শুক্রবার | ২৭শে জানুয়ারি, ২০২৩ খ্রিস্টাব্দ | ১৩ই মাঘ, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ

দৈনিক পাবলিক বাংলা বিশ্বজুড়ে বাঙলার মুখপত্র
বিশ্বজুড়ে বাঙলার মুখপত্র

নড়াইলে ভূমি উপ-সহকারি উজির আলীর অনিয়ম দুর্ণীতি বরপুত্র!

আবুল কাশেম ঃস্টাফ রিপোটার

নড়াইলে ভূমি উপ-সহকারি উজির আলীর অনিয়ম দুর্ণীতি বরপুত্র!

নড়াইলে সদর উপজেলা শেখহাটি ইউনিয়ন ভ‚মি উপ-সহকারি উজির আলীর বিরুদ্ধে অনিয়ম, দূর্ণীতি বিস্তর অভিযোগ পাওয়া গেছে। অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, অত্র ইউনিয়ন ভুমি অফিসের ভ‚মি উপ-সহকারী কর্মকর্তা উজির আলীর অনিয়ম, দুর্ণীতি ও অনৈতিক কর্মকান্ডে অতিষ্ঠ ইউনিয়নবাসী। তিনি প্রায় ২ বছরের অধিককাল পহরডাঙ্গা ইউনিয়ন ভুমি অফিসে যোগদান করেছেন। ওই কর্মকর্তা ভুমি অফিসে আসার পর ভুমি উন্নয়ন কর পরিশোধ করতে গেলে তাকে অফিসে পাওয়া যায়না। মোবাইলে যোগাযোগ করলে তিনি বলেন, আমি এখন বাহিরে আছি , সাক্ষাতের পর পূর্বের দাখিলা দেখালে তিনি তার কোন মুল্যায়ন না করে বলেন, এ দাখিলা সঠিক নিয়মে কাঁটা হয়নি এবং পূর্বের উপ-সহকারী কর্মকর্তার প্রসঙ্গ তুললে তিনি বলেন, পূর্বের উপ-সহকারী কর্মকর্তা কিভাবে দিয়েছে সেটা তার ব্যাপার। আমার কাছ থেকে নিতে হলে গোড়া থেকে খাজনা পরিশোধ করতে হবে বলে অতিরিক্ত টাকার হিসাব দেন। এবং ওই টাকার আংশিক দাখিলায় তুলে বাকীটা নিজেই আত্মসাৎ করেন। দাখিলায় কম টাকা উঠানোর কারণ জানতে চাইলে তিনি বলেন, সরকারকে ফাঁকি দিয়ে আপনাকে অল্পের ভিতরে হিসাব দিয়েছি, অতিরিক্ত টাকা অডিট খরচ বাবদ রাখছি। জমির নামজারী করার নিয়ম জানতে গেলে ওই কর্মকর্তা ভূমি মালিকদের তার সাথে চুক্তিতে আসতে বাধ্য করেন এবং বলেন আমার তদন্ত রিপোর্ট ছাড়া নামজারী হবেনা। এভাবে ভূমি মালিকদের জিম্মি করে ১৫ থেকে ২০ হাজার টাকা খরচের হিসাব চাপিয়ে দেন। অবশেষে সেবা প্রার্থীরা জমি ঠিক করার জন্য ওই টাকা দিতে বাধ্য হয়। স্থানীয় কিছু অসাধু প্রভাবশালী ব্যাবসায়ীরা উপ-সহকারী কর্মকর্তা উজির আলীর যোগসাজসে সরকারী গাছ কেঁটে সাবাড় করছে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর বরাদ্দকৃত গৃহহীনদের জন্য বরাদ্দকৃত ঘর পাইয়ে দেওয়ার নাম করে ওই উপ-সহকারী কর্মকর্তা ৪০/৫০ হাজার টাকা দাবী করে এবং বিধবা মহিলাদের ঘর পাইয়ে দেওয়ার জন্য শারীরিক মেলামেশার প্রস্তাব দেয়। নারীলোভী, ঘুষখোর, দুর্ণীতিবাজ উপ-সহকারী কর্মকর্তা উজির আলীর এহেন কর্মকান্ডে ইউনিয়নবাসী সরকারী সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। তার বিরুদ্ধে আনিত অভিযোগের ভিডিও ও অডিও রেকর্ড প্রমান স্বরুপ সংরক্ষিত আছে বলে তারা জানান। পাশাপশি তার কর্মকান্ডে অতিষ্ঠ হয়ে যে কোন মুহুর্তে অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটার সম্ভাবনা রয়েছে বলে ইউনিয়নবাসী মন্তব্য করেন। পূর্বে ও ওই উপ-সহকারী কর্মকর্তা উজির আলীর বিরুদ্ধে বিভিন্ন গণমাধ্যমে অনিয়ম ও দূর্নীতির সংবাদ প্রকাশিত হয়েছিল।
এ বিষয়ে ভুক্তভোগী, আফরা গ্রামের মান্নান মোল্যা (৫৮) বলেন, আমার পর্চার ১৫০ শতক জমির অনলাইন করার জন্য আমার থেকে দুই হাজার টাকা দাবি করেন ।এতো টাকা কেনো লাগবে জানতে চাইলে আমার উপর রেগে ওঠেন এবং আমার কাগজ পত্র ছুড়ে ফেলে দেয় ,পরে শেখহাটি বাজারে জসিমের কম্পিটার থেকে ৬০ টাকায় করে আসি। বাকলি গ্রামের প্রদীপ মজুমদার বলেন আমি গৃহহীন আমার ঘর নাই,শুনিলাম সরকার গরীব মানুষগে ঘর দিবে তাই শুনে নায়েব সাহেবের কাছে যায়, তবে নায়েব সাহেব আমার কাছে ৪০০০০(চল্লিশ হাজার)টাকা চান।আমার কাছে টাকা নেই বললে তিনি আমাকে ধমক দিয়ে বলেন টাকা নেই তো আবার ঘর নিতে আসছিস কেনো, টাকা যোগাড় করে আনতে পারলে আসিস। কৃষকলীগের সভাপতি মান্নান মোল্লা বলেন নায়েব সাহেবের অনিয়ম নিয়ে সাংবাদিকদের বলায় নায়েব আমাকে জালিয়াত বলেছে। কেন আমায় উনি জালিয়াত বললেন, এর যথাযথ প্রমান উনি সাংবাদিকদের দেখাতে পারেননি। আমি আমার এ অপমানের সুষ্ঠ বিচার চাই। সাংবাদিকের উপস্থিতি জানতে পেরে অনেক ভুক্তভোগী তাদের অভিযোগ তুলে ধরেন। আফরা গ্রামের আসলাম মোল্লা , জানান, একমাস ৬৮শতক জমির দাখিলা কাটতে ১৫০০০হাজার টাকা নেয়। দেবভোগ গ্রামের অরুণ মাস্টার জানান আমার জমির দাখিলা কাটতে ২০০০০ হাজার টাকা চান কিন্তু আমি সেটা না করে এসিলেন্ড থেকে ৫০০০ টাকায় করে আসি । ভুক্তভোগীরা এর উপযুক্ত বিচারসহ ওই নায়েবের অপসারন দাবী করেন।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত শেখহাটি ইউনিয়ন ভ‚মি উপ-সহকারি উজির আলী সঙ্গে মোবাইলে যোগাযোগ করলে তিনি আনিত অভিযোগ অস্বীকার করেন।

আবুল কাশেম নড়াইল
০৮/০৬/২০২১

আপনার মতামত দিন

Posted ৬:৫৯ পূর্বাহ্ণ | বুধবার, ০৯ জুন ২০২১

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

এ বিভাগের আরও খবর

ড. সৈয়দ রনো   উপদেষ্টা সম্পাদক   
শাহ্ বোরহান মেহেদী, সম্পাদক ও প্রকাশক
,
ঢাক অফিস :

২২, ইন্দারা রোড (তৃতীয় তলা), ফার্মগেট, তেজগাও, ঢাকা-১২১৫।

নরসিংদী অফিস : পাইকসা মেহেদী ভিলা, ঘোড়াশাল, নরসিংদী। ফোনঃ +8801865610720

ই-মেইল: news@doinikpublicbangla.com