসের রেশন বিতরণ করা হয়েছে দু’দিন আগে।

বৃহস্পতিবার (১১ তারিখ) বিকেলে ভূয়াছড়ি গুচ্ছগ্রামের রেশন বিতরণ কেন্দ্রে গিয়ে দেখা যায় উপকারভোগীদের মাঝে খাদ্যশস্য বিতরণ কার্যক্রম একেবারেই শেষ পর্যায়ে। বিকেল ৪টায় বিতরণ রেজিস্টারে দেখা যায় ওই গুচ্ছগ্রামের ৪১২ জন কার্ডধারীর মধ্যে ৩৭৪ জন কার্ডধারী তাদের প্রাপ্য চাল ও গম বুঝে নিয়ে গিয়েছেন। বাকী ছিলো মাত্র ৩৮ জন কার্ডধারীর মাঝে খাদ্যশস্য বিতরণ করা। তবে ওই সময় বিতরণ কেন্দ্রে খাদ্যশস্য মজুদ ছিলো আরও অন্তত ৭০ থেকে ৮০ জনের।

ভূয়াছড়ি গুচ্ছগ্রামের রেশন বিতরণ কমিটির সদস্য সচিব ও বেশ ক’জন সদস্য জানালেন, রেজিস্টারে যে ৩৭৪ জন কার্ডধারী খাদ্যশস্য গ্রহণ করেছেন বলে দেখানো হয়েছে তা কেবলই কাগজে-কলমে। বাস্তবতা একেবারেই ভিন্ন। আসলে প্রায় ৭৫ শতাংশ কার্ডধারীর কাছ থেকে কেবল টিপসই আর স্বাক্ষর নেয়া হয়েছে, ওদের কোন খাদ্যশস্য বিতরণ করা হয়নি। তবে বিতরণ কেন্দ্রের সামনে চায়ের দোকানে বসে সেসব কার্ডধারীদের খাদ্যশস্যের বদলে দেয়া হয়েছে নগদ অর্থ। অর্থাৎ বেশীরভাগ কার্ডধারীর কাছ থেকে খাদ্যশস্য কিনে নিয়েছেন সভাপতির দায়িত্বে থাকা ইউপি সদস্য আবু তালেব।

কমলছড়ি ইউনিয়নের ৫নং ওয়ার্ডের স্কুলটিলা এলাকার বাসিন্দা মো. মোস্তফা কামাল (কার্ড নং-২৯৭) এবং ৬নং ওয়ার্ডের আমিন উদ্দিন টিলা এলাকার বাসিন্দা মো. কাবেল উদ্দিন (কার্ড নং-২১৩) জানান, তাদেরকে রেশনের পরিবর্তে নগদ টাকা দিয়েছেন রেশন বিতরণ কমিটির সভাপতি আবু তালেব। প্রতি কেজি চালের পরিবর্তে ৩৫ টাকা এবং প্রতি কেজি গমের পরিবর্তে দেয়া হয়েছে ১৯ টাকা করে।

ভূয়াছড়ি গুচ্ছগ্রামের রেশন বিতরণ কমিটির সদস্য সচিব ও ইউপি সদস্য কাবেল হোসেন বলেন, ‘বৃহস্পতিবার বিকেল পর্যন্ত বিতরণ কেন্দ্রে খাদ্যশস্য আনা হয়েছে মাত্র ২৬ টন, যেখানে ৪১২ জন কার্ডধারীর জন্য তিন মাসের বরাদ্দকৃত খাদ্যশস্যের পরিমাণ ছিলো প্রায় ১০৫ টন।’

 

আপনার মতামত দিন

Posted ১:৩১ অপরাহ্ণ | বৃহস্পতিবার, ১৭ জুন ২০২১

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

এ বিভাগের আরও খবর

ড. সৈয়দ রনো   উপদেষ্টা সম্পাদক   
শাহ্ বোরহান মেহেদী, সম্পাদক ও প্রকাশক
,
ঢাক অফিস :

২২, ইন্দারা রোড (তৃতীয় তলা), ফার্মগেট, তেজগাও, ঢাকা-১২১৫।

নরসিংদী অফিস : পাইকসা মেহেদী ভিলা, ঘোড়াশাল, নরসিংদী। ফোনঃ +8801865610720

ই-মেইল: news@doinikpublicbangla.com