শনিবার | ২৪শে ফেব্রুয়ারি, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ | ১১ই ফাল্গুন, ১৪৩০ বঙ্গাব্দ

দৈনিক পাবলিক বাংলা বিশ্বজুড়ে বাঙলার মুখপত্র
বিশ্বজুড়ে বাঙলার মুখপত্র

শুভ জন্মদিন প্রিয় শ্রদ্ধেয় হুমায়ূন ফরিদী, শুভ জন্মদিন

শমিত জামান, সাংবাদিক ও কলামিষ্ট :

শুভ জন্মদিন প্রিয় শ্রদ্ধেয় হুমায়ূন ফরিদী, শুভ জন্মদিন

কিংবদন্তী হুমায়ন ফরিদী

শুভ জন্মদিন প্রিয় শ্রদ্ধেয় হুমায়ূন ফরিদী, শুভ জন্মদিন…

আজ, কিংবদন্তী হুমায়ুন কামরুল ইসলাম ফরীদি’র ৬৯ তম জন্মদিন। বায়ান্ন’র ভাষা আন্দোলনের উত্তাল বছরে জন্মেছিলেন তিনি।

আমাদের দেশে আর কিংবদন্তী তৈরি হয়না, তার বদলে আমরা পাচ্ছি অগণিত ‘স্যার’, ‘মাননীয়’, ‘মহা মাননীয়’, ও ‘অতি সম্মানীয়’দের’। কিংবদন্তীরা চলে যাচ্ছেন, চলে গেছেন একে একে। তাঁরা চলে গেলে আর আসেন না। আগামীতে আলোড়িত করবেন, আলোকিত করবেন, হাসাবেন, কাঁদাবেন এমন কাউকে জীবদ্দশায় পাবো কিনা জানা নেই।

জীবনকে যাপন করেছেন আপনি, আপনাকে যাপন করার সুযোগ দেননি৷ প্রবলভাবে বেঁচে ছিলেন আমৃত্যু৷ আপনার বেঁচে থাকা ছিলো গোপনে, গহীনে আশাবাদী মানুষের মতো৷ ঠিক যেমন আমৃত্যু অতি সযত্নে লুকিয়ে রেখেছিলেন মুক্তিযোদ্ধা পরিচয়টি।

আপনার অট্টহাসি শোনার সৌভাগ্য যাঁদের হয়েছে তাঁরা জানেন, কি গভীর প্রাণপ্রাচুর্য নিয়ে বেঁচেছিলেন আপনি। বিস্ময় জাগানিয়া অভিনেতা হুমায়ুন ফরীদি এখনো আমাদের সুতীব্রভাবে মোহগ্রস্ত করেন। এমন ঐন্দ্রজালিক ক্ষমতা ক’জনের আছে, ক’জনের থাকে?

একবার গণমাধ্যমে তাঁকে করা এক প্রশ্নের জবাবে আমাদের বিভাজিত প্রবঞ্চক সমাজকে স্বল্প বাক্যে ব্যাখ্যায়িত করেছিলেন এভাবে,“যখন মঞ্চ নাটক করতাম, রিকশায় চড়তাম। যখন টিভি নাটক শুরু করলাম, ট্যাক্সিতে চড়তাম, আর এখন বাঙলা সিনেমায় গালি গালাজ করি, তাই নিজের একটা গাড়ি আছে এখন…, আমার যদি অনেক টাকা থাকতো, আমি মঞ্চ ছাড়া অন্য কোথাও অভিনয়ই করতাম না।“

আমরা আমরণ আত্মপ্রবঞ্চনার খেলাই খেলে যাচ্ছি প্রতিনিয়ত।

১৯৭৮ সালে মাসিক গণসাহিত্য পত্রিকায় তাঁর রচিত ‘ছায়া’ শিরোনামের কবিতাটি আমাদের জানান দিয়ে যায়, তিনি ছিলেন আপাদমস্তক একজন সৃষ্টিশীল মানুষ।

“এই মাটি, মৃত্তিকার গান হঠাৎ হারিয়ে যায়
নিরাকার সন্ধ্যা বৃক্ষের ফোঁকরে বাঁধে বাসা
কুলবতী কালোবউ নদীজলে ধুয়ে ফেরে বাসন-কোসন
হাওয়া কাঁপে হাওয়া, ঘাসের সান্নিধ্যে ঘুমোয়
বিন্দুজলে স্বচ্ছন্দ সংসার সুখ নীচে যত টুনীর পায়ের
একা একা কিশোরীর স্নেহ-ডোবা চোখে ভর করে
দুপুরের নির্জন ভীতি নিসহায় উনুনে পড়ে জল
আমার ঘরের পাশে লম্বিত সুপুরীর গাছ
তবুও অপেক্ষা ক’রে মেঘে মেঘে ভিজে যায় বেলা
এই নদী ভেজে কাক ঘাটে বাঁধা নৌকোর
সুশীল পাটাতন; উচ্ছিষ্ট কচুরীর ফুল।”

(ছায়াঃ হুমায়ুন ফরীদি, মাসিক গণসাহিত্য ১৯৭৮ সালের কার্তিক সংখ্যায় প্রকাশিত)

হুমায়ূন ফরীদির মতো বহুমাত্রিক ‘মানুষ’ বারবার আসেন না। হয়তো, শতবর্ষে আসেন একবারই। শ্রদ্ধেয় ফরীদি ভাই, যেখানেই থাকুন, ভালো থাকুন-শান্তিতে থাকুন ৷ আমাদের একজন হুমায়ুন ফরীদি ছিলেন, আছেন, বেঁচে থাকবেন অনন্তকাল আমাদের হৃদয় গভীরের শ্রদ্ধা ভালবাসায় সিক্ত হয়ে।

লেখকঃ- শমিত জামান সাংবাদিক কলামিস্ট

আপনার মতামত দিন

Posted ৯:৫৪ অপরাহ্ণ | শনিবার, ২৯ মে ২০২১

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

এ বিভাগের আরও খবর

শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
১০১১১২১৩১৪
১৫১৬১৭১৮১৯২০২১
২২২৩২৪২৫২৬২৭২৮
২৯৩০৩১  
ড. সৈয়দ রনো   উপদেষ্টা সম্পাদক   
শাহ্ বোরহান মেহেদী, সম্পাদক ও প্রকাশক
গোলাম রব্বানী   নির্বাহী সম্পাদক   
,
ঢাক অফিস :

২২, ইন্দারা রোড (তৃতীয় তলা), ফার্মগেট, তেজগাও, ঢাকা-১২১৫।

নরসিংদী অফিস : পাইকসা মেহেদী ভিলা, ঘোড়াশাল, নরসিংদী। ফোনঃ +8801865610720

ই-মেইল: news@doinikpublicbangla.com